Posts

Showing posts from September, 2022

বনমহোৎসব /অমিতরূপ চক্রবর্তী

Image
বনমহোৎসব অমিতরূপ চক্রবর্তী ভোরের দিকে ঘুম ভাঙল আমার। চোখ খুলে তাকাতেই টের পেলাম মস্তিষ্ককে পেঁচিয়ে ধরা নেশার চাপটা এখনো আছে। ঘরের আলো নেভানো হয়নি। ঠা ঠা করে আলোটা জ্বলছে। ক’টা বাজতে পারে আন্দাজ করার চেষ্টা করলাম। এখন কি রাত না কি ভোর-ভোর? সময় দেখার জন্য কোনো ঘড়ি কোথাও খুঁজে পেলাম না। রান্নাঘরের দিকে দরজার ওপরে একটা ছিল, এখন সেটা নেই। কেউ সরিয়ে নিয়েছে হয়তো।  গলা অবধি চাদর টেনে শুয়েছিলাম। এখন টের পেলাম গায়ে, গলায় ঘাম এসেছে। ফেলে দিলাম চাদরটা। উঠে বসতে গিয়ে দেখলাম নেশাটা এখনো বেশ শক্তভাবে চেপে বসে আছে আমার ওপর। খাট থেকে মেঝেয় পা রেখে দাঁড়াতেই খানিকটা টলে গেলাম। তারপর খানিকটা সময় দাঁড়িয়ে থেকে রান্নাঘরে গিয়ে দেওয়াল হাতড়ে আলো জ্বাললাম। জল তেষ্টা পেয়েছে। সিংকের সামনে খুচরো কিছু বাসন। দেখে বুঝলাম রাতে কারও খাওয়া হয়নি। কোনো বাসনে নতুন এঁটোর দাগ নেই। কয়েকটা প্লেটে কিছু টোমাটো সস আর কাঁটাচামচ রাখা। এলোমেলো কয়েকটি গেলাস। একটা পলিথিনের ক্যারি, তার মধ্যে ভিজে নেতিয়ে থাকা খবরের কাগজ। কেমন একটা গন্ধ আসছে তা থেকে।  এলোমেলো গেলাসের একটি সিংকে ধুয়ে জল খেলাম। জলটা মুখে টানতেই গা-টা ঘুলিয়ে উঠল।

যেতে যেতে পথে -৩৯/রোশেনারা খান

Image
যেতে যেতে পথে রোশেনারা খান পর্ব ৩৯ বাড়ির জন্য মন অস্থির হয়ে উঠেছে। বকুল ফোন করে জানিয়েছে, সামনের সপ্তাহে বাড়ি আসতে পারে । বাড়ি মানে মামাবাড়ি। এদিকে ভাড়াটিয়ারা নেই, ট্যাঙ্কে জল ভরে যায়নি। কাজের মেয়ে গাছে জল দিতে পারছে না। এদের কমন সেন্স বলে কিছু নেই। যাই হোক লন্ডন থেকে ফিরেছি গতকাল। আজ (২৭ মে) নতিংহামে আজ দলাইলামা আসেছেন, তাই এখানে বসবাস করা চিনারা প্ল্যাকেট হাতে নিয়ে সিটিসেন্টারে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।     আজ বারমিংহাম থেকে দীপের এক সিনিয়র দিদি রিমা, দাদা নীলাদ্রি আর  তাদের ছেলে আসবে জারাকে দেখতে। ওদের জন্য সকালে ডালপুরি আর আলুরদম বানালাম। দুপুরের রান্না আমি আর দীপ দুজনে মিলে করলাম। ও সরষে ইলিশ করল।  আমি মাটন ,আলুভাজা, আনারসের চাটনি, মুগেরডাল, বাঁধাকপির ঘণ্ট বানালাম। এখানকার বাঁধাকপি কলার মোচার মত লম্বাটে ও সূচলো, পাতাগুলো কোঁকড়ানো। আর একটা জিনিসেরও বাঁধাকপির মত স্বাদ, ভিতরটাও তাই, সাইজ  আমড়ার মত। একটা মোটা দণ্ডের গায়ে অনেকগুলো করে ফলে থাকে। এই সবজিটিকে ‘স্প্রউটি’ বলা হয়। ‘স্প্রাউট’ থেকে ‘স্প্রাউটি’। আমার এই এক দোষ, আবার ‘ধান ভাঙ্গতে শিবের গান’ শুরু করে দিয়েছি। 

আষাঢ়ে গল্পের আল ধরে --১৩/তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য

Image
আষাঢ়ে  গল্পের আল ধরে --১৩ তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য  পুরাতন  প্রেম  নতুন  ফ্রেমে   "পুরাতনকে বিদায় দিলে না যে  ওগো নবীন রাজা"    রবীন্দ্রনাথের  গানই একমাত্র  চির প্রাসঙ্গিক ।  যা নবীন  যা নূতন  তা পুরনো  ভিতের উপর দাঁড়িয়ে  আছে। প্রাচীন  যা কিছু  সম্পদ  সেই  ঐতিহ্যই  বর্তমান  ধরে রাখে। আধুনিক  কালের সাজে নতুন ঝলমলিয়ে ওঠে এবং প্রাচীন  ফিরে আসে নব রূপে  । এই যে ডাকবাক্সটা  পড়ে আছে  সেই  প্রাচীন ঐতিহ্য  নিয়ে। এককালে কত মুখর থাকত  ডাকবিভাগ পরিসেবা। কত মানুষের  কত সুখ দুঃখের সাথী  হল এই চিঠি।  সুকান্ত ভট্টাচার্য  এর লেখা আর হেমন্ত মুখোপাধ‍্যায়ের গাওয়া সেই কালজয়ী গান " রানার ছুটেছে  তাই ঝুমঝুম ঘন্টা বাজছে রাতে"  আমাদের  মনে এখনো আনন্দের প্লাবন আনে। এখন অফিশিয়াল  চিঠি ছাড়া আর কোনো চিঠি   খুব  একটা আসে বলে মনে হয় না। চিঠি লেখা কিন্তু  একটা শিল্প  তবে কী  মানুষ  চিঠি লিখতে ভুলে গেল ?  চিঠি নিয়ে কত গান মনে পড়ছে  বনশ্রী সেনগুপ্তর " আজ বিকেলের ডাকে তোমার  চিঠি পেলাম " প্রেমিকের চিঠির কত গোপনীয়তা  ভাবা যায়!  প্রিয়র চিঠির জন‍্য ঘর বাহির করতে করতে আমরা ক্লান্ত হয়ে

স্মৃতিভেজা পুজো প্রাঙ্গণে /অনিমেষ মন্ডল

Image
বসতবাড়ি স্মৃতিভেজা পুজো প্রাঙ্গণে অনিমেষ মন্ডল "আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জির, ধরনীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা, প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগতমাতার আগমনবার্তা,..." এই মোহময় কন্ঠধ্বনির মায়াজালে জড়িয়ে নেই এমন বাঙালি পাওয়া দুষ্কর। বিশ্বায়নের রথের চাকা আধুনিক থেকে অত্যাধুনিকের দিকে ছুটছে। আমরা যখন আন্তর্জালের মোহে আচ্ছন্ন, তখনও এই সুর হৃদয়ের নিভৃতে আলাদা এক তান তুলে। মুগ্ধতা আনে। জগজ্জননীর আগমনের সঙ্গে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্তোত্রের নিবিড় যোগ শাশ্বত রূপ পেয়েছে। সেই উদাত্ত কন্ঠের সুর শোনার জন্য কান পেতে থাকতাম শৈশব থেকেই। আধোঘুম,আধোনিদ্রার মধ্যে অবগাহন করতাম এক মায়ার জগতে। রাতের শেষ অন্ধকার ধীরে ধীরে মুছে যেত মহালয়ার স্তোত্র পাঠ শুনতে শুনতে । শিশির ভেজা শিউলি কুড়োতে কুড়োতে এক তৃপ্ত দিনের উঠোনে পা দিতাম। এখনো নস্টালজিক করে তোলে শৈশব, কৈশোরের সেই দিনগুলো। রেডিওর মহালয়া শোনার মাধ্যমেই আমরা যেন পুজোর আনন্দের প্রথম স্পর্শ পেতাম। সে যেন এক অলৌকিক ভোর। মন্দির ও দক্ষিণের ভোগ রান্নার ঘর              মহাকালের পথ ধরে অনেকটা পথ

শ্রীমতীর গল্প /শ্রীজিৎ জানা

Image
শ্রীমতীর গল্প শ্রীজিৎ জানা তারপর শ্রীমতী উমুকের চরিত্র নিয়ে ঢি-ঢি রব পড়ে গেল পাড়ায়। আষাঢ়ে ব্যাঙের মতো লাফাতে লাফাতে খবর এগোতে থাকল। পাড়া ছেড়ে গ্রাম।গ্রাম পেরিয়ে সামনের গঞ্জ। তাকে উজিয়ে আরো দু'চরটে গ্রাম। হাট-বাজার-চায়ের ঠেক সর্বত্র।মেয়ের খবর মানেই একটু স্পাইসি। অথবা সামান্য সুইট এন্ড সাওয়ার। খবর যত কান থেকে কানান্তরে যাবে তত টেস্ট অ্যাড হবে তাতে। পেটের টানের কথা কানের অরুচি। কিন্তু শাড়ীর ভাঁজ ছাপিয়ে মহিলাটির ফর্সা পেটে কেন দৃশ্যমান তার  চর্চা ভীষণ মুখরোচক। তারপর শুধু কী পেট! মহিলাটি ক্যামন শাড়ী পরে! কীভাবে পরে! ব্লাউজ ক্যামন পরে! তার অন্দরে আদৌ ব্রা পরে কিনা! পরলে তা  ক্যামন স্টাইলের!শাড়ী -পেটিকোটের ভিতরে প্যান্টি পরে কিনা! এরকম নানা অনুসন্ধান সেরে এবার চোখ শরীরের প্রতিটি ভাঁজের দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা মাপতে আলোচনা সরগরম। শ্রীমতীকে নিয়ে অবশেষে বেরোবে কত অজানা গল্প। আর সমস্ত গল্পের মধ্যে ফোয়ারার মতো ছড়াবে রগরগে যৌনতা। প্রত্যেক যৌনতায় শ্রীমতীই হবে কেন্দ্রীয় চরিত্র। এমন যৌন যাপন আলোচকদের বিচারে ঘোরতর অপরাধ বলে গণ্য হবে। শ্রীমতী দোষী সাব্যস্ত হবে। দুশ্চরিত্রার লেবেল সেঁটে দেও

ড.কমল কুমার কুণ্ডু (ইতিহাস গবেষক, প্রবন্ধকার, তমলুক)/ভাস্করব্রত পতি

Image
মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ২২ ড.কমল কুমার কুণ্ডু (ইতিহাস গবেষক, প্রবন্ধকার, তমলুক) ভাস্করব্রত পতি একসময় ছিলেন ব্যাঙ্কের অফিসার। কিন্তু আদপে তিনি লোক গবেষক। এখন চাকরি জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন। কোনো দিনই অর্থের অভাব হয়নি। সমাজের উচ্চপদস্থ লোকজনের সাথে সম্পর্ক এবং ওঠাবসা। কিন্তু আয়েসী জীবন তাঁর ধাতে নেই। সারাজীবন পড়াশুনো এবং সেই সংক্রান্ত বিষয়ে ডুবে থাকার পাশাপাশি নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন এই সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মানবজীবন সহ চলমান দুনিয়াটাকে ভিন্নতর চোখ দিয়ে পরখ করার কাজে। ড. কমল কুমার কুণ্ডু। অবিভক্ত মেদিনীপুরের তথা রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় লোক গবেষক এবং ক্ষেত্র সমীক্ষক। এরকম মানুষ বিরলতম। চেন্নাইতে চিকিৎসারত অবস্থাতেও বই পড়ার মানসিকতা তাঁর। সঙ্গে করে বই নিয়ে যেতে ভোলেননা। এটা বইয়ের প্রতি ভালোবাসার চূড়ান্ত মিশেল। এনাকে দেখে শেখা যায় গবেষণার নিয়মকানুন এবং গভীর ঈপ্সা। শিক্ষা জীবনে তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে এম. এ. এবং পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কিন্তু পুঁথিগত ঘেরাটোপে তিনি নিজেকে বন্দী রাখেননি কখনো। ড. কমল কুমার

তানসেন - এক অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী/একাদশ পর্ব /দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী

Image
তানসেন - এক অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী                একাদশ পর্ব          দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী ষড়যন্ত্র এদিকে এই সময়ে সম্রাটের দরবারের অন্যতম গায়ক মিঞা খোদাবক্সের হাভেলিতে মৃদু প্রদীপের আলোয় ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে এক গোপন আলোচনা করছিলেন মিঞা খোদাবক্সের অনুগামী কয়েকজন সভাগায়ক। এরা হলেন দরিয়া খাঁ, নবাব খাঁ, মসনদ আলী ও বৈকুণ্ঠ দাস। এই বৈকুণ্ঠ দাস স্বামী হরিদাসের শিষ্য ছিলেন এক সময়। তানসেন গুরুভাইয়ের প্রতি অনুকম্পাবশত সম্রাটকে অনুরোধ করার পরে সম্রাট বৈকুণ্ঠনাথকে সভাগায়কের পদে নিয়োগ করেন। কিন্তু সে ছিল তানসেনের প্রতি ঈর্ষাপরায়ন এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী। সব সময় ভিতরে ভিতরে চেষ্টা করত কিভাবে তানসেনকে সভাগায়কের পদ থেকে বিচ্যুত করে তার জায়গায় সে নিজেই অভিষিক্ত হতে পারে যার জন্য সে মিয়া খোদাবক্সের একান্ত অনুগামী। এছাড়াও তাঁর ধারণা ছিল তানসেন ইচ্ছে করলেই তাঁর জন্য সম্রাটকে বলে বিভিন্ন পারিতোষিকের ব্যবস্থা বা একটা জায়গীরের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। আলোচনার শুরুতেই নবাব খাঁ বললেন "আমাদের এমন একটি পন্থা বের করতে হবে যাতে সম্রাটের মনে হয় যে তানসেন দরবারের প্রধান গায়ক বা নবরত

মস্কোয় দুর্গোৎসব / বিজন সাহা

Image
মস্কোয় দুর্গোৎসব / বিজন সাহা  ১৯৮৯ সাল। পেরেস্ত্রোইকার দমকা হাওয়ায় এক এক করে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন বাধা নিষেধের দেওয়াল। সেবারই তত্ত্বীয় পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স শেষ করে ছুটিতে বাড়ি ফিরলাম কিছু দিন পরে পিএইচডি করতে মস্কো ফেরার ইচ্ছে নিয়ে। আজ যাই কাল যাই করতে করতে কেটে গেল ১৪ সপ্তাহ। আসলে নেহেরু কাপ, পূজা এসব লোভনীয় আইটেম এই বিলম্বের কারণ। ১৯৮৩ সালে মস্কো যাবার পর থেকে পূজা কথাটাই ডিকশনারি থেকে উধাও হয়ে যায়। কিন্তু অনেক দিন পরে সেই সুযোগটা যখন আসে তখন ঠিক করি আরও কয়েকটা দিন থেকে যেতে। সেটাই এখনও পর্যন্ত শেষ বারের মত দেশে পূজা দেখা। সেবার মায়ের সাথে ধামরাই গেছিলাম প্রতিমা দেখতে। শেষ বারের মত।  আসলে সেই সময় পূজা আমাকে তেমন আর টানত না। ছোট বেলায় আমাদের বাড়িতে পূজা হত। হত বাড়ি থেকে একটু দূরে রামার ভিটায়। রামা, মানে রাম বসাক। তখন এলাকা থেকে কোন হিন্দু পরিবার ইন্ডিয়া চলে গেলে আমরা চেষ্টা করতাম সেই জায়গাটা কিনে রাখতে। ওটাও এভাবেই আমাদের হয়, যদি নামে সেই রামার ভিটাই রয়ে যায়। তবে সেখানে কিছুই করা হত না, না বাগান না অন্য কিছু। বছরে একবারই কয়েকদিনের