জ্বলদর্চি

তিনটি কবিতা /নবকুমার মাইতি

তিনটি কবিতা 
নবকুমার মাইতি 

সুরা নারী সিংহাসন 


সময়ের রথ চক্র তলে মানব বিশ্বে 
পরিদৃশ্যমান মানবতার নিরন্তর অবক্ষয়,,,,,
চির আতঙ্কিত এ গ্রহের জীব 
সমুদ্রের ভয়াল গর্জন, সীমান্ত সন্ত্রাস 
রাত্রির  প্রহর ঘোষণা করে চলে এক পাল শিবা 
আকাশে দু 'একটা তারা চোখে পড়ে হয়তোবা 
স্তব্ধ রাত্রির নিঝুম নৈঃশব্দে ভেসে আসে টুং টাঙ শব্দ 
গলির মোড়ে শুঁড়িখানা থেকে পারফিউমের উগ্র গন্ধ 
তথাকথিত সম্ভ্রান্ত মানুষের ঢুলু ঢুলু চোখে 
আনা গোনা, চটুল চাহনিতে একটা রহস্য মেদুরতা 

ব্রজেশ্বর বাবু, সমাজ সেবক, বহু পদে অলঙ্কৃত গুনাতিত 
ব্যক্তি, ডজন খানেক উপাধি, পোশাকের চমৎকারিত্ব 
আকৃষ্টকর,চির আসক্ত -সুরা নারী সিংহাসনে-
রক্তে মাতন লাগে,রাজ রক্তের ধারা,,,,,
খুন জখম রাহাজানি, নিতান্তই হাতের ময়লা 
তার জীবন অভিধানে নেই শব্দটা বিরল দৃষ্ট
সাকরেদ, পাইক পেয়াদা, মন্ত্রী সানতরী,কে নেই,,,,

কলায় কলায় রাত বাড়ে, ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক 
ডুবে যায় মাঘী পূর্ণিমার চাঁদ,নাম জাদা
বাঈজীর চিকন শরীরে ক্রমশঃ তুফান ওঠে 
চটুল হিন্দি গজল,"রাতকা ম্যায়ফিল ওসমানকা চলতি হ্যায়"
বেহালার ছড়ে মাতন লাগে, সুরের মায়াবী জাদু ,,,,

এ দিকে কখন রাত ভোর হয়ে যায়, লোকটা জানল ইনা
যখন চৈতন্য ফেরে, দেখে সব শেষ-সুরা নারী সিংহাসন 
ম্যায়ফিল শেষে পড়ে আছে কয়েকটি বিলিতি মদের বোতল 

আর সম্ভ্রান্ত ব্রজেশ্বর বাবুর নিরাবরণ দেহটা!

🍂

তোমার স্মৃতির মাঝে 

তোমার কিছু না যায় আসে 
আমার বড্ড হৃদয় ব্যথা 
শুনবে তুমি গহিন গাঙের 
খরস্রোতা সেই বারতা

উড়ছে পাখি আকাশ নীলে
ডানায় ভরা মাটির মায়া 
মুক্তি সুখের বার্তা ছড়ায় 
রৌদ্র নীলে আলোর ছায়া

সেই যে কবে ঝড়ের রাতে 
তোমার আমার আলাপ কথা 
আজ ও আমার হৃদয় বীণায়
তোমার স্মৃতির আসন পাতা 

কাতর স্বরে ভিক্ষা মাগি
বন্ধু ভেবে হাতটা ধরো 
লজ্জা শরম সব ছেড়েছি 
অনন্ত কাল আপন করো

ক্ষনিকের এই জীবন জুড়ে 
মায়া মোহ যা কিছু সব 
থাকনা তোলা দেরাজ ভরে 
রাখি বাঁধার আজ উৎসব

ব্যর্থতার এই পান্থ শালায় 
বিচ্ছেদ বীন সদাই বাজে 
জীবন -মৃত্যু যাহাই আসুক 
রইবো তোমার স্মৃতির মাঝে


তুমি চলে যাবে 

এই বিজনে একা ফেলে 
তুমি চলে যাবে?
যেখানে গোধূলি বেলায় ও পারে সূর্য ডুবে যায় 
চরাচরে রাত নামে দিগন্ত রেখায়!

সকলেই চলে যায় বুঝি,এক সময় চলে যেতে হয় 
পৃথিবীর অমোঘ টানে, কোনো এক অনিবার্যতায়!

তুমি চলে যাবে?
জীবনের দেরাজে সঞ্চিত সকল সুকৃতি ও প্রত্যয় 
অনন্ত দিবস রাত্রির নিগূঢ় প্রেম ভালোবাসা 
জীবন খাতায় লেখা মহার্ঘ যত অকথিত অধ্যায় 
সেকি নিতান্তই মূল্যহীন, স্মৃতির জঞ্জাল?

তুমি চলে যাবে?
অনন্ত অভিসার, যাত্রা পথ বড়োই পিচ্ছিল 
দু'চোখে প্লাবন ডেকে যায়,আলোকলতা 
ভুলে যাবে অতীতের সব স্মৃতি স্নেহ মমতা 
স্নিগ্ধ চাঁদের আলোয় মুগ্ধণীল বিনিদ্র যাপন 
স্বপ্নিল কত বানীময় কবিতার চোখে ঝরে জল 
তবে তাই হোক,এ জীবন অশ্রু ধারাপাতে 
তুমি হ ও চির আয়ুসমতি, অনিন্দ্য সুন্দর লোকে হোক সে বসতি 
আমি রব স্মৃতির কঙ্কাল, বুকে নিয়ে শত চিন্তা জাল 
টুপ টুপ ঝরা পাতা সম, প্রতি পলে পলে 
শাশ্বত অভিলাস যত মুছে যাক প্রপঞ্চ মায়ায় 
জীবনের সব আশা সব অভিপ্রায়,,,,,

Post a Comment

0 Comments