ঋ ত্বি ক ত্রি পা ঠী
আত্মহত্যার সপক্ষে
অবাক লাগে, এতদিনেও আত্মহত্যার সংজ্ঞা একই, স্থির। শব্দটির মধ্যে একমাত্র হেরে যাওয়া, পালিয়ে যাওয়া স্বভাব জ্বলজ্বল করছে। কেউ বলেন : অসুখ। বিকৃত মানসিকতা। সবাই বলেন : পাপ, মহাপাপ। কেন বলেন? অন্যরাও যে বলেন, তাই!
কোনও একটি বিষয়কে এই যে একভাবে অনন্তকাল দেখা ও ব্যাখ্যা করা ও অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া— এটাই বরং আত্মহত্যা, নিজের হাতে নিজের পাঁজর ভাঙা। এখন মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। এখন আর জনসংখ্যা বাড়িয়ে ও টিকিয়ে রেখে মানুষকে প্রকৃতিতে নিজের অস্তিত্বের জন্য যুদ্ধ-প্রস্তুতি নিতে হয় না। সুতরাং পাপ নামক শব্দ-মােড়ক হাস্যকর।
আত্মহত্যা অপরাধ ও অন্যায়। রাষ্ট্রশাসনের এই ব্যাখ্যায় যে দাদাগিরি ও লােকদেখানাে ভালবাসা, তা অসহ্য। রাষ্ট্রের অধীনে থেকে শরীর ও মনে অপুষ্টি ঘটলে রাষ্ট্র দায় নিতে চায় না। অভিমানে পালাতে চাইলে, জীবনকে আমার বলে প্রমাণ করতে চাইলে এই রাষ্ট্রই বলবে : অস্বাভাবিক মৃত্যু, তদন্ত চলছে... ইত্যাদি। রাষ্ট্র যদি অভিভাবকের ভূমিকা নিয়ে সন্তানের চলে যাওয়াকে চরম অভিমান হিসাবে দেখত, তবে রাষ্ট্রের দায় ও কর্তব্য বাড়ত বই-কি! সেই বাড়তি দায় নিতে প্রস্তুত নয় রাষ্ট্রশাসনযন্ত্র। অথচ রাষ্ট্রের দেওয়া সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যায় বিশ্বাসী হতে হবে আমাকে! জীবন যখন আমার কাছে মূল্যহীন হয়ে উঠবে, চলে যেতে চাইব, যে আমাকে টেনে ধরবে-- তাকেই দেখাতে হবে নতুন পথ। যে পথ দেখাতে পারে না অথচ পথের নামকরণের চেষ্টা করে তার বিশ্বাসযােগ্যতা নিয়েই তো প্রশ্ন! সে তাে নিজেকেই আগে থেকে হত্যা করে বসে আছে।
আত্মহত্যার সপক্ষে আমি। আমি রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন নই। আমার আত্মহত্যা প্রবণতা রাষ্ট্রেরই।
অকারণ শখ করে কেউ নিজের প্রাণ নিজে ধ্বংস করেছে এমন উদাহরণ নেই। অথচ কারণ বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের আত্মসমীক্ষাও নেই। তাই আত্মহত্যাকে অপরাধ, অধর্ম, অন্যায় ইত্যাদি বলে রাষ্ট্র যেন বুঝেও বােঝে না : পৃথিবীর একজন মানুষও আত্মহত্যা করতে চায় না।
আমি চাই রাষ্ট্র আত্মসমীক্ষার পথে যাক। আত্মসমীক্ষাহীন রাষ্ট্র আসলে আত্মহত্যাকেই মদত দেয়। রাষ্ট্রকে সেই আত্মসমীক্ষার পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য আত্মহত্যার মতো মধুর শক্তিতে আস্থাশীল আমি। আমৃত্যু।
পৃথিবী থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া আর অন্যকে সরিয়ে দেওয়া এক কথা নয়। আত্মহত্যা আর হত্যা এক হতে যাবে কেন! অর্জন করেছি বলেই না জীবন আমার! জীবনেরই মতো অবিচ্ছেদ্য অংশ মৃত্যু। আমারই হাতে থাকবে মৃত্যু৷
বন্ধু-পরিবার-দেশ যখন আমাকে অপ্রেমে নিয়ে গিয়ে ফেলে, যখন আমাকে ধর্মের মানে অধর্মে আছাড় দেয়— আমি শেষবারের মতো জীবনের কাছে জীবন প্রার্থনা করব। করবই ৷ সেই প্রার্থনায় যদি উঠে আসে, 'আরও কী ঘটে দেখা যাক'— তবে তাই হোক। যদি উঠে আসে, 'জীবন রাখতে জীবনপাত' তথা মধুর আত্ম-বিনাশ— তবে তাই হোক। কারণ, আমি বাঁচি— আমার জন্য, এর থেকেও বড় সত্য আমি বাঁচি— আমাদের জন্য।
শরীরী মৃত্যুকে আমরা বড় করে দেখি। মন ও হৃদয়ের মৃত্যুকে গুরুত্ব দেব না! অনেকেই বলেন : চলে গেল! পরিবারের কথাটুকুও ভাবল না! যে পরিবারের কাছে নিছক শরীরী সদস্য সে তাে থেকেও থাকে না। পরিবার মানে সংসার, দেশ, পৃথিবী। পৃথিবীকে ভালবাসি বলেই না অনুরাগ! রাগ। অভিমান। শত দুঃখে থেকে যাওয়া ও চলে যাওয়া— বিপরীত নয়, সমান্তরাল।
সংযােজন:
১. ইরম শর্মিলা চানুর অনশন ও রাষ্ট্রের লড়াই আমরা সবাই জানি। বুঝি কি! শর্মিলা কি সত্যিই আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন! না কি দেশকে আত্মহত্যা থেকে বাঁচাতে! শর্মিলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের যে লড়াই সে কি শর্মিলাকে বাঁচাতে না কি নিজের ক্ষমতা জাহির করতে!
২. এভাবে বেঁচে কী লাভ— প্রশ্ন তুলে দুরারােগ্য পেশীর অসুখ থেকে মুক্তি নিয়েছিলেন ইতালির কবি ওয়েলবি। তাঁর বক্তব্য ছিল: আমি জীবনকে বড় ভালবাসি। তাই মৃত্যু চাই এখন। কারণ জীবন আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে অনেক বছর হল।
৩. কোনও ধর্মই আত্মহত্যার পক্ষে রায় দেয়নি। রাষ্ট্রও 'না'। এই বিচারে ধর্ম ও রাষ্ট্র প্রায় সমার্থক। অধর্মের দায় ধর্ম নিতে চায় না। রাষ্ট্রও আত্মহত্যার দায় না নিয়ে উল্টে দোষারােপ করে। দোষারােপের সুবিধের জন্য ধর্মের মােড়ককে আরও রঙিন করে তোলে।
৪. শরীর ও মনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরপেক্ষ আলো বাতাস দিতে ব্যর্থ যে রাষ্ট্র, তার কাছে কেন নিষ্কৃতি-মৃত্যুর অধিকার প্রার্থনা করতে হবে! এটা অভিমান নয়, স্বাধিকারের দাবি। রাষ্ট্র কি জড়! মৃত্যুর পর শোকজ্ঞাপনের কত আয়োজন, বৈচিত্র্য! অথচ মৃত্যুর আগে প্রাণের মর্যাদা কোথায়! সংখ্যাতীত ব্যক্তি। কিন্তু ব্যক্তিত্বের নিরপেক্ষতা দুর্লভ।
রাষ্ট্র মানে পরিবার, দেশ, পৃথিবী। পৃথিবীর তিন ভাগ জল। মাত্র একভাগ স্থল। জলে স্থলে চাপচাপ অবজ্ঞা ও ঘৃণা। অন্ধকার ও কুসংস্কার। নিছক স্রোত। দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এখানে বেশি দিন থাকা অসম্ভব। নিছক রং ঢঙ দেখাতে ও দেখতে, বিশেষ পরিবারের সদস্য হয়ে আমার পক্ষে থাকা অসম্ভব। আমার পৃথিবী আমাকে দাও। নইলে যাওয়ার যথাযথ পথ দাও।
এই প্রার্থনা কার কাছে! উত্তর : জীবনেরই কাছে।
বিশেষ সংযোজন (২০ মার্চ ২০২৬) :
যে দেশে রাজনীতিতে ধর্ম, সম্পদে এত বৈষম্য, শিক্ষা নিছক সিলেবাসনির্ভর, যেখানে এত বিলম্বিত খুন-ধর্ষণের বিচার— সে দেশের সমাজব্যবস্থায় সুস্থ মানুষ থাকবে কীভাবে! ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-র রিপোর্টে প্রকাশ, ২০২২ সালে ভারতে আত্মহত্যার সংখ্যা নথিভুক্ত হয়েছে ১,৭০,৯২৪। কী মনে হয়— এঁরা শখ করে আত্মহত্যা করেছেন! জীবনকে ভালোবাসতেন না এঁরা! কেন দেশের নাগরিক আত্মহত্যা করে কিংবা করতে চায়— এ নিয়ে কোনও সমীক্ষা হয়েছে! মানুষ স্ববিরোধী। মানুষ পরিচালিত সুপ্রিম কোর্ট স্ববিরোধী। কলকাতার অভয়াকাণ্ডকে যেভাবে সুপ্রিম কোর্ট নিষ্ক্রিয় করল, তাতে শীর্ষ আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে! সমাজে কেন এত হিংসা, এত মিথ্যাচার! আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায়! হিংসা দিয়ে হিংসা থামানো যায়! অধিকাংশ মানুষ সমাজের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে না। মেনে নেয়। যারা মেনে নিতে পারে না! তারা সমাজের চোখে অসুস্থ। অধিকাংশ মানুষ বৃত্তের বাইরে গিয়ে ভাবতেই পারে না। তাই সব সয়ে যায়।
মুষ্টিমেয় কিছু খুনী, লোভী, অসৎ, মিথ্যাবাদী মানুষ এই পৃথিবীকে শাসন করছে। বাকিরা স্তাবক হয়ে মেনে নিচ্ছে। যদি কারও এই রীতি না ভালো লাগে! যদি সে মুখ আর মুখোশকে না আলাদা করতে পারে! যদি না পারে মিথ্যা নিয়ে টিকে থাকতে— তাহলে সুপ্রিম কোর্ট তাকে আটকাবে কোন শক্তি ও নিরপেক্ষতায়! গণতন্ত্র ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের শক্তির জোরে সুপ্রিম কোর্টের অস্তিত্ব। কিন্তু দেশের অধিকাংশ চেতনাহীন মানুষের যে তন্ত্র—সেখানে গণতন্ত্র আসলে এক প্রহসন। সঙ্গত কারণেই কোটিকোটি টাকার বিনিময়ে, হাজার হাজার নাগরিকের মৃত্যুর বিনিময়ে গণতন্ত্র রক্ষার নামে, ভোট হয়। যে নাগরিকের ভোটে শাসক ক্ষমতায় যায়, সেই নাগরিকের ভোটাধিকার পরের ভোটে কেড়েও নেওয়া যায়! এ গণতন্ত্র না শাসনযন্ত্র! ধনী আরও ক্ষমতাবান হয়, অসহায় মানুষ আর্তনাদ করতে করতে বোবা হয়ে যায়!
আত্মসমালোচনাবিমুখ সুপ্রিম কোর্ট আজও কেন আত্মহত্যাকে অপরাধ হিসেবে দেখছে! অসভ্য সমাজকে একটা বড় ধাপ্পড় দিয়ে, আত্মসমালোচনার গুরুত্ব বুঝিয়ে গেলেন এক আত্মত্যাগী— এভাবে কেন দেখছে না! মনে মরে-যাওয়া মানুষ নিছক শরীরে টিকে থাকবে! দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত মানুষ জিএসটি দিয়ে ওষুধ খাবে আর আমৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করবে! আমরা ধর্মীয়ক্ষেত্র গড়ে তুলতে প্রবল আগ্রহী, চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতিতে কতখানি উদ্যোগী! ধর্মীয়ক্ষেত্রগুলোতে যে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা উদ্ধার করে তাকে বিজ্ঞানচর্চার কাজে লাগানোর রায় কবে দেবে সুপ্রিমকোর্ট! কোনও রাজনৈতিক দল এ নিয়ে সচেষ্ট হবে! কবে!
উল্লেখ্য, পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হরিশ রানা দুর্ঘটনায় চোট পেয়ে প্রায় ১৩ বছর অচেতন থাকায় তাঁর বাবামা আদালতে দারস্থ হন সন্তানের নিষ্কৃতি-মৃত্যুর অনুমতি চেয়ে। ২০২৪ সালে দিল্লি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট "না" করে দেন। ২০২৫ সালে আবার আবেদন। শেষমেষ ২০২৬ সালের ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা দেয় নিষ্কৃতি মৃত্যুকে।
আমরা অনেকেই জানি। অনেকেই জানি না। ১৯৭৩ সালে মুম্বইয়ে অরুণা শানবাগ নামে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে ধর্ষণ করে হাসপাতালের এক কর্মী। তার ফলে টানা ৪২ বছর কোমায় আচ্ছন্ন থেকে শেষে মারা যান কিন্তু নিষ্কৃতি মৃত্যুর অনুমতি পায়নি। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮ সালে প্রথম স্বেচ্ছামৃত্যুকে স্বীকৃতি দিলেও তার প্রয়োগ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানায়— সুস্থ মস্তিষ্কের প্রাপ্তবয়স্ক কোনও নাগরিক যদি আগে থেকে ইচ্ছাপত্রে লিখে যান এই বলে যে তিনি দুরারোধ্য রোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে যেন জোর করে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে না রাখা হয়। এই যে আত্মহত্যা নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের এত দ্বিধাদ্বন্দ্ব, এত বিধিনিষেধ— সেই সুপ্রিমকোর্টই দায়িত্ব নিক সমাজ সমীক্ষার। যে যে কারণে মানুষ সময়, সমাজ ও জীবনবিমুখ হয়, তার শুশ্রূষার দায়িত্ব নিক সুপ্রিমকোর্ট। যে বিচারব্যবস্থা শুধু নির্দেশ দেয়, কিন্তু সে নির্দেশ পালন করতে বাধ্য করাতে পারে না— তাকে কীকরে 'সুপ্রিম' বলি! মন্দের ভালো— ২০২৬-এ এসে সুপ্রিম কোর্ট ভারত সরকারকে এ বিষয়ে আইন আনার পরামর্শ দেয়। সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি।
আমি সেই পৃথিবী-দেশের নাগরিক হতে চাই, যেখানে একজন নাগরিককেও নিষ্কৃতি-মৃত্যুর কথা ভাবতে না হয়। মন ও শরীরের শুশ্রূষায় যে রাষ্ট্র মনোযোগ দেয় না, তার নিষেধাজ্ঞা মানা সম্ভব নয়। জীবনকে ভালোবাসি বলেই জীবনের দাবিতে আত্মহত্যার সপক্ষে এই স্বীকারোক্তি।
49 Comments
খুব গভীরতাময়!
ReplyDeleteধন্যবাদ
Deleteভিন্ন ভাবনা। চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো। ভাবতে শেখালো।
Deleteলেখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।মেনে নিয়েও বলব আত্মহত্যা সমর্থন করা যায় না।
ReplyDeleteদুর্দান্ত লেখা। মানসিক এক বিশেষ ক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আত্মহত্যা। তার দায় সাধারণ অর্থে, তার ঘাড়েই আমরা চাপাতে অভস্ত্য যে নিজেকে হত্যা করে। রাষ্ট্রের ভূমিকায় যদি ব্যাক্তি নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে আত্মহত্যার দায়, রাষ্ট্রের হবেনা কেন? -- রচনা টি চিন্তনের ভিন্ন মাত্রা নিয়ে এল। ভালো লাগলো।
ReplyDeleteপার্থপ্রতিম আচার্য
ReplyDeleteধন্যবাদ
Deleteপার্থপ্রতিম আচার্য
ReplyDeleteখুবই মর্মান্তিক।।
ReplyDeleteঠিক।
Deleteধন্যবাদ
অসাধারণ একটা গলিত লাভার পিন্ড।
ReplyDeleteনির্মম বাস্তব। যুক্তিপূর্ণ লেখা। রাষ্ট্র আর ধর্ম ব্যক্তি স্বাধীনতা য় আস্থাশীল নয়।
ReplyDeleteধন্যবাদ।
ReplyDeleteদারুণ লাগলো লেখাটি।
ReplyDeleteলিখার গভীর সত্যই অনন্য !
ReplyDeleteব্যক্তি - পরিবার - সমাজ- রাষ্ট্র সর্বোপরি ধরিত্রী , সব দিক তুলে ধরেছেন l
লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ।
ReplyDeleteএকমত পোষণ করি। নিজেকে পার্থিব করে রাখবো কি রাখবোনা সেটা ব্যক্তির নিজের পছন্দ হওয়াই উচিত। আর সেটাই সম্মানের। খুব সুন্দর রচনা।
ReplyDeleteনিজের পাপের বোঝা অন্নের ঘাড়ে নামিয়ে দেওয়ার প্রবণতা মানুষের জিনগত।তাই আত্মহত্যা কে সার্থপরতার নাম দিয়ে দু-চার ফোঁটা জল ফেলেদিয়েই সব ভুলে যেতে পারে মানুষ।আর কিছু না পেলে,ভগবান তো রইল দোষ দাওয়ার জন্যে।
ReplyDeleteঅনেক আগেই পড়েছি।মন্তব্য করেছিলাম,কেন নেই বুঝতে পারছি।দুর্দান্ত লেখা।অনেকগুলি প্রশ্ন এসেছে যা ভাবাচ্ছে।
ReplyDeleteThis comment has been removed by the author.
ReplyDeleteঅনবদ্য।
ReplyDeleteবিন্দুতে সিন্ধু দর্শন।
এই পর্বটিও খুব ভালো লাগল।বিষয়টির গভীরে গিয়ে ভেবেছেন এবং সঙ্গত প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।রাষ্ট্রের অবিচার আর অবহেলার কারণেই মানুষ আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে ওঠে।
ReplyDeleteলেখা নিয়ে আমার কিছুই বলার সাহস নেই। তবে যে যে পয়েন্টগুলো তুলে ধরা হয়েছে একশ ভাগ সঠিক। দারুণ লেখা দারুণ 👌
ReplyDeleteঅনেক প্রশ্ন উস্কে দিয়েছেন। খুব ভালো লাগলো আপনার লেখা।
ReplyDeleteভালো লাগল
ReplyDeleteভালো লাগল
ReplyDeleteভালো লাগল
ReplyDeleteখুব সুন্দর লেখা।
ReplyDeleteখুব সুন্দর লেখা।
ReplyDeleteআত্মহত্যা অবান্তর কারণ তা দিয়ে কিছু অর্জন হয় না। আত্মহত্যা কোন পজিটিভ কাজ নয়। যন্ত্রণা থেকে পলায়ন। অবশ্যই তার দায়িত্ব সব মানবসমাজের। আত্মহত্যা কারীর নয়। মানবসমাজের লজ্জার। আত্মহত্যা কারীর কোন গৌরব বাড়ে না বা অগৌরব ও নেই। কাজেই আত্মহত্যার সপক্ষে লেখাও আমার মতে অর্থহীন।
ReplyDeleteমারাত্মক একটা লেখা। ব্যক্তি মানুষ আর রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক ও দ্বন্দ্বের স্বরূপ এবং সেই সম্পর্কিত অনেক প্রশ্ন উত্থাপনের পাশাপাশি উত্তরগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আত্মহত্যার অধিকার মানুষের থাকা উচিৎ ক্ষেত্র বিশেষে। - আমি একমত পোষণ করছি।
ReplyDeleteকে ভাবে! যন্ত্রণা কেবল অনুভব করে মৃত্যুর স্নিগ্ধতা ।
ReplyDeleteরচনাটি শুধু রচনা নয়, একটা প্রশ্ন বা তর্কের সুত্রপাত করে।কেউ সপক্ষে কেউ বিপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন সেটাই স্বাভাবিক।কিন্তু প্রশ্ন হল, এটাও তো ঠিক, যে, মানুষের নিজস্ব বিচার সব সময় ঠিক না-ও হতে পারে। হঠকারিতার বা সাময়িক উত্তেজনায় কি অন্য কারণে মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতেও পারে।আর যদি তাতে কোন বাধা থাকে, যেই দিক সেটা, অন্ততঃ সেটা তো কিছুটা সংশোধনের রাস্তা বা সুযোগ দেয়। আজ যদি এটা মুক্ত হত, তাহলে নিছক একটা রাগারাগি বা মনখারাপ ইত্যাদি ছোট সাময়িক ঘটনা থেকেও অপমৃত্যু বেশি হত না কি? এই বাধা অন্ততঃ অনেক অমূল্য সৃষ্টিকে সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে এটা কি আমরা অস্বীকার করতে পারি? মামণি রয়সম গোস্বামী সারাজীবনে অনেক খানি সময় আত্মহত্যার ওষুধ সঙ্গে নিয়ে ঘুরেছেন, তবু কোন বাধায় করেন নি বলেই তো আমরা তাঁকে পেলাম।আজ অমৃতা প্রীতম, কি স্টিফেন হকিং যদি আত্মহত্যা করতেন নিছক প্রাণের উপর তাঁর নিজের অধিকার থেকে, সারা পৃথিবী এবং তিনি নিজেও কি অনেক কিছু হারাতেন না। আমার অনেক কিছু বলার আছে, তবে সংক্ষেপে বলতে চাই, জিনিসটাকে বোধ হয় নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গীতে না দেখে, পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখলে অনেক চিন্তার সুবিধা হবে।
ReplyDeleteআর শেষে তো, আমি বেশি দূরে যাব কেন, স্বয়ং ঋত্বিকবাবু নিজেই তো উদাহরণ। উনি যে মানসিকতা নিয়ে রোগের সঙ্গে লড়াই করে সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, এটা কি সাহিত্য, পৃথিবী বা তাঁর নিজের কাছেও বড় প্রাপ্তি নয়।আজ উনি যদি এই বাধায় আটকে না থাকতেন পৃথিবী কি এক বড় সম্পদকে হারাত না? তর্ক চলতেই পারে, তবে মনে হয়,পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গী অনেক সমস্যার সমাধান দেয়।
আগেই কয়েক বার পড়েছি, নিঃসন্দেহে বিষয়টি স্পর্শকাতর। তবে এটা পরিষ্কার, ঋত্বিক বাবুর পজিটিভিটি সন্দেহাতীত। এমন একটি সাহসী লেখা জীবনকে মূল্যবান মনে করলেই লেখা সম্ভব।
ReplyDeleteরাষ্ট্র আত্মসমীক্ষা কোনোদিন করেনি তাই এই অধিকার একান্তই নিজের থাকা উচিৎ। কিন্তু মরতে মরতে বেঁচে ওঠার গল্প বেশি সুন্দর।
ReplyDeleteWell written , I am just fond of Jaladarchy.....fantastic platform to showcase our writtings , poems , drawings..... Respected Sir Rithik Tripathy sir , always encourages the writers , poets ....gratitude to him ...
ReplyDeleteধন্যবাদ।
DeleteIt is beautifully written Sir .....Touched heart , mind ....You are an asset to us ... Keep on your writtings , creativities and motivating the unknown small writers , poets like me ....I am very happy to get your support s always to improve my Bengali writtings when I am staying in Chennai , long away from Bengal long 23 yrs ...your encouragements , gentle behaviour really heart touching ...always with our " Jaladarchy "...
ReplyDeletePls keep on writing more ...suicide word is negative word in Neuro Diary ....but in real lives truly people killing their minds for emotions for ego ...but In my small thinking The world , atmosphere till now good and giving us possitive vibes ....we must go forward strongly im our paths of lives ....
Stay blessed Sir ..keep on creating new more more countless writtings.... And keep on motivating all new writers , poets...
ধন্যবাদ।
Deleteআপনার লেখাটি গভীর, তীব্র এবং সমাজ-রাষ্ট্র-ধর্মের প্রতি এক কঠিন প্রশ্নচিহ্ন তোলে— এতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু একজন পাঠক হিসেবে আমি আপনার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারছি না, এবং সেই অমতের জায়গাটি থেকেই এই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া।
ReplyDeleteআত্মহত্যার পেছনে অসহনীয় যন্ত্রণা, সামাজিক অবহেলা, মানসিক বিপর্যয়— এগুলো যে বাস্তব, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অনেক ক্ষেত্রেই সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যর্থতা মানুষকে সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়— এটাও সত্য। কিন্তু সেই সত্যকে সামনে এনে আত্মহত্যাকে এক ধরনের দার্শনিক ন্যায্যতা বা নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা দেওয়ার মধ্যে একটি বিপজ্জনক প্রভাব লুকিয়ে থাকে।
আপনি একজন সচেতন, পরিণত, চিন্তাশীল লেখক। আপনার লেখা শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে না— তা বহু তরুণ মন, আবেগপ্রবণ মানুষ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত পাঠকের ওপর প্রভাব ফেলে। তারা আপনার মতো বিশ্লেষণ করতে পারে না, তারা শুধু এই বার্তাটি পেতে পারে— “এটাও এক পথ।” এখানেই এই লেখার সম্ভাব্য নেতিবাচকতা।
সমাজ বা বিচারব্যবস্থার সমালোচনা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু এমন একটি বিষয়ে যেখানে জীবনের প্রশ্ন জড়িয়ে, সেখানে শব্দের দায় অনেক বেশি। লেখার স্বাধীনতা যেমন আছে, তেমনি আছে লেখার সামাজিক দায়ও। কারণ লেখা কেবল মতপ্রকাশ নয়, অনেক সময় তা অচেতনভাবে দিশা দেখায়।
এই বিষয়টি সাহিত্যিক প্রবন্ধের মতো নিরপেক্ষ নয়। এটি জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই বিষয় নির্বাচন ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করি— বিশেষত যখন পাঠকের মধ্যে রয়েছে কিশোর, তরুণ, এবং মানসিকভাবে দুর্বল মানুষ।
আপনার প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই প্রশ্নের ভেতর দিয়ে যেন কোনওভাবেই আত্মবিনাশের সম্ভাবনাকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য মনে না হয়— এই দিকটি ভেবে দেখা জরুরি বলে মনে হয়েছে।
ধন্যবাদ।
Deleteআত্মহত্যার সপক্ষে বলতে গিয়ে আসলে আপনি এক সুন্দর সমাজ চেয়েছেন যেখানে আত্মহত্যাই অবান্তর। তেমন অবস্থা কোনদিন ছিলনা আর হবেও না বলে মনে হয়ে। আপনার বলা রাষ্ট্রের অংশ আমরা সবাই।তবে ইতালীয় কবি,অরুণা সানবাগ এইরকম কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যা বা ইচ্ছা মৃত্যু সমর্থন করি।
ReplyDeleteধন্যবাদ।
Deleteঅসম্ভব ভালো লেখা।নতুন একটা পৃথিবী কোনোদিন আমরা দেখতে পাব কী! অনেক ধন্যবাদ স্যার।আমিও আপনার সাথে সহমত।
ReplyDeleteধন্যবাদ।
Deleteঋত্বিক, আপনার এই লেখাটি পড়ে আমার বেগম রোকেয়ার কথা সর্বাগ্রে মনে এলো।বেগম রোকেয়া ১৩১১ বঙ্গাব্দে তাঁর একটি কবিতা 'স্বার্থপরতা'য় বলেছিলেন আত্মবিসর্জনও তো 'আত্মসুখ'। এই দার্শনিক ভাবনা অনুযায়ী আমরা বলতে পারি সবাই স্বার্থপর।
ReplyDeleteরোকেয়া লিখেছিলেন -
"মহান হৃদয় আত্মবিসর্জনে
সুখী হয় অতিশয়।"
বল - "সুখ আপনার!"
তবে কেন বল 'আত্মবিসর্জন'।
আসলে আত্মহত্যার মধ্যে আমরা আত্মসুখই খুঁজি।
সালেহা খাতুন
ধন্যবাদ।
Deleteআত্মহত্যার সপক্ষে আলোচনা করতে গিয়ে, রাষ্ট্রের প্রতি ও অন্যান্য বাস্তব বিষয়ের প্রতি যেসব অভিমান ও ক্ষোভ আপনার রচনাতে প্রকাশ পেয়েছে, সেই সকল অনুভূতির প্রতি পূর্ণ সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করে আপনার কথা মতোই জীবনকে ভালোবেসে জীবনের দাবিতে কিছু কথা বলছি স্যার। কিছু ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে ক্ষমা করে দেবেন।
ReplyDeleteরাষ্ট্র- আইন-কানুন-শাসনব্যবস্থা, এগুলো কি স্বসচেতন কোন সংস্থা? নিশ্চয়ই না। এগুলো এক একটা কাঠামো আর তার সচেতন পরিচালনায় থাকেন গণ্যমান্য বুদ্ধিজীবীগণ তথা মনুষ্য প্রজাতির অন্তর্গত মানুষ-ই। আইন কানুন তথা শাসনব্যবস্থায় যা কিছু আছে, তাতে মোটামুটি ভাবে বলা যায়- নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সেগুলো মেনে চললে প্রত্যেক মানুষের আইনী সুরক্ষা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার দিকগুলি লঙ্ঘিত হবার কথা নয়। কিন্তু প্রশ্ন হোলো, এইসব সুব্যবস্থা মেনে চলার মতো সুচেতনাসম্পন্ন মানুষ কোথায়? মানবিক অধিকার লাভের ক্ষেত্রে মানুষই তো প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে। তাহলে কার উপরে অভিমান প্রকাশ করবে মানুষ!
মৃত্যু জীবনের শেষ কথা নয়। আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন আরেক জীবনে প্রবেশের ছাড়পত্র হোলো মৃত্যু। কিন্তু মানুষ তো সাধারণতঃ জাতিস্মর নয় যে, পূর্বজন্মের মৃত্যুর কারণ বা তৎসংক্রান্ত জ্ঞান পরজন্মেও থাকবে। মৃত্যু যখন আসার আসবে। মৃত্যু আসার আগে জীবনকে উপেক্ষা করে মৃত্যুর জন্য পথ রচনা করার কি সব ক্ষেত্রে খুব প্রয়োজন থাকে! জীবন-মৃত্যুর মাঝের পার্থক্য বোঝার মত চেতনা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ জীবনের জন্য জীবনের কথা ভাবাটাই আমার মনে হয় সঠিক। জীবন কোনো উপায় নয়। অনেক সময় দেখা যায় মানুষ নিজ ইচ্ছেমতো জীবনের ছন্দ বা কাঙ্ক্ষিত কোন বিষয় পেল না তো, আত্মহত্যার পথ বেছে নিল। তাতে যে ব্যক্তি সবসময় সফল হয়,তা কিন্তু বলা যায় না।তবে শোনা যায়, ওই মৃত্যুর মুখ থেকে যে ব্যক্তি একবার ফিরে আসে, সে সচরাচর আত্মহত্যার কথা আর ভাবে না।
জন্ম যখন হয়েছে মৃত্যুও প্রকৃতির নিয়মে আসবেই। জীবন থাকতে যেখানে জলজ্যান্ত জীবন গুরুত্ব পায় না, সেখানে মৃত্যুর পর সেই জীবনের দাবি গুরুত্ব পাবে- তার নিশ্চয়তা কোথায়! তাই নিজের জীবন নিজের দায়িত্ব বলেই, নিজের মতো করে যথাসম্ভব মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে প্রকৃত যোদ্ধার মতো মানসিকতা নিয়ে লড়াই করে যাওয়াই আমার মনে হয় শ্রেয়।
তবে যেখানে ব্যক্তি জীবন-মৃত্যুর মধ্যে ফারাকটুকু অনুভব করার মতো শারীরিক সক্ষমতার অবস্থায় থাকে না,সেইসব ক্ষেত্রে কৃপাহত্যা কাম্যবিষয়রূপে বিবেচনাধীন হলে,ওইসব ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা তার পরিবারবর্গের কথা ভেবে রাষ্ট্রের দ্রুত সহানুভূতিপূর্ণ পদক্ষেপ অবশ্যই নেওয়া উচিত।।
ধন্যবাদ।
ReplyDelete