জ্বলদর্চি

পাঁচটি কবিতা/ সুশীল মণ্ডল

পাঁচটি কবিতা 

সুশীল মণ্ডল 


আর্তি

তোমার চিঠির দাগ এতদিন পরেও 

দেখতে পেলাম লেপটে আছে 

আমার পড়ার টেবিলে।

পৌষ মাসের ফসলের মতো চিঠিতে অনেক শস্য ভিক্টোরিয়া বাবুঘাট ঝিঁঝিপোকা এবং 

গাদাগুচ্ছ অভিমানে সিক্ত বিলাপ।


চাঁদমাখা মহুয়া 

রবীন্দ্র সরোবরের জলে উড়িয়ে দেওয়া 

বাদামের খোসা এবং 

পিকাসো থেকে রামকিঙ্কর 

তুমুল তর্কে জ্বলছে 

তোমার চিঠির প্রতিটি শব্দ 

অসিদ্ধ প্রেমের আর্তি নিয়ে।


সময়

সময় দীর্ঘতর হয়ে উঠছে কাটছে না প্রহর, শুধু বৃষ্টির ভাবনা বুকটাকে ভিজিয়ে রাখে।

মনে আশ্চর্য বাদামি অসুখ 

গাছকে ছুঁতে পারি না 

মানুষকে 

এবং আগাগোড়া নদীর শুরু এবং শেষ।

আবহমান নিবিড় হাওয়ায় 

উড়ে এসে পড়ে না তপোবনের পাতা 

বেদের স্তোত্র 

কিম্বা বাল্মীকির প্রথম কবিতা উচ্চারণ।

সময় এখন অপরূপ অসময়।

🍂

গজল

কার একটা গজল 

আকাশ ছুঁতেই বৃষ্টি নামল 

মেয়েটির খোঁপা থেকে টপ টপ করে 

ঝরল বিস্মিত কবিতা।

গজল ছড়িয়ে গেল নলবনে 

মন্থর দুপুরটা দৌড়ে গেল 

ছাপাখানায়। 

গজলের মেলোডিটা যদি 

লিখে ফেলা যায়! 

জীবন আবহমান রক্ত ঝরায় 

পৃথিবী এখন শবাধার 

তবুও গজল 

ফুসফুসকে বাঁচিয়ে রাখে।


বোধের বাইরে

বুকের মধ্যে সমুদ্র 

আজকাল উজাড় হয় 

মাঝে মাঝে সুঘ্রাণ চন্দন গাছের গন্ধ 

রোদে চলকায়, 

আর আমি ভুবন ডাঙার মাঠ ঘুরে 

কোপাইয়ের জলে পা ডোবাই।

বাইশে শ্রাবণ পেরিয়ে গেল 

এখনও রবীন্দ্রনাথ গলায় 

রজনীগন্ধার মালা পরে দাঁড়িয়ে আছে 

সারা অঙ্গে তার ধকল।

এখন বড় অস্থির আমরা সবাই 

পঁচিশে বৈশাখ বাইশে শ্রাবণকে 

বোধের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে 

ঘুমকাতুরে হওয়ার ভান করি।


বৃষ্টির মধ্যে

বৃষ্টির মধ্যে আগাগোড়া একটা বাঁশি 

বেজে যাচ্ছে।

পয়লা আষাঢ়ে অভিমান কান্না হয়ে ঝরছে, 

মনে পড়ছে তোমাকে জুঁই ফুলে পেয়েছিলাম হাঁসুলীবাকের উপকথায়

ভেতরে ভেতরে তুমি জড়িয়ে আছো 

লতাগুল্ম হয়ে কবিতার উঠোনে 

সন্ধ্যার আশ্চর্য জোনাকির আলো হয়ে 

কখনও কমলালেবু রোদ্দুরে।

Post a Comment

0 Comments