জ্বলদর্চি

রাইট টু ডিসকানেকশন বিল ২০২৫ :- একটি ব্যর্থ প্রাইভেট বিল হওয়া সত্বেও আকর্ষণ করে ভুক্তভোগীর মনোযোগ /প্রসেনজিৎ রায়

রাইট টু ডিসকানেকশন বিল ২০২৫ :- একটি ব্যর্থ প্রাইভেট বিল হওয়া সত্বেও আকর্ষণ করে ভুক্তভোগীর মনোযোগ

প্রসেনজিৎ রায় 


২০১৯ এর পর আবার চলতি বছরে লোকসভায় এল "রাইট টু ডিসকানেকশন বিল"। এন সি পি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে নিম্নকক্ষের  শীতকালীন অধিবেশনে  এই প্রাইভেট বিল পেশ করেছেন। বলা ভালো, পুনরুত্থাপন করেছেন।  

পুনরুত্থাপন এই কারণে যে, ২০১৯ সালেও এই বিল শ্রীমতী সুলে পেশ করেছিলেন এবং সেই বিল-এর ক্রমিক সংখ্যা ছিল ২০১৯ এর ২০৮। এবারের মতো সেটিও ছিল প্রাইভেট বিল। আমরা জানি, প্রাইভেট বিল হল ভারতীয় সংসদে প্রচলিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিল বা প্রস্তাব যেগুলিকে  আরও স্পষ্টভাবে 'প্রাইভেট মেম্বার বিল' বা  'ব্যক্তিগত সদস্য প্রস্তাব' বলা যেতে পারে। 

অন্য কথায় প্রাইভেট মেম্বার বিল হল এমন একটি আইন প্রণয়ন প্রস্তাব যা মন্ত্রী নন এমন যেকোনো সংসদ সদস্যের দ্বারা উত্থাপিত হয় এবং এইসব বিলগুলি পেশ করার মাধ্যমে  সাংসদরা  সরকারি বিলের আওতা-বহির্ভূত নানা সমস্যা সমাধানের জন্য আইন বা সংশোধনী প্রস্তাব করার চেষ্টা করে থাকেন। সাধারণত বিরোধীপক্ষের সাংসদরা এইধরণের বিল এনে সরকারে নীতিগত ফাঁকগুলি তুলে ধরতে চান। 

এইসব  বিল পেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আইনসভার কক্ষে আসীন সদস্যদের প্রতিক্রিয়া ও অনুভূতি পরিমাপ করার চেষ্টাও করেন পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের কান্ডারীরা।

একথাও মনে রাখা প্রয়োজন যে ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে এই ধরণের প্রাইভেট বিল বড়ো একটা সাফল্যের মুখ দেখে নি আর বিশেষ করে  ১৯৭০ সাল থেকে পরবর্তী ৫৫ বছরে  লোকসভা বা রাজ্যসভা কোনো কক্ষেই কোনো প্রাইভেট বিল গৃহীত হয় নি।

তবে গৃহীত হোক আর না হোক এ কথা সকলকেই স্বীকার করতে হবে দিনযাপনের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে মানবিক দৃষ্টিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত তরুণ ও যুবশক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার নিরিখে এই "রাইট টু ডিসকানেকশন বিল" অন্তত পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার দাবি অবশ্যই রাখে। 
🍂

বিগত শতকের কর্মজগতে একটি  জনপ্রিয় স্লোগান ছিল "আট ঘন্টা চাই কাজ , আট ঘন্টা চাই বিশ্রাম এবং আট ঘন্টা চাই আনন্দ ও উপভোগের সুযোগ"।  অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করেছি সেই ১৯৯১-৯২ সালে ডঙ্কা বাজিয়ে জন্ম নেবার পর, বিশ্বায়ন না কি-সব যেন আমাদের চারপাশের পৃথিবীটাকে ধীরে ধীরে বদলে দিল। পৃথিবী না কি ছোট হতে হতে একটা গ্রামের চেহারা পেল, কিন্তু লক্ষ গুণ বর্ধিত হলো যাপনের জটিলতা আর মানবতার সঙ্কট। 

কর্মদিবস আট ঘন্টা হওয়াটা ব্যতিক্রমী ঘটনা হয়ে গেল, তথাকথিত ভালো ( সরকারি) চাকরি ছাড়া সব চাকরিই হতে হবে অত্যন্ত পরিশ্রমের চাকরি, যেখানে ছুটি কম, কাজের ঘন্টা বেশি, চাপ বেশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপার্জন বেশি। কর্মীরা মানুষ থেকে পরিণত হলেন আলাদিনের দৈত্যের মতো এমন একটা কিছুতে যাদের ডাক দিলেই হাজির হয়ে যেতে হবে, জীবন, সন্মান, পরিবার সব কিছু তুচ্ছ করে। আর সেই ডাক পাঠাতে ব্যবহৃত হবে এস এম এস, ইমেইল, ভিডিও কল, ভয়েস কল ইত্যাদি ইত্যাদি যেগুলি আবার ভেসে আসবে নিজের অর্থে কেনা অনর্থের মূল মুঠোফোনটির মাধ্যমেই।

 মহারাষ্ট্রের বারামতী আসন থেকে নির্বাচিত এন সি পি সাংসদ শ্রীমতী সুপ্রিয়া সুলে তাঁর পেশ করা বিলের বিবৃতিতে বলতে চেয়েছেন, বর্তমান দিনে ডিজিটাল এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির আবির্ভাবের সাথে সাথে, একজন গড়পড়তা কর্মী সরাসরি তার স্মার্ট ফোন থেকে কাজ করতে পারেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে কোনও স্থান থেকে কাজ করতে সক্ষম এই ধরণের কর্মীদের অনুপাত সত্তর শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব।  কাজের নমনীয়তার দিক থেকে এই ডিজিট্যাল ওয়ার্ক ফ্রম এনিহোয়্যার  সুবিধাজনক হলেও এই ব্যবস্থায় পেশা-জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সংঘাতের যথেষ্ট  ঝুঁকি তৈরি হয়। 

২০১৯ সালের প্রস্তাবে সাংসদ শ্রীমতী সুলে একটি  গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন। তাতে  দেখা গেছে যে যদি মালিক সংস্থা এটা ধরে নেন যে তাঁর  একজন কর্মীকে যেকোনো যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে চব্বিশ ঘন্টাই সহজলভ্য তবে এই অনুভূতি মালিকপক্ষের জন্য যতই সুখপ্রদ হোক না কেন, কর্মীরা অতিরিক্ত কাজের আশঙ্কায় ভুগতে থাকেন যার ফলে তাঁদের অনিদ্রা, ডিপ্রেসন তথা অবসাদগ্রস্ততার স্থায়ী সমস্যা তৈরি হতে পারে। মালিক সংস্থা বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ অথবা ব্যবস্থাপকের  কল এবং ই-মেইলের প্রতিক্রিয়া জানানোর এই অবিরাম তাগিদকে পরিভাষায় বলা হয়  'টেলিপ্রেসার' । 

সারাটা দিন এবং এমনকি সপ্তাহান্তে এবং ছুটির দিনেও ক্রমাগত ই-মেইল চেক করা, কর্মীদের কর্মজীবনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে বলে সাংসদের প্রস্তাবনায় দাবি করা হয়েছে।

 মূল উদ্দেশ্য ও বক্তব্য প্রায় একই। তবু  শ্রীমতী সুপ্রিয়া সুলের "রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল ২০২৫ " তাঁরই প্রস্তাবিত এই একই বিলের ২০১৯ সংস্করণ থেকে কিছুটা হলেও  পরিমার্জিত। দুটি  বিলেরই লক্ষ্য যেখানে কর্মীদের অফিস সময়ের বাইরে, কাজের সাথে সম্পর্কিত কল এবং ইমেল উপেক্ষা করার অধিকার দেওয়া এবং তাঁদের কর্মজীবনে উপযুক্ত ভারসাম্য বজায় রাখা সেখানে ২০২৫ সালে নতুন সংযোজন হল, এই বিল আইনে পরিণত হলে আইনভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য  কর্মচারী পারিশ্রমিকের উপর ১% জরিমানার শর্ত। সংস্থাগুলি যাতে এই প্রস্তাবিত আইন পুরোপুরি মেনে চলে তা নিশ্চিত করার জন্য তথা  কর্মীদের অধিকার রক্ষা করার জন্য একটি নজরদারি কর্তৃপক্ষ গঠন করার প্রস্তাব এবারের বিলে নতুনত্ব এনেছে। 
কাউন্সেলিং এবং ডিজিটাল ডিটক্স -এর মতো বিষয়গুলির সঠিক ব্যবস্থাপনার সংস্থান  প্রস্তাবিত বিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 
অতিরিক্ত কাজের জন্য যথাযথ হারে ওভারটাইম বেতনের পরামর্শ, বেতন-বিহীন ওভারটাইমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির মতো সুযোগ রয়েছে।  কোম্পানিগুলি যাতে  কর্মচারী ইউনিয়নের সাথে অতিরিক্ত কাজের নিয়ম ও বেতন-কাঠামো নিয়ে পূর্বালোচনা করে,  নতুন রাইট টু ডিসকানেকশন বিল সে বিষয়েও জোর দিয়েছে।

একজন সাংসদ ছয় বছরের মধ্যে দুইবার একই বিষয়ে একটি প্রাইভেট বিল আনলেন। মনে যদি প্রশ্ন জাগে যে এই বিলের প্রতিপাদ্য বিষয় অর্থাৎ সর্বক্ষণ অনলাইন থাকা বা থাকতে বাধ্য হওয়া  কর্মীদের নিয়ে অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের দেশগুলি কি চিন্তিত নয় ! সন্ধানে প্রতীয়মান যে উন্নত বিশ্বের সুশৃঙ্খল কর্মজগৎ-ও অবশ্যই এই যুগের অসুখ নিয়ে সবিশেষ চিন্তিত।

ফ্রান্স ২০১৭ সালেই কর্মীদের এমন  "সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার" চালু করে। ফরাসি শ্রম আইন মোতাবেক, অর্ধশতাধিক কর্মচারী থাকা কোম্পানিগুলিকে তাদের কর্মীদের সাথে নির্দিষ্ট শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করতে হয়, যাতে কর্মীরা নিয়মিত সময়ের বাইরে কর্ম-সম্পর্কিত যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। আইনটি ফরাসী কর্মীদের নির্ধারিত কাজের সময়ের বাইরে মালিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ডিজিটাল যোগাযোগ গ্রহণ না করার বা সেই যোগাযোগ ( কল বা বার্তা ) উপেক্ষা করার অধিকার দেয়। 
কর্মীরা যাতে বার্নআউট, বেতনহীন ওভারটাইম এবং দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্যের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে, সেটাই এমন আইনের লক্ষ্য।

 উন্নত বিশ্বের অন্যতম দেশ যুক্তরাজ্য "সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার" সংক্রান্ত আইন চালুর বিষয়টা সক্রিয় বিবেচনার স্তরে রেখেছে।মনে করা হচ্ছে যুক্তরাজ্যে এই সংক্রান্ত  আইনটি আয়ারল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাস্তবায়িত মডেলের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে।

আয়ারল্যান্ডে এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি ঘোষিত আচরণবিধি বা  "কোড" এর মাধ্যমে।  কর্মীদের জন্য তিনটি মূল অধিকারের উল্লেখ এই বিধিতে রয়েছে।  
স্বাভাবিক সময়ের বাইরে কাজ না করার অধিকার বা এই সময়ের বাইরে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য শাস্তির মুখোমুখি না হওয়ার অধিকার আয়ারল্যান্ডের কোডটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কাজের সময়ের বাইরে  যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে এই বিধিতে।
যদিও আয়ারল্যান্ডের এই কোডটি কোনো বাধ্যতামূলক আইন নয়, এটি কোম্পানিগুলির জন্য তার কর্মীদের কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে  একটি উৎকৃষ্ট অনুশীলন নির্দেশিকা হিসেবে কার্যকরী হয়।

অস্ট্রেলিয়া কিন্তু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার চালু করেছে এমন  অন্যতম রাষ্ট্র।  ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ১৫ জনের অধিক কর্মচারী-যুক্ত সংস্থাগুলির জন্য এই আইন প্রণীত হয়। ১৫ জনের কম কর্মচারী থাকা ছোট সংস্থার জন্য আইনটি কার্যকর হয়েছে গত ২৬ আগস্ট ২০২৫ থেকে।
আইনটি জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া কর্মীদের কাজের সময়ের বাইরে  কর্তৃপক্ষের সাথে  যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগ দেয় আর  যদি নিয়োগকর্তারা কর্মচারীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার লঙ্ঘন করেন সেক্ষেত্রে তাঁদের  আর্থিক জরিমানা ভোগ করতে হতে  পারে।

বেলজিয়াম দেশটির  সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার আইন আদতে  ফরাসি মডেলেরই প্রতিফলন। ২০২২ সালের ঐ দেশের এই সংক্রান্ত আইন কর্মীদের এই অধিকার দেয় যে তারা নিয়মিত কার্য-সময়সীমার  বাইরে কাজ-সংক্রান্ত যোগাযোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।

দক্ষিণ আমেরিকার পেরু তথাকথিত উন্নত বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত না হলেও,  নিশ্চিত করে যে কর্মীরা বিশ্রামের দিন, ছুটির দিন এবং ছুটির সময় কর্তৃপক্ষের সংযোগে  সাড়া দিতে বাধ্য থাকবেন না। 

অর্থনৈতিকভাবে  দুর্দশাগ্রস্ত বলে পরিচিত আর্জেন্টিনা তাদের ২০২১ সালে চালু হওয়া আইন-বলে   দূরবর্তী কর্মীদের অফ-আওয়ারের সময় কাজের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অনুমতি দেয়।যে সব কর্মীরা কাজের প্রতি যত্নশীল ও দায়িত্ববান তাঁদের আরও বেশি নমনীয়তা প্রদান করা হয়, যা তাঁদের কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যেকার  ভারসাম্য কার্যকরভাবে বজায় রাখার সুযোগ দেয়।

কলম্বিয়া-র মতো দেশও ২০২২ সালের আইন অনুযায়ী সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের কর্মীদেরই এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার প্রদান করে এবং কর্মীদের  ব্যক্তিগত জীবনকে  সুরক্ষিত করে। 
বর্তমানে ব্রাজিলের টেলিওয়ার্কাররাও নিয়মিত সময়ের বাইরে কাজ করলে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। এদেশে প্রস্তাবিত একটি আইন এখন বিবেচনার স্তরে রয়েছে যা লাগু হলে সমস্ত কর্মচারীরাই এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার  অধিকারের আওতায় চলে আসবেন এবং তখন আর  নিয়োগকর্তারা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কর্ম-সময়সীমার বাইরে কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন না। 

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অবশ্য এখনো পর্যন্ত  সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আনুষ্ঠানিক অধিকার নেই, তবে এর শ্রম আইন একই রকম নীতিকে প্রতিফলিত করছে। লিখিত সম্মতি ছাড়া কর্মীদের তাদের সম্মত সময়সীমার বাইরে কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না।  সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর শারজা প্রদেশে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হয়েছে, যা সরকারি  কর্মীদের জন্য কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার সুযোগ করে দিয়েছে।

২০১৪ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে , সপ্তাহে পঞ্চাশ ঘন্টা কাজের পরে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। সপ্তাহে ষাট ঘন্টা কাজের চাপে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। গবেষণায় আরো দেখা গেছে যে, রাত ৯ টার পরে যারা কাজ-সম্পর্কিত কল এবং মেইলে সাড়া দেন, তাঁদের ঘুমের মান অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায় যা তাঁদের উৎপাদনশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে । কর্মক্ষেত্রের বাইরে থাকাকালীন নিয়োগকর্তার কল, ই-মেইল ইত্যাদির সাড়া না দেওয়ার এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার থাকলে   কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিসরকেও সম্মান করা হয়, যা সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কর্মীদের অধিকার যদি  স্বীকৃতি পায় তাহলে  নিয়োগকর্তার প্রতি কর্মীদের ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পায়। কর্মসংস্কৃতি  হয়ে ওঠে প্রতিযোগিতা-সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়।

বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরতদের কর্মজীবনের অস্বাভাবিক চাপের কথা প্রায়ই আমাদের কানে আসে। প্রবল বঞ্চনার শিকার তাঁরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনে হাইপার- কানেকটিভিটির প্রতিকূল প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা অবশ্যই প্রয়োজন। রাইট টু ডিসকানেকশন বিল আইনে পরিণত হওয়া দরকার  কর্মী এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য  যাতে  যোগাযোগের নানা উপকরণের  যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ঘটে এবং সেগুলি মালিক-সংস্থার শোষণের অস্ত্র না হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি অফিসেও কাজের বন্টন সুষম করতে পারে এই ধরণের ফলপ্রসূ আইন। প্রাসঙ্গিক পরামর্শ প্রদানের যে পরিষেবার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে কাজের মান বৃদ্ধি পাবে। 

এককথায় বলা যায়, প্রাইভেট বিল বড়ো একটা পাশ হয় না জেনেও, যাঁরা নিয়ম মেনে নিজের কাজ সময়মতো করে ফেলতে ভালোবাসেন, তাঁদের ভালোমন্দ নিয়ে আইনসভায় অন্তত:  চিন্তাভাবনা হচ্ছে, তাঁদের মানসিক চাপ কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে, এ নিঃসন্দেহে বৃহত্তম গণতন্ত্রের প্রশংসনীয় উপহার।

Post a Comment

0 Comments