Posts

Showing posts from November, 2021

Z-generation poem-2~ Arun Das

Image
Z-generation poempoem-2                Arun Das এগারো. চাঁদহীন রাতে হারানো সুরে আঁকি প্রয়াগ ৷ নিঝুম, নিসর্গ ঘুম সঙ্গম ছুঁয়ে থাকা ঈশ্বরীর পা সৌম্য শিবের জটা ছুঁয়ে                       আদুরে গঙ্গায় যমুনা যেন আদিবাসী সন্ধ্যায়             পথ হারানো কিশোরী পর্ণমোচী ভোরে,        বর্ণ লেখা সরস্বতী শীত ৷ ..... আরাধ্য জীবন এ মুগ্ধ শরীরে লিখে রাখি                            দৈব জীবন ৷ বারো. ছবির শহর নেই অচেনা এয়ারপোর্ট, নি:সঙ্গ শূন্য ফ্লাইট অবাধ তারাদের ম্লান রানওয়ে  মুছে যায় তৃপ্ত চাঁদ মেঘের ছায়া ঘুমে,       পথ ভুলে যাওয়া পাখিরা ৷ তেরো. জন্ম যেন খাঁচা ভাঙা পাখির ছল৷ ভেজা মাটির গন্ধে থেমে যায় দামাল পা ৷ এই যে ,ভুল রাস্তা বেয়ে মুগ্ধ হেঁটে যাওয়া.... এই যে ,সাহসহীন সতর্ক পথচলা.... পাথর হৃদয়ে চুঁইয়ে আসা আলোয়, মেখে নেওয়া রামধনু রং ? ..... হিমেল হাওয়ায় ভেসে আসে বাঁশির ধুন ৷ মন মাতিয়ে যাওয়া শরীরের ভাঁজে৷ চৌদ্দ. ...... ঝলসে যাবো বলেই       সাজিয়ে রাখি বাগান সরু পথ হেঁটে যায়                     বনের ভেতর শুকনো পাতার মর্মরে,          জেগে ওঠে ভূত রাত ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, ভেসে যায় ডাকিন

কিছু ছন্দ, নিরানন্দ/পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
কিছু ছন্দ, নিরানন্দ পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়   (এক) হারিয়ে যাওয়া ইচ্ছেগুলো যবে, পথের ধুলোর সঙ্গে মিশে থেকে, স্বপ্নে দেখে ইচ্ছে মেটার সাধ্য। জয়ীর বেশে তিলক টিকায়, জলের দরে ইচ্ছে বিকায়, ঠিক তখনই সাধগুলো সব যেই হয়ে যায় বাধ্য- এ মন আমার হারার শেষের অন্ধপথে দাঁড়িয়ে থেকে বলে। যুদ্ধে, প্রেমে সকল দখল চলে। (দুই) সে রামের সে অযোধ্যা নেই, সে রাবণের সীতা। উপেক্ষা যার তুষের মত, জ্বালায় পোড়া বুকের ক্ষত, ক্রুদ্ধ দুটো চোখের জলে ইন্দ্রজিতের পিতা, হেরে যাওয়ার দুঃখে ক'রে জয়। বলে, তাদের হারা'ই ভালো, যাদের বোধে এ'ও মৃতপ্রায় অধিকারের অর্থ জানতে হয়। (৩) কেউ কেউ হতাশায় গুটায় ভিতরে। কিছু ভালো, মন্দ, কিছু ভদ্র ইতরে। সামান্য কয়েকজন দাঁড়িয়ে পড়ে রুখে। কেউ বেঁচে থাকাটাকে, মিনমিনে বলে থাকে, কেউ রুখে দাঁড়ানোটা পোষে মনের সুখে। (৪) কাগজের নৌকার মত  মাঝিমাল্লা হীন। বয়ে চলি নিরুদ্দেশে  সারা রাত্রি দিন। পরোয়া করি না ভয়ে নেই তাতে সায়। এভাবে নিজের ছাঁচে বেঁচে থাকা যায়। (৫) পাইকারি দরে কিনে চড়া দরে বেচি। যাবতীয় অহং বোধ রাগ, চ্যাঁচামেচি। মাথা উঁচু করে বলি পাষণ্ড, সঘোষে। এভাবেই বাঁচে লোকে নিজ গুণে দোষে। (৬)

ইউরোপ (ইংল্যাণ্ড)-র লোকগল্প (তিন নম্বর শূকরছানার নৈশভোজ)/ চিন্ময় দাশ

Image
দূরদেশের লোকগল্প—ইউরোপ  (ইংল্যাণ্ড) তিন নম্বর শূকরছানার নৈশভোজ   চিন্ময় দাশ    অনেক অনেক কাল আগের কথা। কত কাল আগের কেউ বলতে পারে না। তখন শূকরছানারা ছড়া বলত। তামাক চিবাত হনুমানের দল। আর মোরগ-মুরগি নাকে নস্যি টানত গতরে শক্তি হবে, এই আশায়। এমনই ছিল দিন কাল।    তিনটি ছানা এক শূকরীর। কী নধর চেহারা বাচ্চাগুলোর! আর ধবধবে সাদা গায়ের রঙ। কিন্তু একটু বড় হতে, বাচ্চাগুলোকে খাওয়ার জোগাবার ব্যবস্থা করতে পারছে না মা। তখন একদিন বাচ্চাদের ছেড়ে দিয়ে মা বলল—যাও বাছারা, নিজেরাই এবার দুনিয়ার হালচাল বুঝে নাও। নিজের পায়ে দাঁড়াবার চেষ্টা করো।   প্রথম বাচ্চাটা চলতে চলতে একজন লোকের সাথে দেখা। লোকটা তার খামারে ফসল মাড়াই করছিল। শূকর গিয়ে বলল— ঘরদোর নাই আমার। এক আঁটি খড় দেবে আমাকে? ঘর বানাবো।  লোকটা না করল না। তার কাছ থেকে খড় নিয়ে নিজের জন্য একটা ঘর বানাল ছানাটা।    হয়েছে কী, একটা নেকড়ে ছানাও শিকার শিখছে আজকাল। সে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায় শিকারের খোঁজে। সেই নেকড়ের চোখে পড়ে গেল ছানাটা। একদিন সোজা শূকরছানার ঘরে এসে হাজির হয়ে গেল নেকড়ে। দরজায় টোকা দিয়ে বলল—শূকরছানা, শূকরছানা। একটু ভেতরে আসতে দেবে আমাকে?  ছানা

মেদিনীপুরের খেপুত ও আরিট গ্রাম জেলার ইতিহাসকে আরও ভাস্বর করে /দুর্গাপদ ঘাঁটি

Image
মেদিনীপুরের খেপুত ও আরিট গ্রাম জেলার ইতিহাসকে আরও ভাস্বর করে  দুর্গাপদ ঘাঁটি  "ক্ষেপুত  ভাটরা তড়া    গোপালনগর শ্রীবরা                 পঞ্চপাটে পঞ্চ ভট্টাচার্য দেব অনুগ্রহে কবি         এ পঞ্চপান্ডব সেবি               তবে কৈল কবিতায় ধার্য্য।"                          অথবা "ভকতিতে তেজচন্দ্র        স্বর্গের রাজা ইন্দ্র                      প্রতাপ চন্দ্র নন্দন সে রাজার রাজ্যতুটে      খেপতে খেপাই পাটে                 কৃষ্ণকিঙ্কর করিল বচন।"                                - কবি কৃষ্ণ কিংকর     শীতলামঙ্গলের কবি কিংকরের কবিতায় খেপুত  গ্রাম ও এখানের 'ক্ষেপুতেশ্বরী' মন্দির কতটা ইতিহাস ধরে তা নিয়ে মাটি খুঁড়তে গিয়ে বিস্মিত হতে হয়।      মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানা জেলার এক্কেবারে পূর্বপ্রান্তে রূপনারায়ণ,শিলাবতী ও কংসাবতী নদ-নদী বেষ্টিত উর্বর পলিযুক্ত মৃত্তিকা  এই থানাকে কৃষি-শিক্ষা-সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা আন্দোলনে গৌরবময় স্থানে পৌঁছেদিয়েছিল এ কথা ইতিমধ্যে নানাভাবে আলোচিত হয়েছে।       প্রাচীনকালে দাসপুর থানার বেশিরভাগই ছিল নদী-নালা জঙ্গলে ভরা জলাভূমি।প্রাচীন শ

শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী সন্তানেরা-১/প্রীতম সেনগুপ্ত

Image
শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী সন্তানেরা প্রীতম সেনগুপ্ত  পর্ব ১ শুরুর কথা স্বামী গম্ভীরানন্দ প্রণীত ‘শ্রীরামকৃষ্ণ - ভক্তমালিকা’ গ্রন্থের ভূমিকায় স্বামী মাধবানন্দজী লিখেছেন--“শ্রীভগবান্ যখন জগতে অবতীর্ণ হন তখন তাঁহার দুইটি মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে। প্রথম--যুগ প্রয়োজন অনুসারে ধর্মের গ্লানি-অপনোদন, দ্বিতীয়-- রসাস্বাদন। এই উভয় কার্যের সহায়করূপে তিনি বিশেষ বিশেষ যোগ্য পাত্রকেও ধরাধামে আনয়ন করেন। ইঁহারা বিভিন্ন স্থানে জন্মগ্রহণ করিলেও যথাসময়ে তাঁহার সহিত মিলিত হন এবং তাঁহার কৃপায় অচিরে নিজ নিজ স্বরূপ ও তাঁহার সহিত তাঁহাদের চিরন্তন সম্বন্ধ অবগত হন। এইরূপে তাঁহারা নিজেরা তো কৃতকৃত্য হনই, অধিকন্তু শ্রীভগবানের পূর্বোক্ত দ্বিবিধ লীলাপুষ্টির সহায়কও হন। ইহাদের মধ্যে কেহ তাঁহার অঙ্গ, কেহ উপাঙ্গ, কেহ বা তাঁহার পার্ষদাদি। ভগবান্ যতদিন স্থূলদেহে সংসারে বিরাজমান থাকেন, ততদিন ইঁহারা তাঁহাকে লইয়া আনন্দ করিয়া থাকেন ও সঙ্গে সঙ্গে তাঁহাকেও আনন্দ দেন এবং তাঁহার উপদেশ-অনুসারে নিজ নিজ ধর্মজীবন গঠন করেন। পরে ভগবান্ স্থূলশরীর ত্যাগ করিলে ইঁহারা তাঁহার আরব্ধ লোককল্যাণকার্যে আত্মনিয়োগ করিয়া যথাকালে স্ব স্ব ধামে প

Z-generation poem-1 ~ Arun Das

Image
Z-generation poem Arun Das এক . আজ অনায়াসে এঁকে ফেলি কালো মেঘে ঢাকা আদুরে                            আকাশ শরীর জুড়ে আল্পনা আঁকা                    বর্ষাজল নদী৷ ঝুলন্ত ঝরনা পেরোলে ,   জন্ম নেয় ১ম রাত্রিবাস ৷ দুই . উড়ে যাওয়া মেঘ উঠাও আকাশ ছেড়ে ছুঁয়ে ফেলে সবুজ পাহাড় ৷ তিন. ঊনিশানীর উরুতে থমকে যায় বাঁশবন হঠাৎ - ই বুনো ফুলের গন্ধে লুকোচুরি                        খেলে মেঘ ৷ চার. ঋতুমতী ভোরে হাঁটতে হাঁটতে থমকে যাওয়া                                  রোদ ৷ লুকোচুরি খেলে মেঘমহলে ৷ পাঁচ. ওঁ উচ্চারণে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে শূদ্র আকাশ ৷ ঔরস যেন হেঁটে যাওয়া শুক্রানুর উদাসীন পথ৷ অযত্নে ফোটা বুনো ফুল ৷ জ্যোৎস্না ছোঁয় কোণ ৷ ঝরাপাতায় লিখে রাখি এ জীবন ৷ ছয় . ক্লান্ত শরীর যেন দুর্গম মাঠ। স্পষ্ট পথ হেঁটে, এক পশলা ঘুম।  ..... তুই কি জানিস চূর্ণী, রাত কতটা নিঝুম হলে, পিঁপড়ের পায়ে জন্ম নেয়                         বর্ণমালা? বর্ণহীন বৃষ্টি নামে                 সবুজ অক্ষরে? সাত. খুশির রাত ৷ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে একদিন মুগ্ধ চাঁদ লিখে রাখে জঙ্গল ৷ তোর শরীরের তীক্ষ্ণ বাঁকে স্তনভেজা ওঁ কার ৷ ক্লান্তি ফে

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা- ৫৯

Image
সম্পাদকীয়, ছোট্টবন্ধুরা, তোমরা সব ভাল আছো তো? হ্যাঁ, গো হ্যাঁ, আমিও তোমাদের সঙ্গে ছোটোবেলার সাত রঙে রঙিন সাত রবিবারের এত্ত এত্ত গল্প ছড়া পড়তে পড়তে পড়তে গল্প আর ছড়ার দেশে চলে গেছিলাম। হঠাৎ দেখি সামনেই আব্বে জলপ্রপাত। তোমাদেরও নিশ্চয়ই আমার মতোন অবস্থা! উৎসব চলে গেছে বলে মনখারাপ? কিন্তু জানো তো, উৎসব চলে যায়, রয়ে যায় উৎসবের রেশ। সেই রেশের দিকে নজর দিলে দেখতে পাবে, তাতেও আছে উৎসবের গন্ধ। সেই আনন্দে আমরা মেতে উঠি খাওয়া দাওয়ায়। মনে আছে তো ফুলকুসুমপুরে কি উৎসব ছিল। হ্যাঁ, স্বাধীনতা দিবসও তো একটা উৎসব। তাই রসগোল্লা নিয়ে এসেছেন স্কুলে। কে? বলব না। রতনতনু জেঠুর উপন্যাস পড়ে জেনে নাও। পাইলেও পাইতে পারো রসগোল্লা একখান। হা হা হা। এদিকে আমরা যে শারদ উৎসবে মেতে এতদিন নানা গল্প কবিতা প্রবন্ধ পড়ছিলাম সেই শারদ উৎসব নিয়ে একটা স্মৃতিকথা লিখেছেন আইজ্যাক আঙ্কেল। আর সুব্রত আঙ্কেল দুগগা মাকে আবার আসতে বলছেন। তোমাদের বন্ধু শুভশ্রী লিখেছে দুগগা পুজোর কথা। সুতরাং কে বলল উৎসব শেষ, তোমাদের পাঠানো আঁকা ছবিতে ভরে গেছে ছোটোবেলার দপ্তর। সেগুলোতেও উৎসবের রঙ লেগে আছে। তারই কিছু নমুনা এবারের আঁকাগুলোয়। কিন্তু

কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের সাক্ষাৎকার নিলেন গবেষক অভিষেক রায়

Image
কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের সাক্ষাৎকার নিলেন গবেষক অভিষেক রায় উপন্যাসের কিছু প্রশ্নের উত্তর সন্ধানে সমরেশ মজুমদারের মুখোমুখি   সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- ড. অভিষেক রায়  আধুনিক কথাসাহিত্য তথা উপন্যাসের ধারায় অন্যতম জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার। প্রধানতঃ উত্তরবঙ্গকে সাহিত্যের পৃষ্ঠায় তুলে ধরে সাহিত্যধারায় তাঁর জয় যাত্রা শুরু। তবে কাহিনির সংগতি বিধানে দক্ষিণবঙ্গ একেবারে বাদ যায়নি। সমরেশের পাঠক মাত্রই জানেন যে, তাঁর বেশ কিছু জনপ্রিয় উপন্যাসের কহিনি উত্তরবঙ্গে শুরু হয়ে দক্ষিণবঙ্গে শেষ হয়েছে। এসব কিছুকে ছাপিয়ে বিষয় বৈচিত্র্যই সমরেশ-এর উপন্যাসের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। তাঁর লেখা বিভিন্ন উপন্যাস পড়তে পড়তে অসংখ্য প্রশ্ন মনে জেগেছে। তারই উত্তর সন্ধানে এই সাক্ষাৎকার। প্রশ্নগুলো কথোপকথনে বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্ন ভাবে উঠে এলেও উত্তরগুলো অনুসন্ধিৎসু পাঠকের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আশা রাখি।        অভিষেক : আজ প্রথমে আপনার অর্জুন চরিত্রটি সম্পর্কে কিছু জানতে চাই। আপনি অর্জুনকে একটা বয়সের সীমার মধ্যে আটকে রেখেছেন কেন? সমরেশ: অর্জুনকে নিয়ে আমি কোন অ্যাডাল্ট গল্প লিখিনি। এখন