ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -২৩


সম্পাদকীয়

ছোট্টোবন্ধুরা, বসন্তকালে পলাশ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থেকেছ কখনও? জানো, তোমাকে দাঁড়াতে দেখলে একটা না একটা পলাশ 'টুপ' করে তোমার মাথায় বা গায়ে এসে পরবে। পলাশ, শিমূলদের এমন মিষ্টি করে ছুঁতে কে শিখিয়েছে জান? প্রজাপতি, ভোমরা আর মৌমাছিরা। এবারের জ্বলদর্চির ছোটোবেলা সংখ্যার প্রচ্ছদের পলাশের ছবিটি ছুঁয়ে দেখ, সেও তোমার মনকে ছুঁয়ে দেবেই দেবে। চিত্রগ্রাহক মৃণাল ঘোষকে ধন্যবাদ। ফুল ছোঁয়া খুশি খুশি মনে 'হাট্টি মা টিম' ছড়াটা শোনাও তো? আরে না না ওটা চার লাইনের নয় ৫২ লাইনের ছড়া। কি মজার কথা না! এমন মজা দেবার জন্য মুক্তি দাশ মহাশয়কে ধন্যবাদ। ছড়া বলে আনন্দে দু'খান হয়ে মেঘের মতো ভাসছ তো! তবে উমনো আর ঝুমনোর গল্পটা ঝটপট পড়ে ফেলো। গল্পটা লেখার জন্য প্রবাসী শিশু সাহিত্যিক সুস্মিতা কুন্ডুকে ধন্যবাদ। আর গল্পটা পড়ে তোমাদের প্রবাসী বন্ধু ঐশিক যে ছবিটা এঁকে আমাদের উপহার দিয়েছে  তারজন্য তাকে আমার ভালোবাসার পরশ দিলাম। যারা কোভিডের জন্য এখনও বাড়ি ছেড়ে মোটেও বাইরে বেরোচ্ছ না তাদের জন্য কবি রামকিশোর ভট্টাচার্য লিখে পাঠিয়েছেন পোকেমন ও ছোটা ভীমের ছড়া। অপূর্ব ছড়াটি লিখে পাঠাবার জন্য কবির কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আর যে বড়ো বড়ো দিদি দাদাদের স্কুল খুলে গেছে, পড়ার খুব চাপ, তাদের জন্য অমিত মজুমদারের গল্প আছে এবারের সংখ্যায়। অমিত তোমাকেও ধন্যবাদ। কানাডার ছোটোবন্ধু শ্রেয়ান আর তানিশার আঁকা অনুভব, সংজ্ঞা, অস্মিতার কেমন লাগল জানিও কিন্তু। খুদে গোয়েন্দা গল্পকার ঋতব্রত ও ক্রিকেটার আয়ুষ্মানকেও পলাশের আলতো ভালোবাসার ছোঁয়া পাঠালাম।       - --মৌসুমী ঘোষ

হাট্টিমাটিম টিম সম্পর্কে

মুক্তি দাশ

ছোট্ট সোনা বন্ধুরা, এতদিনে তোমারা সবাই নিশ্চয়ই সেই অতিপ্রিয় “হাট্টিমাটিম টিম” ছড়াটি পড়ে ফেলেছ। সেই যে চারলাইনের মন ভালো করা ছড়া 
হাট্টিমাটিম টিম- 
তারা মাঠে পারে ডিম
তাদের খাড়া দুটো শিং
তারা হাট্টিমাটিম টিম।
শুধু কি পড়া, মুখস্তও আছে নিশ্চয়ই সব্বার। আজ এই বিখ্যাত শিশুতোষ ছড়াটি নিয়ে কিছু অজানা কথা তোমাদের বলবো। যা শুনলে তোমরা অবাক হয়ে যাবে।
এই ছড়াটি লিখেছেন অধুনা বাংলাদেশের এক নামকরা কবি ও ছড়াকার রোকনুজ্জামান খান। লিখেছিলেন আজ থেকে প্রায় আটান্ন বছর আগে ইংরেজি ১৯৬২ সালে। এখন এই ছড়াটি বাংলাদেশের শিক্ষামাধ্যমের প্রথমশেণীর সিলেবাসভুক্ত।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই ছড়াটি কিন্তু আসলে মোটেই চারলাইনের নয়। পুরো ৫২ (বাহান্ন) লাইনের ছড়া। মোট তেরোটি স্তবক। এবং প্রতি স্তবকে চারটে করে লাইন। আর তোমরা যে চারটি লাইনের সংগে সমধিক পরিচিত, যার উল্লেখ গুপরে করা হয়েছে, তা ছড়াটির একেবারে শেষের স্তবক।
এবার তাহলে পুরো ছড়াটি দেখে নেওয়া যাক-

হাট্টিমাটিম টিম
রোকনুজ্জামান খান

টাট্টুকে আজ আনতে দিলাম 
বাজার থেকে শিম
মনের ভুলে আনল কিনে 
মস্ত একটা ডিম।

বলল এটা ফ্রি পেয়েছে
নেয়নি কোনো দাম
ফুটলে বাঘের ছা বেরোবে
করবে ঘরের কাম।

সন্ধ্যা সকাল যখন দেখো 
দিচ্ছে ডিমে তা 
ডিম ফুটে আজ বের হয়েছে
লম্বা দুটো পা।

উল্টে দিয়ে পানির কলস
উল্টে দিয়ে হাড়ি 
আজব দু'পা বেড়ায় ঘুরে 
গাঁয়ের যত বাড়ি। 

সপ্তা বাদে ডিমের থেকে
বের হল দুই হাত 
কুপি জ্বালায় দিনের শেষে 
যখন নামে রাত।

উঠোন ঝাড়ে বাসন মাজে 
করে ঘরের কাম 
দেখলে সবাই রেগে মরে
বলে এবার থাম।

চোখ না থাকায় এ দুর্গতি 
ডিমের কি দোষ ভাই
উঠোন ঝেড়ে ময়লা ধুলায়
ঘর করে বোঝাই।

বাসন মেজে সামলে রাখে 
ময়লা ফেলার ভাঁড়ে 
কাণ্ড দেখে টাট্টু বাড়ি
নিজের মাথায় মারে।

শিঙের দেখা মিলল ডিমে 
মাস খানিকের মাঝে 
কেমনতর ডিম তা নিয়ে
বসলো বিচার সাঁঝে।

গাঁয়ের মোড়ল পান চিবিয়ে 
বলল বিচার শেষ 
এই গাঁয়ে ডিম আর রবে না 
তবেই হবে বেশ। 

মনের দুখে ঘর ছেড়ে ডিম
চলল একা হেঁটে 
গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে
ডিম গেলো হায় ফেটে।

গাঁয়ের মানুষ একসাথে সব, 
সবাই ভয়ে হিম 
ডিম ফেটে যা বের হল তা
হাট্টিমাটিম টিম।

হাট্টিমাটিম টিম- 
তারা মাঠে পারে ডিম
তাদের খাড়া দুটো শিং
তারা হাট্টিমাটিম টিম।


উমনো মেঘ আর ঝুমনো মেঘ 

সুস্মিতা কুণ্ডু

এক দেশের নীল আকাশে বাস করত দু’টো সাদা ফুরফুরে পেঁজা তুলোর মত মেঘ। উমনো মেঘ আর ঝুমনো মেঘ। দুইজনায় ভারি দোস্তি। সারাদিন হেথা যায়, হোথা যায়, গান গায়, সূয্যিমামার সঙ্গে লুকোচুরি খেলে। রাতে তারাদের সঙ্গে বসে চাঁদমামার ঘুমপাড়ানি গপ্পো শুনে ঘুমোয়। 

একদিন উমনো মেঘ বলল, 
-“চ’ ভাই ঝুমনো পৃথিবীর মাটি থেকে ঘুরে আসি।”
ঝুমনো বলে, 
-“কিন্তু অত নিচুতে গেলে যদি আর ফিরতে না পারি!”
ঝুমনো গেল না, উমনো তাই একাই গেল বেড়াতে।
মাটিতে গিয়ে কত খাতির। এই নদী ওই পুকুর সেই সমুদ্দুর সক্কলে উমনোকে ডেকে জল বাতাসা খাওয়ায়, সুখদুঃখের গল্পগাছা করে, আকাশের দেশের খবর নেয়। 

পৃথিবীতে দিব্যি মজা করে উমনো ফিরে এল আকাশের দেশে। তার তখন বেজায় গেরামভারি রূপ। আগের মত ঝরঝরে ফুরফুরে ফটফটে সাদা তুলোটি আর নেইকো। আকার আয়তনে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, গায়ের রঙ গাঢ় ধূসর, মুখের ভাবভঙ্গী রাগী রাগী। ঝুমনো যেই বলতে গেল, 
-“হ্যাঁ রে উমনো এদ্দিন যে বেপাত্তা হয়ে গেলি বড়! বলি কোনও বিপদআপদ ঘটল নাকি একটা খবর দিবি তো!”
উমনো মুখ বেঁকিয়ে বলল, 
-“ফুঃ! ছোঃ! আমার হবে বিপদ! আমার এখন কত ক্ষমতা জানিস! তোদের মত পুঁচকি মেঘেদের সঙ্গে আমি কথা কইনাকো।”

এই শুনে ঝুমনোরও বেজায় রাগ হল। দু’জনে কথা কাটাকাটি হতে হতে শুরু হল সাংঘাতিক ঝগড়া। সে আর থামে না! দিনরাত চলে। সে কী চিৎকার গর্জন। সূয্যিমামা বারণ করলে, চাঁদ তারারা মানা করলে, কারোর কথা শুনলে না। শেষমেষ উমনোঝুমনো দু’জনেই বিদ্যুৎ তরোয়াল তুলে নিয়ে শুরু করল ভয়ানক যুদ্ধ। ঝনঝন, ঠনঠন, শনশন লড়াই চলে। 

হঠাৎই ঝুমনোর হাতের বিদ্যুৎ তরোয়ালের খোঁচা গিয়ে লাগল উমনোর ফুলোফুলো ভুঁড়িতে! ব্যাস! সে কী কাণ্ড! ঝরঝরিয়ে জল পড়তে শুরু করল সেই ফুটো থেকে। পৃথিবীর বুকে নদীনালায় গিয়ে জমতে লাগল সেই জল। যত জল বেরিয়ে যায় তত উমনোর ফুলো চেহারাও চুপসে আসে। রঙটাও ধূসর থেকে ধীরে ধীরে আগের সাদা পেঁজা তুলোর মত হতে থাকে। 

অবশেষে খানিক পরে উমনো আবার আগের মতই হয়ে যায়। ঝুমনো তো সেই কাণ্ড দেখে হেসে লুটোপুটি খায়। উমনোও রাগ করতে গিয়ে আর পারে না, হিহি করে হাসে। দুই বন্ধু ঝগড়া ভুলে, বিদ্যুৎ তরোয়াল ফেলে, গলা জড়াজড়ি করে রওয়ানা দেয়। 

কোথায়? 

কোথায় আবার! নীল আকাশের খেলার মাঠে, যেখানে আছে রামধনুর রঙিন গড়ানে সিঁড়ি। তার ওপর দিয়ে পিছলে নামতে যে ভারি মজা! তোমরাও যদি রামধনুর পথে গড়াগড়ি যেতে চাও, উমনো আর ঝুমনোর সঙ্গে এইবেলা দোস্তি করে নাও। তবে ভুল করেও ওদের বেশি বেশি জল খেতে দিও না, কেমন?

যেমন খুশির সাজে

রামকিশোর ভট্টাচার্য

কেউ সেজেছে বৃষ্টি কণা, পাখপাখালির ভোর
মাঠ বলেছে এই নিয়ে যা কৃষ্ণচূড়া তোর।
ও পোকেমন খুশির দানা এইখানে আয় বোস
টাটকা তাজা মুচমুচে সব ছড়াবি সন্তোষ।
এই জেরি তোর ভেলকি দেখে বইঘরে আজ নানা
চমকে গেলাম ঠিক যেন টম, নেহাৎই তালকানা
রাজকুমারি ইন্দুমতি! শিশির ধোয়া ফুল,
তোর বুঝি ওই আমার মতই মনরাঙা ইস্কুল?
এই শুনে যা গোলাপ কদম কাগজ ডিঙির ছই
তোদের মতই সাজতে আমি সত্যি কি পারবোই,
ভীম ছোটা তুই! এমন সাজে চিনতে পারিনি তো
ফুসমন্তর এমন বয়েস কেউ যদি ফের দিতো -
এই আমি এক আকাশমণি ফুল সেজে এই দেশে
ছড়িয়ে দিতাম আনন্দ সব সাতরঙা সন্দেশে।

জেদি 

অমিত মজুমদার 

 ১
 "তুই অনুদিদের বাড়ি গেছিলি ?" কোচিং-এ পড়তে এসে অদিতিকে জিজ্ঞাসা করলো সুমন। 
        "হ্যাঁ। দিদি বলেছিলো ইংরেজিতে কোনো অসুবিধা হলে যেতে। আমার একটা রাইটিং নিয়ে সমস্যা হচ্ছিলো তাই গেছিলাম। অনুদি তো ইংরেজিতে এম এ করছে। খুব ভালো বোঝায়।" অদিতি বলল। 
        ওদের গ্রামে ইংরেজি ছাড়াও সায়েন্সের ভালো প্রাইভেট টিউটর নেই উঁচু ক্লাসের। কোচিং-এ আর্টসের ক্লাস ভালো হলেও সায়েন্সের ক্লাস ভালো হয়না। কোভিড পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ। পড়াশোনার বেশ ক্ষতি হচ্ছে। প্রায় অজ গ্রাম। অনলাইন ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেকের বাড়িতে অ্যানড্র‍য়েড ফোনও নেই। 
        "অনুদির সঙ্গে তোর পরিচয় হলো কিভাবে?"
        "আমাদের স্কুল হস্টেলে দিদি পড়াতে যেতো আগে। তখনই পরিচয়। এখন তো হস্টেল বন্ধ কারণ ফাইভ থেকে এইট পর্যন্ত ক্লাস হচ্ছে না। আর হস্টেলে তো এই চারটে ক্লাসই থাকে।" 
        "ও আচ্ছা। এবার বল দিদির কাছে কানমলা কেমন খাস?" 
        "কানমোলা খাবো কেনো?"
        "না মানে সহজ সহজ রাইটিং লিখতে পারিসনা তো।"
        "শোন, দিদি খুব ভালো। একটুও বকে না। না বোঝা পর্যন্ত বোঝাতেই থাকে।"
        "তাহলে ওখানে প্রাইভেট পড়লে তোর উপকার হবে।"
        "দিদি চাকরির পরীক্ষা দেবে। প্রস্তুতি নিচ্ছে তার সময় নেই পড়ানোর।"
        "ও তাই নাকি ?" 
        "হ্যাঁ।"
        কথা আর এগোলো না। স্যার এসে গেছেন। ইতিহাস আছে আজ। ইতিহাস সুমনের খুব প্রিয়। অদিতিরও। স্যারও খুব ভালো পড়ান। 

২ 
দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে কেউ। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হতে চলেছে। কেউ দরজা খুলছে না দেখে অনু বই রেখে নিজে দরজা খুলতেই দেখলো একটা ছেলে পিঠে ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে। বলল, "দিদি আমার নাম সুমন। আমি হাইস্কুলে পড়ি। ক্লাস এইট। তোমার কাছে পড়তে এলাম।"
        কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো অনু। বলল, "আমি তো প্রাইভেট পড়াই না ভাই।"
        "আমি তো প্রাইভেট পড়তে আসিনি দিদি। কয়েকটা সমস্যা হচ্ছে তাই দেখাতে এসেছি। স্কুল খোলেনি তো এখনো। শুনলাম তোমার সাবজেক্ট ইংরেজি। তাই বিপদে পড়ে চলে এলাম দিদি।"
        মায়াময় একটা ছোট্ট ছেলে এমন আগ্রহ নিয়ে এসেছে দেখে ভীষণ ভালো লাগলো অনুর৷ আন্তরিকভাবে গোটা সন্ধ্যা জুড়ে সুমনের অনেকগুলো সমস্যার সমাধান করে দিলো। সুমনেরও খুব ভালো লাগলো অনুদির পড়ানো। 

আজ আরো তিনটে ছেলে আর দুটো মেয়ে এসেছে অনুর কাছে। গতকালও এসেছিলো আরো চারজন। তার আগের দিনও তিনজন। এখন তো অভিভাবকদেরও আসা শুরু হয়েছে। অনু পাড়াতে কারো সঙ্গে সেইভাবে মেশে না৷ নিজের পড়াশোনা নিয়ে থাকে। আগেও তাই থাকতো। ওর সাবজেক্ট যে ইংরেজি সেটাই বেশী কেউ জানতো না। অদিতির কাছ থেকেই বিষয়টা এভাবে ছড়িয়েছে। করোনা ভাইরাস যেমন একজনের সঙ্গে অন্যজনের সংস্পর্শ হলে ছড়ায় তেমনই অনুর ইংরেজি পড়ানোর বিষয়টাও দ্রুত ছড়িয়েছে। যখন যার ইচ্ছা সে চলে আসছে বইখাতা নিয়ে৷ ব্যাপারটা নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে দিনদিন। অনু ঠিক করেছে এবার বাড়িতে লকডাউন ঘোষণা করবে। কাউকে এইভাবে পড়া দেখিয়ে দেবে না। নিজের পড়াশোনার খুব ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে এর জন্য। ডাবলু বি সি এসের প্রস্তুতির জন্য খুব মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। 

 ৪ 
লকডাউন হলো না। পরিবর্তে দুটো ব্যাচ চালু করতেই হলো অনুকে। সে ঠিক করেছে স্কুল না খোলা পর্যন্ত এই ছেলেমেয়েগুলোকে বিনা বেতনে পড়িয়ে দেবে। বাচ্চাগুলোর পারফরম্যান্স বেশ ভালো। তাদের খাতা দেখতে দেখতে অনুর চোখে জল এসে গেলো। খুব জেদ করেই সে ইংরেজি অনার্স পড়েছে৷ মনে পড়লো স্কুলে পড়াকালীন এই গ্রামে মনের মতো ইংরেজি শিক্ষক সেও পায়নি। স্কুলের সায়নী ম্যাম ক্লাস নাইনে তাকে বলেছিলেন, মাধ্যমিকে তুই ইংরেজিতে পাশ করতে পারবি না। সেদিন খুব কেঁদেছিল অনু। এত বছর পর আবার সে কাঁদছে। 


পুলিশ গোয়েন্দা 

ঋতব্রত সিংহ মহাপাত্র 
তৃতীয় শ্রেণি, সরস্বতী দেবী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাঁকুড়া

ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। 
 সকালে কাজের মেয়ে  যখন  কাজ করতে এসে বারবার  কড়া নাড়লেও কেউ দরজা খুলল না, তখন প্রতিবেশীরা থানায় খবর দিল। পুলিশ এসে  দরজা ভেঙে ঢুকল ভেতরে। একজন নয়, ভেতরে খুন হয়ে পড়ে আছে দুজন। প্রায় আধঘন্টা ঘোরাঘুরি করে বডি দু'টোকে পোস্টমর্টেম-এ পাঠাতে বলে জায়গাটাকে সিল করে দু'জন পুলিশকে প্রহরায় রেখে চলে যায়। পরেরদিন এসে আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে 'দুজন কি করতেন ? ওদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক কী ছিল?' সবাই উত্তর দেয়, যতদূর জানি ওরা দু'ভাই। দুজনে একসঙ্গে ব্যবসা করতেন। শুনে আবার প্রশ্ন করে পুলিশ ,'এখানে ওঁরা কি কাজে এসেছিলেন?'
- সম্ভবত ব্যবসার কাজেই। উত্তর দেয় একজন।
এরপর পুলিশ সবাইকে জেরা করতে শুরু করে। একজন বলে কালকে একজন লোককে আমি সন্ধের দিকে এখানে দেখেছিলাম। দেখি ও ঐ দুজনের বাড়ির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু আর ফিরে আসতে দেখি নি। জেরা শেষে পুলিশ ওখান থেকে চলে গেল। এরপর থানায় গিয়ে বড়বাবুর সঙ্গে থানার একজন পুলিশ আলোচনা করছিল। সে বলছিল "স্যার দেখুন, প্রথমত আমাদের খুনের মোটিভ জানতে হবে....." তখনই একজন পুলিশ বলল, স্যার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলছে চাকু জাতীয় কিছু দিয়ে খুন করা হয়েছে। সে চলে যেতে আবার সেই পুলিশটি বলতে শুরু করে "হ্যাঁ যেটা বলছিলাম মোটিভ, আমার মনে হয় মোটিভ টাকা, কেননা দু'জনের কাছেই ছিল অগাধ টাকা"। বড়বাবু এতক্ষণ চুপ ছিলেন। মুখ খুলে বললেন "আমার কাছে যতদূর খবর আছে ওঁরা বিয়ে থা করে নি।তার মানে কোন উত্তরাধিকার নেই।তবে শুনেছি ওদের দু'জন ভাইপো আছে। ওদের ভাইয়ের ছেলে। কিন্তু ওঁরা  নাকি কিছুদিন ধরে কোন এক চ্যারিটিতে তাদের সমস্ত সম্পত্তি দান করে দিতে চাইছিলেন। তাহলে কি..." দু'জনেই কি একটা ভেবে উঠে পড়লেন। তাদের ড্রাইভারকে গাড়ি রেডি করতে বলে তারা সোজা চলে গেলেন ওঁদের ভাইপোদের বাড়ি। বললেন, "ইউ আর আণ্ডার অ্যারেস্ট।" সে লোকানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জেরায় ভেঙ্গে পড়ে বলল আমার ভুল হয়ে গেছে আমি লোভে পড়ে লোক লাগিয়ে খুন করিয়েছি।
"তাহলে এবার জেলেই চলুন।"

         
ভালো লাগা খেলা
আয়ুষ্মান ব্যানার্জী, শ্রেণি সপ্তম, সেন্ট স্টিফেন্স স্কুল, কল্যাণী

ক্রিকেট পৃথিবীর সবচেয়ে  জনপ্রিয় খেলার মধ্যে একটি। ভারতে ক্রিকেট শুধু খেলা নয় একটা আবেগ। আমি খুব ছোটোবেলায় এ খেলার যাদুতে মুগ্ধ হই। আড়াই বছর বয়সে নাকি আমি ক্রিকেটের ব্যাট হাতে তুলে নিয়েছিলাম। অবশ্য, আমার নিজের ততটা মনে নেই। কয়েকটা পুরোনো ছবিতে দেখেছি। এবার এই খেলা নিয়ে কিছু বলি, এ খেলা দু দলের মধ্যে হয়। প্রতি দলে এগারো জন খেলোয়াড় থাকে। বর্তমানে তিনভাবে এ খেলা হয়,
 ১. ২০-২০, 
২.ও ডি আই(৫০ ওভার)
৩.টেস্ট (৫দিন বা ৪৫০ ওভার।

   ব্রিটিশরা এ খেলা আমাদের দেশে শুরু করলেও বাঙালি হিসাবে এ খেলার প্রথম সূত্রপাত ঘটান, সারদা রঞ্জন রায়চৌধুরী, বিখ্যাত রায় পরিবারের সদস্য।
  ভারত রনজি সিংজি, পাতৌদী, সি কে নাইডু চন্দ্রশেখর মতো ক্রিকেটারের জন্মভূমি। আমাদের গর্ব সচীন- সৌরভ দ্রাবিড়- কপিল-ধোনী। ভারত এই মুহূর্তে পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম একটি শক্তিশালী টিম। এবার নিজের কথা, আমি কল্যাণীর একটি ক্রিকেট ক্লাবে অনুশীলন করি, তবে গত একবছর সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। কবে যে আবার মাঠে যাব জানি না। আমার স্বপ্ন ভারতীয় দলে খেলার, সে স্বপ্ন পূর্ণ হবে কি?

জ্বলদর্চির ২২ তম ছোটোবেলা সংখ্যার পাঠপ্রতিক্রিয়া

অসীম হালদার

সত্যি কথা বলতে কি, যখন ছোটবেলায় শুকতারা বা আনন্দমেলা হাতে পেতাম, তখন মায়ের শত বকুনি তুড়ি মেরে আগে ঐ বইগুলো না
 পড়ে স্কুলের  পড়ার বই? অসম্ভব ব্যাপার! তার ওপর তো অরণ্যদেব, ম্যানড্রেক...ওঃ! এখনও পেলে বোধহয় শেষ না হওয়া অব্দি ধারেকাছে কারও কথা শোনার কথা ভাবতেই পারি না! 
'জ্বলদর্চি' হয়তো তেমনই একটি সৃষ্টি, যেখানে সুকুমার রায়ের 'খাই খাই' পড়তে অনুরোধ জানিয়েছেন শ্রী অমিয় বিশ্বাস। নারায়ণ দেবনাথ 'পদ্মশ্রী' সম্মানে ভূষিত হয়ে বাঁটুলদা আজ ভীষণ খুশী, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাসের কবিতায় দেখলাম। হাঁসফাঁস করা গরম আর লক ডাউনের সময়ে পড়াশুনো করার কথা ছোটদের মতো আমিও ভাবতে পারি নি; সপ্তম শ্রেণীর অঙ্কিতা বেরার ছবিতে দেখলাম সেই ছবি, যেখানে অত্যন্ত বাধ্য হয়েই সবাইকে বাড়িতে থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে! তৃতীয় শ্রেণীর দেবজিৎ মাকে যেমন ছাদে জামাকাপড় মেলতে দেখেছে, ছবিতে জানিয়েছে। বুদ্ধদেব, সান্তাক্লজ, পুকুরে ফুটবল পড়ে যাওয়া...সুন্দরভাবে ধরা পড়ে গেছে সপ্তম শ্রেণীর হিয়া বক্সী ও নিশান্ত এবং দশম শ্রেণীর সৌমাল্যের তুলিতে। এগুলো সবই ছোটদের ভাবনায় খুব সুন্দরভাবে স্থান পেয়েছে 'জ্বলদর্চি'তে। একটা দারুণ গল্প পেলাম দ্বিতীয় শ্রেণীর অস্মিতার লেখায়, যেখানে কিভাবে ইঁদুরের সাহায্যে ছোট্ট হরিণছানাটি তাদের মাকে উদ্ধার করে আনলো, দেখিয়েছে! কি সুন্দর ভাবনা! আছে আরও লেখা, যা সত্যিই কিশোরকিশোরীদের নতুন নতুন ভাবনার পরিচয় দিয়েছে; বিরক্তিকর হলেও সহ্য করেও তো পড়াশুনো চালাতে হয়, বাবা-মায়ের প্রতিদিনের এক কথা তো কানে টেপরেকর্ডারের মতো লাগেই, ওদের জায়গায় আমরা থাকলে ঠিক বুঝতে পারতাম! সেখানে এইসব সৃষ্টি নিঃসন্দেহে মরূদ্যানসম! ওদের চিন্তাভাবনায় আরও গতি আসুক, প্রাণবন্ত হোক, ওদেরকে যদি ওদের মতো জগতে হাঁটাচলা করতে ন্যুনতম অনুমতি দেওয়া যায়, তাহলে হয়তো ওদের মানবিক বিকাশ ত্বরান্বিত হতে পারে, আমরা অভিভাবক হিসাবেও হয়তো ওদের বন্ধু হতে পারব। প্রাণভরা আশীর্বাদ ও মঙ্গলকামনা রইল ওদের সবার জন্যই!

সাঁতরাইচেঙ্গার রহস্যময় সাতকাহন
গৌতম বাড়ই

আমাদের জীবনে সারাবছরে তিনশো পঁয়ষট্টি বা ছেষট্টি পালাক্রমে সকাল আসে। আমরা তাদের ভুলে যাই। সামনের বছরেও অতগুলো সকাল আবার আসবে। কিন্তু আমাদের অনেক অনেক বছর পরে দু- চারটি সকালের কথা ঘুরেফিরে মনে পড়বে ঠিক দেখো। আমার কাছে সেই রাতের গভীর ঘুমের পর সকালে ঝা- চকচকে রোদ্দুরের সাথে সেই ঘুম ভাঙ্গাটা এখনও মনে পড়ে যে কোন সময়। জানি এরকম সকালের পর সারাটা দিন খুব সুন্দর কাটে। পড়াশোনার চাপ নেই, বড়দের শাসানি নেই। মায়ের হাতে সুন্দর সুন্দর রান্না করা খাবার। বাবার রাশভারী মুখে দূর্দান্ত গল্পকথার আসর। রেডিও- তে গান শুনতে বা খেলা শুনতে বাধা নেই। নিষেধহীন বাধাহীন সেই সারাটাদিন।

দেখি উঠোনে বুলবুলি, চড়াই, শালিক, দোয়েল খুঁটে- খুঁটে কী যেন খাচ্ছে। আমাদের কিছু কৃষিজমি ছিল। ধান থেকে চাল বের করবার পর জৈতু উঠোনের এককোণে ধানের তুষ জমা করতে। ধান ভাণার পর কিছু চালের দানা  পড়ে থাকে কিছু তুষে। পাখিরা খাবারের সন্ধানে গন্ধ পেয়ে তাই খুঁটে খায়। মা তার সঙ্গে কিছু চাল আর গমের দানা পাখিদের খেতে দিত। রঙ- বেরঙের বাহারী পাখি দেখে মন ভরে উঠল। আমি দৌড়ে আমাদের কলপাড় পেরিয়ে কলাবাগানের দিকে গেলাম ওখানে ছাইগাদার থেকে আজ সকালে বিরাট এক মেটেআলু তোলা হয়েছে দেখতে। বাবা পানুর কাছ থেকে শোলমাছ এনেছে উঠোনের একদিকে জিয়ল মাছের বড় হাঁড়িতে রেখেছে। সকালটা শুরু  হল একগাদা আনন্দ দিয়ে। 

এমন সময় আবার খবর পাওয়া গেল দেওয়ানিকাকাকে তার বাড়িতে দেখা গিয়েছে। তবে দেওয়ানিকাকা একদম চুপ মেরে আছে, কোন কথা বলছে না। সবাই যখন এটা-ওটা জিগ্গেস করছে তাকে, সে বলছে-- আমি কিছু জানিনা। কিচ্ছু জানি না।  অবাক হয়ে সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছে। হলটা কী দেওয়ানির? -- বাবা, নিশিকান্ত জেঠুকে বাড়ির সামনে পেয়ে জিগ্গেস করল। নিশিজেঠু বললেন--- কিছু বুঝতে পারছি না বিনয়! আমি মনেমনে হাসলাম। তবে ইলু- বিলু আর তিলুর খবর কী? আমায় তো অদৃশ্য থেকেও খবর দিয়ে যেত, তারা কোথায় এখন? বিনয়কাকা বা পৌঁছালো কী করে ঘরে?

দেওয়ানিকাকা বেলার দিকে আমাদের বাড়িতে এলেন। এসেই চুপচাপ মুখ গোমড়া করে বসে ছিলেন। সবে বলতে শুরু করেছিলেন-- বিনয়দা আমার জীবনের দর্শন পাল্টে গিয়েছে। আমি আবার সব নতুন করে ভাবছি। 

বাবা বললেন-- তা তুমি এ কদিন কোথায় ছিলে? জান তোমার বাড়ির জমিতেই কী সব অদ্ভূত কাণ্ড ঘটেছে? আমাদের তো কিছুই মাথায় ঢুকছে না। সাঁতরাইচেঙ্গা আর পাশের ভুটনীরঘাটে কী সব ঘটে যাচ্ছে।

-- কী দাদা? তবে কী জানেন---- এই যেই না কথা বলা অমনি বিনয়কাকার মুখ দিয়ে আঃ! আঃ! আর্তনাদ বেরিয়ে এলো। মুখগুলো লাল হয়ে উঠল। বাবা বললেন-- কী হল দেওয়ানি?

আমরা দৌড়ে এলাম কাছে। সবাই হতচকিত হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। দেওয়ানি কাকার সামনে এসে তাকে ঝুঁকে পরে দেখছে। দেখলাম দেওয়ানির হাতে বাঁধা তাগা- ধাগা- তাবিজ- কবজ কিছু নেই। দেওয়ানি কাকা সত্যি এখন সাফসুতরো মানুষ। বিডিও এমন সময় বাড়িতে বিনয়কাকাকে না পেয়ে জিপগাড়ি নিয়ে আমাদের বাড়ির সামনে দাঁড়াল। এগিয়ে আসছে জিপ থামিয়ে বাড়ির দিকে, কপালে কী এক ফোঁটা আর হাতের আঙুলের দিকে তাকিয়ে দেখলাম একগাদা লাল- নীল- সবুজ পাথরের আংটি। আগে মনে হয় না বিডিও ছিরিং লেপচার হাতে এইসব ছিল। আমি ফেলুদার গোয়েন্দা গল্প পড়তে পড়তে এইসব খুব খেয়াল করি আজকাল। তাই সামনে বসা একজন আর একজন সবে হাজির হওয়া লোকের এইসব পার্থক্য চোখে পড়ল। জানি, এরপর বাবা বলবেন- তোমরা ছোটরা এখানে আর ভিড় কর না। বাড়ির ভেতর যাও। তাই আগেভাগেই সরে পড়লাম ওখান থেকে। তারপর বড়রা গোল হয়ে বৈঠকে বসলেন। সবাই খুব চিন্তিত। তবে সবাই আনন্দিত সুস্থ সবল দেহে দেওয়ানি বিনয়কাকা ফিরেছেন বলে। যদিও বিনয়কাকা এখন বলতে গেলে মৌনীবাবা হয়ে রয়েছেন।

সেইরাতে ঘটল আর এক রহস্যময় ঘটনা। পরদিন সকালে জানলাম। সারারাত সাঁতরাইচেঙ্গা আর  আশপাশের দু- তিনটি গ্রামেরও রাতের পাহারায়  পাহারাদার লোকজন দেখেছে সাদা চাদর মুড়ে দু- তিনজন বৃদ্ধ হেঁটে বেড়াচ্ছে। দেখা দিচ্ছে কিন্তু এগিয়ে যেতেই তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। পাহারাদার লোকজনের বেশিরভাগ আজ গতরাতে ঐ ভীষণ ভয় পেয়ে সবাই ভুটনীরঘাট হাইস্কুলের মাঠে জমায়েত হয়েছে। সবাই বলছে এ আবার  কী হল নতুন করে? আমি অনুপকে বললাম -- ঐ তিনজন বামন তো বানজারাদের সাথে বিদেয় হয়েছে, তারা তো নয়। বলেই আমি বুঝলাম এ ঠিক হল না। কথা অন্যভাবে শুরু করলাম। তবে যে বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাদের দেখা যাচ্ছে তাদের উচ্চতা কেমন? কারও কাছে মানে বড়দের কারও কাছে জেনে বলতে পারবি অনুপ? 

অনুপ বললে-- দেখছি দাঁড়া। ঐ বংশীকাকাকে- ই জিগ্গেস করব।

আমি মনে মনে ভাবছি, এ ইলু- বিলু- তিলু হবেই না। কারণ ওরা যদি এরকম করত আমায় তাহলে জানাত। তবে ওরা কারা? এই নতুন উপদ্রব আবার কিসের? গতকালের দিনটি দেওয়ানি কাকা আসবার আগে পর্যন্ত খুব সুন্দর ছিল। সকালের রোদ, রঙ- বেরঙের পাখি,  আমার সব মনে আছে এখনও। তবে মাথায় আজ ঘুরপাক খাচ্ছে ঐ এক চিন্তা, এরা কারা?

জানতে হলে অপেক্ষায় থাকো পরের পর্বের জন্য।
আর 'ছোটোবেলা' কেমন লাগছে তোমাদের? সম্পাদককে চিঠি লেখ এই পাতায়। তোমাদের আঁকায় আর লেখায় ভরে উঠুক ' ছোটোবেলার' পাতা। অনেক শুভেচ্ছা তোমাদের।

আজকের বিষয়:- বিশ্বের উচ্চতম কিছু স্থান তারসাথে তাদের পরিচয়।

১. বিশ্বের উচ্চতম বিমানবন্দর কোনটি?
২. বিশ্বের উচ্চতম শহর কোন দেশে অবস্থিত?
৩. বিশ্বের উচ্চতম সড়ক কোন দেশে অবস্থিত?
৪. বিশ্বের উচ্চতম বাঁধ এর নাম কি?
৫. পৃথিবীর সবথেকে উঁচু বাতিঘর কোন দেশে দেখা যায়?
৬. বিশ্বের উচ্চতম হ্রদ টিটিকাকা। এটি কোন আমেরিকায় অবস্থিত?
৭. বিশ্বের উচ্চতম অট্টালিকা কোন দেশের অন্তর্গত?
৮. পৃথিবীর উঁচু পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
৯. মালভূমিদের মধ্যে পৃথিবীর উঁচু মালভূমি কোনটি?
১০. বিশ্বের উঁচু প্রজাতির গাছের নাম কি?

আগের সপ্তাহের উত্তর:-
১.আন্দিজ পর্বতমালা  ২.ভারতের রামেশ্বর মন্দিরে ৩.ট্রান্স সাইবেরিয়ান ৪.হারবার বন্দর ৫. নীলনদ  ৬. ব্রাডওয়ে ৭. চীনদেশে  ৮. জাপানে ৯.আফ্রিকা ১০.বাল্টিক হোয়াইট অফ ক্যানেল।

পেজ-এ লাইক দিন👇
আরও পড়ুন 

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি