পর্ব ১৮
প্রীতম সেনগুপ্ত
১৯৫৩ সালের ‘প্রবুদ্ধ ভারত’এপ্রিল সংখ্যায় ব্রতীন্দ্র কুমার সেনগুপ্ত তাঁর ‘The philosophy of Advaita Vedanta’ প্রবন্ধে লিখছেন -----Of all the systems of Indian philosophy, Vedanta occupies the most sacred seat in hearts of all intelligent people. It's metaphysics is sublimest, it's logic and epistemology unassailable, and its practical methods the most synthetic and rational. Among the various interpretations and expositions of Vedanta (which is directly descended from the teachings of Upanishads) such as the dualism of Madhva, the qualified monoism of Ramanuja, and the absolute monoism of Shankara, the last seemed to have reached the high water mark of Indian thought. Sankara's Advaitabada is not unintelligible, as some western scholars have expressed, nor is it unpractical and abstract, as some savants of the East and the West have charged it to be; it is , on the other hand , a highly logical, practical, and relevant interpretation of the universe and man, their origin and destiny.
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয়, শ্রীশঙ্করের সমসাময়িক শ্রীভাস্করাচার্য ছিলেন ভেদাভেদ বাদী। এই ভেদাভেদবাদ ও নিম্বার্কের দ্বৈতাদ্বৈতবাদ একই জিনিস। এই দর্শনের প্রথম সংস্করণ ঔডুলোমির ( ব্রহ্মসূত্রে এর নাম দেখা যায়), দ্বিতীয় সংস্করণ ভাস্করের ( ১০ম শতাব্দী ) এবং তৃতীয় সংস্করণ নিম্বার্কের ( ১১শ শতাব্দী )। এই মতে দ্বৈতও সত্য, অদ্বৈতও সত্য। কেবল ভাস্কর ব্রহ্মেরই ব্যাখ্যা করেছেন এবং নিম্বার্ক বিষ্ণুপর ব্যাখ্যা করেছেন। বর্তমানে বৈষ্ণবদের চারটি প্রধান সম্প্রদায় আছে ---- (১) শ্রী সম্প্রদায় --- রামানুজের ( ২) পূর্ণপ্রজ্ঞ সম্প্রদায় --- মধ্বাচার্যের ( জন্মকাল ১১৯৯ খ্রি: ) (৩) শুদ্ধাদ্বৈত সম্প্রদায় --- নিম্বার্কের ( ১১শ শতাব্দী )। যমুনার তীরে মথুরায় নিম্বার্কীদের প্রধান কেন্দ্র।
পশ্চিমাঞ্চলের নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের বহুল প্রচার বঙ্গদেশেও কিছু কিছু আছে। নিম্বার্ক “বেদান্ত- পারিজাত-সৌরভ” নামক অতি সংক্ষিপ্ত ব্রহ্মসূত্রের ব্যাখ্যা প্রচার করেন। ভাষ্যের লক্ষণানুযায়ী একে ভাষ্য বলা যায় না বরং এটা সূত্রের সংক্ষেপ অর্থ মাত্র। তবে এই মতের বিশেষত্ব এই যে, বৈদান্তিক অন্য মতের উপর আক্রমণ নেই --- কেবলমাত্র সমন্বয়ে সূত্রে একটু বিচার আছে, তাছাড়া বিচার নেই বললেই চলে।
এরা বৈদিক আচার্য সনৎকুমারকে প্রথম গুরু বলে নির্দেশ করেন। ছান্দোগ্য উপনিষদে আছে, নারদ সনৎকুমারের কাছে ব্রহ্মবিদ্যা লাভ করেছিলেন। নিম্বার্ক তাঁর ভাষ্যে --- “আমার গুরু নারদ” বলে পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু বৈদিক নারদ কী করে নিম্বার্কের গুরু হবেন? তবে নিম্বার্ক নারদ-পঞ্চরাত্রের কিছুটা অনুসরণ করেছেন --- এই হিসাবে তাকে গুরু বলা যায় কিন্তু নিম্বার্কাচার্যের আগে তাদের অন্য কোনও গুরুর নামোল্লেখ দেখা যায় না। সেই জন্যই বোধহয় নিজের ভাষ্য সজ্জন গৃহীত তা প্রমাণ করার জন্যই সনৎকুমার ও নারদকে নিজের গুরুরূপে বরণ করেছেন।
0 Comments