জ্বলদর্চি

তিনটি কবিতা /ভবেশ মাহাত


ভবেশ মাহাত 

সার্টিফিকেট 


তোমার বাম হাত ধরেই কিছুটা এগোনো যাক
তোমার নৃত্যের তালে ঘুঙুর বাজবেনা জানি,
আমার গোপন হৃদয়টা মরুভূমি হোক তবে
এ জন্ম না হয় সাত পাকের কাহিনি।

সমস্ত ক্ষমতার ঊর্ধ্বে কি কিছু থাকে? 
যেভাবে মুক্তিবেগও লাগে কাজে,
প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাস খুঁজে দেখা যাক
চাঁদও আসে পৃথিবী এবং সূর্যের মাঝে।

জ্বলতে জ্বলতেই তো নিভতে শিখেছি
যেভাবে এ পৃথিবীটা হয়েছে শান্ত,
সবাই আমাকে ভুল ভাবেই চিনুক 
শুধু তুমি বলে দাও আমি নই ভ্রান্ত।


আর একটা তুক করতে বাকি 

এই মাত্র বিকেলের রোদ গলে গেল আমার দুটি পায়ের ফাঁক দিয়ে
 তখন আমি সন্ধ্যার অবগাহন ছুঁয়ে ফেলছি, 
এই দেখে একটি বাবুইপাখি আগামীর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে জানালার কাঁচে আঘাত পেয়ে ফিরে গেল;
মিশে গেল অবশ্যম্ভাবী রোদ্দুরের কালো ঘোমটার আড়ালে।
অথচ আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম রাত্রি নামানোর মন্ত্র নিয়ে একা,
একে একে সবাই ফিরে এলো বসন্ত গোধূলির মতো,
দাঁড়িয়ে থাকলাম শুধু আমি আর আমাকে ঘিরে পৃথিবীর গোপন নিঃশ্বাস,
এরপর আর একটা তুক করতে পারলেই 
সমস্ত বালিয়াড়িতে লেগে যাবে আগুন।


প্রেমিক হৃদয়  

এই যে শহর একলা হয়েই
কাঁদছে ভীষণ জ্বর, 
চোখের কোণে জল জমেছে
কান্না থামার পর।

হারিয়ে গেছে ভালোবাসার
একটা প্রেমিক মন,
কোন শহরে কোথায় আছে
খোঁজার প্রয়োজন।

ভাঙা-গড়ার এই যে খেলা
কোথায় আছে দাঁড়ি, 
প্রেমিক শুধু হারতে জানে
জীবনটা বালিয়াড়ি।

🍂

Post a Comment

0 Comments