জ্বলদর্চি

আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিবস/দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে


আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিবস

দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে 

আজ ২১শে ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিবস। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কি, এর গুরুত্বই বা কি এবং আমাদের জীবনে এর প্রভাব কি, এই সবকিছুই আসুন জেনে নিই বিস্তারিতভাবে।

আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিবস প্রতি বছর ২১শে ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। এই দিনটি মূলত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (Short Film) এবং এর নির্মাতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা ও সংশ্লিষ্ট সকল শিল্পীদের সম্মান জানাতে উদযাপন করা হয়।

আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হল, একটি বার্ষিক চলচ্চিত্র উৎসব, যেখানে দেশ-বিদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়, যা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীলতা ও বৈচিত্র্য তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি (ডিসেম্বর ২০২৪) এর ১৭তম আসরটি অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে ১০০টিরও বেশি দেশের ২৭৬টি চলচ্চিত্র দেখানো হয়েছে। 
উৎসবের মূল দিকগুলো
উদ্দেশ্য: 'মুক্ত চলচ্চিত্র, মুক্ত প্রকাশ' স্লোগানে চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা, যা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন ও চিত্রশালাতে আয়োজিত হয়।
বৈচিত্র্য: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিভিন্ন ধারার স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্র (যেমন কাহিনিচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, অ্যানিমেশন) প্রদর্শিত হয়।
অংশগ্রহণ: সাধারণত শতাধিক দেশের চলচ্চিত্র এতে স্থান পায়, যা উৎসবে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে।
সাম্প্রতিক আয়োজন (১৭তম): ডিসেম্বর ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফিলিস্তিনের চলচ্চিত্রও বিশেষ আকর্ষণ ছিল। 
🍂

২১শে ডিসেম্বর দিনটি নির্বাচিত হওয়ার একটি ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। ১৯১৩ সালের ২১শে ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের New York World পত্রিকায় প্রথম আধুনিক ক্রসওয়ার্ড পাজল প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এই দিনটি সৃজনশীলতা ও সংক্ষিপ্ত শিল্পমাধ্যমের প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়, এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়।

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কী, এই সম্পর্কে বলতে গেলে আমাদের প্রথমে বলতেই হয়, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সাধারণত ৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে হয়ে থাকে। সময় কম হলেও এতে একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প, শক্তিশালী বার্তা বা গভীর অনুভূতি তুলে ধরা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক সমস্যা, মানবিক মূল্যবোধ, বাস্তব জীবন, পরিবেশ, নারী অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য বা সমসাময়িক বিষয়গুলো এই মাধ্যমে অত্যন্ত প্রভাবশালীভাবে উপস্থাপিত হয়।

এই দিবসের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক— নতুন নির্মাতাদের সুযোগ: স্বল্প বাজেটেও প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ দেয় 

সামাজিক সচেতনতা: সমাজের বাস্তব সমস্যা তুলে ধরার কার্যকর মাধ্যম 

সৃজনশীল স্বাধীনতা: মূলধারার সিনেমার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই গল্প বলার সুযোগ।
 ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসার: ইউটিউব, ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও OTT প্ল্যাটফর্মে সহজে পৌঁছানো যায়
বিশ্বজুড়ে উদযাপন
এই দিনে বিভিন্ন দেশে আয়োজন করা হয়—
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও প্রতিযোগিতা
পরিচালক ও নির্মাতাদের আলোচনা সভা
অনলাইন স্ক্রিনিং ও ওয়ার্কশপ
বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে দিনটি ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করে।

ভারত ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। তরুণ নির্মাতারা সামাজিক বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীণ জীবন, নগর সমস্যা ও মানবিক সম্পর্ক নিয়ে শক্তিশালী শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই দিবস উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করে থাকে।

আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিবস শুধু একটি দিবস নয়, এটি সৃজনশীল চিন্তা, নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বর এবং গল্প বলার শক্তির উদযাপন। অল্প সময়ে গভীর প্রভাব তৈরির যে ক্ষমতা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের রয়েছে, তা আধুনিক চলচ্চিত্র জগতে এক অনন্য শিল্পমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বাড়িতে বসেই সংগ্রহ করতে পারেন 👇

Post a Comment

0 Comments