জ্বলদর্চি

ছাতিম তলায় হাতিম নাচে (দ্বিতীয় পর্ব) /সৌমেন রায়

ছাতিম তলায় হাতিম নাচে 

(দ্বিতীয় পর্ব)

 সৌমেন রায়

চিত্র – কল্লোল মজুমদার

(প্রথম পর্বের শেষ অংশ -বাচ্চাটার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে বলে  হাতিম ঘাসের জঙ্গলের মধ্যে ঢুকলো।  কিন্তু হাতিম এগিয়ে যেতেই গন্ডার-মা  খড়গ উচিয়ে তেড়ে এলো । হাতিম চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে এলো ঘাসের জঙ্গল থেকে। সামনে ছুটছে হাতিম, পিছনে গন্ডার।)

 এই দেখে হাতিমের বাবা বিরাট হুঙ্কার দিয়ে, শুড়  উচিয়ে দাঁড়ালো গন্ডারটার সামনে। বাবার এরকম মূর্তি  আগে কখনো দেখেনি  হাতিম। বাবাকে দেখেই গন্ডারটা দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর আস্তে আস্তে পিছিয়ে গেল। হাতিমের বাবা গণ্ডারটাকে তাড়া করতে যাচ্ছিল। হাতিমের মা  আটকালো। 

বলল, ‘দেখছোনা ওর সঙ্গে বাচ্চা আছে।তাই বোধহয় ভয় পেয়ে তাড়া করছিল’।

তারপর ওরা বাড়ির দিকে রওনা দিল। হাঁটতে হাঁটতে হাতিম শুঁড় দুলিয়ে আদুরে গলায় বলল,

 ‘মা আমি নখ  পালিশ পরব !’

মা বলল, ‘সেটা আবার কি ‘?

 ‘রেঞ্জার সাহেবের মেয়ে  টুকাই নখে পরেছিল। কি সুন্দর লাগছিল’। 

বিকেলবেলা হাতিমের মা সবার হাত- পায়ের দিকে তাকাল। সত্যি মেয়েরা সব্বাই নখে  রঙ মেখেছে। দেখতেও লাগছে খাসা। কেউ কেউ আবার ছোট্ট ব্যাগ থেকে কি একটা বের করে ঠোঁটে রং লাগাচ্ছে। হাতিমের মা  ভাবলো  ঠোঁটের  রঙ ব্যাগে থাকলে  নখের  রঙও নিশ্চয় ঐ বাগেই আছে। সেই দিন রাতে হাতিমের মা-বাবা আলোচনা করলো কি করে হাতিমের জন্য নখ পালিশ জোগাড় করা যায়।

 পরের দিন  সকালে লোকজনকে জঙ্গল থেকে ঘুরিয়ে এনে নামানোর পর হাতিমের মা  হঠাৎ শুড় দিয়ে একজনের  হাত  থেকে ব্যাগটা ছাড়িয়ে নিল। সবাই খুব ভয় পেয়ে গেটের দিকে ছুটতে লাগল। কিন্তু হাতিমের বাবা  পথ আটকে  দাঁড়াল। হাতিমের  মা   সবার  কাছ থেকে ব্যাগগুলো এক এক  করে  নিয়ে  নিল।তারপর চলল জলার দিকে। সবাই ভাবল হাতিগুলো পাগল হয়ে গেছে। মাহুত ছুটলো  রেঞ্জারের কাছে। পাগলা হাতি খুবই বিপদজনক।  রেঞ্জার সাহেব একটা ইয়া বড় রাইফেল আর লোকলস্কর সঙ্গে নিয়ে ছুটে এলেন। কিন্তু এসে দেখলেন পাগলামির কোনো লক্ষণ নেই। হাতিমের বাবা নখ পালিশের কৌটা শুড়ে  জড়িয়ে আছে। হাতিমের মা শিরীষ গাছের একটা ডাল ভেঙে একটা ফুলকে  শুঁড়  দিয়ে ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু ফুলের  ডাঁটি এত ছোট যে ধরতে পারছে না। ফুলটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাইফেল নামিয়ে রেখে মাথা চুলকোতে লাগলেন  রেঞ্জার সাহেব। কি হচ্ছে ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন না। কখন টুকাই এসে  দাঁড়িয়েছে  পিছনের  দিকে । এতক্ষণ সে মন দিয়ে দেখছিল কাণ্ডটা। হঠাৎ সেদিন  হাতিমের  দৃষ্টিটা মাথায় ঝিলিক  দিয়ে  উঠল। বুঝল ব্যাপারটা। শিরীষ গাছের ফুলগুলো অনেকটা  গোলাকার ব্রাশের মতো। হাতিমের মা ওটা দিয়ে হাতিমকে নখ পালিশ পরাতে  চায়। টুকাই এগিয়ে গিয়ে একটা শিরিষের ফুল নিল । তারপর  হাতিমের বাবার দিকে হাত বাড়ালো। বাবা নখপালিশের কৌটাটা দিল টুকাই এর  হাতে। টুকাই ধীরে ধীরে হাতিমের পায়ে নখ পালিশ লাগিয়ে দিল। 

রঙিন নখ দেখে হাতিমের  সে কি  আহ্লাদ ! সে ছাতিম তলায় শুড় দুলিয়ে নাচতে লাগলো। হাতিমের মা শুড় দিয়ে  টুক  করে টুকাইকে তার পিঠে  তুলে নিল। তারপর তিনজনে মিলে  ছাতিম  তলায় নাচতে লাগলো। সেই  দেখে  সবাই  আনন্দে হাততালি  দিয়ে  বলে উঠল l পিছন থেকে গম্ভীর গলায় রেঞ্জার সাহেব বলে উঠলেন ‘ ছাতিম তলায়---'

সবাই একযোগে বলে উঠল,

‘হাতিম নাচে !’

🍂



Post a Comment

7 Comments

  1. Soumen RoyJune 26, 2026

    শেষ সময়ে শেষের দিকটি একটু পরিবর্তন করতে গিয়ে সামান্য টাইপিং মিসটেক থেকে গেছে । ব্যাপারটির জন্য দুঃখিত ছোটদের গল্পে এমনটি হওয়া একেবারেই উচিত নয়। পরের গল্পগুলিতে অবশ্যই সাবধান থাকব।🙏

    ReplyDelete
  2. কমলিকাJune 26, 2026

    সো ...সুইট! সুইট ! সুইট!

    ReplyDelete
  3. ছাতিম তলায় হাতিম নাচে গল্পের শেষ পর্ব আজ প্রকাশিত হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে অপেক্ষায় ছিলাম,আজ তার পরিসমাপ্তি ঘটলো। লেখকের প্রয়াস কে সাধুবাদ জানিয়েও বলি হাতিমের এমন পরিণতি কখনোই পাঠক হিসেবে প্রত্যাশিত ছিলোনা। জঙ্গলের সন্তান হাতিম শেষ পর্যন্ত নখ‌ ও ওষ্ঠ রঞ্জনীর মায়ায় বাঁধা পড়বে তা পাঠক হিসেবে মেনে নিতে মন সায় দিচ্ছে না। আচ্ছা, গণ্ডার আন্টি যদি তার গাণ্ডারীর সঙ্গে হাতিমের দোস্তি করিয়ে দিতো তাহলে কেমন হতো?




    ReplyDelete
    Replies
    1. Soumen RoyJune 26, 2026

      আজকাল সমালোচনা সহসা কেউ করেনা। আপনি করেছেন সেজন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। আপনি যে বিকল্প পরিণতির কথা বলেছেন সেটিও মন্দ হতো না। আপনার মনোকষ্ট থেকে বোঝা যায় আপনি প্রকৃতি প্রেমিক। আসলে এটি ছটি গল্পের সিরিজ। বিভিন্ন রকম ভাবে শিশুদের মনের কল্পনাকে উসকে দেবার জন্য নানা আয়োজন। এই গল্পে হাতিম জঙ্গলের সন্তান হয়েও মানুষের মতো হতে চেয়েছে ভিন্ন একটি গল্প আছে যেখানে উল্টো কথা আছে। সেটা আপনার ভালো লাগবে আশা করি। বাধ্য হয়ে একটু অপেক্ষায় রাখছি। নমস্কার নেবেন।

      Delete
  4. গল্পের পরিণতি কী হবে তা ঠিক করার এক্তিয়ার একমাত্র লেখকের। সুতরাং গল্প গল্পের চেনা ভাবনার পথে এগিয়েছে।সেদিক থেকে একদম ঠিকঠাক হয়েছে। গল্পের প্রথম পর্ব টি প্রকাশিত হবার পরে কি অন্তিম পর্ব লেখা হয়েছে? উত্তর হ্যাঁ হলে দুটি কথা অবশ্যই আছে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. Soumen RoyJune 26, 2026

      না।আগেই লেখা ছিল।সব গল্প গুলি লেখা হয়ে আছে।

      Delete