চারটি কবিতা /শুভশ্রী রায়

চারটি কবিতা
শুভশ্রী রায়

জাদু, আয় না!     

আয়না কবিতা বলে না, না জানে জাদু
নির্ভেজাল, কঠিন-কঠোর বাস্তব মানে
কিন্তু আমরা অনেক, অনেক জাদু চাই!
তাই জাদুআয়নার কথা আমাদের টানে।

জাদুআয়না! আছে না কী সেরকম কিছু?
মনে হয় নেই, না থাকুক, বানিয়েই নেব।
জাদুকে বলব, আয় না, দর্পণে মিশে যা
কাহিনী বানিয়ে মনকে সেরা উপহার দেব।



আয়না বায়না 

আকাশ আমার বন্ধু তবু সেই শত্রুতা করে যেন
মাঝেমধ্যেই ভান্ডার থেকে এত জল ঢালে কেন?
কেন সে থাকে না সর্বদা হেসে খুশী ঝকঝকে নীল
মাঝেমাঝেই থমথমে কালো তার সুগভীর দিল।

অপছন্দ রাগী আকাশ, চাই তাকে সেরা আয়না!
প্রকৃতির কাছে এই টুকু করি স্বচ্ছ সহজ বায়না।
গগন হোক নীল ঝকঝকে, কাচের থেকেও কাচ
সাথে আহ্বান, "আমার সঙ্গে হাসিমুখে তুই বাঁচ।"



শপথ        

আয় মন শক্ত করে তোর হাত ধরি
কাঁটা ভরা জঙ্গল কেটে সাফ করি
মসৃণ ও সহজ পথ নাই মেলে যদি
কিম্বা ফুঁসেও ওঠে আগুনের নদী
তবুও তো থামবে না পা আমাদের
জানি বিজয় হ'বে আগুন স্বাদের!
আয় মরণের নামে নি' আজ শপথ
সামনে শতেক আসুক কষ্ট-বিপদ
মুখে হাসি নিয়ে চরমকে করব বরণ
তাও জিতবে না কোনো প্রলোভন!



চটাসপটাস   

কেন আমার নামে এত বেশি মিথ্যে কথা রটাস,
যে ব্যাপার ঘটেনি জীবনটায় সে ঘটনাও ঘটাস?
আমার মুখ না দেখার জন্য একে ওকে পটাস?
ভাবছি এই বার তোর বদনে চড় মারব চটাস!
তখন তো আবার তুই আগুন রেগে হবি খটাস
ঘটা করে জেল ঢোকাবি, দুঁদে উকীল জোটাস।

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇

Comments

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯