জ্বলদর্চি

ঠাকুরবাড়িতেই প্রথম তৈরি হয় 'পাঁঠার বাংলা' এবং 'তিন ইঞ্চি ব্যাসার্ধের লুচি/'অর্হণ জানা

ঠাকুরবাড়িতেই প্রথম তৈরি হয় 'পাঁঠার বাংলা' এবং 'তিন ইঞ্চি ব্যাসার্ধের লুচি'

অর্হণ জানা

‘জীবনস্মৃতি’-তে রবীন্দ্রনাথ ফলারের এক অন্যরকম বর্ণনা দিয়েছেন৷ ‘আমসত্ত্ব দুধে ফেলি, তাহাতে কদলী দলি,/ সন্দেশ মাখিয়া দিয়া তাতে---/ হাপুস হুপুস শব্দ, চারিদিক নিস্তব্ধ,/ পিঁপিড়া কাঁদিয়া যায় পাতে৷’ ছড়া লেখার সূচনালগ্নে বোধহয় নিজের খাওয়ার অভিজ্ঞতাই এইভাবে ছড়ার ছন্দে প্রকাশ করেছিলেন কবি। 
ঠাকুরবাড়ির লোকেরা যথেষ্ট ভোজনরসিক ছিলেন। নানারকম এক্সপেরিমেন্ট করতেও তাঁরা কুণ্ঠিত হতেন না। ঠাকুরবাড়িতে পাকা আম ভাতে, পাকা পটলের টক, কাঁচা ও কচি তেঁতুলের ঝোল, বেগুন ও কাঁচাকুলের টক, তিল বাটা দিয়ে কচি আমড়ার অম্বল রান্না হত। রবি ঠাকুরের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী পাকা আমের মিঠাই বানাতেন। শেষপাতে দই ও সন্দেশ ছিল অপরিহার্য। মিষ্টির নানারকম নামও দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। একবার একটি মিষ্টি খেয়ে নাম দেন ‘এলোঝেলো’, পরে বদলে রাখেন ‘পরিবন্ধ’। 
ঠাকুরবাড়ির রান্নার ছিল অসম্ভব খ্যাতি। অবিভক্ত বাংলার হাতেগোনা কিছু অভিজাত পরিবারের মধ্যে ঠাকুর পরিবারের নিত্যদিনের খানাপিনায় ছিল এক অদ্ভুত স্বাতন্ত্রতার ছোঁয়া। বিশেষ করে ‘পুণ্যাহ’ বা নববর্ষের অনুষ্ঠানে ঠাকুরবাড়ির ভুরিভোজের আয়োজনে থাকত একাধিক নজরকাড়া রেসিপি। দোতলার টানা বারান্দার পাথরের মেঝেতে বিছানো হত কার্পেটের আসন এবং কলাপাতা ঘিরে মাটির খুরিতে অতিথিদের পরিবেশন করা হত হরেক পদ--- কাঁচা ইলিশের ঝোল, চিতল মাছ আর চালতা দিয়ে মুগের ডাল, নারকেল চিংড়ি মাছের পোলাও, আম দিয়ে শোল মাছ।   
রানী চন্দকে রবীন্দ্রনাথ একবার বলেছিলেন, ‘জানো সবরকম কলার মতো রন্ধনকলাতেও আমার নৈপুণ্য ছিল। একদা মোড়া নিয়ে রান্নাঘরে বসতাম এবং স্ত্রীকে নানাবিধ রান্না শেখাতাম।’ এভাবেই তৈরি হয়েছিল মানকচুর জিলিপি। শান্তিনিকেতনে থাকার সময় তিনি স্ত্রীকে মানকচুর জিলিপি তৈরি করতে বললেন। মৃণালিনী প্রথমে হেসে আপত্তি করেছিলেন। কিন্তু খেয়ে দেখা গেল সেটা জিলিপির চেয়ে ভালো হয়েছে। কবি বললেন, ‘দেখলে তোমাদের কাজ তোমাদেরই কেমন শিখিয়ে দিলুম।’ কবিপত্নী হেসে বললেন, ‘তোমাদের সঙ্গে পারবে কে? জিতেই আছ সকল বিষয়ে।’ 
রবীন্দ্রনাথ তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবীকে 'ভাই ছুটি' বলে সম্বোধন করতেন। ব্যক্তি জীবনে পরিজনদের সঙ্গে মাঝে মধ্যেই নানান রঙ্গ রসিকতায় মেতে উঠতেন কবিগুরু। একদিন কবি তাঁর স্ত্রীকে ডেকে বললেন, "তোমরা কী আর রান্না করতে জানো? আমি আজ তোমাদের একটা নতুন রান্না শেখাব।”
মৃণালিনী দেবী শুনে বললেন, “তাই নাকি? কই দেখি কেমন রান্না!” কবি গিয়ে ঢুকলেন হেঁসেলে। কিছু আলু ও কড়াইশুটি সিদ্ধ করে সেগুলোকে চামচের সাহায্যে ভালো করে মেশালেন এবং ছোট ছোট গুলি তৈরি করলেন। শেষে সেই গুলিগুলোকে আধকড়া ঘি-এ ভাজতে গেলেন।
🍂
দূর থেকে সবটাই লক্ষ্য করছিলেন মৃণালিনী দেবী। কবির এমন আজব রান্না পদ্ধতি দেখে তিনি আর চুপ থাকতে না পেরে বললেন, “এভাবে ভাজা যাবে না, ওতে কিছু বেসন দিতে হবে।”
রবি ঠাকুর নাছোড়, তর্ক জুড়ে দিলেন গিন্নির সঙ্গে, “কেন হবে না? কই না হবার তো কোনও  কারণ দেখছি না!” কিন্তু যতই গুলিগুলো কড়াইয়ের গরম তেলে ছাড়েন, সেগুলো ততই ভেঙ্গে চারিদিকে ছড়িয়ে যেতে থাকল। অবশেষে হতাশ হয়ে করুণ মুখে স্ত্রীর দিকে তাকালেন কবি। মৃণালিনী দেবী হেসে বললেন, 'হল তো!'
এবার হেসে ফেললেন রবীন্দ্রনাথ, বললেন, 'এই রকম হবার তো কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল না!' কবির কথা শুনে মৃণালিনীদেবীও না হেসে পারলেন না। তারপর বেসন দিয়ে সেই গুলিগুলোকে ভালো করে ভেজে কবিকে খেতে দিলেন।
রবীন্দ্রনাথ সেই ভাজা মুখে পুরে খেতে খেতে হাসি মুখে মৃণালিনী দেবীকে বললেন, "হ্যাঁ, এই হচ্ছে রান্না!”
জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন ভোজের নিমন্ত্রণ এবং প্রসিদ্ধ রেস্তোরাঁর মেনু কার্ড সংগ্রহ করতেন এবং সেগুলো ঠাকুরবাড়িতে নিয়ে এসে রান্নাঘরের ঠাকুরদের দিয়ে দেশি এবং বিদেশি রান্নার সংমিশ্রণ ঘটাতেন, যা থেকে জন্ম নিত নতুন স্বাদের খাবার। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল্যান্ডাইজ সসে স্যামন, ব্রিটিশ পাই, হিন্দুস্থানী তুর্কি কাবাব, ফিলিপিনো চিকেন, আইরিশ টু-এর মতো একাধিক সুস্বাদু পদ। 
তাঁর সময় ঠাকুরবাড়িতে 'পাঁঠার বাংলা' এবং 'তিন ইঞ্চি ব্যাসার্ধের লুচি' নামক দু'টি পদের উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৯৪১ সালে, কবিগুরু মৃত্যুর ঠিক দুই বছর আগে যখন কালিম্পং থেকে জোড়াসাঁকোতে আসেন ক্লান্ত, অবসন্ন শরীর নিয়ে, তখন এই বিশেষ পাঁঠার মাংস তাঁর খাদ্যতালিকায় ছিল। যদিও আজ এই মেনু বাঙালির খাদ্যতালিকায় অবলুপ্ত। রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলেছেন, "Do not blame the food because you have no apetite."।
তাঁর খুব প্রিয় খাদ্যের তালিকার মধ্যে ছিল কাবাব। তা ছাড়াও তিনি খুব পছন্দ করতেন আনারস দিয়ে রোস্টেড পাঁঠার মাংস। নানান রান্নার ক্ষেত্রেই প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঠাকুরবাড়ির হেঁশেল ঘটিয়েছিল। পূর্ণিমা ঠাকুর ‘ঠাকুরবাড়ির রান্না’ বইতে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। এর থেকেই বোঝা যায়, রান্নার ব্যাপারে ঠাকুরবাড়ি কতখানি আধুনিক ছিল সেই সময়। 
ঠাকুরবাড়ির আর এক রত্ন অবনীন্দ্রনাথ যে লাইব্রেরি থেকে রান্নার বই বার করে রীতিমত রান্নার ক্লাস খুলেছিলেন, সে কথাও তাঁর দৌহিত্র মোহনলাল ঠাকুর লিখে গেছেন। অবন ঠাকুর রাঁধুনি রাধুকে নিয়ে রান্নার নতুন নতুন পরীক্ষা করতেন। প্রচলিত প্রথাকে বদলে দিতেন। পেঁয়াজ প্রথমে ভাজার হলে তাকে শেষে ভাজতেন। শেষে সাঁতলাবার জিনিস প্রথমেই সাঁতলাতেন। যাকে ভাজতে হবে তাকে সিদ্ধ করতেন। এই প্রথাতেই তিনি ‘মুরগির মাছের ঝোল’ আর ‘মাছের মাংসের কারি’ আবিষ্কার করেন। রবীন্দ্রনাথ নিজেও কয়েকটি রান্না আবিষ্কার করেছিলেন। সে রান্নার কথা একটি খাতায় লেখা হয়ে তাঁর বড়ো মেয়ের কাছে অনেকদিন ছিল। তার পর বড়ো মেয়ে মারা যাওয়ায় সে খাতা হারিয়ে যায় চিরকালের মতো। সঙ্গে সেই রান্নাগুলোও। 
একটি ঘটনার কথা বলি। যে বছর কবি নোবেল পুরস্কার পেলেন (১৯১৩), তার ঠিক আগের বছর, অর্থাৎ ১৯১২ সালে লন্ডনে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ওই দিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল লন্ডনের ইন্ডিয়ান সোসাইটি। সেদিনের খাদ্যতালিকা হয়েছিল কবির পছন্দে, যে হেতু অনুষ্ঠানটাই হচ্ছে কবিকে ঘিরে। এই খাবারের তালিকায় ছিল: গ্রিন ভেজিটেবল স্যুপ, ক্রিম অব টমেটো স্যুপ, স্যামন ইন হল্যান্ডেন সস অ্যান্ড কিউকামবার, প্রি সলটেড ল্যাম্ব উইথ গ্রিন ভেজিটেবল, রোস্ট চিকেন, ফেঞ্চ ফ্রাই, গ্রিন স্যালাড ও আইসক্রিম। 
বাইরে এই ধরনের খাবার খেলেও স্বাস্থ্যসচেতন কবি বাড়িতে কম তেল-মশলাযুক্ত খাবারই খেতেন। কবির স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর রান্না করা খাবার ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে খুব জনপ্রিয় ছিল। তাঁর হাতের রান্না খেতে সবাই খুব পছন্দ করতেন, বিশেষত রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি নাকি টকের সঙ্গে ঝাল মিশিয়ে বেশ নতুন নতুন পদ তৈরি করতেন। 
ঠাকুর পরিবারের বিচিত্র খাদ্যাভাসের কথা জানা যায় রানী চন্দের বই থেকে। একবার এক বিদেশি বন্ধু এসে বললেন, ডিম হচ্ছে আসল খাদ্য। ওতে সব রকমের গুণ আছে। এরপর কী হল? রানী চন্দ লিখছেন, ‘গুরুদেব কাঁচা ডিম ভেঙে পেয়ালায় ঢালেন, একটু নুন-গোলমরিচ দেন, দিয়ে চুমুক দিয়ে খেয়ে ফেলেন। রাতের খাবার, দিনের খাবার এই একভাবে চলে।’ 
একবার এক আয়ুর্বেদজ্ঞ বললেন, নিমপাতার রস সর্বরোগনাশক। ব্যস, শুরু হয়ে গেল নিমপাতার রস খাওয়া। রানী চন্দকে বললেন, বেশি ডিম খাওয়া ভালো নয়, বুঝলি। বেশি কেন, ডিম একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। বরং নিমপাতার রস খাবি রোজ কিছুটা করে। 
ঠাকুরবাড়িতে প্রায়শই খামখেয়ালি সভা বসত। সেই সভায় কবি থাকতেন মধ্যমণি। সেই খামখেয়ালিপনা থেকেই হয়তো তিনি রাত দু'টোর সময় মৃণালিনী দেবীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে কিছু রান্না করে খাওয়াতে বলতেন। শোনা যায়, এই ঘটনা প্রায়শই ঘটত আর মাঝরাতে মৃণালিনী দেবী রান্না করে রবীন্দ্রনাথকে নিজের হাতে খাওয়াতেন। কবি দেশি খাবারের মধ্যে পছন্দ করতেন কাঁচা ইলিশের ঝোল, চিতল মাছ আর চালতা দিয়ে মুগের ডাল এবং নারকেল চিংড়ি। এ ছাড়া তিনি কাবাব খেতে পছন্দ করতেন। এর মধ্যে ছিল শ্রুতি মিঠা কাবাব, হিন্দুস্তানি তুর্কি কাবাব, চিকেন কাবাব নোসি।  
এখানেই শেষ নয়, কবিগুরুর ছিলেন পানেরও ভক্ত। তাঁর নাতজামাই কৃষ্ণ কৃপালনী তাঁকে একটি সুদৃশ্য পানদানি বা ডাবর উপহার দিয়েছিলেন, যা আজও ঠাকুরবাড়িতে রক্ষিত আছে। ঠাকুরবাড়ির রান্নায় বেশি করে মিষ্টি দেওয়ার প্রচলন ছিল। গরম মশলা, লবঙ্গ, দারুচিনি বেশি পরিমাণে ব্যবহৃত হত। রান্নার তালিকায় প্রতিদিনই দীর্ঘ পদ থাকত। আর তাতে নিয়মিত অবশ্যই থাকত শুক্তো আর দইমাছ।
ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী নিজে রান্না না-করলেও রন্ধন বিষয়ে বিশেষ উৎসাহী ছিলেন। ভাল কিছু খেলেই তাঁর রেসিপি লিখে রাখতেন লাল একটা খাতায়। পরে পূর্ণিমা ঠাকুর সেই খাতাটি উপহার পেলে, খাতার রেসিপি আর তাঁর মা নলিনী দেবীর রেসিপি মিলিয়ে-মিশিয়ে ‘ঠাকুরবাড়ির রান্না’ নামে দারুণ একটা বই লেখেন। এখানে স্যালাড, চাটনি আর মিষ্টি তৈরির নানা অভিনব পদ্ধতির কথা বলা আছে। 
তবে শুধু পূর্ণিমা দেবীই নন, ঠাকুরবাড়ির অনেকেই রন্ধন সংক্রান্ত বিভিন্ন বই লিখেছেন। ১৯০২ সালে প্রকাশিত প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবীর 'আমিষ ও নিরামিষ আহার' রন্ধনচর্চার অনন্য বই। রেণুকা দেবী চৌধুরানীও ‘রকমারি আমিষ রান্না’ ও ‘রকমারি নিরামিষ রান্না’ নামে দু'টি উচ্চমানের কুকবুক লিখেছেন, যা আজও গৃহিণীদের একান্ত উপযোগী। 
রবীন্দ্রনাথের খাদ্যপ্রীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানান মজার গল্পও। দু'টি বলে শেষ করি। লেখক বনফুল একবার বিহারের ভাগলপুর থেকে সপরিবার গেছেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করতে, শান্তিনিকেতনে কোনও এক বসন্ত উৎসবের সময়। সঙ্গে নিয়ে গেছেন স্ত্রীর হাতে বানানো বাড়ির গরুর দুধে তৈরি সন্দেশ। পরদিন সকালে যখন দেখা হল রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে, তখন প্রণাম-সম্ভাষণ সেরে চা খাওয়ার পালা। রবীন্দ্রনাথ বনফুলের হাতের সন্দেশের কৌটোটি দেখে বললেন, এটি কী? বনফুল জানালেন, সন্দেশ। তিনি কৌটাটি খুলে রবীন্দ্রনাথের সামনে রাখলেন। কবিগুরু একটি সন্দেশ মুখে দিয়ে বিমোহিত হয়ে গেলেন।
ক্ষিতিমোহনবাবুর দিকে তাকিয়ে রবীন্দ্রনাথ বললেন, ‘এ তো বড় চিন্তার কারণ হল।’
‘কেন?’
রবীন্দ্রনাথ সন্দেশ খেতে খেতে বললেন, ‘বাংলাদেশে তো দু'টি মাত্র রস-স্রষ্টা আছে। প্রথম দ্বারিক, দ্বিতীয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এ যে তৃতীয় লোকের আবির্ভাব হল দেখছি।’
একবার চিন ভ্রমণকালে রবি ঠাকুর-সহ শান্তিনিকেতনী অতিথিদের নাকি চিনারা ডিম দিয়ে বরণ করেছিল। বেশ গাঢ় নীল ডিমগুলো খেয়ে নন্দলাল বসু কোনওক্রমে টিকে গেলেও ক্ষিতিমোহন সেন মশাইয়ের সারারাত বারেবারে বমি বাহ্যে অবস্থা খারাপ। সবারই প্রায় সেই দশা। ব্যতিক্রম একমাত্র গুরুদেব স্বয়ং। তিনি বেশ ক'টি ডিম খেয়েও সুস্থ। সবাই অবাক। পরে জানা গেল, গুরুদেব নাকি প্রায় ম্যাজিকের কায়দায় ডিমগুলোকে মুখে না ঢুকিয়ে দাড়ির আড়ালে বুকে পাতা ন্যাপকিনের তলা দিয়ে শিল্পীসুলভ কৌশলে সরাসরি জোব্বার পকেটে চালান করেছিলেন। 
এই জন্যই তিনি আজও সবার প্রিয় গুরুদেব। আমাদের প্রাণের ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

Post a Comment

0 Comments