চিন দেশের গল্প: ৬ (শিকারী হাইলিবু)
বাংলা ভাষান্তর : নিখিলেশ ঘোষ
(একটি মঙ্গোলীয় লোককথা। মূল চিনা ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন :
জন মিনফোর্ড)
অনেক অনেক বছর আগের কথা। এক সবুজ-শ্যামল পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এক গ্রাম ছিল। সেই গ্রামে বাস করত হাইলিবু নামের এক শিকারী। তার মনটা ছিল আকাশের মতোই উদার। গ্রামের কোনো মানুষ বিপদে পড়লে হাইলিবু সবার আগে সেখানে গিয়ে দাঁড়াত।যখনই জঙ্গল থেকে কোনো পশু শিকার করে ফিরত, তা নিজের কাছে রাখার পরিবর্তে, সে সবসময় তা প্রতিবেশীদের মধ্যে ভাগ করে দিত। তার এই গুণ তাকে গ্রামের প্রতিটি মানুষের চোখের মণি করে তুলেছিল।
এক সুন্দর সকালে হাইলিবু তার ধনুক-তীর নিয়ে রওনা হলো পাহাড়ের গভীরে। সেখানে এক ঘন, রহস্যময় বনের প্রান্তে একটি প্রাচীন গাছের ছায়ায় তার নজর গেল এক অদ্ভুত দৃশ্যের দিকে। একটি ধবধবে সাদা ছোট্ট সাপ গাছের নিচে কুণ্ডলী পাকিয়ে পরম শান্তিতে ঘুমোচ্ছে। দয়ালু হাইলিবু ভাবল, "আহা!এক চিলতে প্রাণ। সুখের ঘুমে মগ্ন, একে জাগিয়ে কাজ নেই।" সে আলতো করে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে সাপটিকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগল।
ঠিক সেই মুহূর্তে, বিশাল ধূসর সারস পাখি ডানা ঝাপটে তীরের বেগে নিচে নেমে এল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ঘুমন্ত সাপের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, তাকে নখ দিয়ে চেপে ধরল । তারপর মুহূর্তের মধ্যে সাপটিকে নিয়ে আবার আকাশে উড়ে গেল। ধাক্কা খেয়ে জেগে উঠে, ছোট সাদা সাপটি চিৎকার করে উঠল: "বাঁচাও! বাঁচাও!"
নিরীহ সাপের সেই আকুল আর্তনাদ হাইলিবুর বুকে গিয়ে বিঁধল। সে এক পলকও সময় নষ্ট না করে তূণীর থেকে একটি ধারালো তীর বের করে সে তার ধনুকে জুড়ল।ধূসর সারসটিকে তাক করে সাঁ করে ছেড়ে দিল তার অব্যর্থ তীর!
বেগতিক দেখে চতুর সারস মাঝ আকাশেই তার নখ আলগা করে দিল, ফলে ছোট্ট সাদা সাপটি ওপর থেকে নিচে খসে পড়ল। হাইলিবু দ্রুত এগিয়ে গিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা ক্ষত বিক্ষত সাপটিকে পরম স্নেহে তুলে নিল। তারপর নরম সুরে বলল, "আহা রে অবুঝ জীব! আজ অল্পের জন্য তোমার প্রাণ রক্ষা হলো। এবার আর এখানে দেরি কোরো না, নিজের বাবা-মায়ের কোলে ফিরে যাও।" উদ্ধার পেয়ে ছোট্ট সাদা সাপটি কৃতজ্ঞতায় বারবার তার ফণা দুলিয়ে হাইলিবুকে ধন্যবাদ জানাল। তারপর অদৃশ্য হয়ে গেল ঝোপঝাড়ের ঘন আড়ালে। সূর্য তখন পাহাড়ের কোলে ঢলে পড়ছে। হাইলিবু শান্ত মনে তার তীরগুলো তার তূণীরের মধ্যে রাখল, তার ধনুকটি কাঁধে ঝোলাল এবং বাড়ি চলে গেল।
পরের দিন, হাইলিবু যখন আবার সেই বনের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিল, তখনই ঘটল এক অদ্ভুত কাণ্ড! হাইলিবু দেখতে পেল একটি ছোট সাদা সাপ একদল সাপের অনুচরবেষ্টনী হয়ে হামাগুড়ি দিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে।হাইলিবু অবাক হয়ে তাদের পাশ কাটিয়ে নিজের পথে এগিয়ে যেতে উদ্যত হল। তখন সেই ছোট সাদা সাপটি মানুষের গলায় মিষ্টি সুরে তাকে বলল: "কেমন আছেন, আমার রক্ষাকর্তা? আপনি হয়তো আমাকে চিনতে পারছেন না। আমি ড্রাগন রাজার কন্যা। গতকাল ওই নিষ্ঠুর সারসের হাত থেকে আপনিই আমার জীবন বাঁচিয়েছিলেন। আপনার এই মহৎ উপকারের কথা শুনে আমার বাবা-মা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। তাঁরা আমাকে পাঠিয়েছেন আপনাকে আমাদের পাতালপুরীর রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রণ জানাতে, যাতে তাঁরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে পারেন। দয়া করে আমাদের অতিথি হোন।"
🍂
যখন তারা ড্রাগন রাজের প্রাসাদ অভিমুখে
রওনা দিল তখনই ছোট্ট সাপটি সতর্ক করে বলল: "হে রক্ষাকর্তা, আমাদের রাজ্যে যখন আপনার পা পড়বে, আমার বাবা-মায়ের দেওয়া কোনো উপহারের ফাঁদে পা দেবেন না। সব লোভ উপেক্ষা করে শুধু সেই গোপন পাথরটি চাইবেন, যা আমার বাবা লুকিয়ে রাখেন তাঁর মুখের গভীরে। ওই পাথরটি আপনার ঠোঁটের স্পর্শে আসামাত্রই, আপনি বুঝে ফেলবেন এই পৃথিবীর প্রতিটি পশুপাখি আর কীটপতঙ্গের গোপন ভাষা। কিন্তু সাবধান! প্রকৃতির সেই গোপন কথা যদি কোনোদিন অন্য কারো কানে প্রকাশ করেন, তবে আপনার শরীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত জমে বরফ-কঠিন পাথর হয়ে যাবে।
একথা শুনে হাইলিবু মাথা নেড়ে সেই সাদা সাপটিকে অনুসরণ করল। হাইলিবুর পথ গিয়ে মিশল এক গভীর, অন্ধকার হিমশীতল উপত্যকায়।অবশেষে তারা এসে পৌঁছাল এক বিশাল রাজকীয় দরজার সামনে। তখন ছোট সাদা সাপটি বলল, "আমার বাবা-মা তাঁদের এই রত্নভাণ্ডারের প্রবেশদ্বারে আপনার জন্যই অপেক্ষা করছেন। তাঁরা এখন এখানেই আছেন।"
সাপটির কথা শেষ হতে না হতেই স্বয়ং ড্রাগন রাজা নিজে এগিয়ে এলেন হাইলিবুকে স্বাগত জানাতে। অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে তিনি বললেন, "আপনি আমার পরম আদরের কন্যাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। আমি আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এটিই আমার সেই গোপন ভাণ্ডার, যেখানে আমি সমস্ত ধন-সম্পদ আগলে রাখি। আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি চারপাশ ঘুরে দেখুন। এখান থেকে আপনার যা পছন্দ হয়, ইচ্ছেমতো নিয়ে নিন। অনুগ্রহ করে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না!"
এই কথা বলেই ড্রাগন রাজা রত্নভাণ্ডারের বিশাল দরজাটি খুলে দিলেন এবং হাইলিবুকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। মুহূর্তের মধ্যে হাইলিবুর চোখ ধাঁধিয়ে গেল; পুরো ভাঁড়ারঘরটি আলোয় উজ্জ্বল এবং দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান ও চকচকে মণি-মুক্তায় উপচে পড়ছিল।
একশো আটটি ঘরের সবকটি ঘুরে দেখার পরও যখন হাইলিবু কোনো একটি ধন-সম্পদও পছন্দ করল না, তখন বৃদ্ধ ড্রাগন রাজা ইতস্তত বোধ করে বললেন: "প্রিয় মহাশয়! আপনার কি আমার ভাণ্ডারের কোনো মূল্যবান জিনিসই পছন্দ হচ্ছে না?"
হাইলিবু উত্তর দিল: "এগুলো যথেষ্ট সুন্দর, তবে এগুলো কেবলমাত্র সাজসজ্জার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো আমার মতো শিকারীদের কোনো কাজে আসবে না। মহারাজ যদি সত্যিই আমাকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কিছু দিতে চান, তবে অনুগ্রহ করে আপনার মুখের মূল্যবান পাথরটি আমাকে দিন!"
হাইলিবুর কথা শুনে ড্রাগন রাজা গম্ভীর হয়ে মাথা নিচু করলেন। তিনি কিছুক্ষণ গভীর চিন্তায় মগ্ন রইলেন। তিনি কোনভাবেই বুঝতে পারলেন না কিভাবে এই শিকারী তার ঐ রত্নের কথা জানতে পারল। যেহেতু কথা দিয়েছেন তাই অত্যন্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও মুখ থেকে সেই অলৌকিক ও মহামূল্যবান রত্নটি বের করে হাইলিবুর হাতে তুলে দিলেন। এভাবেই হাইলিবু সেই জাদুকরী পাথরের মালিক হলো।
ড্রাগন রাজার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হাইলিবু যখন নিজের গাঁয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিল, তখন সেই ছোট সাদা সাপটি তার পিছু পিছু বাইরে এলো। সে হাইলিবুকে বারবার সাবধান করে ফিসফিসিয়ে বলল, "এই মূল্যবান পাথরের গুণে আপনি পশুপাখির ভাষা থেকে শুরু করে দুনিয়ার সব গোপন কথা জানতে পারবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এই পাথরের সাহায্যে আপনি যা শুনবেন বা জানবেন, তার সামান্যতম অংশও যদি কখনো কোনো মানুষের কাছে প্রকাশ করেন—তবে আপনার ওপর চরম বিপদ নেমে আসবে! আপনি তৎক্ষণাৎ পাথরে পরিণত হয়ে যাবেন! এই প্রতিজ্ঞার কথা কখনোই ভুলে যাবেন না!
তখন থেকে পাহাড়ে শিকার করা হাইলিবুর জন্য অত্যন্ত সহজ হয়ে দাঁড়াল। বনের সব পশুপাখির ভাষা এখন তার নখদর্পণে! পাহাড়ের ওপাশে কোন প্রাণী লুকিয়ে আছে, সে তা ঘরে বসেই টের পেয়ে যেত। এভাবেই সুখ-শান্তিতে কেটে গেল বেশ কয়েকটি বছর। একদিন হাইলিবু যথারীতি গহীন পাহাড়ে শিকার করতে বের হয়েছে। ঠিক তখনই হঠাৎ আকাশ থেকে এক ঝাঁক পাখির কলকাকলি তার কানে এল। ডানা ঝাপটে উড়ে যেতে যেতে পাখিরা নিজেদের মধ্যে আতঙ্কে বলাবলি করছিল, "আমাদের আর এক মুহূর্তও এখানে থাকা চলবে না! যত দ্রুত সম্ভব অন্য কোথাও পালিয়ে যেতে হবে! আগামীকালই এই চারপাশের পাহাড়গুলো ফেটে অগ্নিকুণ্ড বের হবে, মাঠঘাট বন্যায় ভেসে যাবে! ঈশ্বরই জানেন, কাল কত জীবজন্তু যে প্রাণ হারাবে!"
এই খবর শোনা মাত্রই হাইলিবুর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। তার হাতের ধনুক আর তূণ যেন ভারী হয়ে মাটিতে খসে পড়তে চাইল। বনের পশুপাখি শিকার করার যে আনন্দ, তা এক নিমেষে কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে ফিরে গেল নিজের গাঁয়ে। পাড়ার মোড়ে এসে হাইলিবু হাঁক পেড়ে গ্রামবাসীদের জড়ো করল। উত্তেজিত গলায় সে বলল, " শোনো আমার প্রতিবেশী ভাইয়েরা! আমাদের আর এখানে থাকা চলবে না। আর একটা রাতও এই গ্ৰামে কাটানো মানে নিজেদের বিপদ ডেকে আনা। যত দ্রুত পারো, চলো, অন্য কোনো দেশের খোঁজে পাড়ি দিই! বেশি দেরি হয়ে গেলে কিন্তু আর ফেরার পথ থাকবে না। ঈশ্বরের দোহাই, আমাকে অন্তত এই একটিবার বিশ্বাস করো!" গ্রামের মানুষ তার মুখের দিকে চেয়ে থমকে গেল, কারণ তারা জানত—হাইলিবু কখনো কোনো মিথ্যে ভয় পায় না।
তার কথা শুনে প্রতিবেশীরা সবাই হতভম্ব হয়ে গেল। কেউ কেউ ভাবল যে এমন কোনো আসন্ন বিপদ আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই; আবার কেউ কেউ ভাবল হাইলিবু পাগল হয়ে গেছে। কেউ তাকে বিশ্বাস করল না। হাইলিবুর গাল বেয়ে চোখের জল পড়তে লাগল।সে হতাশ হয়ে তাদের বলল: তোমাদের বিশ্বাস করাতে হলে কি আমাকে মরতে হবে?" কয়েকজন বৃদ্ধ লোক তাকে বললেন: "আমরা সবাই জানি তুমি এর আগে আমাদের কাছে কখনো মিথ্যে বলোনি।
কিন্তু এখন তুমি পাহাড় সম্পর্কে এই সমস্ত কথা বলছ যে অগ্ন্যুৎপাত ঘটছে এবং মাঠগুলো প্লাবিত হচ্ছে। তুমি কি আমাদের বলবে না কী কারণে তুমি এত নিশ্চিত যে এটা ঘটবেই?"
হাইলিবু মনে মনে ভাবল: "বিপর্যয় আসন্ন। আমি কীভাবে একা পালিয়ে গিয়ে সমস্ত গ্রামবাসীকে মরার জন্য ছেড়ে দেব? যদি প্রয়োজন হয়, আমাকে তাদের বাঁচানোর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে।" তাই সে গ্রামবাসীদের সবাইকে ডেকে বলল," তাহলে শোনো"।এরপর পুরো গল্পটি সংক্ষেপে বলল, কীভাবে সে সেই মূল্যবান পাথরটি লাভ করেছিল এবং শিকারের জন্য এটি ব্যবহার করেছিল; কীভাবে সে একঝাঁক পাখিকে বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা করতে শুনেছিল এবং তাদের পালিয়ে যেতে দেখেছিল।
সে আরও বলল , " আমি যা শুনেছি তা অন্য কাউকে বলার অনুমতি আমার ছিল না, কারন একথা কাউকে জানালেই আমার শরীর পাথরে পরিণত হবে এবং আমি মারা যাব। কিন্তু আজ এই গোপন কথা তোমাদের বলতে বাধ্য হলাম কারন তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করতে চাইছ না। তোমাদের বাঁচানোর জন্য এ ছাড়া আমার আর অন্য উপায় ছিল না।" যখন সে কথা বলছিল, তখন সে অল্প অল্প করে পাথরে পরিণত হয়ে গেল। এইভাবে নিজের জীবন দিয়ে শিকারি হাইলিবু পাথর হয়ে গিয়েছিল।
এদিকে সেই গ্রামবাসীরা, হাইলিবুর করুন অবস্থা দেখে, প্রচণ্ড দুঃখ অনুভব করল এবং তার কথা বিশ্বাস না করার জন্য বারবার আফসোস করতে লাগলো। তারা দ্রুত অন্য জায়গায় চলে গেল, তাড়িয়ে নিয়ে গেল তাদের গবাদি পশু। যখন তারা তাড়াহুড়ো করে চলে যাচ্ছিল, তখনই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেল এবং সারা রাত মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। পরদিন সকালে, তারা মেঘের এক গুরুগুরু গর্জন এবং একটি বিশাল ভেঙে পড়ার শব্দ শুনল যা পৃথিবীর ভিত্তি পর্যন্ত যেন কাঁপিয়ে দিল। পাহাড়গুলো অগ্ন্যুৎপাত ঘটাল, উগরে দিল এক বিশাল বন্যা। গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে, গ্রামবাসীরা বলল: "হায়রে হাইলিবু যদি তার জীবন উৎসর্গ না করত আমাদের জন্য, তবে আমরা ডুবে যেতাম এই বন্যায়!"
পরবর্তীতে, শোকগ্রস্ত গ্রামবাসীরা বনের গভীরে খুঁজে পেয়েছিল সেই পাথরটি, যার প্রতিটি খাঁজে মিশে ছিল হাইলিবুর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার স্মৃতিকথা। তারা পরম শ্রদ্ধায় সেই ভারী পাথরটিকে বয়ে নিয়ে গিয়েছিল পাহাড়ের একেবারে চূড়ায়, যাতে চারপাশের সমস্ত উপত্যকা থেকে সেটিকে দেখা যায়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে, তারা হাইলিবু-র স্মৃতিতে এই পাথরটির উদ্দেশ্যে তাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে আসছে ।
হাইলিবুর আত্মত্যাগের সেই করুণ ও গৌরবময় কাহিনীর পর, বহু কাল কেটে গিয়েছে। তবে লোকমুখে আজও বেঁচে আছে সেই মহান শিকারীর স্মৃতি। আজও যদি কেউ সেই দেশের পাহাড়ি পথ ধরে হেঁটে যায়, তবে স্থানীয় মানুষেরা আঙুল উঁচিয়ে একটি জায়গা দেখিয়ে দেয় যার নাম "হাইলিবু পাথর"। যুগে যুগে যা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—পরোপকারের চেয়ে বড় ধর্ম আর কিছুই হতে পারে না।
0 Comments