জ্বলদর্চি

চিন দেশের গল্প: ১ (রাতে জ্বলজ্বল করা মুক্তো)/অনুবাদক : নিখিলেশ ঘোষ

চিন দেশের গল্প: ১ (রাতে জ্বলজ্বল করা মুক্তো)

অনুবাদক :  নিখিলেশ ঘোষ

(একটি হান লোককথা। মূল চিনা ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন : জন মিনফোর্ড)
         
অনেক অতীত কালের কথা। এক দেশে ছিল এক ড্রাগন রাজা। তার রাজত্ব ছিল পুব সাগরের অতল তলে। সেই রাজার ঘরে জন্ম নিল এক রাজকন্যা। তার রূপের কোন তুলনা নেই ! যেন আশমানের পরী! স্বর্গের অপ্সরী। বিধাতা তাকে যেমন রূপ দিয়েছিলেন, তেমনি দিয়েছিলেন ক্ষুরধার বুদ্ধি।দেখতে দেখতে মেয়ে আঠারো বছরে পা দিল। রাজকন্যের বিয়ের বয়েস হয়েছে দেখে বুড়ো রাজার তো রাতে ঘুম ওড়ার জোগাড়। তিনি হন্যে হয়ে দেশ-বিদেশের রাজপুত্তুর আর মস্ত বড় ঘরের পাত্রদের খোঁজ করতে লাগলেন। কিন্তু পাত্র যত বড় ঘরেরই হোক না কেন, কোনো জোয়ান ছেলেই রূপবতী আর বুদ্ধিমতী রাজকন্যের মন ছুঁতে পারল না। 

একের পর এক পাত্র দেখে রাজকন্যা ঘাড় বেঁকিয়ে ভ্রু কুঁচকে ফিরিয়ে দেয়। মনের দুঃখে জোয়ান রাজপুত্তুররা  ঘরে ফিরে যায়। এত ভালো ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হতে দেখে রাজা তো একদম ভেঙে পড়লেন।একদিন উপায় না দেখে ড্রাগন রাজা মেয়েকে নিজের কাছে ডেকে আদর করে বললেন, "মা আমার, তুই একটু খুলে বল দিকিন, কেমন বর তোর পছন্দ? তুই যেমনটি চাস, আমি তেমন পাত্রই খুঁজে আনব।"
বাবার কথা শুনে রাজকন্যা মুচকি হেসে বলল, "বাবা, কুবেরের মতো ধন-দৌলত আছে এমন বর আমার লাগবে না। আবার মান-সম্মান আর প্রতিপত্তিতে যে তোমার চেয়ে বড় হবে, তাকেও চাই না। আমি এমন একজন মানুষের গলায় মালা দেব, যে মনের দিক থেকে হবে একেবারে খাঁটি সৎ আর কাজে হবে অসীম সাহসী।" মেয়ের মনের খোঁজ পেয়ে রাজা আর এক দণ্ডও দেরি করলেন না। তিনি তখনই রাজ্যজুড়ে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে দিলেন। সভার সমস্ত উজির-নাজির আর পাত্র-মিত্রদের হুকুম দিয়ে বললেন, "যেখান থেকে পারো, এমন এক জোয়ানকে খুঁজে আনো যে একাধারে পরম সৎ আর দুর্জয় সাহসের অধিকারী। ওকে খুঁজে না আনতে পারলে সকলের গর্দান যাবে।" রাজার হুকুম পেয়ে সবাই হন্যে হয়ে কাজে লেগে গেল। রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বুড়ো কচ্ছপ মহাশয় একজনের নাম পাত্তর হিসেবে পেশ করলেন। কিন্তু রাজকন্যার দরবারে যেতেই রাজকন্যার প্রশ্নের যুতসই উত্তর না দিতে পেরে সেই পাত্তর ফসকে গেল! তার সততা বা সাহসে রাজকন্যার মন গলল না। এরপর সেনাপতি কাঁকড়া বাবু বুক ফুলিয়ে অন্য এক বরের খোঁজ নিয়ে এলেন। কিন্তু কী আর করা, সেই পাত্রটিও রাজকন্যার মনের চৌহদ্দিতে ঠাঁই পেল না। রাজকন্যা তাকেও নাকচ করে দিল। রাজা তো চিন্তায় মাথায় হাত দিয়ে বসলেন।
🍂
 ঠিক এমন সময় একদিন প্রধান সেনাপতি বানমাছ রাজ্যের সমস্ত নদী-নালা ঘুরে, জলপথের তদারকি করে রাজপ্রাসাদে ফিরে এলেন। রাজার অমন দুশ্চিন্তা দেখে তিনি সোজা রাজকন্যার কাছে গিয়ে হাজির হলেন। সেনাপতি বানমাছ রাজকন্যাকে কুর্ণিশ ঠুকে বললেন, "রাজকুমারী, আমি নদী নালা  দেখাশোনা কাজে ঘোরার সময় এমন এক জোয়ান ছেলের সন্ধান পেয়েছি, যে ঠিক আপনার মনের মতো। আপনি বরের জন্য যেমনটি চেয়েছিলেন-- ছেলেটার যেমন 
এক বিন্দু লোভ নেই মনে, তেমনি আবার যমকেও ডরায় না। এমন বুকভরা সাহস! সে ঠিক আপনার মনের মতোই খাঁটি জোয়ান।" বানমাছের মুখে সেই যুবকের গপ্পো শুনে রাজকন্যার চোখ দুটি চকচক করে উঠল।

পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি নদীর তীরে আ য়ের নামের এক যুবক বাস করত। 
আ য়েররা ছিল দুই ভাই, আর তার বড় ভাইয়ের নাম ছিল আ দা। আ য়ের খুব সৎ এবং সাহসী ছিল। এই ভালো গুণের কারণে এলাকার সবাই তাকে খুব ভালোবাসত এবং তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকত।তারা মূলত একটি ভালো ও সচ্ছল পরিবারের সন্তান ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তাদের বাবা-মা দুজনেই মারা যান। মা-বাবার মৃত্যুর পর দুই ভাইয়ের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায় এবং তারা চরম অর্থকষ্টের মধ্যে পড়ে।সংসারে অভাব থাকলেও দুই ভাই একসঙ্গেই একই বাড়িতে থাকত। জীবন বাঁচানোর জন্য এবং খাবার জোগাড় করতে তারা বনে পশু শিকার শুরু করে। এই পশু শিকার করাই ছিল তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।

প্রধান সেনাপতির কাছে আ য়েরের কথা শুনে রাজকুমারী খুব খুশি হলেন এবং তাঁর মুখে হাসি ফুটে উঠল। তাঁর হরিণের মতো সুন্দর টানা টানা চোখ দুটিতে আনন্দে স্রোত বয়ে গেল। কিন্তু ড্রাগন রাজা এই কথা শুনে খুব রেগে গেলেন। তিনি তাঁর মেয়েকে বললেন, "মা, প্রথমত, আমি কেমন করে নিশ্চিত হই যে ওই ছেলেটি আসলেই সৎ আর সাহসী? দ্বিতীয়ত, সে তো আমাদের জলের জীব নয়। তাই তার সাথে তোমার বিয়ে হওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।" রাজকুমারী বাবার এই কথা মেনে নিতে পারল না। সে মন খারাপ করে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিল এবং সারাদিন বিছানায় শুয়ে রইল।মেয়ের এই অবস্থা দেখে রাজা বড় চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং কী করবেন বুঝতে না পেরে অস্থির হয়ে ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে লাগলেন। তখন 'কাঁকড়া' নামের এক মন্ত্রী রাজার কাছে এসে তাঁর একটি গোপন বুদ্ধির কথা বললেন। সেই পরিকল্পনার কথা শুনে রাজার মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

ঠিক সেই রাতেই আ য়ের একটা স্বপ্ন দেখল। সে দেখল, সাদা চুল আর সাদা রঙের পোশাক পরা এক বয়স্কা মহিলা তার কাছে এসে বলছেন, "এই নদীর তীরে একটি সুন্দরী মেয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। তুমি যাও এবং তাকে বিয়ে করো।" প্রচণ্ড উত্তেজনায় আ য়েরের ঘুম ভেঙে গেল। সে সঙ্গে সঙ্গে তার বড় ভাই 
আ দাকে ডেকে স্বপ্নের পুরো ঘটনাটি বলল।
আ দা মুখে কিছু না বললেও, মনে মনে 
আ য়েরের প্রতি খুব হিংসা বোধ করল। সে     আ য়েরকে বলল, "তুমি একটা স্বপ্নকে কীভাবে সত্যি ভাবছ? এটা তোমার মনের ভুল ছাড়া আর কিছুই নয়। এসব ফালতু চিন্তা বাদ দিয়ে চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ো।" দাদার কথা শুনে আ য়ের আবার ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু আ দা মনে মনে জানত যে আ য়ের যেহেতু খুব খাঁটি ছেলে, তাই তার দেখা স্বপ্ন কখনো মিথ্যা হতে পারে না। সে স্বপ্নটাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেছিল। তাই সে মাঝরাতে গোপনে বিছানা থেকে উঠল এবং কাউকে কিছু না জানিয়ে দ্রুত নদীর দিকে চলে গেল। সকালে যখন আ য়েরের ঘুম ভাঙল, সে তার দাদাকে কোথাও দেখতে পেল না। আ দা কোথায় গেল, তা বুঝতে না পেরে আ য়ের চারপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করল, কিন্তু দাদাকে কোথাও খুঁজে পেল না।

তখন আ য়ের এর সেই স্বপ্নের কথা মনে পড়ল। আ য়ের  মনে মনে ভাবল যে ভোরের স্বপ্ন সত্যিও হতে পারে। তাই সেও বিছানার চাদর ছেড়ে  দ্রুত দৌড়ালো নদীর দিকে। আ দা সেখানে পৌঁছানোর একটু পরে আ য়েরও  সেই নদীতীরে পৌঁছল। আকাশে তখন পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে। মিষ্টি বাতাস বইছে চারদিকে । পূর্ণিমার রুপালি আলোয় নদীর জল ঝিকমিক করছে। হাজার হাজার জোনাকির যেন  সভা বসেছে। তাদেরআলো নিবছে আর জ্বলছে। এ যেন এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ। সেই বৃদ্ধা যেমন ভাবে তার স্বপ্নে বলেছিল ঠিক তেমনি একটি পাথরের উপরে বসেছিল সেই রাজকন্যে। তার লম্বা ঘন কালো এলো চুল নদীকে ঢেকে দিয়েছিল। 

রাজকুমারী দেখতে ছিল ঠিক যেন ডানা কাটা পরী ! সেই রাতে আকাশে ছিল ভরা পূর্ণিমা। চাঁদের আলো গায়ে মাখায় রাজকুমারীর রূপ যেন আরও হাজার গুণ বেড়ে গিয়েছিল। জোনাকির ঝিকিমিকিতে চুলের উপর হাজার তারার মেলা বসেছে। আ দা এবং আ য়ের—দুই ভাই-ই রাজকুমারীর সামনে গিয়ে হাজির হলো। তাঁর এমন অবাক করা সৌন্দর্য দেখে দুজনেই একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেল। তারা দুজনেই রাজকুমারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসল। রাজকুমারী তাদের দিকে একটু আড়চোখে তাকাল। তারপর মিষ্টি ও শান্ত গলায় বলল, "তোমরা দুজনেই আমাকে বিয়ে করতে চাও। বেশতো!  কিন্তু আমি তো একসঙ্গে তোমাদের দুজনকেই বিয়ে করতে পারব না! তোমরাই বলো, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে সৎ আর সাহসী?" একথা শুনে আ দা আর আ য়ের দুজনেই একসঙ্গে চিৎকার করে বলে উঠল, "আমিই সবচেয়ে বেশি সাহসী!" তাদের কাণ্ড দেখে রাজকুমারী হেসে ফেলল। সে দু ভাইকে পরীক্ষা করতে চাইল। সে বলল, "ঠিক আছে, আমার একটি উজ্জ্বল মুক্তো চাই, যা রাতের অন্ধকারেও চকচক করে জ্বলবে। তোমাদের মধ্যে যে সত্যিই সবচেয়ে সৎ আর সাহসী, একমাত্র সেই পারবে আমার জন্য ওই মুক্তো এনে দিতে। আর আমি তাকেই আমার স্বামী হিসেবে বেছে নেব। কি তোমরা পারবে তো?" রাজকুমারীর কথা শুনে বড় ভাই আ দা জলদি প্রশ্ন করল, "কিন্তু রাজকুমারী, সেই মুক্তো আমরা কোথায় পাব?" রাজকুমারী উত্তর দিল, "সেটি আছে পুব সাগরে, ড্রাগন রাজার কাছে। আমি তোমাদের দুজনকে দুটি বিশেষ যাদু লাঠি দিচ্ছি। এই লাঠির ছোঁয়ায় সমুদ্রের জল দুভাগ হয়ে যাবে আর তোমরা সহজেই পথ তৈরি করে এগিয়ে যেতে পারবে।" এই বলে রাজকুমারী দুই ভাইকে দুটি জাদু লাঠি দিলেন। দুই ভাই রাজকুমারীকে মাথা নিচু করে অভিবাদন জানিয়ে সেখান থেকে বিদায় নিল এবং মুক্তোর খোঁজে দ্রুত রওনা হলো।

দুই ভাইয়ের কেউই এর আগে কোনোদিন পূর্ব সমুদ্রে যায়নি। তাই সেই সমুদ্র কোথায়, আর কতটাই বা দূরে, তা তারা জানত না। বড় ভাই আ দা চটপট একজনের কাছ থেকে একটি ঘোড়া ধার করল। তারপর ঘোড়ায় চেপে চওড়া ও সহজ রাস্তা ধরে রওনা দিল। অন্যদিকে, ছোট ভাই আ য়ের নিজের পিঠে একটি খড়ের চপ্পল ঝুলিয়ে নিল। সে নদীর ধার ঘেঁষে তৈরি হওয়া আঁকাবাঁকা সরু পথ ধরে হাঁটতে শুরু করল। দুই ভাই প্রতিদিন খুব ভোরে যাত্রা শুরু করত আর একদম সাঁঝের বেলা পথ চলা থামাত। এভাবেই সেই জাদু মুক্তোর খোঁজে তারা দিনের পর দিন চলতে লাগল। কিন্তু অনেক দিন কেটে গেলেও তারা পূর্ব সমুদ্রের দেখা পেল না। চলতে চলতে একদিন বড় ভাই আ দা একটি গ্রামে গিয়ে পৌঁছাল। কিন্তু এ কী! গ্রামটির অবস্থা বড্ড করুণ। এক ভয়াবহ বন্যা পুরো গ্রামটিকে গিলে খেয়েছে। গ্রামের মাঠ-ঘাট সব জলের নিচে ডুবে আছে। এমনকী মানুষের ঘরবাড়িও জলের তলায় তলিয়ে গেছে। গ্রামের বুড়ো মানুষ আর ছোট ছোট শিশুরা জীবন বাঁচাতে পাহাড়ের ওপর ছোট্ট একটা টিলায় আশ্রয় নিয়েছে। আর জোয়ান ছেলেরা ছোট ছোট নৌকো নিয়ে ঘরের জিনিসপত্র উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আসলে গ্রামটি ছিল খুব নিচু এলাকায়। তার ওপর টানা ১০ দিন ধরে চলা মুষলধারে বৃষ্টির কারণেই এই ভয়ঙ্কর বন্যা ডেকে এনেছিল।

এভাবেই আরও তিনটি দিন কেটে গেল, কিন্তু বন্যার জল কমার কোনো নামগন্ধই রইল না। গ্রামের মানুষজন খুব ভয় পেয়ে গেল। তারা বুঝতে পারল যে জল যদি এভাবে জমে থাকে, তবে মাঠের সব ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাবে এবং জলের তলায় থাকা ঘরবাড়িগুলোও ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে। তখন গ্রামের এক জ্ঞানী ও বয়োবৃদ্ধ লোক সবাইকে বললেন, "আমাদের মধ্যে কেউ যদি ড্রাগন রাজার কাছে গিয়ে একটি ‘সোনার সেঁউতি’ (জল ছেঁচার পাত্র) ধার করে আনতে পারে, তবেই এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। জল সরানোর এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন সাহসী কে আছে, যে এই কঠিন কাজটা করতে পারবে?"ঠিক সেই সময় আ দা ওই পথ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিল। সে সবেমাত্র তার পুঁজির শেষ খাবারটুকু খেয়ে শেষ করেছে। সে চিন্তায় ছিল যে, এই অচেনা জায়গায় সে আবার খাবার কোথায় পাবে। গ্রামবাসীদের কথা শুনে সে আড়ি পেতে সব শুনল। যখনই সে ‘ড্রাগন রাজা’র নাম শুনল, সে অমনি চিৎকার করে বলে উঠল, "আমি তো এখনই ড্রাগন দসব খাবার ফুরিয়ে গিয়েছিল। তাই বনের পশুপাখি শিকার করে খেয়েই সে কোনোমতে বেঁচে ছিল।
গ্রামে ফিরে আ য়ের দেখল এক ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। বন্যার জলে গ্রামবাসীদের ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র সব ভেসে গেছে। মানুষের এই কষ্ট দেখে আ য়েরের মন খুব খারাপ হয়ে গেল। সে চুপ করে বসে না থেকে গ্রামের অন্য যুবকদের জড়ো করল। সবাইকে সাথে নিয়ে সে সারাদিন জলে ডুবে মানুষের ভেসে যাওয়া মালপত্র উদ্ধার করতে লাগল।
কাজ করার সময় আ য়ের গ্রামবাসীদের মুখে একটি নতুন কথা শুনল। সবাই বলাবলি করছিল—যদি ড্রাগন রাজার কাছ থেকে ‘সোনালী সেঁউতি’ (জল সেঁচার পাত্র) ধার করে আনা যায়, তবেই গ্রাম থেকে এই বন্যার জল কমানো সম্ভব।
একথা শুনে আ য়ের শান্ত গলায় গ্রামবাসীদের বলল, "তোমরা চিন্তা কোরো না। আমি যেকোনো উপায়ে ড্রাগন রাজার কাছে যাব এবং তোমাদের জন্য সেই সোনালী সেঁউতি ধার করে নিয়ে আসব। কিন্তু তোমরা কি আমার ওপর এই ভরসাটুকু রাখবে?"

আ য়েরের কথা শুনে গ্রামবাসীরা তো অবাক! কারণ একটু আগেই অন্য একজন লোক ড্রাগন রাজার কাছে যাবে বলে এই গ্রাম পার হয়ে গেছে। এখন আবার আ য়েরও সেখানে যেতে চাইছে! তারা কিছুই বুঝতে পারল না। কিন্তু 
আ য়েরের চোখ-মুখ দেখে তাকে খুব সৎ এবং বিশ্বাসী মনে হলো। গ্রামবাসীরা বুঝল এই যুবক কোনো প্রতারক বা ঠগ নয়। তাই তারা 
আ য়েরকে সব কথা খুলে বলল এবং আশ্বস্ত হয়ে জানাল, "হে যুবক! আমরা তোমার ওপর বিশ্বাস রাখলাম। আশা করি তুমি আমাদের ঠকাবে না।"
আ য়ের মাথা নেড়ে বলল, "আমি আমার কথা কক্ষনও ভুলব না। এই পথ দিয়ে ফেরার সময় আমি ড্রাগন রাজার কাছ থেকে সোনালী সেঁউতি অবশ্যই নিয়ে আসব।" এই বলে সে গ্রামবাসীদের সাথে হাত মেলাল।
গ্রামবাসীরা তাকে সাহায্য করার জন্য নৌকো করে এগিয়ে দিতে চাইল। কিন্তু আ য়ের মিষ্টি মুখে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল,বলল, "আপনারা যে আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন,সেজন্য ধন্যবাদ।'' এরপর সে ড্রাগন রাজার উদ্দেশ্যে নদীর গভীর জলের নিচে ডুব দিল এবং সাঁতরাতে শুরু করল।

আ য়ের যখন পূর্ব সাগরের তীরে পৌঁছাল, সে দেখল বড় ভাই আ দা সেখানে আগে থেকেই তার জন্য অপেক্ষা করছে।সেখানকার সমুদ্রের রূপ ছিল ভীষণ ভয়ানক, যেন এক বিশাল যুদ্ধক্ষেত্র! রক্তপিপাসু নেকড়ের ডাকের মতো গর্জন করে জোরে বাতাস বইছিল, যা শুনে মনে হচ্ছিল যুদ্ধের শিঙ্গা বাজছে। সমুদ্রের বড় বড় ঢেউগুলো হাজার হাজার অশ্বারোহী সৈন্যের মতো ছুটে এসে তীরে ধাক্কা মারছিল। সেই ঢেউয়ের টানে বড় বড় পাথরও সহজে সমুদ্রের বুকে ভেসে যাচ্ছিল।এই ভয়ঙ্কর রূপ দেখে 
আ দা খুব ভয় পেয়ে গেল। সে আর সামনে এগোতে সাহস পেল না। তাই সে ছোট ভাই 
আ য়েরকে প্রথমে চেষ্টা করতে বলল। সরল ছেলে আ য়ের দাদাকে খুব মানত, তাই একটুও ইতস্তত না করে, জল ভাগ করার সেই জাদুকরী কাঠিটি  হাতে নিয়ে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে ঝাঁপ দিল। ঝাঁপ দিতেই এক আশ্চর্য কাণ্ড ঘটল! সে দেখল সমুদ্রের জল দুদিকে সরে গেছে। যেন কেউ ধারালো ছুরি দিয়ে জল কেটে মাঝখান দিয়ে সুন্দর একটা রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। তা দেখে আ দা চোখ বন্ধ করে 
আ য়েরের পেছন পেছন জলের নিচের সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে শুরু করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা দুজনে ড্রাগন রাজার প্রাসাদের মূল ফটক  এসে পৌঁছল।

দুই ভাই রাজরক্ষীকে জানাল যে তারা কেন ড্রাগন রাজার সাথে দেখা করতে এসেছে। রাজা তাদের আসার কারণ শুনে খুব খুশি হলেন। তিনি দুই ভাইকে তার গুপ্তধনের ভাণ্ডার দেখানোর জন্য নিয়ে গেলেন।সেখানে গিয়ে রাজা বললেন, " বাছারা, তোমরা ভেতরে যাও এবং তোমাদের যা পছন্দ হয় নিয়ে নাও। তবে আমার একটি শর্ত আছে। তোমরা দুজনে একটির বেশি জিনিস নিতে পারবে না।" এরপর রাজা মশাই আঙুল দিয়ে গুপ্তধনের ঘরের দরজার দিকে ইশারা করলেন। সাথে সাথে দরজাটি খুলে গেল। ভেতরের এক অসাধারণ দৃশ্য দেখে দুই ভাইয়ের চোখ তো আনন্দে আর বিস্ময়ে চড়কগাছ হয়ে গেল! পুরো ঘরটি ছিল নানা রঙের মনিমানিক্যে  ভরা। ঘরের দেওয়ালে এবং টেবিলে চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল হিরে, জহরতসহ নানারকম মূল্যবান জিনিসপত্র। তাদের আভায় চারদিক আলোকিত। 

বড় ভাই আ দার একমাত্র লক্ষ্য ছিল নদীর তীরে মন খারাপ করে বসে থাকা রাজকুমারীর মন জয় করা। তাই সে এত গুপ্তধনের মধ্য থেকে সবচেয়ে বড় ও চকচকে মুক্তোটি তুলে নিল। মুক্তোটির উজ্জ্বল আলো পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ছিল। আ দা লুকিয়ে সেই মুক্তোটি তার কাঁধের ঝোলা ব্যাগে ভরে ফেলল। কিন্তু শুধু একটি মুক্তো পেয়েও তার লোভ কমল না। ঘরের অন্য সব দামি জিনিস দেখে সে নিজেকে সামলাতে পারল না। সেখানে রাখা একটি সোনার তাল এবং পান্না দিয়ে তৈরি রাজদণ্ড দেখেও তার ভীষণ লোভ হলো। সে যা-ই দেখছিল, তা-ই নিজের করে নিতে চাইছিল। কিন্তু ড্রাগন রাজার নিয়ম ছিল—একটার বেশি জিনিস নেওয়া যাবে না। আ দা সেই নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করায় দরজার রক্ষী তাকে তৎক্ষণাৎ ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দিল। এরপর যখন ছোট ভাই আ য়ের সেই গুপ্তধনের ঘরে ঢুকল, সেও তাকের ওপর সুন্দর সুন্দর উজ্জ্বল মুক্তোগুলো দেখতে পেল। কিন্তু সে ওগুলোতে হাতও দিল না। কারণ গ্রামবাসীদের দেওয়া কথা রক্ষা করার জন্য তার শুধু সোনালী সেঁউতিটুকুরই প্রয়োজন ছিল। আ য়ের জানত যে নিয়মের বাইরে একটির বেশি জিনিস সে নিতে পারবে না। তাই সে রক্ষীর কাছে শুধু সোনালী সেঁউতিটি চাইল। রক্ষী তাকে সেটি দিলে, আ য়ের তা নিয়ে আনন্দের সাথে বাইরে বেরিয়ে এলো।

ছোট ভাই আ য়ের যখন গুপ্তধনের ঘরে ঢুকল, সেও তাকের ওপর রাখা সুন্দর ও উজ্জ্বল মুক্তোগুলো দেখতে পেল। কিন্তু সে ওগুলোতে হাতও দিল না। কারণ গ্রামবাসীদের দেওয়া কথা রক্ষা করার জন্য তার শুধু সোনালী সেঁউতিটুকুরই প্রয়োজন ছিল। আ য়ের ভালো করেই জানত যে নিয়মের বাইরে একটির বেশি জিনিস সে নিতে পারবে না। তাই সে দ্বাররক্ষীর কাছে শুধু সোনালী সেঁউতিটি চাইল। রক্ষী তাকে সেটি দিলে, আ য়ের তা নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। এরপর ড্রাগন রাজা দুই ভাইকেই কয়েকদিনের জন্য তাঁর রাজপ্রাসাদে অতিথি হয়ে থেকে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। কিন্তু গ্রামে বন্যার কারণে মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছিল, তাই আ য়ের ও আ দা রাজার সেই প্রস্তাব বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিল। তখন ড্রাগন রাজা নিজে দুই ভাইকে তাঁর সমুদ্র রাজ্যের সীমানা পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন।

তারা যখন সমুদ্রের তীরে ফিরে এলো, তখন বড় ভাই আ দা আ য়েরকে পেছনে ফেলে একাই চটপট ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসল। সে ঘোড়াকে চাবুক মেরে দ্রুত গতিতে সামনের দিকে ছুটে চলে গেল। আর ছোট ভাই আ য়ের একাই পায়ে হেঁটে ধীরে ধীরে এগোতে লাগল। পথে যেতে যেতে আ দা সেই বন্যার্ত গ্রামের পাশ দিয়ে পার হচ্ছিল। তখনো গ্রামের জল নামেনি, মাঠের ফসল সব নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ভেঙে পড়েছিল। গ্রামবাসীরা একটি চৌরাস্তার মোড়ে অপেক্ষা করছিল। 
আ দাকে আসতে দেখে সবাই তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল এবং চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল, "আমাদের সেই সোনালী সেঁউতি কোথায়?" আ দা তখন তৎক্ষণাৎ একটি মিথ্যে কথা বানিয়ে বলল, "ড্রাগন রাজা আমাকে সোনালী সেঁউতি ধার দিতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন তাঁর কাছে এমন কোনো জিনিস নাকি নেই।" একথা বলেই আ দা আবার ঘোড়া ছুটিয়ে চোখের পলকে সেখান থেকে পালিয়ে গেল।এর পরের দিন আ য়ের সেই গ্রামে এসে পৌঁছাল। নদী পার হওয়ার সময় সে দূর থেকেই গ্রামবাসীদের চিৎকার করে বলল, "তোমরা সবাই তাড়াতাড়ি পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে নেমে এসো! আমি তোমাদের জন্য ড্রাগন রাজার কাছ থেকে সোনালী সেঁউতি ধার করে এনেছি।"একথা শুনে আনন্দের চোটে গ্রামবাসীরা সবাই পাহাড় থেকে দৌড়ে নিচে নেমে এলো। তারপর আ য়েরের সাহায্য নিয়ে তারা সেই সোনালী সেঁউতি দিয়ে গ্রাম থেকে বন্যার জল সেঁচে বাইরে বের করে দিতে লাগল। দেখতে দেখতে প্রথমে মানুষের ঘরবাড়ি থেকে জল নেমে গেল। তারপর ডুবে যাওয়া ফসলের গাছগুলো আবার সোজা হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াল। অবশেষে মাঠের সব জল পুরোপুরি চলে গেল।যখন গ্রামের নিচু এলাকা থেকেও জল নেমে যাচ্ছিল, তখন সবাই অবাক হয়ে দেখল মাঠের মধ্যে একটা মস্ত বড় ঝিনুক পড়ে আছে। গ্রামবাসীরা সবাই মিলে জোর করে সেই ঝিনুকের মুখটি খুলল। তারা দেখল, সেই ঝিনুকের ভেতরে একটি বিশাল বড় এবং সুন্দর কালো মুক্তো চকচক করছে।

মাঠের মধ্যে সেই বড় মুক্তোটি পাওয়ার পর গ্রামবাসীরা সেটি আয়েরকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা আয়েরকে বলল, "এই ভয়াবহ বন্যার কারণে তোমাকে দেওয়ার মতো দামি কোনো উপহার আমাদের কাছে নেই। তাই আমাদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে তুমি এই মুক্তোটি নিজের কাছে রাখো, যাতে সবসময় আমাদের কথা তোমার মনে থাকে।" আ য়ের গ্রামবাসীদের ধন্যবাদ জানিয়ে মুক্তোটি তার কাঁধের ঝোলা ব্যাগে ভরে নিল। তারপর সবার সাথে হাত মিলিয়ে সে সেখান থেকে বিদায় নিল। যদিও আ য়ের সেই রাজকুমারীর পছন্দের উজ্জ্বল মুক্তোটি ড্রাগন রাজার কাছ থেকে আনতে পারেনি, তবুও মানুষের উপকার করতে পেরে তার মন শান্তিতে ভরে গেল। সে খুব খুশি হলো।এদিকে বড় ভাই আ দা কয়েকদিন আগেই নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছিল। সে দেখল, রাজকুমারী তখনও মন খারাপ করে নদীর তীরে শুয়ে আছে। আ দা তখন রাজকুমারীর মন জয় করার জন্য তার ব্যাগ থেকে ড্রাগন রাজার প্রাসাদ থেকে চুরি করা সেই উজ্জ্বল মুক্তোটি বের করল। তারপর সেটি দুহাতে ধরে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে রাজকুমারীকে উপহার দিল। মুক্তোটি দিয়েই আ দা রাজকুমারীকে তখনই বিয়ে করার জন্য জোরাজুরি করতে লাগল। কিন্তু রাজকুমারী শান্ত গলায় বললেন, "আমাদের আজ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করা দরকার। এই আসল নাকি নকল, তা রাতেই মুক্তোটিবোঝা যাবে।"

সেই রাতেই আ দা নদীর তীরে গেল এবং তার কাঁধের ঝোলা ব্যাগ থেকে মুক্তোটি বের করল। কিন্তু মুক্তোটি বের করতেই সে দেখল এক অদ্ভুত কাণ্ড! মুক্তোটির চেনা উজ্জ্বল আলো আর নেই, সেটি পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেছে। এতে আ দা ভীষণ হতাশ হয়ে কাঁদতে শুরু করল। রাগ আর দুঃখে সে মুক্তোটি মাটিতে ছুড়ে ফেলে দিল এবং পা দিয়ে পিষে ফেলল। সাথে সাথে মুক্তোটি ভেঙে গেল এবং তার ভেতর থেকে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত এক ফোঁটা তরল বেরিয়ে এলো।এর তিনদিন পর আ য়ের সেই নদীর তীরে এসে হাজির হলো। সে রাজকুমারীর সামনে গিয়ে মাথা নিচু করে বলল, "রাজকুমারী, আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনি যেমনটি চেয়েছিলেন, আমি ড্রাগন রাজার প্রাসাদ থেকে তেমন উজ্জ্বল মুক্তো এনে দিতে পারিনি।" তখন রাজকুমারী জিজ্ঞেস করলেন, "তাহলে তোমার ওই ব্যাগের ভেতর ওটা কী আছে?" আ য়ের তার ব্যাগ থেকে মুক্তোটি বের করে বলল, "এটা একটা সাধারণ মুক্তো, বন্যায় সাহায্য করার জন্য গ্রামবাসীরা ভালোবেসে আমাকে উপহার দিয়েছে।" মুক্তোটি ছিল একদম কালো আর তার কোনো চকমকে আলো ছিল না। তা দেখে বড় ভাই আ দা রেগে গিয়ে বলল, "নদীর ওপাশে থাকা ওই কালো পাহাড়গুলোও তো এই মুক্তোটার চেয়ে বেশি উজ্জ্বল!" কিন্তু রাজকুমারী আ দার কথায় কান না দিয়ে শান্ত গলায় বললেন, "ঠিক আছে, এই মুক্তোটি আসল নাকি নকল, তা বোঝার জন্য আমাদের আজ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করা দরকার।"

রাত হতেই চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে গেল। আয়ের তখন তার ব্যাগ খুলে কালো মুক্তোটি বের করল। মুক্তোটি বের করতেই এক চমৎকার কাণ্ড ঘটল! মুক্তোটি দেখে মনে হচ্ছিল, যেন 
আ য়ের নিজের হাতে আস্ত একটা চাঁদ ধরে রেখেছে। আ য়েরের এই মুক্তোর আলোর সামনে আকাশের আসল চাঁদও ম্লান হয়ে গেল। এর তীব্র আলোয় নদীর চারপাশ দিনের আলোর মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং নদীর জল ঝিকিমিকি করতে লাগল। রাজকুমারী তখন খুশি হয়ে মুক্তোটি আকাশের দিকে ছুড়ে দিলেন। সাথে সাথে সেই মুক্তো বাতাসে ভেসে চারদিকে তার রূপালী আলো ছড়িয়ে দিল।
আ য়েরের মুক্তোর এই ঝলমলে আলো সহ্য করতে না পেরে বড় ভাই আ দা চোখ বন্ধ করে ফেলল। অনেকক্ষণ সে চোখ খুলতেই পারল না। বেশ কিছুক্ষণ পর সে যখন চোখ খুলল, তখন দেখল তার সামনে এক বিশাল ও উজ্জ্বল রাজপ্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে! প্রাসাদটি আলোয় ঝলমল করছে এবং তার চূড়ায় শোভা পাচ্ছে আ য়েরের সেই জাদুকরী মুক্তোটি। রাজকুমারী আর আ য়ের সুন্দর ও জমকালো পোশাক পরে একে অপরের হাত ধরে বিয়ের মণ্ডপের দিকে হেঁটে চলেছেন।এই দৃশ্য দেখে আ দা হিংসা আর লোভের বশে দ্রুত তাদের পেছনে ছুটতে লাগল। কিন্তু সে প্রাসাদের মূল ফটক বা সদর দরজায় পৌঁছানো মাত্রই ওখানকার রক্ষীরা তাকে ধরে ফেলল এবং তার পথ আটকে দাঁড়াল। তাকে আর ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হলো না। এদিকে তখন আমন্ত্রিত অতিথিদের আনন্দ আর হইচইয়ে পুরো রাজপ্রাসাদ মুখরিত হয়ে উঠেছে।

Post a Comment

0 Comments