অসিতরঞ্জন ঘোষ
আমি তো লিখি না, আমাকে লেখায়। এই চলমান সংসারে, জীবদ্দশায় যা দেখি, বুঝি, শুনি, পড়ি, অনুভব করি, অনুধাবন করি, তার অপার অজানার সন্ধানে, মন উচাটন, মান, অভিমান, আনন্দ, রাগ, বিরাগ,অনুরাগ, দুঃখ, বিরহ, সমারোহ, প্রেম, প্রকৃতি, ষড়রিপুর আবেগে আন্দোলনে মেতে ওঠে। মনে মনে তার একটা নাতিদীর্ঘ লেখা তৈরী হয়। বিদ্যুৎগতিতে ভাবনা ছুটে বেড়ায়। ঠিকঠিক হলে মন শান্ত হয়। আবার মনের পাতায় লেখা, স্মৃতির দুর্বলতায় ক্ষীণ হয়ে যায়, যখন তা খাতায় লিখতে বসি। তখন সে ভাবনার নবজন্ম হয়, মূল ভাবনার পুনর্জন্ম হয়। তাতে ভাল মন্দ দুটোই মিশে থাকে। বেশির ভাগই সময়ের দড়ি টানাটানিতে মনের পাতা ও লেখার খাতার মধ্যে সমন্বয় হয়ে ওঠে না। ভাবনার আপাতঃ মৃত্যু হয়।
লেখা আমার নেশা। লিখতে বেশ ভালবাসি। প্রাত্যহিক জীবনে প্রায়ই কিছু না কিছু লিখি, লিখে থাকি। প্রকৃতি ভালোবাসি। মূলত কবিতা লিখি। ছন্দে। আমার লেখার উৎস, গভীর বেদনা। আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। অভাবের সংসারে আমার চার বছরের ভাইয়ের মৃত্যু হয়। সে আমার কোলে কাঁধেই থাকত। বড় আদরের, বড় ভালবাসতো সে দাদাকে। সেই মর্মন্তুদ ঘটনাই সাক্ষ্যী হয়ে রইল আমার প্রথম কবিতার। কিন্তু তা রক্ষা করতে পারিনি। লিখেছিলাম শ্লেটে। বিছানার ওপর রেখে গিয়েছিলাম, ফেরত এসে দেখি, কেউ তা মুছে দিয়েছিল। তখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ১৯৭১। মাথার উপর দিয়ে সাই সাই ফাইটার প্লেন ছুটছে। চোখ ওঠা বা জয় বাংলা ছড়িয়ে পড়ছে। ইয়া ইয়া খান, মুজিবের বক্তৃতা আর হাহাকার। লিখেছিলাম এসব নিয়ে।
এরপর কিছু লেখা একটা বিশেষ আবেগ হয়ে ওঠে। লিখলেই স্কুলের বাসু স্যারকে দেখাতাম। বেশ উৎসাহ দিতেন। আবৃত্তি আর কবিতা লেখায় পরিচিত হতে থাকি। সঙ্গে আঁকাআঁকি, মণিমেলা, নাটক, বিতর্ক, কোরাস। এসব লিখতে গিয়ে, বেশ নস্টালজিক হয়ে পড়ছি। আসলে আমার ছোটবেলা থেকে বড় হওয়া ও বুড়ো হওয়ার ছ-দশকের দীর্ঘ পথে, আমি লেখাকে ছাড়িনি, লেখাও আমাকে ছাড়েনি।
২৯ শে অগাস্ট ১৯৭৬। আমাদের নজরুল, কাজী নজরুল ইসলাম চলে গেলেন। সেদিন অস্তগামী সূর্যের মায়াময় আভা সবে বিদায়ের পথে, সেই মুহূর্তে, কালীদা, আমাদের মণিমেলার কর্ণধার, হন্তদন্ত হয়ে এসে বলেছিল, "নজরুল চলে গেলেন"। আমরা তখনও ধর্মতলার ধর্ম মন্দির মাঠে লাঠিখেলা প্র্যাকটিস করছিলাম। শুনে থ, তারপর ভ্যা করে কেঁদে ফেলেছিলাম। নজরুলের লেখা আমাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ করেছিল, প্রেরণা দিয়েছিল। এরপর সুকান্ত ভট্টাচার্য ও পরে রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি এখন যেভাবে অনুভব করি, কিশোর বয়সে ঠিক সেভাবে গ্রহণ করতে পারিনি। বেশ অধরা ছিল, মনে হয়েছে, তিনি সাধারণের নন, সাধারণের মর্মকথা, তাঁদের ব্যথা উপেক্ষিত। এই তিনজন আমার কোমল হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল। সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। এই ১৯৭৬ সালটি ছিল কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের জন্ম শতবার্ষিকী। রচনা লিখলাম, শতবর্ষে শরৎচন্দ্র।লেখাটির বেশ কদর হয়েছিল। তাঁর ছবিও আঁকলাম। এখনও আমার ঘরের দেওয়ালে তা উজ্জ্বল হয়ে আছে।
১৯৭৭ এর ১৬ই মার্চ বিধান সভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট এল। প্রাক্ নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক মৃত্যু মিছিল দেখেছিল, এক সাধারণ ঘরের টালির ভাড়াবাড়িতে থাকা, একবুক আশা নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ১৯৭৭ এর ৫ই এপ্রিল, মঙ্গলবার, পরীক্ষা শুরু হল। পরীক্ষার পরের দুমাস চুটিয়ে শরৎচন্দ্র, আশুতোষ, নৃপেন, রবীন্দ্রনাথ, শংকর, সুভাষ, দীনেশ, নজরুল, সুকুমার, সুকান্ত, অন্নদাশংকর, নীরেন্দ্রনাথ প্রমুখের পড়ায় আচ্ছন্ন হয়েছিলাম। বোসপুকুর শীতলামন্দিরের সাধারণ পাঠাগার আর শীতলামন্দিরের লাল সিমেন্টের শীতল মেঝে আমার ঘরবাড়ি হয়ে গেছিল। অভাব বন্যা ও ছিল পাশে পাশে। এসময় হঠাৎই পরিচয় হয়ে গেল, অমিতাভদা, অমিতাভ বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে। যুক্ত হয়ে গেলাম বোসপুকুরের The Progessive Federation of Bengali Literature and Culture এর সঙ্গে। কনিষ্ঠ সদস্য। লেখা চলল। প্রথম ছাপার অক্ষরে পেলাম নিজের লেখা চার লাইন।
"কর্ম যেথা নাচিতে চায় আপন সৌরভে,
কুকর্ম আসি তারে গলা টিপি মারে,
গৌরব কুড়াতে যেবা হয়েছে প্রস্তুত,
কলঙ্ক আসিয়া তারে করে গেল ‘ছুৎ’।"
আল্হাদে আটখানা। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ পর্যন্ত ফেডারেশনের সঙ্গে নাড়ির সম্পর্ক। প্রতি মাসের প্রথম রবিবার করে বোসপুকুর, কসবা, বালিগঞ্জ জুড়ে কারো বাড়িতে, ছাদে, দালানে, মঞ্চে সাহিত্য সভা বসত। আর সেখানে নতুন কবিতা পড়ার ও শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল। এক সভায় শ্রী স্বপন বসু তার বিখ্যাত গান,...হবে কচুড়িপানা...শুনিয়েছিলেন। ফেডারেশন শ্রী অন্নদাশংকরের স্নেহধন্য ছিল। ফেডারেশনের বার্ষিক দুটো বই এর নামকরণ করেছিলেন ,'কবিতা স্টেডিয়াম' ও 'যুগশঙ্খ'। প্রতিবছর ২৫শে বৈশাখের দিন ভোর ভোর পৌঁছে যেতাম প্রিয় রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গনে। কৃষ্ণচুড়ার বেড়ির চারপাশে জায়গা দখলের অভিযান। সেখানে বই সাজিয়ে, শান্তিনিকেতনী ব্যাগে বই নিয়ে সারা চত্ত্বর ঘুরে বেড়াতাম আমরা। কেউ যদি কেনে! মনে পড়ে, লিখেছিলাম 'ভাগ্য'।
ভাগ্য!
ভাগ্যে, তুমি জন্মেছিলে জমিদারের ঘরে,
খেতাবগুলোও পেয়েছিলে, আপন কর্ম- বরে।
আমরা মরি রেশনদারের আতপ চালের লোভে,
ভাগ্যিস, তুমি পড় নি এমন কোনো ক্ষোভে!
টালি কিম্বা টিনের ঘরেও তোমার খেতাব মাত,
সেখানকার ও ছেলে ভাবে, হবে রবীন্দ্রনাথ।
জমিদারের ছেলে তুমি, সিদ্ধচাল-ই খেলে,
(আর) আমরা যত ট্যাঁরা- বাঁকা- অভাগাদের দলে,
“রবিঠাকুর” হতে চাই “আপদ” চাল গিলে।
জন্ম মোদের হায়রে “রবি”, এমনি অকালে!!!
--অসিতরঞ্জন ঘোষ----২২-৪-১৯৮৩- বিকাল ৩-২০টা---
(“রবীন্দ্রনাথ শুধু রবীন্দ্রনাথ” পত্রিকায় প্রকাশিত)
অস্তাচলে…
একটা হৈ – চৈ, একটা সোরগোল
বোমা আর বারুদের- কিছু সোঁদা গন্ধ।
-আর তার মাঝে এক সকরুণ সুর-
বাঁচার দারুন আর্তি।
একটা যুবকের প্রাণাহুতি হোল।
কাল ও শহীদ হবে, মালা পাবে।
বাঁচতে চেয়েছিল যে সগর্বে
শহীদ হয়েই বাঁচল শেষে।
--অসিত রঞ্জন ঘোষ------২১-৪-১৯৮৩- বিকাল ৫টা---
(“যুগশঙ্খ” পত্রিকায় প্রকাশিত)
তারপর, "পরিবর্তন" পত্রিকায় প্রকাশিত হল, "রেশনদেবী":
“রেশন দেবী”
রেশনের ফ্যাশন দেখে
পাচ্ছে হাসি-কান্না দুই-ই,
দুই-আটত্রিশের সিদ্ধ চাল
ভুট্টা দানার হবেই সই।
লম্বা, মোটা, চ্যাপ্টা, কালো
হরেক রকম বাহার তার।
সিদ্ধ হয় খুব কম সময়ে
বড় জোর এই ঘন্টা চার!
ভাতের স্বাস্থ্য নধর আরো
খেলেই জানি স্বাস্থ্য লাভ।
হজম হয় এই ঘন্টা ছ’য়ে
পরের বারেই কোষ্ঠ সাফ।
“পরিবরতন” পত্রিকায় ২৩ শে ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩ সংখ্যায় প্রকাশিত।
পেলাম কুড়ি টাকা। মানি অর্ডার। ঐ সময়, রবীন্দ্র সদন, ফাইন আর্টস, শিশির মঞ্চ, তথ্য কেন্দ্রে বেশ ঘুরতাম। নাটক থিয়েটার দেখতাম। খবর পেলাম "মুক্তমেলা'র। কবিতাপ্রেমীরা প্রতি শনিবার চারটেয়, ভিক্টরিয়ার সামনে, গড়ের মাঠে ৮ -১০টি সপ্তপর্ণী গাছে ঘেরা জায়গাতে জমায়েত হন। স্বরচিত কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি হয় সেখানে। জমে গেলাম। যদ্দুর মনে পড়ে আবু আতাহার নাম্নী কবির সঙ্গে পরিচিতি হয়েছিল।
লেখা নাটক আবৃত্তি আঁকায় মন উন্মত্ত থাকত। সমকালীন ভাবনা ছিল/আছে বিশেষ প্রেরণা। এই সূত্রেই একটা নাটকের দল খুলে ফেললাম " "Cultural Unit: A Drama Building"। BSc পড়ি, পড়াই। প্রায় ২০- ২২জন সাঙ্গ-পাঙ্গ ছিল। স্বরচিত নাটক, "জেহাদ " এর সফল পরিচালনা ও মঞ্চস্থ করেছিলাম। সঙ্গে ছিল টিউশন পড়ানো,নিজের পড়া, সংসারের দায়িত্ববোধ, সমাজবোধ, আর প্রতিনিয়ত অভাবকে ভর করে, মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
টিউশনের পয়সা নিজের খরচ এবং দুটো রেশনের খরচ জোগান দিতাম, ১১-১২ ক্লাস পড়ার সময়। টিউশন ফি এর উপর একটা লেখা:
"নিজেরটা আটীসুটী"
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে , ভাবছেন স্যর করবেন কী?
‘বলবেন নাকী ছাত্রীর মা’কে--, দক্ষিনাটা বাড়ান যদি?’
ভাবছেন আর ভাবছেন তিনি, পিচ্ছেন শুধু চা,
ট্রামের ভাড়া বাড়তে পারে, আর আমার বাড়বে না?
তাই কি হয়, বলে-ই দেখি, হয় কী কাণ্ডটা,
সবার বেলায় দিতে পারবেন, আর আমার বেলায় না…
তাতো হয় না!!!!!!!!!!!!!
দুম করে দিলই বলে, শুনুন মাসীমা…
বাড়ল ট্রেনের- ট্রামের ভাড়া, ---আমার বাড়বে না????
হ্যাচ্চ, হ্যাচ্চ হাঁচি দিয়ে, বললেন গিন্নিমা,
‘তুমি হলে নিজের লোক- পরের তো আর না?
বাড়লোই বা বাসের ভাড়া, তোমার তাতে কী?
ও’ টা হোলো গভমেন্টের-যত উসজ্ঞি।
তুমি হলে ছেলের মত, ও সব ভেবো না,
কয়েক টাকা বেশী দিয়ে , ছোট করবো না।
ও সব ভেবো না।
-----২৩.১১.১৯৮৩-ভাড়াবাড়ী-বেলা ৩-১৫ টা--------
কেন লিখি? কারণ অনেক। অদ্ভুত প্রীতি ভালোবাসার টান। তাই আমি রোজ লিখি, রোজ। না লিখলে, না লিখতে পারলে, দারুণ মন খারাপ হয়। প্রায় হাজার দেড়েক কবিতা, শ'চারেক লিমেরিক, ছড়া, বেশ কিছু বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখা আছে আমার ঝুলিতে। দেওয়াল ম্যাগাজিন, 'সেই সময়' পত্রিকা, কলেজ ম্যাগাজিন, প্রবাসী সাহিত্য পত্রিকায়, ইদানীং ফেসবুকে ও ডিজিটাল পত্রিকায়, লেখার অভ্যাস রাখি।
"চল ঝিলের পাড়ে"
চল ঝিলের পাড়ে, চল ঝিলের পাড়ে।
মাথার উপর ওই যে আকাশ, বলছে কী সব বারে বারে।
চল ঝিলের পাড়ে, চল ঝিলের পাড়ে।
ঝিলের জলে হাজার মজা, মেঘের কোলাজ মূর্তি গড়ে।
আকাশ যেন কইছে কথা, জলের সঙ্গে পীড়িত করে।
সূর্য এখন মিচকি হেসে, প্রভাত আলোয় আরাম করে।
ধীর জলে এক নিবিড় শান্তি, নিস্পলকে দেখি তারে।
চল ঝিলের পাড়ে, চল ঝিলের পাড়ে।
পাড়ের ওই রঙিন ফুল, বারে বারে নজর কাঁড়ে।
সবুজ পাতা কোথায় গেলো, ফুলের মেলা উপছে পড়ে।
আর দেখো ওই- পানকৌড়ি ডুব দিচ্ছে, কী বাহারে।
মাছরাঙা ওই ছোঁ মারলো ময়ুরপঙ্খী বসন পড়ে।
ধীর বাতাসে জলের দেশে মাছের ক্রীড়া, বৃত্ত করে।
চল ঝিলের পাড়ে, চল ঝিলের পাড়ে।
আরাম, আবেশ, মিলে মিশে মনের মাঝে নৃত্য করে-
চল ঝিলের পাড়ে, চল ঝিলের পাড়ে।
--২৮.২.২০১৭- ল্যাব২০১/ভিআইটি-সন্ধ্যা ৭-৩০ টা--
রাজনৈতিক অভব্যতা সব সীমা ছাড়িয়েছে। সাধারণের নাগরিক নৈতিকতার জলাঞ্জলি।
এ কোন বাঙালি?
বাংলায় বাঙালি সুস্থ আছে কি?
অভব্য আচরণে দেখাচ্ছে ভেলকি!
এ বাঙালি অচেনা বড়,
অশিক্ষার মান চরমতর,
মণীষার দেশে অবক্ষয়, নীরব সাক্ষ্যী!
বাংলায় বাঙালি, বলুন সুস্থ আছে কি?
সাধারণ মানে বোঝে না বাঙালি?
এমন কি বোঝে না সময়- হেঁয়ালি,
এমন নির্বোধ নয় তো নয়,
শত সহস্র দুর্বিপাকে, এ সময়
অভব্য আচরণে দেখি মনুষ্যত্ব বলি।
সাধারণ মানে, সত্যি বোঝে না বাঙালি?
সুদীর্ঘ পরম্পরা, সৌজন্যের ইতিহাস,
ভুলছে যারা, তারা-ই বাঙালির ত্রাস।
হীন অশোভন আচরণ,
বাঙালির চরিত্র হনন।
সাবধান বাবু, বঙ্গ-অস্মিতার সর্বনাশ!
সুদীর্ঘ পরম্পরায় সৌজন্যের নব্য ইতিহাস।।
এখানেই এ লেখার ইতি টানছি। কারণ গতকাল এক অপূরণীয় বেদনাঘন ক্ষতি হয়ে গেছে আমাদের পরিবারে। আদরের মা, আমাদের ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে গেল, ২৮শে জুন, ২০২৬, রবিবার।
'মা আমার'
রাতভর যারা বসেছিল উৎকন্ঠায়, দেখতে এসেছিল মা'কে।
রাত ফুরালে, সকাল হতেই চলে গেল একে একে।
বেদনাঘন প্রহর পেরোনো অস্থির সম্ভাবনায়,
চলেছি ধীরে, দিবস আঁধারে, কোন সে সীমানায়!
জানা নেই পথ, তবু আছি পথে, দিশার সন্ধানে।
মায়ের জীবন সংকটে আজ, প্রয়াস তা নিবারণে।
মা আমার, ভাল আর নেই, এবারের মত এই।
বয়স অসুখ অসহায় মুখ, উদ্বেগ হাসপাতালেই।
অর্থ স্থাবর সম্পদ যত, নিবেদনে প্রিয়প্রাণ।
নাভিশ্বাস ক্ষণে ক্ষণে, যন্ত্রণার অভিযান।
পথ্যের ভার নেই নেপথ্যে আর, শুশ্রুষার মণিহার।
চিকিৎসার সার সবই অসার, অবসানে দেহভার।
অশ্রু সজল, স্মৃতি টলমল, শ্বাসের ঘোড়া ঝিমায়।
তবু বলে যায়, এ অবস্থায়, 'আয়, বাবু কাছে আয়'।
0 Comments