সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
চলতি কথায় বলে “ যতদিন বাঁচি, ততদিন শিখি “ অর্থাৎ মানুষের জীবনে শেখার অন্ত নেই। আর শিখতে গেলেই প্রয়োজন হয় গুরুমশাই তথা শিক্ষকের। সেই হিসেবে অগণিত সংখ্যক শিক্ষক আমাদের নবীন শিশিক্ষু মনটাকে ঘিরে থাকেন জীবনের প্রায় শুরু থেকে অন্তিম পর্বটি পর্যন্ত। আমাদের প্রতিদিনের শিক্ষার্থী জীবন পরিপূর্ণতা পায় এঁদের নিবিড় সাহচর্যে কখনো সরবে আবার কখনও বা অখণ্ড নীরবতায়। আবার কোনো ঘটনা থেকেও আমরা অনেক কিছু শিখি। সেই হিসেবে ওই ঘটনাই হয়ে ওঠে শিক্ষকতার দাবিদার। আসলে শিক্ষা মানে তো কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, এর বাইরেও ছড়িয়ে থাকা জীবন থেকে আমরা শিখছি আরো অনেক কিছু। এঁদের সবাইকে এক ফ্রেমে বাঁধতে চাইলে দেখা যাবে প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে থাকা শিক্ষক তথা শিক্ষাগুরুর তুলনায় এইসব শিক্ষকদের সংখ্যা অনেকটাই ছাপিয়ে যাচ্ছে। আজকের এই পরম মুহূর্তে দুই পক্ষের কয়েকজন শিক্ষকের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
শিক্ষার্থী জীবনের সবথেকে উজ্জ্বল সময়টা আমাদের কাটে স্কুলের চৌহদ্দিতে – সে এক আশ্চর্য মায়াঘন পরিবেশ। সাধারণভাবে আমরা বলে থাকি স্কুল হলো আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই দ্বিতীয় ‘ঘর দ্যা সেকেন্ড হোম’। আমি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান বলে মনে করি, কেননা আমার প্রথাগত কেতাবি শিক্ষার সূচনা হয়েছিল এমনই এক স্কুলে যেখানে কেউই সেই অর্থে আমাদের শিক্ষক বা শিক্ষিকা ছিলেন না, গোটা ব্যবস্থাপনাটাই ছিল আমাদের শিক্ষক। আমরা আমাদের মাস্টারমশাই বা দিদিমণিদের কখনোই অমন ভারিক্কি নামে ডাকিনি, তাঁরা ছিলেন সবার দাদা ও দিদি। সম্পর্কের তারটা এমন সহজিয়া সুরে বাঁধা ছিল বলেই হয়তো আমাদের শেখানো আর শেখা - দুটোই হয়ে উঠেছিল পরমানন্দময়। আমরা কেউই অনেক অনেক নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী হয়ে ওঠার সাধনায় নিজেদের ব্যস্ত রাখতে চাইনি, আমাদের স্কুল চেয়েছিল আমরা সবাই যেন ভালোবাসায় ভরপুর ভালোমানুষ হয়ে উঠতে পারি। আমরা সেই সাধনাতেই নিমগ্ন ছিলাম। আজ এতোকাল পরেও চেতনে আর অবচেতনে সেই শিক্ষার ধারাকেই অনুসরণের চেষ্টা করে চলেছি, সজ্ঞানে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
পরিবারের কর্তা মশাইয়ের মতো একটা স্কুলের সবকিছু দেখভালের আর তদারকির দায়িত্বে থাকেন প্রধানশিক্ষক বা হেড মাস্টারমশাই। আমাদের পেল্লাই স্কুল বাড়ি ছিলোনা, সমস্ত সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের আয়োজন ছিলোনা, খেলার মাঠ ছিলোনা। সে সব নিয়ে অবশ্য আমাদের ক্ষোভ বিক্ষোভ ছিলোনা কেননা আমাদের ছিলেন এক আশ্চর্য হেডমাস্টার মশাই যিনি যথার্থই ছিলেন আমাদের আশ্চর্য শিক্ষা যাপনের যথার্থ রূপকার ,আমাদের ফ্রেন্ড,ফিলোজফার এন্ড গাইড। তিনি আমাদের যতটা শাসন করেছেন, সোহাগ করেছেন তার থেকেও ঢের ঢের বেশি। বিশালদেহী ঐ মানুষটির ভেতরে যে কতো বড়ো একটা ভালোবাসার মধুময় রসভাণ্ড জমা ছিল তা বোধহয় কেবলমাত্র তাঁর নিবিড় সান্নিধ্যে যাঁরা এসেছে তাঁরা সবাই জানে। কামারশালায় যেমন লোহাকে গনগনে আগুনে গরম করে তারপর নানান আকারে তাকে গড়েপিটে নেন কর্মকার ভাই, তিনিও অগ্নিহোত্রীর মতো বিদ্যালয় নামক হোমানলে আমাদের গরম করে তারপর নানান ছাঁদে গড়ে তুলেছিলেন। এমন একজন মানুষের চেলা হয়ে আমরা সত্যি সত্যিই বর্তে গেছি।
একটি পরিবার কেবলমাত্র একজন মানুষের করিশ্মার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে এমনটাও নয়। একটি সফল পরিবারের হলমার্ক হলো সবাই মিলেমিশে থাকা, একসঙ্গে চলা,এক ভাবনায় মজে থাকার ওপর। আমাদের দাদা দিদিরা ঠিক তেমনটাই ছিলেন।সত্যি কথা বলতে কি , তাঁরা আমাদের পড়িয়েছিলেন কম বরং শিখিয়েছিলেন অনেক অনেক বেশি। আসলে বইয়ের বাঁধা শব্দ গণ্ডির বাইরে আমাদের টেনে আনতে তাঁরা সর্বক্ষণ সচেষ্ট ছিলেন, আর সেই কাজে একশো শতাংশ সফল ছিলেন তাঁরা। একেবারে সরল অনাড়ম্বর জীবনে অভ্যস্ত সেই মানুষগুলোকে প্রতিদিন দেখতে দেখতে আমরাও তেমনি এক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম। এই অবসরে কয়েকজনের কথা না বললেই নয়। শঙ্কর দা ক্লাসে এসে ছড়া আওরাতে শুরু করলেই আমরা টের পেতাম দাদা আজ দিলখুশ মেজাজে আছেন, গৌরী দির কাছে কতকিছু যে শিখেছি তা লিখতে বসলে রাত কাবার হবে, পূরবী দির রাশভারী চেহারার আড়ালে ছিল রবীন্দ্রনাথের গানের অফুরান ফল্গুধারা। ‘দে তুলে দে পাল তুলে’ দিয়ে আমরা ঝড়ের সাগর পাড়ি দেবার সাহস সঞ্চয় করেছিলাম, নিভা দির সেলাইয়ের ক্লাস আমাদের ভাবী জীবনের এক অন্যরকম ভিত গড়ে দিয়েছিল। দীপক দা, সমরজিৎ দা, প্রবীর দা, পূর্ণিমা দি এঁরা সকলেই আজও আমাদের হৃদয় জুড়ে বসত করে চলেছেন। এদের কাছে কী পড়েছি সেসব কথা বেমালুম ভুলে গেলেও,কী শিখেছি তা আজও বিস্মৃত হইনি। শেখার মজা যে এখানেই। আমাদের অভিভাবকরা এক তাল নরম মাটি এনে সঁপে দিয়েছিলেন স্কুলের আঙিনায়। নিপুণ কারিগরের মতো আমাদের গড়ে তুলেছিলেন আমাদের দাদা দিদিরা। সেকালে স্কুলের চাওয়া পাওয়ার সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকদের প্রত্যাশার স্তরে কোনো ফারাক ছিলোনা, আর তাই স্কুল হয়ে উঠেছিলো পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তোলার এক অতুলনীয় প্রয়োগশালা। দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়া আমাদের অসংখ্য ছাত্ররা আজ হয়ে উঠেছে আমাদের স্পর্ধিত অভিজ্ঞান।
হেডমাস্টার মশাই প্রয়াত শ্রী মিহির সেনগুপ্তপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে আমাকে যে সকল মানুষ জীবনের নানা পাঠ শিখিয়েছেন তাঁদের তালিকাটিও নেহাত কম দীর্ঘ নয়। আজ এই অবসরে এমন কয়েকজনের কথা বলি। সবে শীতের আনাগোনার আভাস মিলেছে। বাড়ির লাগোয়া বাগান সাফসুতরো করার জন্য এসে হাজির হয়েছে রবিউল। নিড়ানি দিয়ে আগাছা উপড়ে ফেলতে গিয়ে ইঁটের খাঁজে সে খুঁজে পায় ছোট্ট এক সাপকে। সে বোধহয় আগাম শীতঘুমে যাবার প্রস্তুতি নিতে চলেছে। খানিক তফাতে দাঁড়িয়ে আমার তো তখন আত্মারাম খাঁচা ছাড়া দশা! আমি ভয় পেয়েছি বুঝতে পেরে রবিউল বলে ওঠে, “ওকে মারতে আমি পাইরবো না। ওকে তো আমি এই দুনিয়ায় আনিনি। যিনি এনেছেন তিনিই ওকে সামলে নেবেন। মাঝখান থেকে আমি পাপের ভাগীদার হই কেন? এদের প্রতিও মনে ভালোবাসা থাকতে হবে।নইলে যে খোদার দুনিয়া অচল হয়ে যাবে।” সেদিন এক অসাধারণ সহনশীলতার শিক্ষা রবিউলের কাছ থেকে পেয়েছিলাম। খুব সহজ ছিল সেই শিক্ষা, কিন্তু তা ছিল গভীর ব্যঞ্জনাময়।
আরেক জন মানুষের কথা বলে আজ শেষ করবো। বিজ্ঞান ও পরিবেশ নিয়ে একটি পত্রিকা প্রকাশ করা হবে। বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি হাতে তুলে দিয়ে আমাকে বলা হলো ওগুলোকে প্রেসে দিয়ে কিছু প্রুফ দেখে আসতে। তখনও ছাপাখানায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি।প্রেসে গিয়ে দেখি কাঠের ছোট ছোট চৌখুপ্পি ঘরে অক্ষরের পশরা নিয়ে এক বৃদ্ধ মানুষ বসে বসে সীসার তৈরি অক্ষরগুলোকে একটির পরএকটি সাজিয়ে
তৈরি করছেন এক একটি ফর্মা। সেই বৃদ্ধ মানুষটি, নিকুঞ্জ বাবু,আমাকে হাতে ধরে শিখিয়েছিলেন প্রুফ দেখার নিয়ম কানুন, এই বিদ্যা তো কোনো স্কুল কলেজে শেখা বিদ্যা নয়। চলতি জীবনের শিক্ষা।
হেভ মাস্টারমশাই শ্রী মিহির সেনগুপ্ত আমাদের শিখিয়েছিলেন - মনটাকে ঝুঁকিয়ে রাখতে, তাতে প্রাপ্তির ঝুলি নাকি ভরে ওঠে নানান রত্নরাজির বৈভবে। সেভাবেই যে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এলাম। আপনাদের সকলকে প্রণাম।
50 Comments
কমেন্ট করা যাচ্ছে না।
ReplyDeleteOsadharon lekha. Porte porte mone hocchilo sei jano school er dingulo te fire gachi.
ReplyDeleteযখন সত্যি সত্যিই স্কুলের দিনগুলোয় আটকে থাকি তখন কিন্তু দিনগুলোর মজা এভাবে টের পাইনা আমরা। টের পেলে জীবনের গল্পটাই হয়তো অন্য রকম হতো।
Deleteআমরা পেয়েছিলাম সেই ভাবধারার সূত্র বহনকারী আপনাদেরকে,যাদের চিন্তা ও সৃজনশীলতা আমাদের জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
ReplyDeleteএটাতো এক উজ্জ্বল পরম্পরা। যে ধারায় আমরা অবগাহন করেছি সেই ধারার গরিমা বহন করাই ছিল পরবর্তীয়দের জীবন সাধনা। ওই সময়টা যে গভীর নির্মিতির কাল ছিল। তাকে এড়িয়ে যাওয়া খুব সহজ ছিলোনা।
Deleteস্কুল জীবনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক না থাকলে এমন লেখা সম্ভব নয়। লেখককে প্রণাম।
ReplyDeleteএই লেখাটা একদিন লিখতে হতে পারে ভেবে ওই সময়ের সবকিছুকে নিবিড় সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে ছিলুম যে! এও এক ম্যাজিক!
Deleteখুব সুন্দর, লেখাটা। ❤️
ReplyDeleteআর আপনারা না, একটা অ্যালার্ম ঘড়ির মতো আমার জীবনে আছেন। যখনই মনে হয়, “আমি তো অনেক কিছু জানি, অমুক আর কতটাই বা জানে!”—ঠিক তখনই সেই ঘড়িটা বেজে ওঠে। মনে করিয়ে দেয়, শেখার আসলে কোনো শেষ নেই।
আশীর্বাদ করবেন, যেন এই শিক্ষাগুলো কখনও ভুলে না যাই। আর যদি কখনও ভুলেও যাই, তাহলে যেন ঠিক আত্মশ্রাঘার মুহূর্তে সেগুলো মনে পড়ে যায়। কারণ, তা না হলে যতই উপরে উঠি না কেন, কোনো না কোনো দিন নিজেকে দেখে নিজেরই দুঃখ হবে।
শুভ শিক্ষক দিবস.. 🙏🏻❤️
লেখার থেকেও সুন্দর হলো সেই সময়ের বাস্তবতা। আজ যাকে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে তা কিন্তু একসময় এভাবেই ঘটেছে। তখন এটা টেরই হয়তো পাইনি। নিজের প্রাত্যহিক জীবনে যদি এই চর্যায় মেতে থাকতে পারো তাহলে সবকিছুই খুব সুন্দর হবে, হবেই। ভালো থেকো।
DeleteBah. Khoob sundor lekha. Khoob valo laglo.
ReplyDeleteDarun
ReplyDeleteDarun lekha
ReplyDeleteসোমনাথদা, শিক্ষক দিবসের প্রণাম।
ReplyDeleteলেখাটি অনবদ্য। ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে কত বড় শিক্ষা! বিশেষ করে রবিউলের গল্পটি। সহনশীলতার এই খরায় এমন আরও অনেক রোজকার মহামানবের বড় প্রয়োজন আমাদের।
“কী পড়েছি মনে নেই, কিন্তু কী শিখেছি তার পুরোটাই মনে আছে।” কী অসাধারণ মনে করিয়ে দেওয়া!
আমাদের মূল্যবোধের ভিত, কৌতূহল আর জ্ঞানের কাঠামো আপনারাই পরম যত্নে তৈরি করেছেন। খুলে দিয়েছেন মনের জানলা।
বরাবরের মতোই কৃতজ্ঞ রইলাম। 🙏🏽
সকালে লেখাটা তোমাকে পাঠানোর সময়েই মনে হচ্ছিল যে দূর পরবাসে থাকায় মনটাও বোধহয় প্রবাসী হয়ে উঠেছে। এখন তোমার লেখাটা পড়ে মনে হচ্ছে যেখানেই থাকোনা কেন মনটা সেই আশ্চর্য সময়ের বৃত্তেই আটকে আছে -- ঐ খানেতে হৃদয় বুঝি গেছে চুরি। আমাদের নির্মিতিতে রবিউল বা নিকুঞ্জ বাবুদেরও খুব বড়ো ভূমিকা থাকে। আমরা টেরই পাইনা । পড়ানোর থেকে শেখানো অনেক অনেক কঠিন। আমাদের শেখাটাই চিরকেলে সম্পদ হয়ে আজও আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। ভালো থেকো ভাই।
DeleteThe standard of a school is not determined by its buildings, but by the character of its teachers and students. Head Master mosai er ekta kotha khub mone pore, matha uchu kore bancho, manus hoye bancho. Tai setar chestai kore cholechi ekhono.
ReplyDeleteমাথা উঁচিয়ে চলতে পারা এক বিরল বৈশিষ্ট্য। যদি সত্যি সত্যিই মনে হয় যে এই শিক্ষার সূচনা হয়েছিল তোমাদের দুখিনী মায়ের স্কুল ঘরের অপরিসর চতুর্সীমায় তাহলে জানবো আমাদের শিক্ষা সার্থক হয়েছে। ভালো থেকো।
Deleteখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা। সত্যি হেডমাস্টারমশাই এর মতো মানুষ কে পেয়ে আমরা ধন্য হয়েছি।।। আমার মনে হয় যতই আমাদের ছানারা ছোটবড় নামিদামি স্কুল এ পড়ুক, আমাদের মতো আনন্দ পাবে কিনা সন্দেহ।।।
ReplyDeleteশুভ শিক্ষক দিবস দাদা। ভালো থাকবেন ।।
দাদাগিরির দায়িত্ব এখনও পালন করে যেতে হচ্ছে। পিরীতির আঠা নাকি লাগলে পরে ছাড়েনা। আমাদেরও তেমনি দশা। প্রত্যেক সময়ের আলাদা আলাদা চরিত্র আছে। সুতরাং প্রত্যেকেই নিজের মতো করে মজা খুঁজে নেবে।আর আমরাও কম নামী ছিলাম না। আত্মবিশ্বাস সবথেকে বড়ো সম্পদ। ভালো থেকো সকলেই
ReplyDeleteলেখাটি পড়ে সকল শিক্ষক দের উদ্দেশ্যে মাথা অবনত হয়ে গেল। শুধুমাত্র পুঁথি গত শিক্ষাই নয়,প্রকৃত জীবনবোধের শিক্ষা তারা আমাদের দিয়ে গেছেন।আজ এই পবিত্র দিনে তাদের আরো গভীর ভাবে আত্মস্থ করাই হবে আমাদের গুরুদক্ষিণা।
ReplyDeleteস্কুল বা বইয়ের ছাপানো কথার বাইরে যে বৃহত্তর জীবন পরিসর সুবিস্তৃত রয়েছে সেখান থেকেও আমরা অনেক অনেক নতুন শিক্ষা পাই যা বাস্তবের শিক্ষা। সেই শিক্ষার মূল্য নেহাত কম নয়।
DeleteValo laglo pore, onek chena sikkhok der nam pelam, apnio valo thakben Somnath da
ReplyDeleteপড়লে যাতে ভালো লাগে সেভাবেই তো লেখা। ভালো না লেগে উপায় নেই!
Deleteআপনি ভাগ্যবান এমন একটি বিদ্যালয়ের পেয়েছিলেন ।এখন এই ধরনের বিদ্যালয়,বা এই ধরনের প্রচেষ্টা সমাজের দৃষ্টিতে নিতান্তই অকাজের।
ReplyDeleteএমনকি আমরা যারা খানিকটা এরকম বিদ্যালয়ে পড়েছি তারাও কি নিজেদের সন্তান সন্ততিদের জন্য এমন বিদ্যালয় বেছে নেওয়ার সাহস দেখাতে পেরেছি?
লেখার প্রতিটি লাইনই বাস্তব সত্য। এই কারণেই যে শিক্ষা তো শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই হয় না, জীবনে চলার পথে যে- কোনো শিক্ষা লাভই এবং যার কাছ থেকে আমরা সেই শিক্ষাটা পাই, তিনিই আমাদের শিক্ষক হয়ে থাকেন, আমাদের জীবনে।
ReplyDeleteআপনি আমার জীবনে পুঁথিগত শিক্ষা ছাড়াও জীবনে চলার পথের শিক্ষাও লাভ করেছি।
তাই শিক্ষক দিবস বলে শুধু নয়, আজীবন আমার শ্রদ্ধা থাকবে শ্রদ্ধাবনতচিত্তে প্রতিটি দিনেই। 🙏
ধন্যবাদ। ভালো লাগলো মতামত। বইয়ের বাইরেও ছড়িয়ে থাকা জীবনের শিক্ষা অনেক অনেক মূল্যবান ও কার্যকর। নিকুঞ্জ বাবু ও রবিউল দুটি প্রতীক চরিত্র।
Deleteআমাদের স্কুলের দুলালী মাসি, রঘুনাথ দা, দেবরাজ দা, বাসনা দি এদের কাছে আমরা যে কতটা ঋণী তা বলে শেষ করা যাবে না। অথচ এঁরা কেউই আমাদের কেতাবি শিক্ষায় শিক্ষিত করেন নি। অথচ নানান ভাবে তাঁরা শিখিয়ে গেছেন তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে। আমি তো এখনও এমন সব মানুষদের কাছ থেকে শিখে যাই। আমাদের ঘিরে থাকা মানুষেরা আমাদের পড়িয়েছেন কম, শিখিয়েছেন অনেক বেশি। সেই শিক্ষার জোরেই তো করেকম্মে খাচ্ছি!!!
Was lucky to have passed out of the same school and was taught by the same teachers. Only difference being that the writer himself was one of my teachers! My school education, starting from the primary, just couldn't have been better! I have no hesitation in saying that these teachers were the best gift that one could expect in his formative years. We are forever grateful to those wonderful ladies and gentlemen to turn us into what we are today. Their teachings made my life so very meaningful and, yes, wonderful! Grateful, forever, for showing me the world 🌎
ReplyDeleteআমাদের শাস্ত্রে বলে ' ফলেন পরিচয়তে বৃক্ষ ' আর একটা বিদ্যালয়ের ,তার অন্তর্লীন যাপনের বৈভব অনুমান করা যায় তার ছাত্রদের দেখে। আমাদের ঢাক ঢোল পিটিয়ে বলতে হয়নি, আমাদের ঢাক তোমাদের গরিমায় আপনা আপনিই বোল তুলেছে। সেই বোলের রেশ আজও বহমান। পরিবেশ পরিস্থিতি হয়তো খানিকটা সংকুচিত করেছে তবে তার যে একেবারে বিলীন হয়ে যায় নি। আমাদের সুর অনেক অনেক উচ্চগ্রামে বাঁধা হয়েছিল। তাই ছিন্ন বীণার ঝঙ্কার আজও অনুরণিত হয়। ভালো থেকো।বিশ্বাসে স্থিতধী থেকো।
Deleteশিক্ষক দিবসে আমার জীবনের সকল শিক্ষক কে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই। আমাদের সকল শিক্ষাগুরু যা যেঅসীম স্নেহ ও ধৈর্য ভালোবাসা দিয়ে জীবনের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন তাকে প্রতিপদে পরবর্তী কালে অনুভূত হয়েছে। মানুষ গড়ার সেই সকল কারিগর দের অনেক শ্রদ্ধা নাবেদন করছি।
ReplyDeleteএই বিশ্বাসে অটুট থাকলে নিজের প্রতি নিজের ভালোবাসা তৈরি হয়। হেডমাস্টার মশাই মানুষ গড়তে চেয়েছিলেন। সেই চাওয়া যে নিছক চাওয়া ছিলোনা তা আজ তোমাদের দেখেই ঠাহর করতে পারি। ভালো থেকো সবাই।
ReplyDeleteকোন কিছু শিখতে গেলে মনটাকে খালি করে রাখা প্রয়োজন... ফাঁকা কলসিতে জল ধরা এবং ভরে রাখা সহজ। কিন্তু এখন আমাদের মনগুলো আগে থেকেই আশা, আকাঙ্খা, চাহিদা, প্রত্যাশা দিয়েই পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে জ্ঞানের কলসি ভর্তি করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে.... যিনি শিখছেন আর যিনি শেখাচ্ছেন দুজনের কাছেই।একতাল মাটি নিয়ে শিক্ষককে দিলে তিনি যা গড়ে দেবেন, তা অভিভাবকদের পছন্দ হবে তো!!! মাপ মতো অর্ডারি চাহিদায় মূর্তি গড়া হয়ত সম্ভব কিন্তু তা ভাস্কর্য হবে না।
ReplyDeleteসোমনাথদার লেখাটা কিছু মুহূর্তের জন্য নিয়ে এলো ছোটবেলার বসন্তের হাওয়া। জীবনের ম্যারাথনের মাঝে যেন একটুখানি informal drinks break।
ReplyDeleteমুহূর্তেই চলে গেলাম ক্লাস ফাইভে—একজন চোখ পাকিয়ে বললেন, “কেন কিশোর ভারতীতে ভর্তি হলে, কী আছে এখানে?”
সেই উত্তর খুঁজেই কেটে গেল পরের সাতটা বছর। তবে উত্তর পাইনি—হয়তো খুঁজতে চাইওনি আর।
কিছু প্রশ্ন উত্তর দেওয়ার জন্য নয়, শুধু স্মৃতিগুলোকে জ্বালিয়ে নেওয়ার জন্য।
যেখানেই যাই না কেন, এখনও আমার মধ্যে থেকে গেছে একফালি স্কুল—তার গন্ধ, ইউনিফর্ম আর প্রেয়ার।
“আবার যদি ফিরে যেতে পারতাম সেই দিনগুলোতে, হয়তো খুব ভালো হতো”—এই ভেবেই ডুব দিলাম নিজের কাজে। সঙ্গে একটা দীর্ঘশ্বাস, আর একটু ঝাপসা দৃষ্টি।
ভালো থাকবেন দাদা-দিদিরা।
ভালো থেকো, কিশোর ভারতী! ❤️
এতো ফাঁদ পেতে পাখি ধরা হয়ে গেলো স্যান্ডি ! ভাগ্যিস জ্বলদর্চির পাতায় লেখাটা ছাপা হয়েছে লেখাটা! তার টানেই পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সেই পুরনো ছায়ার মায়ায় তোমাদের ঘরে ফেরা। সশরীরে সেই দিনগুলোতে না ফিরলেও নিত্য মানসভ্রমণে কোনো বাধা নেই। আমি আছি তো সময়ের যোগসূত্র হয়ে। বিদেশ বিভুঁইয়ে সেই উষ্ণ আবেগঘন দিনগুলোর স্মৃতি ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখবে। আমরা সবাই মিলে এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেছিলাম। এই কথাটা মনে রেখো। ভালো থেকো সবাই। বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দিও।
ReplyDeleteঅসাধারণ লেখা! অনন্য স্মৃতিচারণ। প্রত্যেকটি শব্দ যেন আমাকে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিল ক্লাসরুমের ভিতরে, সেখানে একটি বেঞ্চে বসে আছি আমিও। শিক্ষক দিবসে এর চেয়ে ভালো শ্রদ্ধাজ্ঞাপন আর কিছু হয় না।
ReplyDeleteনিজের স্কুল সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা থাকাটা খুব জরুরি। একটা লেখা তোমাদের মধ্যে যদি সেই পুরনো ভালোলাগাটাকে ফিরিয়ে দেয় তাহলে এর থেকে খুশির খবর আর কি হতে পারে? ভালো থেকো।
Deleteসত্যি বলতে আমার ছেলের সাথে সাথে কবে যেন আমিও কিশোর ভারতীর সাথে আত্মিক একটা সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছি , খুব আফশোষ হয় ঋষি তুল্য ঐ মানুষটির সান্নিধ্যে আরো আগে কেন আসতে পারিনি, বসিরহাট ছেড়ে দমদমে আসার উদ্দেশ্যই ছিলো কিশোর ভারতীতে ছেলেকে ভর্তি কিন্তু হেডমাষ্টারমশাইকে দেখে ওনার সাথে কথা বলে মনে হয়েছিলো এই পরিবেশটাই খুঁজছিলাম ছেলের বড় হয়ে ওঠার জন্য,তারপর আসতে আসতে আপনাদের পেলাম ও সমৃদ্ধ হলাম,আর আপনার সান্নিধ্যে প্রতিদিনই সমৃদ্ধ হচ্ছি। বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র ,নানান ভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র,এই পৃথিবীর বিরাট খাতায় পাঠ্য যেসব পাতায় ,শিখছি সেসব কৌতুহলে নেই দ্বিধা লেশমাত্র । হেডমাস্টার মশাইকে ও অন্য সকল শিক্ষককে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই। আপনি আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন।
ReplyDeleteধন্যবাদ দিদি। একেবারে নিজের মনকথা তুলে ধরেছেন। অভিভাবকদের সহযোগিতা না পাওয়া গেলে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুলে ফলে পল্লবিত হতে পারে না। এই প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাস ও নির্ভরতার ভিতটা এতোটা জোরালো ছিল বলেই মাত্র নয় জনকে নিয়ে গড়ে ওঠা একটা বিদ্যালয় এতোটা পথ পাড়ি দিয়ে আসতে পেরেছে। এই সহাবস্থানের ভাবনাকে প্রসারিত করতে হবে আগামীদিনেও। প্রার্থনা করবেন কিশোর ভারতী যেন সেই সাধনায় নিরলস থাকতে পড়ে। ভালো থাকবেন সবাই।
Deleteসেই সব বিরল শিক্ষকদের প্রণাম।
ReplyDeleteঅসাধারণ স্মৃতি তর্পণ। চোখের সামনে গোটা একটা সময় ছবির মতো ভেসে উঠলো। স্কুলের পাশাপাশি আরও দুই শিক্ষকের সাথে আলাপ করে আরও ভালো লাগছে। এমন লেখা বারবার মন টানে।
ReplyDeleteসোহম! আপনি কি একজন কিশোরভারতীয় ? আমি অবশ্য স্মৃতি হাতড়াচ্ছি আপনার নামটাকে নিয়ে। জানাবেন। শিক্ষা, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - এই কথাগুলোকে একটু বড়ো ক্যানভাসে ভাবলে ভাবনার জগৎ অনেক সুবিস্তৃত হয়। আমরা সে ভাবেই শিখেছিলাম ও পরবর্তীতে শিখিয়েছিলাম। ভালো থাকবেন।
ReplyDeleteশিক্ষক দিবসে র একটি বিশেষ দিনে এক ছাত্রের শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণাঞ্জলী আমাদের সবার ই মনের কথা গুলো কে তুলে ধরেছে। লেখাটা পড়তে পড়তে শিক্ষারম্ভের সেই দিনগুলো স্পষ্ট হয়ে ভেসে উঠলো।প্রতিটি শিক্ষক অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীন বিকাশের যে রূপরেখা তৈরি করেছিলেন তার প্রভাব ছিল সুদূর প্রসারী।আজ আমি এই অবসরে আমার সেই সকল শিক্ষক শিক্ষিকা দের শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
ReplyDeleteমনটাকে ঝুঁকিয়ে রাখার সুবিধা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। নতুন কিছু শেখার আগ্রহটাকে চাগিয়ে দেবার কাজটা করেছিল আমাদের ছোট্ট সে এক স্কুল। এই বন্ধনে যাঁরা আবদ্ধ হয়েছে একমাত্র সেই এই মুগ্ধতায়
ReplyDeleteমজতে পারবে। ধরা পড়ে গেছি মোরা সেই প্রেমের ফাঁদে....। ভালো থাকবেন।
সহজ সরল মুক্তগদ্যে লেখক পেরিয়ে আসা একটি সময়ের বৃত্তে , শিক্ষক শিক্ষার্থী সম্পর্কের
ReplyDeleteছবি এঁকেছেন। খুব সুখপাঠ্য আলোচনা।
সৌরভ, আপনাকে ধন্যবাদ জানাই মন্তব্য করার জন্য।
ReplyDeleteরচনাটি কতদূর সুখপাঠ্য হয়েছে তা পাঠকদের বিচার্য বিষয়। তবে অকপট স্মৃতিচারণ। ভালো থাকবেন।
পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণী। মাত্র ছ'টি বছর কিশোর ভারতী আমায় যা শিখিয়েছে তা আমার সারা জীবনের সম্পদ। আমি বিশ্বাস করি, কিশোর ভারতীর অগণিত ছাত্ররা আমার সাথে একমত হবেন। হেডমাস্টারমশাই আর দাদা দিদিদের যে পরম স্নেহ আর ভালবাসা মাখানো যত্নে আমরা লালিত হয়েছি, পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে জীবনের যে পাঠ আমরা পেয়েছি, ছত্রিশ বছর আগে স্কুল জীবন পার করেও তা আমাদের শুধুমাত্র সুখ স্মৃতি নয়, জীবন যাপনের অঙ্গ। বৃক্ষরোপন, বন্যাদুর্গত মানুষগুলোর জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে জামাকাপড় সংগ্রহ, রথের মেলায় জলছত্র, বছরের কিছু বিশেষ বিশেষ দিনে প্রভাত ফেরি , পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে পদযাত্রা, রক্তদান- উৎসবের মোড়কে এই সামাজিক কর্মসূচির সাথে যুক্ত করে কিশোর ভারতী আমাদের শিখিয়েছে মানব কল্যানেই শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা। Nature Study Camp এ গিয়ে পেয়েছি প্রকৃতির পাঠের সাথে সহনশীলতা, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, সবাই কে নিয়ে একসাথে পথ চলার শিক্ষা। এই camp e একটি বিশেষ শিক্ষার কথা না বলে পারছি না। আমরা সবাই উঠোনে বসে মধ্যান্নভোজ সেরে যে যার ভাতের থালা নিয়ে উঠে পরেছি। থালা ধুয়ে যথাস্থানে রেখে এসে দেখি হেডমাস্টারমশাই আমাদের সবার থালাগুলির চারপাশে পরে থাকা উচ্ছিষ্ট নিজের হাতে কুঁড়োচ্ছেন। আমাদের সবার অপরাধ বোধে মাথা নীচু। পরিচ্ছন্নতা ও দায়িত্ববোধের এমন পাঠ অমন করে আর কে শেখাবেন? বাবা মা ও বয়সে বড় যারা তাদের শ্রদ্ধা করা, কঠিন পরিস্থিতিতে বুক চিতিয়ে হার না মানা লড়াই চালিয়ে যাওয়া- এ'রকম অগণিত শিক্ষা আমাদের জীবনের পথকে সুগম ও সমৃদ্ধ করেছে। হেডমাস্টারমশাই সহ অনেক দাদা দিদিদের আজ আমরা হারিয়েছি। তাঁদের কে এবং যাদের আশীর্বাদে আজও আমরা ধন্য হই, তাদের সবাই কে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।
ReplyDeleteসঞ্জয়, তোমাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই । মতামত জানিয়েছো বলে নয় , নিজের ভালোবাসার স্কুল সম্পর্কে মনের গভীরে জমিয়ে রাখা অনুভব গুলোকে এই লেখার মধ্য দিয়ে আমাদের সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবার জন্য। আমি এরসঙ্গে খুব বেশি কথা যোগ করবোনা। কথাগুলো একান্ত কিশোরভারতীয় যাপনের অনুষঙ্গে সকলের মনের মধ্যে ঠাঁই পাক। সকলে সেই স্বপ্ন মাখা দিন গুলোকে অনুভব করুন। ভালো থেকো সকলেই।
ReplyDeleteযেদিন প্রথম বাবার হাত ধরে কিশোর ভারতী স্কুলে পৌঁছেছিলাম, সেদিন একটু ভয়ই পেয়েছিলাম। শুনেছিলাম, স্কুলটি অত্যন্ত নিয়মানুবর্তিতায় মোড়া এবং এখানকার পড়াশোনা ও ফলাফলও খুব ভালো। মনে মনে ভাবছিলাম—আমি কি এই স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব? মানিয়ে নিতে পারব এখানকার নিয়ম-শৃঙ্খলা, কঠোরতা আর অচেনা পরিবেশের সঙ্গে?
ReplyDeleteতারপর দেখতে দেখতে সেই বাবার হাত ছেড়ে পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে গিয়ে বসলাম। বুকের ভিতর দুরুদুরু করছিল। ধীরে ধীরে শুরু হল প্রথম ক্লাস। আর সেই একটি দিন থেকেই শুরু হল আমার কিশোর ভারতীর সঙ্গে পথচলা। দেখতে দেখতে একটি দিন, একটি মাস, একটি বছর পেরিয়ে আট-আটটি বছর কেটে গেল এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানের ছায়ায়।
এই আট বছরে কিশোর ভারতী আমাকে দিয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, অসংখ্য সুন্দর মুহূর্ত এবং জীবনের অনেক মূল্যবান শিক্ষা। দাদাদের বকাবকি, শাসন, আবার তারই আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা—সব মিলিয়েই কেটেছে আমার স্কুলজীবন। তখন হয়তো অনেক কিছু বুঝিনি, কিন্তু আজ পিছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, সেই শাসন আর ভালোবাসার মধ্যেই ছিল আমাদের গড়ে ওঠার এক বড় শিক্ষা।
কিশোর ভারতীতে শুধু পড়াশোনাই করিনি, নিজের ভেতরের অনেক সুপ্ত প্রতিভাকেও আবিষ্কার করার সুযোগ পেয়েছি। নাটকের দলে যোগ দেওয়া থেকে শুরু করে আবৃত্তি, পারফর্ম্যান্স—সবকিছু মিলিয়ে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিজেকে নতুনভাবে চিনেছি। ‘The Lion King’, ‘The Jungle Book’ এবং ‘Zootopia’—এই তিনটি নাটকের অংশ হতে পেরেছি, যা আজও আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের স্মৃতি। আমার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অনেক গুণ ও প্রতিভা প্রকাশ পাওয়ার পেছনে আমাদের দাদা-দিদিদের অবদান কখনও ভোলার নয়।
কিশোর ভারতীতে কাটানো সময়গুলো সত্যিই আমার জীবনের অন্যতম সুন্দর অধ্যায়। আজ এই লেখা পড়তে পড়তে সেই দিনগুলোর কথা আবার খুব মনে পড়ে গেল। মনে হলো, যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই ক্লাসরুম, সেই পরিচিত মুখগুলো, সেই বকুনি, সেই হাসি আর সেই অসংখ্য ছোট ছোট মুহূর্ত।
আজ আমি কলেজে এসে একেবারে অন্য এক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। জীবনের পথও ধীরে ধীরে অন্যদিকে এগিয়ে চলেছে। তবুও কিশোর ভারতীর সেই আটটি বছর, সেই মানুষগুলো এবং সেই স্মৃতিগুলো আমার জীবনের এমন এক অংশ, যা কখনও মুছে যাওয়ার নয়।
সত্যিই, কিশোর ভারতীতে দারুণ একটা সময় কাটিয়েছিলাম। সেই দিনগুলো হয়তো আর ফিরে আসবে না, কিন্তু মনের মধ্যে তারা চিরকাল একই রকম জীবন্ত হয়ে থাকবে। ❤️
ভাই বিনীত,
ReplyDeleteমনের কথাগুলো খুব সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে পরিবেশনের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি এতদিন পরেও সেই আশ্চর্য রসায়নের হদিস করে উঠতে পারিনি যা আমাদের বশ মানিয়েছিল কত সহজে। ভালো থেকো সকলেই। লেখাটা ছড়িয়ে পড়ুক।
অনবদ্য একটি লেখা পড়লাম। নিমেষে উল্টে দিয়ে গেল স্মৃতির পাতা। শুধু কেতাবি শব্দ 'স্কুল' বললে বোধহয় যথার্থ ব্যখ্যা করা যায় না। ওটা ছিল এক মানুষ গড়ার কারখানা। আর দক্ষ কারিগরেরা ছিলেন আমাদের দাদা দিদিরা। নম্বর নয়, যেখানে প্রকৃত মানুষ গড়ার উদ্যোগ ই ছিল উনাদের জীবনের অন্যতম ব্রত। আজকের এই ইঁদুর দৌঁড়ের দিনে দাঁড়িয়ে এমন শিক্ষালয় বোধকরি যথার্থ ই গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে কর্পোরেট স্লেভ নয়, প্রকৃত মানুষ হওয়া টাই প্রাধান্য পায়। অনেক ধন্যবাদ দাদা, এমন সুন্দর একটি লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।🙏
ReplyDeleteস্মৃতি রোমন্থন করলে এমনই স্বাদু সব উপকরণের দেখা মিলবে। এই যে বুক চিতিয়ে বলতে পারি আমরা - মানুষ গড়ার কারিগর ছিলেন তাঁরা। এটা খুব সহজ কথা নয়। এই ভালোবাসা আর বিশ্বাসে স্থিতধী থেকো চিরকাল।
ReplyDelete৫০ তম মন্তব্য লিখতে গিয়ে বেশ শিহরিত হচ্ছি।প্রকৃত শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নির্দিষ্ট একটি দিনের আয়োজন নেহাতই একটি প্রতীকী ব্যাপার। তাঁরা সর্বদা বিরাজমান শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে। খুব সুন্দর করে লেখা হয়েছে। মন ছুঁয়ে গেলো।
ReplyDelete