জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /পারমিতা রায়

গুচ্ছ কবিতা 
পারমিতা রায়

বর্ষার খেয়াল

টানা বৃষ্টি চলছে তো চলছেই। মাঝে মাঝে সূর্য মামা উঁকি ঝুঁকি মারছে।  যখন ছিল না বৃষ্টি তখন গরমে হয়েছে নাজেহাল। এখন গরম কম, বৃষ্টি এত বেশি যে সব কিছু ভেসে যাচ্ছে। দেখছি জলে একাকার কোথাও কোথাও বানভাসি মানুষ কাঁদছে যন্ত্রণায়। শহরগুলির চারিপাশের রাস্তাঘাট এবং অন্যান্য রাস্তাঘাট এয়ারপোর্ট সব জায়গায় শুধু জল আর জল। গ্রামে বন্যা, শহরের মানুষ জলে থৈ থৈ। কি করবে ভাবছে যন্ত্রণায়। অনেকেই দোষ দিচ্ছে আমাদের কলকাতার, এবং অন্যান্য শহরতলীর কর্পোরেশনকে! সেটা তো রয়েছেই রয়েছে কিন্তু জল যাবে কোথায়? খালবিল নদী নালা ভেসে একাকার। খুবই ভয়াবহ অবস্থা হয় গ্রামগুলিতে। তবুও শহরের মানুষের অনেকটাই রয়েছে সুবিধা। জল দু চার কিংবা পাঁচ ঘন্টা পরে নেমে যায়। গ্রামের মানুষ দিনের পর দিন অনেক সময় মাস ভর চলে নৌকায়।
অসহায় অবস্থা হয় দুর্দিনের দিনে এই বর্ষা বাদলের শিশুদের এবং সকল মানুষদের। আমার এটুকুই নিবেদন যে সকলে মিলে যদি এই বন্যা কবলিত মানুষদের দুঃসময়ে কিছুটা উপকার করতে পারি দূরে থেকেও। আসামে বন্যা কবলিত বহু মানুষদের কথা ভেবে এবং শিশুদের কথা ভেবে লিখলাম।

গ্রামের ছোট্ট ঘর

গ্রামের ছোট্ট ঘর তাতে টিনের চাল মাটির উঠান
পাশে দাঁড়ায় তাল নারকেল আর কলার গাছ।
কাদি কাদি কলা তাতে নারকেল গাছে নারকেল,
পুকুরের জলে ভেসে রয়েছে শালুক ফুল সাথে রয়েছে পাঁকে, গোলাপি উজ্জ্বল পদ্ম ফুল।
ভালো লাগে। দেখি। দেখতে হয়। 
বিকেল নামে পদ্ম পাতার ফাঁকে তখন যেন আঁধারের নীরবতা খেলা করে, চারিদিকে শূন্যতায় শাঁখের শব্দ বেজে ওঠে, শঙ্খধ্বনি পৌঁছায় কান অব্দি শুনতে বড় মিষ্টি লাগে, তাই তো মন হয় উদাসী, আনমনা, অফুরান আনন্দে আনন্দিত।

🍂

নাম : গোপাল ভাঁড়

তিনি ছিলেন নবাবের সভার প্রসিদ্ধ ভাঁড় 
বুদ্ধিতে তার জুড়ি মেলা ভার।
রসিকতায় তার সম নাই আর।
রসবোধ আর জ্ঞান দিয়ে করতেন হার। 
নাম তার গোপাল ভাঁড়
হাসির আড়ালে ছিল তার অপরিসীম ধার।
অপরাধ দেখলে সোজা কথায় দিতেন জবাব।
বুদ্ধি আর রসিকতার অনন্ত আধার।


দরজার সামনে জলন্ত প্রদীপ

দরজার সম্মুখে জ্বলন্ত প্রদীপ 
এনে দেয় ঘরে কোনে সুখ শান্তি।
সুখী গৃহ কোণের জন্য দরজার সম্মুখে প্রদীপের আলো বিতারিত করে শত্রুর শক্তিকে।
গৃহ কোণের সম্মুখে একটি ক্ষুদ্র প্রদীপ অন্ধকারে জ্বলে 
ধীরে স্বপ্নের মত বৃদ্ধি করে বিশ্বাস 
আনে গৃহে শান্তি নীরবে।
নিশির দরজার সম্মুখে আঁকা রঙ্গলি নকশাতে 
ফোটে মনের প্রার্থনা 
সাদা দাগের আঁকা রঙ্গলিতে বাধা পড়ে ভালোবাসা।
ঘর ভরে ওঠে স্নিগ্ধতায় 
প্রদীপের আলো বলে ভয় কিসের 
তুমি পথ চলো নির্ভয়ে 
অন্ধকারও সরে দাঁড়ায় 
যখন মন থাকে আলোর টানে 
এসো সকলে 
এই আলোয় মন ভরি 
ঘুচিয়ে দিই সব ক্লেদ, গ্লানি, 
আর ভালোবাসায় গোড়ি নতুন পথ 
হোক প্রতিদিন উৎসবের রামধনু।


আলোকময় সময়

গভীর নীল 
সমুদ্রের অগুনতি 
ভাঙা ঢেউ, ডাকে সময়কে
বলে ভোরের আলো আয়, 
সুন্দর উজ্জ্বল, 
আলো আয়।
রাতের বুকেও একফোঁটা 
আশা জমে থাকে।
উন্মুক্ত এই হাত দুইখানি ক্লান্তিকে কুড়ায়
 দুই পায়ে ভোরের আলো যে পড়ে না, 
রাতের আধার যেন কাটে না,
তবু বুকের ভেতর একটা উজ্জ্বল সুন্দর আলোকময় প্রদীপ জ্বলে।
এ অমূল্য সময় যে সবসময় সবার ভালো যায় না,
তবুও রাতের অন্ধকার 
সময় ফুরোলে আবার 
সুন্দর আলো আসে।

Post a Comment

0 Comments