জ্বলদর্চি

কেন লিখি!/তুলি মুখার্জি চক্রবর্তী

কেন লিখি!

তুলি মুখার্জি চক্রবর্তী 


কেন লিখি!? দুটি শব্দের প্রশ্ন কিন্তু উত্তর লিখতে গেলে পাতা শেষ হয়ে যাবে।
আমি এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডের LNER train এ বসেও লিখছি। কেন?? কেউ তো বলেনি লিখতে.... নিজের মনের তাগিদে লিখছি স্পীডে ছোটা ট্রেনে বসে। সাময়িক ফ্রি নেট পরিষেবা পেয়েছি ট্রেনের বদান্যতায়।  যা আমাদের দেশে কখনোই পাইনি।
তিনঘন্টা পরে পৌঁছে যাব King's X station. ওখান থেকে আবার ট্রেন ধরে সোজা হিথ্রো। দেশের পথে উড়ান ধরব। এইটুকু সময় ভাবছি এই দুস্তর ফারাক কি কখনোই কমে এক হবে না?? হবে না জানি। এই কথাগুলো কাকে বলি কতজনকেই বা বলব? সময়ের পলি চাপা পড়ে ভুলে যাব সব তাই লিখি আমি যেখানে যা ভালো মন্দ দেখি। এ আমার একান্ত পছন্দের। 
গত দেড়মাস থাকলাম UK. ইংল্যান্ড তো বটেই, ওয়েলস্ এবং স্কটল্যান্ড ঘুরলাম। বাড়িঘর, মানুষজন, কুকুর বেড়াল, আবহাওয়া গত কারণে দেখতে অন্যরকম হলেও সেই তো একই। কিন্তু আচরণের ফারাক বিস্তর। এটা কি সম্ভব হবে আমার দেশে?? হবে না বলেই মনে হয়। দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনের যে বিধিনিষেধ আছে, সকলেই তা মেনে চলে।আর আমরা!! মানব না কিছু নীতিমালা নিয়ে চলি। এই দুঃখ বলব কাকে?? রে রে করে তেড়ে আসবে কে কখন কে জানে? তাই লিখি।গাছ ভরা ফুল ফল, পাশ দিয়ে মানুষ চলছে কাজে। অফিস। বাচ্চারা স্কুলে।কেউ ফুল ফল ছিঁড়ে সুন্দরকে নষ্ট করে না।
সাইকেল লেন দিয়ে বড় বাচ্চা সকলে সাইকেল চালাচ্ছে। কোনো এদিক ওদিক নেই। 
লিখে রাখি সব। 
বয়স্ক অসুস্থ বৃদ্ধ বৃদ্ধারা লাঠি হাতে বা হুইলচেয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বাজার দোকান রেস্টুরেন্ট পার্ক মল... সবাই সমীহ করেছেন, বা না করলেও উপহাস করছেন না। আবার এসে যাচ্ছে তুলনা। নাহ্... লিখি বরং 
এত সব ভালো দেখে মন ভালো হলেও নিজের দেশের কথা ভাবলে দুঃখ হয়। জানিনা জগতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন পাব কিনা.... ছোট ছোট অভিজ্ঞতা টুকরো কাগজে লিখে রাখি তাই। 
যদি পড়ে কেউ কখনো সচেতন হয়!? যদিও সে সম্ভাবনা কম। হতাশা থেকে আশার পথে একধাপ এগিয়ে চলার জন্য লিখি। 
চারপাশে অন্যায় দেখে লিখি যদি প্রতিষেধক পাওয়া যায়....
গুছিয়ে বলতে না পারা কথা লিখি, লেখার জন্য ভালোবেসে লিখি..

🍂

Post a Comment

0 Comments