জ্বলদর্চি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ২১১

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ২১১
সম্পাদক : স্বাগতা পাণ্ডে 
চিত্র গ্রাহক: সেখ সুজাউদ্দিন। কৃষ্ণনগর।

সম্পাদকীয় 

প্রিয় বন্ধুরা, 
আশা করি সবাই নিশ্চয়ই খুব খুব আনন্দে দিন কাটাচ্ছো। সবে গরমের ছুটি শেষ হলো, কিছু দিনের মধ্যেই আবার স্কুলে পরীক্ষা শুরু হবে। তাই সবাই এখন খুব ব্যস্ত আছো বুঝতে পারছি। তবে ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে অবশ্যই গল্পের বই বা অনলাইন পত্রিকা পোড়ো। জানো তো  বই বা পত্রিকা এরাই আমাদের মনের জানালা গুলো খুলে দেয়। ডাক্তার বাবুর কলমে বিভাগ টি তোমাদের কেমন লাগছে জানিও। আমাদের শরীরে কোনো সমস্যা হলে বা শরীর খারাপ হলে আমরা সবাই ডাক্তার বাবুদের পরামর্শ নিয়ে থাকি। কিন্তু মন খারাপ হলে? তখন ? অল্প মন খারাপ হলে নিজেরাই ঠিক করে নিই। বই পড়ে গান শুনে সিনেমা দেখে অথবা কথা বলে। আমি  জানি কখনো কখনো  মন বেশী খারাপ হলে আমরা কাউকে বলতে পারি না। তখন কিচ্ছু টি ভালো লাগে না। না কথা বলতে না কিছু করতে। সবার যে এমন হয় তা নয় তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এমন হয় বৈকি। 
তাই ভাবছি কি জানো, তোমার আমার মনের কথা মন খারাপের কথা পড়ার জন্য বোঝার আর বোঝানোর জন্য যদি একটা ভালো বন্ধু কে পাওয়া যেত, যে আমাদের মনের পাঠশালায় আমাদের মনের সুস্থতার কথা শেখাতো, দেখা যাক সেরকম কাউকে পাই কিনা , পেলে তোমাদের সাথেও পরিচয় করিয়ে দেব। 
আচ্ছা, আজ তাহলে এই পর্যন্ত। আবার পরের সপ্তাহে কথা হবে। সবাই কে আমার অনেক ভালবাসা। 
ইতি তোমাদের স্বাগতা দি
🍂

গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ : ছাব্বিশ 

রতনতনু ঘাটী

হেডস্যার রুমে ঢুকে তাঁর চেয়ারে বসলেন। মুকুলকৃষ্ণবাবুর দিকে হাত তুলে বললেন, ‘বসুন মুকুলকৃষ্ণবাবু!’ তারপর গলা তুলে ঘন্টিদাদুকে ডাক দিলেন, ‘সম্মতিচরণ, আমাদের চা দিও।’

   ততক্ষণে দেবোপমস্যার এসে ঢুকলেন হেডস্যারের রুমে। ভূগোলের ভুবনস্যার এবং জীববিজ্ঞানের মনোজেশস্যারও এসে ঢুকলেন। হেডস্যার ফের গলা তুলে বললেন, ‘সম্মতিচরণ, আমরা দেখতে দেখতে মাথাগুনতি অনেকে হয়ে গেলাম! তুমি সেভাবে গুণে নিয়ে সকলের জন্যে চা করো!’

   মুকুলকৃষ্ণবাবুর দিকে তাকিয়ে হেডস্যার বললেন, ‘আপনি মাঠে আমাকে কী একটা কথা যেন বলতে চাইছিলেন? কথাটা কী মুকুলবাবু?’

   মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতির মুখে একটা উচ্ছ্বাসের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ল। হেডস্যার বাইরে স্কুলের মাঠের দিকে চোখ ঘুরিয়ে নিলেন। তারপর বললেন, ‘নবনীতস্যার, কাল আমার বাড়ির ঠিকানায় সচিন তেন্ডুলকারের পার্সোনাল সেক্রেটারি জুন ফার্নান্ডেজের একটা চিঠি এসেছে।’

   নবনীতস্যার তড়িঘড়ি করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বলেন কী? তাই নাকি? সেই যে আপনি আমাদের স্কুলের মাঠের মাথায় শেড তৈরি করার কথা ভেবে সচিন তেন্ডুকরের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন? এতদিন লাগল চিঠির উত্তর পেতে? কী লিখেছেন ফার্নান্ডেজ সাহেব?’

    ‘জুন ফার্নান্ডেজের কাছ থেকে চিঠি এসেছে, এটাই তো বড় কথা স্যার! আমাদের একটা সাধারণ গ্রামের ছোটখাটো স্কুল। তার জন্যে একটা আর্থিক প্রয়োজনে  চিঠি লিখেছিলাম। তাঁর সংস্থা সে চিঠির যে রিপ্লাই দিয়েছেন, আমি তো দেখে মুগ্ধ!’ 

   ঘন্টিদাদু ততক্ষণে চা দিয়ে গেলেন সকলের জন্যে। মুকুলকৃষ্ণবাবু চায়ে একটা লম্বা চুমুক দিয়ে বললেন,  ‘মিঃ ফার্নান্ডেজের কাছ থেকে রিপ্লাই এসেছে, এটাই তো বড় কথা হল স্যার! জানেন তো স্যার, সচিন এবং তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি তেন্ডুলকরের একটা নামী স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট সংস্থা আছে। আমি আমার এক ক্রিকেট বন্দুর কাছ থেকে জেনেছিলাম। তার নাম এস আর টি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড। মিঃ ফার্নান্ডেজ সেই সংস্থার অফিস প্রশাসনের এবং নির্বাহী সচিবের দায়িত্বে আছেন।’

   দেবোপমস্যারের গলায় বিস্ময় ঝরে পড়ল, ‘সত্যিই, আপনি দেখছি ক্রিকেটের অনেক ভিতরের খবরও রাখেন! সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে কি আপনার কখনও দেখা হয়েছে স্যার?’

   ‘না না। দেখা হয়নি! ইচ্ছে করলে ড্রেসিং রুমে গিয়ে দেখা করতে পারতাম। কিন্তু সে চেষ্টা করিনি। সচিনের বেশিরভাগ খেলাই আমি মাঠে বসে দেখেছি। শুধু নেতাজি ইনন্ডোর স্টেডিয়ামেই নয়, ইন্ডিয়ার যে-কোনও স্টেডিয়ামে। কিন্তু কখনও ড্রেসিং রুমে ঢুকিনি। আমার মনে হয় কী জানেন, এতে ক্রিকেটারদের ডিসটার্ব করা হয়। খেলায় মনোযোগ বিঘ্নিত হয়। কী স্যার, ঠিক কথা কিনা বলুন?’ নবনীতস্যারের মুখের দিকে উত্তরে অপেক্ষায় থাকিয়ে থাকলেন মুকুলবাবু। 

   দেবোপমস্যার কিছু বলতে উসখুস করছিলেন। মুকুলবাবু বললেন, সচিন তেন্ডুলকরের শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচটা ছিল তাঁর দু’শোতম ম্যাচ। জানেন স্যার,  দু’ হাজার তেরো সালটা দু’ দিক থেকে আমার কাছে স্মরণীয়। প্রথমত, ওটা আমার চাকরি থেকে রিটায়ামেন্টেরও বছর ছিল। আর সচিনের ছিল শেষ ক্রিকেট জীবনের শেষ ম্যাচ। অফিসে তেমন করে ছুটিছাটা নিতাম না কখনও। তাই আমার পাওনা অনেক ছুটি জমে ছিল। ফ্লাইট ধরে উড়ে গেলাম মুম্বই। দু’ হাজার তেরো সালের চোদ্দ থেকে ষোলো নভেম্বর মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে ভারত। ওটাই তো সচিনের শেষ ম্যাচ! আমি সচিন তেন্ডুলকরের শেষ ম্যাচ দেখব না, এ কি হয়?’

   দেবোপমস্যার বললেন, ‘নিশ্চয়ই! সারা জীবন যে-আপনি ক্রিকেট দেখে কাটালেন! সেই-আপনি কিনা সচিনের জীবনের শেষ ম্যাচটা দেখবেন না? এমন ভুল কি কেউ করে?’

   ‘তাই তো! আর দেখুন না, মানুষের জীবনে বিপর্যয় আসে নানা দিক থেকে নানারকম ছদ্মবেশে।’ বলে একটা লম্বা ঢোক গিলে মুকুলকৃষ্ণবাবু বললেন, ‘সেবার কী বিপদ হল জানেন! ওই পনেরো নভেম্বরই মন্দুর ছোট ভাই অনিকেতের একমাত্র মেয়ে রূপলেখার বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গেল ঝপ করে। মন্দু মানে আমার স্ত্রী মন্দাকিনীর কথা বলছি। উনি বেঁকে বসলেন। বেশ জেদের গলায় আমাকে বললেন, ‘তোমাকে এই বিয়েতে যেতেই হবে।’ মন্দাকিনী বললেন, ‘দশটা নয়, পাঁচটা নয়, অনিকেতের একটাই মাত্র মেয়ে!  তার বিয়েতে তুমি যাবে না? সারা জীবন তো ক্রিকেট-ক্রিকেট করে ভবানীপুরের মেসবাড়িতে কাটিয়ে দিলে? ওসব শেষ ম্যাচট্যাচ আর দেখতে হবে না! ঢের হয়েছে!’ 

   মন্দুকে সামলে কী কষ্টে যে সেবার মুম্বইতে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম!’ সেই ম্যাচে ভারত এক ইনিংস এবং একশো ছাব্বিশ রানে জিতেছিল।  সচিন তাঁর শেষ ইনিংসে চুয়াত্তর রান করেছিলেন।’ 

   ‘আপনার দেখি, সব তথ্য স্পষ্ট মনে থাকে। শুনেছি, সচিন নাকি নানা স্কুলে বা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন মনে করলে অর্থ সাহায্য করতেন? এ কথা কি ঠিক মুকুলকৃষ্ণস্যার?’ জানতে চাইলেন দেবোপমস্যার।

   ‘আমি তো তেমন বেশি কিছু খবর রাখতে পারতাম না! সচিন তখন রাজ্যসভার সাংসদ। আমি জানি, সাংসদ তহবিলের টাকা থেকে সচিন পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি স্কুলকে একবার ছিয়াত্তর লক্ষ টাকা সাহায্য করেছিলেন।’

   একটু পরে দেবোপমস্যার জানতে চাইলেন, ‘মুকুলকৃষ্ণস্যার, যে স্কুলে সচিন অত অর্থ দান করেছেন, সে স্কুলের নাম কী? মনে আছে আপনার?’ 

   মুখে হাসি ছড়িয়ে মুকুলবাবু বললেন, ‘মনে থাকবে না কেন? কীভাবে যেন সচিন তেন্ডুলকর জেনতে পেরেছিলেন, এই স্কুলটির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা। মেদিনীপুর জেলার এই স্কুলটির নাম গোবিন্দপুর মকরামপুর স্বর্ণময়ী শাসমল শিক্ষানিকেতন!’ 

   একটুখানি থামলেন মুকুলকৃষ্ণবাবু। তারপর বললেন, ‘সচিনের অনুদানের টাকায় তৈরি হল সেই স্কুলের মেয়েদের সাধারণ ঘর, গবেষণাগার এবং সুন্দর একটি লাইব্রেরি ।’

   নবনীতস্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘শেষ ম্যাচের শেষে রিটায়ারের মুহূর্তে মাঠে তখন সচিন কী করলেন আপনি দেখলেন?’

   মুকুলকৃষ্ণবাবু হঠাৎ ইমোশনাল হয়ে পড়লেন। মনে হল তাঁর চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে উঠছে। তিনি বলে চললেন, ‘মাস্টার ব্লাস্টার জীবনের শেষ বারের জন্যে তাঁর শেষ ইনিংসের শেষে ব্যাটটা তুলে ধরলেন উপরে। একহাতে ধরা তাঁর ব্যাট, আর একটা হাত উপরে আকাশের দিকে তোলা! তাঁর মাথাটা তখন মাটির দিকে নিচু। দু’ পাশে তখন টিমের সতীর্থরা করতালি দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন। সে দৃশ্যটা যেন আমার দু’ চোখের সামনে এখনও স্পষ্ট ভেসে আছে নবনীতস্যার! সে স্মৃতি বলতে গিয়ে আমার চোখের পাতা ভিজে উঠছে এখন।’

   কয়েক মিনিট হেডস্যারের রুমে সকলেই নীরব। হঠাৎ নবনীতস্যার চেয়ার চেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর মাথা নিচু। তাঁর মুখ থেকে একটাও কথা সরছে না।

   নবনীতস্যারের দেখাদেখি ভূগোলের ভুবনস্যার, জীবনবিজ্ঞানের মনোজেশস্যার, খেলার দেবোপমস্যার, সকলেই উঠে দাঁড়ালেন চেয়ার ছেড়ে। যেন তাঁরা এখন সচিনের শেষ ম্যাচ খেলে বিদায়ের সময় সম্মান জানাচ্ছেন। এক ফাঁকে কখন উঠে দাঁড়িয়েছেন মুকুলকৃষ্ণস্যারও! তাঁর চোখ দুটো বৃষ্টিভেজা!

   এর পর সকলে নিজের নিজের চেয়ারে বসে পড়লেন। হেডস্যার বললেন, ‘বলুন মুকুকৃষ্ণবাবু, কী লিখেছেন সচিন তেন্ডুকরের সেক্রেটারি  মিঃ ফার্নান্ডেজ?’

   ‘উনি আমাদের মাঠের মাথার উপরের শেডের খুঁটেনাটি খরচের হিসেব মন দিয়ে দেখেছেন। উনি লিখেছেন, সাহায্য করার জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন!’

   নবনীতস্যার একটু যেন মনমরা গলায় বললেন, ‘মুকুলবাবু, এটা কথার কথা নয় তো? তা হলে কী করে আমরা আমাদের স্বপ্নের মাঠকে শেডের নীচে দেখতে পাব?’

   মুকুলকৃষ্ণবাবু গলা তুলে বললেন, ‘আমি তো আছি স্যার! আজ আমি আপনার ছাত্রছাত্রীদের ক্রিকেট কোচিংয়ে যেরকম পারফরমেন্স দেখলাম, আমার মন ভরে গেছে।’ তারপর বুক পকেটের ভিতর থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করে হেডস্যারের দিকে বাড়িয়ে ধরলেন।’

      তারপর মুকুলকৃষ্ণস্যার বললেন, ‘হেডস্যার, আমি তো আছি আপনার সঙ্গে! মন্দু মানে আমার সবধর্মিণী মন্দাকিনী শেষমেশ রাজি হয়েছিলেন আমাদের শাঁখাপোতা গ্রামের পৈতৃক ভিটের সবটুকু বিক্রি করে দিতে। এতদিনের চেষ্টায় তা বিক্রি করে উঠতে পেরেছি স্যার। আমার স্ত্রী মন্দাকিনী খুব ভাল মেয়ে! জানেন তো স্যার, মন্দাকিনী বলেছে, ‘এই শাঁখাপোতা গ্রমের ভিটেমাটি বিক্রির টাকায় যদি স্কুলের মাঠের মাথার উপর শেডের খরচ না কুলোয়, তবে তুমি আমার যেটুকু সোনার গয়না আছে, সব বিক্রি করে দিও!’

   হেডস্যার থতমত গলায় বলে উঠলেন, ‘না না! এ হয় না মুকুলকৃষ্ণবাবু। আমি আপনার বাড়ি গিয়ে মন্দকিনী বউঠানকে বুঝিয়ে বলে আসব, তাঁর গয়নাগুলো সব তাঁরই থাকবে! ওগুলো বিক্রি করতে হবে না।’

   মুকুলকৃষ্ণবাবু অনুরোধ করলেন, ‘আপনার হাতের কাগজটা একবার খুলে দেখুন স্যার!’

   কাগজটা পড়ে লাফিয়ে উঠলেন নবনীতস্যার। চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘এ কী দেখছি মুকুলকৃষ্ণস্যার? আমাদের এতজন ম্যাম এবং স্যার মাঠের শেড করার জন্যে টাকা দিতে রাজি হয়েছেন? আমি এখন চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করছি দেবোপম। তুমি লিস্টটা পড়ে শোনাও তো!’

   হেডস্যারের হাত থেকে কাগজটা নিয়ে দেবোপমস্যার পড়তে শুরু করলেন, ‘বাংলার গীতিকাম্যাম দেবেন বারো হাজার টাকা! ইতিহাসের অনুলেখাম্যাম দেবেন দশ হাজার টাকা! ইংরেজির দেবারতিম্যাম দেবেন আট হাজার টাকা আর কনকলতাম্যাম এবং লতিকাম্যাম প্রত্যেকে দেবেন পাঁচ হাজার টাকা করে!’

   ‘এ কি আমি কানে ঠিক শুনছি তো দেবোপম?’

   ‘শুনুন স্যার, এখনও লিস্ট শেষ হয়নি তো?’ বলে পড়তে লাগলেন দেবোপমস্যার, ‘ভূগোলের ভুবনস্যার দেবেন পাঁচ হাজার টাকা! ফিজিক্সের যাদবমোহনস্যার দেবেন পাঁচ হাজার টাকা! জীবনবিজ্ঞানের মনোজেশস্যার দেবেন তিন হাজার টাকা!’  আর লিস্টে নিজের নামটা জুড়ে দিয়ে বললেন, ‘অঙ্কেরস্যার  দেবোপম দত্ত দেবেন পাঁচ হাজার টাকা!’

   হাততালি দিয়ে উঠলেন নবনীতস্যার। বললেন, ‘এর নীচে আমার নামটাও লিখে নাও দেবোপম! আমার নামের পাশে টাকার অঙ্ক লেখো কুড়ি হাজার টাকা!’    

   ‘ঠিক আছে স্যার, লিখে রাখলাম! এখনও লিস্টটাই তো শেষ হয়নি স্যার? এখনও কয়েকটা নাম পড়া হয়নি!’

   ‘চটপট পড়ো! আমি যে আর স্থির থাকতে পারছি না দেবোপম!’

   দেবোপমস্যার পড়তে লাগলেন শেষের নামগুলো।  তিন হাজার টাকা করে দেবেন বলে সম্মত হয়েছেন তিথিবকুল গ্রামের অমূল্য ধর, ছোটজগৎপুর গ্রামের অভিরূপ দলুই, কাঁকনকুষি গ্রামের একাদশী পাল। মাধবগঞ্জের অঞ্চলপ্রধান সেঁজুতি সামন্ত দেবেন বলে কথা দিয়েছেন, পাঁচ হাজার টাকা!’ 

   ‘বলো কী দেবোপম? এতজনের সম্মতি পাওয়া গেছে? আমি তো আনন্দে দিশেহারা হয়ে পড়ছি?’

   দেবোপমসার বললেন, ‘এ ছাড়া নবীনগঞ্জের জেলাশাসক কর্ণার্জুন পাল কত টাকা জেলাশাসকের তহবিল থেকে দেবেন, সে আমি জানি না। যেমন আমি জানি না মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি স্যার শাঁখাপোতা  গ্রামের ভিটেমাটি বিক্রি করে কত টাকা আমাদের স্কুলের মাঠের উপরের শেড তরি করতে দেবেন, সেও আমি জানি না!’

   ‘সেসব তো আমরা পরে জানতে পারব দেবোপম।’

   দেবোপমস্যারের মুখে হাসি উপচে পড়ল এবার। বললেন, ‘এবার যে দুটো নাম শোনাব, আপনিও শুনলে অবাক হয়ে যাবেন!’

   ‘বলো দেবোপম!’

  ‘দু’ হাজার টাকা দেবেন বিজনডিহি গ্রামের পারুলমণি দাস। আর দু’ হাজার টাকা দেবেন আমাদের স্কুলের ঘন্টিদাদু সম্মতিচরণ দাস।’

   ‘পারুলমণি দু’ হাজার টাকা দেবে? আর সম্মতিচরণকে বলে দাও, ওকে টাকা দিয়ে সাহায্য করতে হবে না! ও গরিব মানুষ, ওর নুন আনতে পান্তা ফুরোয়।’

   মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি বললেন, ‘না স্যার, যিনি যেটুকু দেবেন, সেটুকুই আমাদের কাছে স্বাগত! সম্মতিচরণের দু’ হাজার টাকা আমাদের বড় উপহার! ও টাকা আমরা নেব!’

   হোডস্যার বললেন, ‘তাই হোক! আপনি যখন বলছেন, আমি না করব না! দেবোপম, মুকুলকৃষ্ণবাবু কত টাকা দেবেন, উনি এক্ষুনি বলে দিন! তারপর আমাদের এ পর্যন্ত কত টাকা হল, হিসেব করে ফ্যালো! আমি বরং কাল-পরশু আমাদের জেলাশাসক কর্ণার্জুনস্যারের কাছে মুকুলকৃষ্ণবাবুকে নিয়ে চলে যাই। উনি আমাদের ফান্ডে কতটা দিতে পারবেন, গিয়ে জেনে আসি!’

   মুকুলকৃষ্ণবাবু বললেন, ‘আমি থ্যাঙ্কস জানিয়ে একটা রিপ্লাই চিঠি পাঠিয়ে দিই মিঃ ফার্নান্ডেজকে। যদি সচিনের কাছ থেকে কোনও ফান্ড আসে তো বেশ হয়। কাল আমরা একবার ডি এম সাহেবের অফিসে যাব।’

   সকলে উঠে পড়লেন। হেডস্যার সকলকে নিয়ে তাঁর রুমের বাইরে মাঠে এসে দাঁড়ালেন। আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আজকের জ্যোৎস্নাটা যেন আমাদের গগনজ্যোতি স্কুলটাকে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে!’

   হেডস্যার আকাশ ঢুঁড়ে ধ্রুবতারাটাকে খুঁজতে লাগলেন। একখণ্ড সাদা মেঘ সরে গেল তক্ষুনি চাঁদের উপর থেকে। স্যার ভাবলেন, সত্যিই আজকের পৃথিবীটা অপরূপ হয়ে উঠেছে!

(এর পর ২৭ পর্ব)

চিত্র: ঋষভ সিট 
শ্রেণী: অষ্টম, বিভাগ: খ, ক্রমিক নং -২৬, DAV পাবলিক স্কুল, মেদিনীপুর।

প্রাতঃরাশ 
বিনোদ মন্ডল 

ফুটপাতে বাস করা
নাগরিক বন্ধুর
ফাটকায় প্রাতঃরাশ 
রঙ্গিলা রোদ্দুর।

দিনমজুর মানুষের 
গামছা শালুঢাকা
রোজদিন পাতে তার 
পান্তা আলুমাখা।

ফেরিওলা দোকানী
একফাঁকে টিফিনে 
ঝালমুড়ি  ঘুগনি 
রোজদিন খায় কিনে।

ম্যাদামারা ম্যানেজার 
ফোঁসফাঁস অফিসে 
কৌটোতে খুশি থাকা
পাঁউরুটি ক'পিসে।

তৎপরা মহিলারা
মাসান্তে স্যালারি
টিব্রেকে টেবিলটি
ভোজপুরি গ্যালারি।

অবাঙালি বেনিয়া
ময়দাতে ঢালে ঘি;
লাড্ডু ও পাঁপড়ে
আচারও খায় দেখি।

বিহারী চালকেরা
ছাতু খায় দৈনিক।
জলখাবারের পর
একদলা খৈনি।

রাজা খায় রাজভোগ
পাস্তা পনীরও
একই মেনু আজকাল 
ম্যানিয়া ধনীরও।

মেসে থাকা ছাত্ররা
বরাবর ছাপোষা 
কাগজে মুড়ি ঢালা
মাখা চপ সামোসা।

সেই কাগজেই পড়ে
মেসি আর সেভেনে,
ব্রেকফাস্ট করে কোন্ 
হাভেলি বা হেভেনে!

আমজনতা যখনই 
ডালপুরি ডালিয়া
জানতে ইচ্ছে জাগে 
কী খায় মালিয়া?

আজব এ জগতের
জলপানি বিচিত্র 
নিজেরটা বুঝে নাও
মাত্রাতিরিক্ত!

পুতুলের ভাইফোঁটা 
চুমকি চট্টোপাধ্যায় 

(প্রথম পর্ব)

'সোনার তরী ' নামে একটা বাড়ি আছে সারদা কলোনিতে। সেই বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্যের নাম পুতুল। তিন বছরের পুতুল ভারী মিষ্টি মেয়ে, হাতে পায়ে চঞ্চল নয়, খাওয়াদাওয়ায় লক্ষ্মী। ব্যস, মায়েরা তো এই রকমই চায়। 
পুতুল ওর বাবা মা দাদা দিদি আর ঝন্টুকাকার সঙ্গে থাকে। ওর ঠাকুরদাদাকে ও দাদা বলে আর ঠাকুরমাকে বলে দিদি। ঝন্টুকাকা ওদের বাড়ির যাবতীয় কাজকর্ম দেখাশোনা করে। বাজার করা থেকে ছাদের গাছে জল দেওয়া, বড়কর্তার পান সেজে দেওয়া, বড়মার বড়ি দিয়ে দেওয়া -- সব করে।
পুতুলদের বাড়ির একতলায় কারখানা আছে। সেখানে নানা রকম খাম তৈরি হয়। পুতুলের দাদা এ ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এখন ওর বাবা দেখে। কারখানায় এগারো জন কাজ করে। তারাও সবাই পুতুলকে খুব ভালোবাসে।  পুতুল যখন বাবার কোলে চড়ে নীচে নামে, প্রত্যেকে এসে ওকে আদর করে। পুতুল হাসে আর অনেক ছড়া শোনায়। কিন্তু অন্য কারো কোলে ও যায় না। 
পুতুলের তিন জন দাদা আছে। বুয়ার দুই ছেলে আর কাকাইয়ের এক ছেলে। ওর একজনই পিসি, তাকে পুতুল বুয়া বলে ডাকে। ওর বাবার খুড়তুতো ভাইকে  ও কাকাই বলে ডাকে। দাদাদের ডাকে দাদাভাই, দাদামনি আর ছোদ্দা।  
বাড়ির যে কোনো অনুষ্ঠানে সবাই আসে, খুব হইচই আনন্দ হয়। পুতুলের জন্য কিছু না কিছু উপহার নিয়ে আসে। হেয়ার ব্যান্ড, রঙিন ক্লিপ, জামা। পুতুলের আবার খেলনা পুতুল আছে। আরও নানা রকম খেলনাও আছে। সবাই দেয় তাই অনেক অনেক আছে। পুতুলের মা মাঝে মাঝে কারখানার কাকুদের ছেলেমেয়েদের জন্যে কিছু কিছু খেলনা দিয়ে দেয়।

দিন যাচ্ছে,  রাত যাচ্ছে, মাস যাচ্ছে, বছর ঘুরে যাচ্ছে,  পুতুলও ধীরে ধীরে বড় হয় যাচ্ছে। এখন পুতুলের ছ' বছর বয়েস। এই বছর ভাইফোঁটা দিতে পারবে সে। ওদের বাড়িতে নিয়ম আছে, পাঁচ বছর বয়েস না হলে বোন ভাইফোঁটা দিতে পারবে না, ভাইও পাঁচ বছরের আগে ফোঁটা নিতে পারবে না। ভাইফোঁটার দিন বাড়িতে ভালো ভালো রান্না হয়। পুতুলের বিমামা আসে ওর মায়ের জন্যে শাড়ি, ভাগ্নির জন্যে মজার মজার খেলনা নিয়ে, ছবির বই নিয়ে।
 পুতুলের মায়ের একজনই ভাই, নাম বিতনু। সিঙ্গাপুরে থাকে। পুজোর সময়ে আসে, ভাইফোঁটা কাটিয়ে তারপর ফেরত যায়। পুতুল বলে বিমামা। সিঙ্গাপুর খুব সুন্দর দেশ। সেই দেশের গল্প শোনায় বিতনু, চুপটি করে বসে  শোনে পুতুল। কিন্তু মামা  যখন জিগ্যেস করে, ' আমার সঙ্গে যাবি? ' তখন কিন্তু  ঘাড় নেড়ে না বলে পুতুল। মাকে ছেড়ে ও মোটেই থাকতে পারবে না। মামা ওকে পুতু বলে ডাকে। মা যদি যায়, তাহলে ও যাবে। 
পুতুল যত বড় হচ্ছে তত ওর মধ্যে স্বভাবের কিছু পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। যেমন, প্রচন্ড জল ঘাঁটার প্রবণতা হয়েছে ওর। খাবার খেয়ে মুখ ধুতে গিয়ে কুলকুচি করেই যায়, করেই যায়। হাত ধুতেই থাকে। ওর মা বকা দেয়। ' পুতুল, কল বন্ধ কর শিগগির। হাতে হাজা হয়ে যাবে এবার। ' তখন সে কল বন্ধ করে। যখনই হাত ধোয়, তখনি বেশ খানিক্ষন জল ঘেঁটে নেয় ও। 
যত দিন যেতে লাগল, পুতুলের মধ্যে আরো কিছু কিছু অদ্ভুত অভ্যেস দেখা দিল। হাত ধোবার পর ও সেই হাতে কিছু ধরতে চায় না। সেদিন স্কুল থেকে ফিরে টিফিন খেয়ে হাত মুখ ধোবার পর পুতুলের দাদা বললেন, ' সোনামা, ঘরের টেবিলে আমার চশমাটা আছে, এনে দিবি? ' 
' আমি যে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেছি দাদা। '  ওর দাদা কিছু বললেন না কিন্তু কষ্ট পেলেন। হাত ধুয়ে নিয়েছে তো কী হয়েছে, আর একবার ধুতো নাহয়। এই অভ্যেসটা মোটেই ভালো নয়। 
এবারের জন্মদিনে পুতুলের বাবা ওকে খুব সুন্দর একটা ডেস্ক আর চেয়ার কিনে দিয়েছে। গোলাপি রঙের ডেস্কের ভেতরে বইপত্র পেন পেন্সিল রাখা যাবে আর বাইরেটা বার্বি ডলের প্রিন্ট। ডেস্কের সঙ্গে মানানসই চেয়ারও আছে, সেটাও গোলাপি রঙের। আর আছে ছোট্ট একটা মিষ্টি তালা। ডেস্কে তালা দিয়ে রাখা যায়। পুতুলের খুব পছন্দ হয়েছে।
 বাবাকে অনেক আদর করে দিল পুতুল । ডেস্কে নিজের বই খাতা পেন্সিল ইরেজার পেন সব গুছিয়ে রেখে তালা লাগিয়ে দেয় সে। তালা লাগিয়ে বার বার টেনে দেখে তালাটা লেগেছে কিনা। ওর বাবা বলে, ' ওরে, ওটা ছোট্ট পলকা তালা, অত টানাটানি করলে  ভেঙে যাবে। ' পুতুল খেলতে গিয়েও পুতুলের জামার বোতাম লাগিয়ে বার বার টিপে দেখে। ওর মা লক্ষ করলে বকা দেয় কিন্তু সব সময় তো চোখের সামনে থাকে না পুতুল।
দেখতে দেখতে পুজো এসে গেল। পুজোয় ভীড় ঠেলে ঠাকুর দেখতে যেতে সোনার তরীর কেউই পছন্দ করে না। পুতুলও বায়না করে না। পুজো মানেই হল দেদার খাওয়া দাওয়া। পুজোর সময় ফুচকা আর আইসক্রিম খাওয়ায় ছাড় দেয় বাড়ি থেকে। আর সেটাই পুতুলের পুজোর মজা। 
পুজো শেষ হতেই গুটি গুটি চলে এল কালীপুজো। কালীপুজোয় বাজি ফাটায় পুতুলরা তবে শব্দবাজি একদম নয়। কেবল আলোর বাজি পোড়ায় ওরা। পুতুল বেশ ভীতু। ও নিজে খুব একটা বাজি পোড়ায় না, তবে দেখতে ভালোবাসে। পুতুলের বুয়া বলে, ' বাজির শব্দে, আলোতে পশু পাখিদের খুব অসুবিধে হয়, কষ্ট হয়। বাজি পোড়ানো উচিত নয়। '  দাদাভাই বলে, ' যদি কেউ বাজি না কেনে তাহলে যারা বাজি বানায় তাদের চলবে কী করে? '  এই সব তক্কাতক্কির মধ্যে আলোর বাজি রঙ ছড়াতে থাকে। 
কালীপুজো মিটতেই চলে এল ভাইফোঁটা। পুজোর পরের দিনই বিতনু চলে এল পুতুলদের বাড়ি। পুতুলের মায়ের খুব আনন্দ। বাড়ির সকলের জন্যই উপহার নিয়ে এসেছে বিতনু তার মধ্যে পুতুলের স্পেশাল গিফট। চুম্বক দেওয়া ব্লক যেগুলো দিয়ে একশো রকম জিনিস বানানো যায়। বাড়ি থেকে গাড়ি -- সব। পুতুল তো এই গেম পেয়েই  ছবি দেখে দেখে বানাতে বসে পড়ল।

অণুকবিতা
কেয়া দেবনাথ

সুর তো সেধেছিলে দরবারী মালকোষে,
বেসুর হল শেষে
 শিবরঞ্জনীতে এসে।

ডাক্তার বাবুর কলমে - ৪ 

বেলা ন'টা বেজে গেছে, কিন্তু তুহিন এখনো ঘুমোচ্ছে। তুহিন কাল প্রায় সারারাত দাঁতের যন্ত্রনায় কষ্ট পেয়েছে। মাঝরাতের পর ওষুধ খেয়ে তবে ভোরের দিকে ঘুমিয়েছে। এই রকম অভিজ্ঞতা কমবেশি প্রায় সব পরিবারেই আছে, তার প্রধান কারণ আমরা দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিই না। 
আজ আমি তোমাদের দাঁতকে ভালবাসার আর ভালো রাখার কথা বলব। আমাদের সবার দিনে অন্তত দুবার ব্রাশ করা একান্তই প্রয়োজন। একবার সকালে আর একবার রাতে খাওয়ার পরে। প্রতিবারই অন্তত দুমিনিট ধরে ব্রাশ করতে হবে , আর হ্যাঁ এই দুমিনিট সময় টাকে বাম দিকের দাঁতের উপর ও নীচ, ডানদিকের দাঁতের উপর ও নীচ এছাড়া দাঁতের পিছন দিক বা ভিতরের দিক আর বাইরের দিক এবং চর্বণতল পুরোটাই খুব ভালো করে ব্রাশ করতে হবে।
ব্রাশ করার সময় একটি বিশেষ নিয়মে ব্রাশ করতে হবে। পিছনের দিকের দাঁতের ক্ষেত্রে দাঁতের সাথে মাড়ি যেখানে মিশেছে সেখানে ব্রাশের শলাকাগুলি ৪৫° কোণ করে ধরে ধীরে ধীরে ঘড়ির কাঁটার দিকে বা clock wise  ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ব্রাশ করতে হবে আর সামনের দাঁতের ক্ষেত্রে নীচ থেকে উপরের দিকে আর উপরের দাঁতের ক্ষেত্রে উপর থেকে নিচের দিকে আস্তে আস্তে ব্রাশ করলে দাঁতের সবগুলো পৃষ্ঠ যেমন সুন্দর ভাবে পরিস্কার হয় ঠিক তেমনি দাঁতের এনামেল এর ক্ষয় কম হয় ফলে দাঁত শিরশির করার প্রবণতাও কমে যায়। ব্রাশ করার পর খুব ভালো ভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল দিয়ে মুখ কুলকুচি করে নিও যাতে পেস্টের ফ্লোরাইড মুখের মধ্যে লেগে না থাকে। এর পরে আঙ্গুল দিয়ে মাড়ি খুব ভালো ভাবে ম্যাসাজ করে নিতে হবে যাতে মাড়িতে ভালো ভাবে রক্ত চলাচল করতে পারে। অ্যাসিড যুক্ত পানীয় ও খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ব্রাশ করে নিলে দাঁতের এনামেল সুরক্ষিত থাকে। 
আর একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবে নরম টুথব্রাশ ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতি তিন থেকে চার মাস অন্তর টুথব্রাশ বদলে নিতে হবে। তা না হলে দাঁতের ও মাড়ির বেশি ক্ষতি হয়। 
ব্রাশ কখোনোই টয়লেট বা স্নানঘর জাতীয় স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখবে না, এতে সংক্রমণের সমস্যা হতে পারে। তাই ব্রাশ কে সংক্রমণ মুক্ত রাখার জন্য জীবাণুনাশক দ্রবনের মধ্যে অথবা গরম জলের মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে হবে। 
অনেক ক্ষেত্রেই দাঁতের অযত্ন থেকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা ও রোগের সংক্রমণ দেখা যায়। তাই সার্বিক সুস্থতার জন্য দাঁতের সঠিক যত্ন একান্তই প্রয়োজন। সবাই ভালো থাকো এই শুভ কামনা রইলো।

ক্যুইজ: ১০ 

১. দুর্গা পূজার আগমন বার্তা হিসেবে যে গান শরৎকালে বাংলার ঘরে ঘরে গাওয়া হয়, সেই গানকে কি গান বলে? 
2. পশ্চিমবঙ্গের মোট কতগুলি প্রশাসনিক বিভাগ আছে? 
৩. পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পশুর নাম কি? 
৪. পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পাখির নাম কি? 
৫. পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ফুলের নাম কি? 

গত সপ্তাহের ক্যুইজ এর উত্তর: 
১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য 
2. ২৬ শে নভেম্বর 
৩. পুদুচেরি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের মাহে 
৪. সরোজিনী নাইডু 
৫. নিউটন

Post a Comment

0 Comments