চারটি কবিতা /শুভশ্রী রায়



চারটি কবিতা 

শুভশ্রী রায়


মীনহীনের বিলাপ  

মাছের বাজারে গিয়ে দাম শুনেই উল্টে যাই
আমার প্রিয় মাছগুলোরই দাম বেশি, হায় হায়!
কী যে করি পমফ্রেট প্রায় আটশো টাকা কিলো
এ দিকে নির্মম ভাগ্য আমার চাকরি খেয়ে নিল!
পাবদাও তো দামী, ঠিক ততটাই চিংড়ি একটু বড়
মাছের বাজার ঢুকেই আমি ভয়েতে জড়োসড়ো!
মাছ বিনা কী বাঙালি বাঁচে? কিনি একটু লোটে
কপালে আজকাল এ সব সস্তা মাছই জোটে।
তবে জুৎ করে রাঁধতে পারলে লোটে ভীষণ স্বাদু
আমার হাতে মোটেই নেই ঠিক তত রাঁধন-জাদু।
তবু মাখোমাখো লোটে দিয়েই এক থালা ভাত খাই
এ ধরণের কম দামী ছাড়া এখন মৎস্য কোথায় পাই
আমার আর্থিক হাল কেমন, বুঝি ঢুকে বাজার মীন
সেখানেই টের পাওয়া যায় আমি কোন স্তরের দীন!



টক মাহাত্ম্য  

খাই কয়েতবেল মাখা আর প্রিয় তেঁতুলের চাটনি
হাসিমুখে করি ভালোবেসে, মোটেই হয় না খাটনি
খাই কাঁচা আম মাখা কত, টুকরো টুকরো আমড়া
পরম আনন্দে কেঁপেকেঁপে ওঠে ব্রহ্মতালু ও চামড়া!
চাখি কামরাঙা আর সময় আসলে জলপাইয়ের টক
সারা দিন আমি তেঁতুল হজমির গুণ গাই বকবক।
অনুভব করি পাতি লেবু, কাগজি বা গন্ধরাজের জাদু
পাই টকটক অপূর্ব ঘ্রাণ আর পৃথিবীটা লাগে স্বাদু!
খাই আমলকি তারিয়ে তারিয়ে, চালতা যতটা পারি 
বড় অপূর্ব টক ভোজন করতে যেন কখনো না হারি!
অমৃত অম্ল মেশায় কত না সোয়াদ একঘেয়ে জীবনে
টোকো এ কলমে গাই টক-গুণ টকেটকে সুখী মনে!



বদমেজাজী বিল্লি

ওরে ও বদমেজাজী বিল্লি!
কী এমন বিরাট কষ্ট গিল্লি
যে এখন মরিস চিল্লি?

এসব না করে
চলে যা না সংসদীয় দিল্লি!
সংসদ ভর্তি তোর চেয়েও
ঝগড়ুটে দু'পেয়েদের নিয়ে
করে সংবিধান মেনেই কত খিল্লি।
   
অসন্তুষ্ট, অভুক্ত, বঞ্চিত তুই বিল্লি
এই বেলা যেভাবে ঢোক দিল্লি
হতেও পারে তোর সাংবিধানিক হিল্লি!



পথগোল্লা

চল বন্ধু, হল্লা না করে গোল্লায় আমরা এবার যাই
পথ কোথায়? বড় আগ্রহ নিয়ে দিশায় দিশায় চাই
রাস্তা না হয় খুঁজে নেব, আগে তো জামাটা গায়ে গলাই
দামী চটির দরকার নেই, যে কোনো পরেই পা বাড়াই
গোল্লা যাওয়ার নামেও একটু বেরনো তো হবে ভাই
জানিস তো আমি কমই বেরোই, বড় খুশি আজ তাই!
যদিও জানি না গোল্লা নামে সে স্থান আসলে কেমন
সেটা কী জায়গা না অদ্ভুত, জাদু বেজায়গা যেমন
সব দেশের রপকথায় প্রায়শই দেখা আর শোনা যায়,
যে দেশ জানি না, সে দেশে যাওয়ারও রয়েছে বহু উপায় 
চল, একটু এগিয়ে একটু পিছিয়ে গিয়ে দেখি গোল্লায়
হাজারটা টাকা আর সামান্য কিছু পোষাক ভরে নে ঝোল্লায়।

শোন না, জায়গার নামই বড় বড় করে গোল্লা যখন
ধারণা করছি সে স্থানে নেই কোনোই ধারালো কোণ
সে সব থাকলে আমরা না হয় পালিয়ে আসব ক্ষণ
ভেবে ও চিন্তে তার ও পরে রায় দেয় আমার মন
পৌঁছুতে হবে গোল্লায় তাও বড় ভালোবাসা নিয়ে
এত দিন বাস করলাম না-গোল্লায় মাথাটি ঢুকিয়ে 
সব রসবোধ, মজা করবার ইচ্ছা গিয়েছে শুকিয়ে
দেখি সে ভ্রমণ স্থির রেখেছেন কী না কপাল-লিখিয়ে!
তাঁর ওপরে চলে না কারুর হুকুম, ইচ্ছা, হম্বিতম্বি
দেখি তো বেরিয়ে, পথেও তিনিই ছড়িয়ে, জানবি।
গোল্লায় গিয়ে দেখি জাগে কি না রসবোধ নির্মল
চল তুই আর আমি দি' রওনা, লাগবে না দলবল!

আরও পড়ুন

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শিবচতুর্দশী /ভাস্করব্রত পতি