জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা / আবীর ভট্টাচার্য্য চক্রবর্তী

 গুচ্ছ কবিতা 
আবীর ভট্টাচার্য্য চক্রবর্তী 



কাব্য জন্ম, কাব্য সম্মোহন 

কবিতার জন্মদান ব্যথা, একমাত্র কবিই তা জানে।
এক দেহে অর্ধনারীশ্বর। মায়াময় মাতৃত্ব সাধনে,
        অরুন্তুদ ক্ষাত্রতেজে যযাতি মননে
 ছন্দ বাঁধে আখর সন্ধানে, অয়োময় কাব্যায়ুধ তার
নক্ষত্রের জন্মপথ ধরে যেইভাবে ফোটে আলোরেখা 
    ঘননীল স্বপ্নপারে পঙ্কজিনী কাব্য-পুষ্পলেখা 
অকর্ষিত যে ভূমিতে মন্দাকিনী স্বতঃ কলস্বরা
গভীর ওঙ্কার বোধে জ্বলে ওঠে অতন্দ্র তারারা
ঠিক সেই চলপথে কবি গাঁথে মালা,নির্বিকল্প ওখে
গর্ভস্থ ভ্রূণের মতো অনিশ্চয় সুখে
               বৈভবে কৈরভে পূর্ণ স্বপ্রকাশ প্রাণ
কবি দেয় তাকে যেন স্পর্ধাতীত পদ্মনাভি ঘ্রাণ।

কবিতার জন্ম হয়ে গেলে,কাব্য ভোলে ঋণভার তার
নাড়িছেঁড়া প্রসব বেদনা, প্রাপ্য শুধু কাব্য নির্মাতার।


জন্মদিনে

ডুবন্ত কোন মূল্যবোধের আগুন ডানা পাখি
অবাক আলোর সাহস বুকে,বাঁধলে রাঙা রাখি
দূরে কোথাও শ্রাবণ নদীর উথলে ওঠা ঢেউ
ডিঙিয়ে ঘরে এলো আদর, আনন্দময় কেউ!
আজ সকালটি তাই কি সেই শুভযোগেই বাঁধা? 
মায়ের মনে উজাগরের অনিত্য সুর সাধা…

রাতের যেমন নীরব প্রসব প্রত্যুষের ভ্রুণে
স্বপ্রকাশী উদযাপনের আয়ুশ উদার ঋণে
একটি জ্বলদর্চি সুখ, জন্মদিনটি ঘেরে
ষোলোপণের ছোট্ট নদীর দৃপ্ত অহঙ্কারে…


জন্মদিন 

আলো যখন ভীষণ ভালোবেসে
মাটিকে দেয় আলোকধন তার,
জন্মপ্রহর আঁধার গেলে খসে
শ্যামলে ভরে পেলব কোষাগার।

ইতিউতি তারা খসার বেলা,
কার্তিকের বল্গাহীন রাত—
আপন–পর ইষ্টিকুটুম খেলা
জীবন জুড়ে স্মৃতির ধারাপাত।

প্রাত্যহিকের বেভুলপনা চিরন্তন আশে,
আঙনধারে আমনরঙা শুভেচ্ছার ভার;
সুষুপ্তিময় চলপথটি নির্বিশেষে হাসে,
দিনযাপনে ধন্য করে অমৃত অধিকার।

🍂

Post a Comment

0 Comments