জ্বলদর্চি

আমার খামখেয়ালিপনা /রিমি পাল (পুস্পকুঞ্জ)

আমার খামখেয়ালিপনা

রিমি পাল (পুস্পকুঞ্জ)


আক্ষেপ

যেদিন তুমি শেষ বারের মতো জিজ্ঞাসা করেছিলে কিছু বলবি?
উত্তরে 'না' বলেছিলাম আমি।
একমাত্র সেই না-ই জানে নিঃশব্দে কতকিছু বলতে চেয়েছি তোমায়,
এক আকাশ আক্ষেপ নিয়ে আমি তোমায় বলতে চেয়েছি 
তুমি কি পারো না থেকে যেতে?
তুমি তো চাইলেই তো পারতে আমার সাথে অলিক স্বপ্নে ভাসতে।
তুমি পারতে আমার সাথে সূর্য ওঠা বা সূর্যাস্ত দেখতে।
এই সুন্দর পৃথিবী অনেক কিছু দিয়েছে আমায়, শুধু দেইনি তোমাকে।
তোমাকে না পাওয়ার আক্ষেপ আমার চিরকাল থেকে যাবে।
তবু আজও আমি অপেক্ষা করি হয়তো তুমি ফিরবে, 
জানি এ অপেক্ষা বৃথা... 
অপেক্ষায় বাঁচে প্রতিটি জীব হয়তো জড়ও,
তুমিও তো আছো কারো না কারোর অপেক্ষায়।
আমি না হয় তোমার অপেক্ষাতেই বেঁচে রইলাম।
যতদিন আমি বাঁচবো এই  সুন্দরতম পৃথিবীতে, 
ততদিন তুমিও থেকে যাবে আমার সাথে,আমার কবিতার  নীড়ে।

🍂

ভালোবাসা কি এমনই হয়

তুমি কত অবহেলা করেছো আমায়, কত কষ্ট দিয়েছো আমায়
তবুও আমি তোমাকেই চেয়েছি।
কেনো জনো?
কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি।
তোমার দেওয়া অবহেলা, দুঃখ,কষ্ট, সহ্য করবার জন্যে এই একটা শব্দই যথেষ্ঠ।
তুমি আমায় কোনোদিন চাওনি,
তবুও আমি তোমাকে চেয়েছি।
কত মিথ্যা দিয়ে সাজিয়েছিলে তুমি আমার সপ্ন!
আর আমি ভেবেছিলাম তুমি সত্যি আমায় ভালোবাসো।
তুমি কি সুন্দর ভাবে ভালোবাসার অনুভূতি জাগিয়েছিলে আমার মধ্যে!
অথচ দেখো সেই অনুভূতি তোমার কোনোদিন ছিলোই না।
চৈত্রের উতপ্ত শেষের দিনে 
তুমি এসেছিলে-
এক হিমেল বাতাস হয়ে আমার জীবনে।
মানুষ জীবনে কত ভুল করে, আমিও করেছি 
কিন্তু জানো আমি কোনোদিন তোমার কোনো ভুল দেখতে পায়নি,
নাহ্ ভুল বললাম আমি,
ভালোবাসার মানুষের যে কোনো ভুল থাকে না।
আমি কোনোদিন কোনো দোষ দিনি তোমাকে,
আসলে ভালোবাসার মানুষের যে কোনো দোষও থাকে না।
তোমার সবকিছুই আমার ভালো লাগে
তোমার কথা খাওয়া ঘুমানো... সব
শুধু কি ভালো লাগেনা জানো?
তোমার দেওয়া অবহেলা।
আচ্ছা, ভালোবাসা কি এমনই হয়?



দুই জীব

জানোতো আমার একটা রুম আছে
যদিও সেটা এখন চুলোই গেছে।
সেই রুমে যায়না আমি মোটে
ধুর ছাই, ভালো লাগে না যেতে।
সেখানে আছে মস্ত এক হাতি 
তার পিঠেতে বোঝাই করা বই আর বাতি।
গেলেই আমায় বসায় ধরে পড়তে
ধুর ছাই, ভালো লাগে না লেখাপড়া করতে।
জানোতো, সেই হাতির পাশে আছে একটা ভাল্লুক।
কি ভালো সে....
সে আমায় ডাকে, তার পিঠে শুতে কত্ত আরাম,
কি নরম তার শরীর, শুলেই আমি মগ্ন হয় নিদ্রায়।
আমার বাবা বলে, 
ওই হাতিটা ভালো, কিন্তু ভাল্লুক টা ভালো নয়। 
হাতিটা নাকি আমাকে আমার সপ্নের শিখরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
আর ভাল্লুক টা নাকি আমাকে সেখান থেকে নামিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
বাবা বলে, যত তুমি হাতিটাকে সময় দেবে 
ততই তুমি একজন ভালো মানুষ হবে,
ততই তুমি তোমার লক্ষ্য পূরণ করতে অগ্রসর হবে,
এমনকি তুমি একদিন লক্ষে পৌঁছাতে পারবে।
এখন আমি বাবার কথাই চলবো শুনে,
হাতিটাকে সবসময়ই রাখবো মনে। কুঞ্জরের পিঠেই হবো আমি মগ্ন,
ধুর ছাই, ভাল্লুক টা দূরে থাকাই গৌণ।



বেদনার্তক তুমি

একটি মাস পেরিয়ে গেল তোমার সাথে আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন,
কতদিন তোমার কন্ঠ শুনিনি আমি
কতদিন তোমাকে দেখিনি আমি তাতে আমার কি? তাতে আমার কি?
 বলো তাতে আমার কি? 
পড়ে থাকা এই টেলিফোন বহুদিন তোমার ফোন আনেনি
আমি ভাবছি কি নিষ্ঠুর এই টেলিফোন তাই না?
এ তোমার একটা ফোনও আনতে পারে না 
আমার কাছে---
তাতে আমার কি? তাতে আমার কি?
 বলো তাতে আমার কি?
আজ আমি বিচ্ছেদ যন্ত্রণায় কাতর কই তুমি তো নও,
তুমি তো বেশ ভালোই আছো।
তুমি আজ সুখী অন্যজনকে নিয়ে তাতে আমার কি? তাতে আমার কি?
বলো তাতে আমার কি?
এসেছিলে তুমি  শেষ চৈত্রের দিবা প্রহরে
অথচ আজ শীতের উষ্ণ আমেজ পড়ার আগেই
 তুমি হারিয়ে গেলে---
তাতে আমার কি? তাতে আমার কি?
বলো তাতে আমার কি?
তুমি সেই চৈত্রের রৌদ্রতপ্ত দগ্ধ দিবসে,
আমার কাছে উপন্যাস হয়ে ধরা দিয়েছিলে
অথচ আজ তুমি আমার কাছে দেড় লাইনের  কবিতা
তাতে আমার কি? তাতে আমার কি?
বলো তাতে আমার কি?

সংগ্রহ করতে পারেন 👇

Post a Comment

0 Comments