মহাশ্বেতা দেবী
এটা জানতে চাইলেন ঋত্বিক ত্রিপাঠী। উত্তর তো একটাই হয়, ''লেখা ছাড়া আর কিছু করতে শিখিনি, তাই লিখি।" অথচ লিখতে যখন শুরু করি, তখন জানতাম না পেশায় লেখকই হব।
অনেক রকম জীবিকার চেষ্টা করেছি একদা। এমন কি, জলপথে জাহাজে আমেরিকায় বাঁদর চালান দেবার প্রস্তাবও পেয়েছিলাম একদা। সে সব তো হোল না। বড়ই একরোখা আমি, বড়ই গোঁ আমার। শেষ অবধি, অনেক রকম বৃত্তি নিয়ে অনেক চেষ্টা করার পর বুঝলাম, নবারুণ যেহেতু বড়ই ছোট, এখনো বছর দুই ওকে সর্বদা দেখা দরকার। তখন লেখার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবলাম।
আমার প্রথম বই "ঝাঁসীর রাণী", নিউ এজ প্রকাশনী ছাপেন। ওরা নামী প্রকাশক। বিমল মিত্র, শঙ্কর, এ সব লেখকদের বই ছেপেছেন। বই প্রকাশ হোল, যে টাকা পেলাম, তাও কাজে লাগল।
তখনো নয়, তার বেশ কিছু কাল পরে অন্যান্য কাগজ ও পত্রিকায় লিখতে শুরু করি। কোনো দিনই বেস্ট সেলার যাকে বলে, তা ছিলাম না। আর, পেশায় আমি লেখক। কিন্তু লেখাই যখন একমাত্র পেশা হয়, তখন সব লেখা ভালো হতে পারে না। যাঁদের হয়, তাঁদের হয়। আমার বেলা তা হয়নি।
তবু সাধ্যমত লেখাই ধরে আছি। মানুষ আগের চেয়ে চলমান সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠল এবং ভোটের মাধ্যমে রাজ্য সরকারে একটা পরিবর্তন আনল, তারও সাক্ষী থাকলাম। দৈনিক কাগজেও তো অনেক লিখেছি, আজও লিখি।
শেষ কথাটাই সত্যি। লেখা ছাড়া কিছু করতে পারি না বলে লিখি। কয়টা লেখা বা পাঠযোগ্য হয়? বিচার করবেন পাঠকরা। পাঠকসমাজ যতদিন না মুখ ফেরাচ্ছেন, ততদিন আমি লিখেই যাব।
তবে খুব সত্যি কথাটা হোল, ছোটদের জন্যে লিখতে ইচ্ছে করে, যদি সময় পাই তো লিখব।
সেপ্টেম্বর ২০১২
(কেন লিখি বিশেষ সংখ্যা)
🍂
0 Comments