জ্বলদর্চি

তপনজ্যোতি মাজি'র কবিতাগুচ্ছ

তপনজ্যোতি মাজি'র কবিতাগুচ্ছ 

 অটোগ্রাফ

স্বপ্নের ডানা নেই। 
নীল গ্রহে তুমুল তোলপাড়। 
এইমাত্র দেখা হলো বিজন বিভুঁইয়ে। নারী নয়,বলেছি রমণী।

আমার চৈতন্যে ছিলে। 
অক্ষর সঙ্গিনী। 
জল পড়ে বলেছিল কেউ। 
আমি তবু খুঁজেছি তোমাকে। 
সেই সব ভাঙনের দিন।

দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা ক্লিশে রাজনীতি। 
প্রবুদ্ধ মনন খুঁজি। গভীরতা মাপি। 
এখনও যত্নে আছে অভিমানী নাম।


 ভারসাম্য

ভাষ্য স্থির। 
ভেবেছিলে তরঙ্গের অভিঘাত ভেঙেছে প্রাচীর। 
মেধাপথ চলে গেছে দিগন্তের দিকে। কেউ যেন তর্জনী সংকেতে উড়িয়ে দিয়েছে সব পাখি।

আমি কি নিরাকার বিশ্বাসী? 
দুলেছিল ঘরবাড়ি মধ্যরাতে। ভূকম্পন বলেছিল যারা,তাদের গভীরে ছিল নিগূঢ় সংশয়। রাতপাখি জেগে ছিল নির্জন কার্নিশে।

তবুও ভারসাম্যে ফেরে হিংসা ও আবেগ। যুদ্ধ শেষ।
ফিরে আসে পদাতিক পরিযায়ী শ্রমিক।


 প্রতিবন্ধ

মুহূর্ত শৃঙ্খলে বাঁধা হৃদিপ্রকরণ। 
ছায়া কি চিনেছে তার প্রান্তিক মুখ? পুড়ছে ওষ্ঠ তার প্রগাঢ় চুম্বনে। 
নিমিত্ত ছিল না কিছু। 
কেবল অগ্নি ছিল ক্ষুধিত জঠোরে।

ভাঙেনি ধনুকের ছিলা। 
মোছেনি সে ওষ্ঠের নিবিড় আশ্লেষ। 
এখনও অনেক কিছু হতে পারে অন্তরে বাহিরে। 

কেউ নেই। 
সে জেনেছে বিকল্প কোনও আকাশের নাম অপ্রতিম প্রেম।


 নিপাতন সিদ্ধ 

মনষ্ক মেধার কাছে ঋণী। প্রবাসজীবন ঘিরে জন্ম নেয় মিথ। কল্পতরু ঈশ্বর না ঈশ্বরীয় লৌকিক বিশ্বাস?

চূর্ণ বিশ্বাসের কাছে অক্ষরের নির্বাসন দেখে স্থানু হয়ে আছে প্রকীর্ণ শিকড়।
 সন্ধি থেকে দূরে। তবু অনিবার্য হয়ে যায় জীবনের দায়।

মফস্বল স্টেশানে থামলো ই এম ইউ লোকাল। যে নীল অনন্তে বিলীন তাকে খুঁজি নীল ওড়নায়। সব
আখ্যান গল্প হয়ে গেলে,দেখা-টুকু কবিতার পঙক্তি হয়ে যায়।


 মৌনজল

ফিরে আসছে অব্যক্ত কথারা।
মুখর প্রহরগুলি যেন নয়েজ সিন্ড্রোম। কাল্পনিক বিন্দুগুলি যথাস্থানে থিতু।

এই ক্রান্তিকালে দ্যাখো তার মুক্ত দ্রাঘিমা।সান্ধ্য দিগন্ত জুড়ে শোভন অস্তরাগ। এসো মৌনজল।
তৃষ্ণার পাশে বসো। 
প্রান্তর পার হয়ে এসেছিল যারা তাদের শরীরে স্পষ্ট আগুনের দাগ।প্রেম ও নিষ্ঠুরতা আজ আর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। 

সারস ও শৃগালের গল্প মুছে যাচ্ছে অনস্ক্রিন হরফে।
 কেউ কতদিন মুগ্ধতা দেখেনি প্রেমিকার চোখে। মৌনজল
গড়িয়ে পড়ছে অবনত ভূমিতে।

🍂

Post a Comment

0 Comments