জ্বলদর্চি

তিনটি কবিতা || অমর সাহা


অমর সাহা

হেমন্ত 


চারপাশে হেমন্তের হাওয়া বইছে
মাঠে দেখলাম কী এক ধরনের সাদা ফুল
শিউলির ঝরা শেষলগ্নে হলদে ফুলে ভরে গেছে মাঠ
হাঁটতে হাঁটতে কবোষ্ণ পরিবেশে ৷

গন্ধহীন হলদে কলকে ফুটছে গাছে- নিমগাছ
পাতা খসে যাওয়ার আগে লকলক করছে
পাতাগুলি— নিমপাতাগুলি উপকারী নিমপাতা,
নিমডাল ৷ নিমবেগুন খেতে ভালো লাগে ৷

সবই তো আমাদের কাছে পরীক্ষিত ভালো না মন্দ !
এবার বর্ষার জন্য শরতের কথা ভুলে গেছে৷
হেমন্তের রাত পা টিপে টিপে পা ফেলে আলোর
ফুলকি তোলে৷ বিস্তীর্ণ মাঠ কুয়াশায় ছেয়ে গেছে
পরতে পরতে হেমন্তে৷ অনেক দিন থাকো শীতের শুরুতে৷


 হেমন্ত

আমরা হেটেছি কত বাংলার মাঠ ঘাটে
আমরা অপমানিত হয়েছি কতবার
উচ্চশিক্ষিত সুশিক্ষিত নয় মানুষের হাতে৷
আমরা কত মৃত্যুমুখে যমরাজের কাছে গিয়েছি
তবুও তিনি কেড়ে নেননি প্রাণ
বারবার ঘুরে এসেছি যমের কাছ থেকে৷
আমরা মরণশীল বলেই নির্দিষ্ট বিষয় মেনে চলি৷
মৃত্যু কখন কেড়ে নেবে প্রাণ 
কড়িকাঠের দিকে তাকাই বারবার
মায়া ছাড়া প্রাণ নেই
মমতা ছাড়া জীবন নেই
আলো ছাড়া আঁধার কোথায় ?
মান যশ সবই লুটায় মাটি
মৃত্যুর পর তবুও কেন অহংবোধ ৷



হেমন্তের দিনে
         
মাঠে মাঠে এখন সোনার পাকা ধান
হলুদ রূপে বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মী লাভ করে ৷
কৃষক কৃষানী নতুন পোশাক পরে
কৃষানী তার কৃষকের কাছে লক্ষ্মীবন্ত
অগ্রহায়ণে ডেকে আনে শ্রীরূপ হেমন্ত
এখনও কুয়াশা ঢাকেনি তার চাদর বাংলার ভূমিতে
চারপাশ নানা ফুলে ভরে ওঠেনি
বরং উচ্চাবচ স্থানের কিছু কিছু স্থানে
হলদে ফুল ফুটেছে, সরষের ফুল লকলকিয়ে
আমাদের বাড়ি থেকে ফোন এলো জন্মদিনের শুভেচ্ছা ৷
আকাশের তারামণ্ডলী স্পষ্ট কথা বলে ৷
নক্ষত্রেরা একে একে বলে 'এ বিশ্বে কোথা থেকে এলো মানুষ'?
মানুষ তাই খুঁজে চলেছে হেমন্তের দুপুরে
আমার অস্তিত্ব কোথা থেকে ?

🍂

Post a Comment

0 Comments