সুকান্ত সিংহ
পৃথিবীর যাবতীয় জটিল প্রশ্ন, যেগুলি আমার দিকে ধাবিত হয়, তার মধ্যে অন্যতম হল-- কেন লিখি? কখনো মনে হয় এটা নিখাদ জিজ্ঞাসা। কখনো মনে হয় এটা নির্জলা বিদ্রুপ। বিদ্রুপ এই রকমের, এসব ছাইপাঁশ লিখে হয় কী! তাই কেন লিখি? যেন, না লিখলেই বা কী হয়ে যেত ধরণের। এর উত্তরে দার্শনিক সুলভ একটা উত্তর দেওয়া যায়, সেই উত্তর আবার বৈশ্বিক। এই যেমন আমি নিজেকে, নিজের ভাবনাকে প্রকাশ করতে চাই, তাই লিখি। অথবা বলা যায়, না লিখে উপায় থাকে না। এমনধারার উত্তর অবশ্য অনেকেরই। এর কোনোটাই ঠিক পছন্দ হয় না। হয় না এই কারণেই, এর মধ্যে কোনো উত্তরটাই নিজের লেখালেখির একমাত্র কারণ নয়। ফলে একটাই মাত্র উত্তর বলি বা কৈফিয়ত, আমার কাছে অন্তত নেই। বরং কেন লিখি না সেটা সহজেই বলতে পারি-- ভাল্লাগে না বলে লিখি না।
লেখালেখির শুরুর দিকে যেসব কারণ ছিল, আজকেও তার যে সম্পূর্ণ অস্তিত্ব আছে এমনটা নয়। সময়ের সাথে কেন লিখি তার কৈফিয়ত বদলে গেছে। এমনকী, একটি লেখার থেকে আরেকটি লেখার মধ্যবর্তী দূরত্বেও লেখার কারণ বদলে গেছে। নানান সময়ে নানান কারণে লিখেছি। কখনো লিখেছি কিছু বলার তাগিদে। কখনো কোনো বিষয়কে সমর্থন করব বলে। কখনো বা না লিখলে ঘুম আসছিল না বলে। কখনো আবার নেহাতই কারো অনুরোধে। ফলে যাঁরা এককথায় বলতে পারেন কেন লিখি, তাঁরা আমার চোখে অরণ্যদেব। তাঁরা সব পারেন। আমি নেহাতই তাঁদের কাছে শিশু। যে এখনো লেখালেখির দেয়ালা নিয়েই পড়ে আছে। যে এখনো পৌঁছানোর থেকে পথ হাঁটাকেই অনেক বেশি পছন্দ করে।
তাহলে কি সত্যিই কেন লিখি নিজেই জানি না? যে তাড়নাতেই লিখি না কেন, সেটি নিয়ে কখনো ভাবিনি? অবশ্যই ভেবেছি। সমস্ত লেখালেখির পিছনে একটি মন থাকে। লেখার মন। থাকে লেখার ভেতর দিয়ে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখার আয়োজন। নিজের ভাবনার ছাপ রেখে দেওয়ার একটা আকুতি থাকে। নিজেকে ব্যক্ত করার একটা পথ হল লেখা। নিজের মতো, নিজের ভাষায় লেখা। এই নিখিলের সাথে নিজের একটা যোগস্থাপন করাও লেখার কারণ বৈকী।
একজন জাদুকর যেমন কখনো তার নিজের আস্তিন দেখায় না, তেমনই একজন লেখক হিসেবে কখনোই স্পষ্ট করে বলত পারি না কেন লিখি। কেননা, সমস্ত জাদু তো ওইখানেই! অন্য কোথাও অন্য সময়ে হয়তো বা কেন লিখির কৈফিয়ত অন্যরকমও হতে পারে!
🍂
0 Comments