জ্বলদর্চি

দিগম্বর পণ্ডা (স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষক, রামনগর)/ভাস্করব্রত পতি

মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ১৯০
দিগম্বর পণ্ডা (স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষক, রামনগর) 

ভাস্করব্রত পতি

তিনি ছিলেন সংস্কৃত সাহিত্যের এক গুণী মানুষ। ১৯৩০ এর শেষ দিকে হুগলীর চুঁচুড়ায় বঙ্গীয় সংস্কৃত কলেজে পড়াশোনা করে সংস্কৃত সাহিত্যের কাব্য ব্যাকরণ এবং পুরাণতীর্থ উপাধি লাভ করেন। তিনি মেদিনীপুরের এক অখ্যাত পণ্ডিত দিগম্বর পণ্ডা। 

রামনগর থানার মানিকাবসান গ্রামে তাঁর জন্ম ১৯০৭ এর ১৫ ই জানুয়ারি। বাবার নাম গঙ্গানারায়ণ পণ্ডা এবং মা ছিলেন মাতঙ্গিনী পণ্ডা। বাবা ছিলেন এলাকার জমিদার। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। অভাব ছিল না। কিন্তু  অসম্ভব দেশপ্রেম ছিল অন্তরে। 

কাঁথি মডেল ইনস্টিটিউশনে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছিলেন তিনি। কিন্তু দেশপ্রেমের মন্ত্রে স্নাত দিগম্বর পণ্ডা সেই স্কুল ছেড়ে দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ভর্তি হন কাঁথির জাতীয় বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয় থেকেই ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকার পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর নীতি আদর্শতে নিজেকে অনুপ্রাণিত এবং একাত্মিভূত করেন। 

১৯৪০ নাগাদ ওয়ার্ধায় বুনিয়াদী এবং শিশু শিক্ষার প্রশিক্ষন লাভ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত খাদি ও শিশুদের বুনিয়াদি শিক্ষায় নিজে আত্মনিয়োগ করেন। কাঁথির ভগবানপুর থানার জুখিয়া খাদি কেন্দ্রে যুক্ত হন। এখানে থেকে গান্ধীজীর আদর্শে এলাকায় চরকায় সুতাকাটা ও তাঁতের কাপড় বোনার প্রচার ও প্রসারে নিজেকে ব্যাপৃত রাখেন। 

১৯৪৯ এর সাইক্লোনে এবং ১৯৫০ এর মন্বন্তরের সময়কালে আর্ত মানুষের ত্রাণকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেইসাথে শিশুদের সুরক্ষায় নিজেকে ব্যাপৃত রাখেন। তাঁর লক্ষ্য হয়ে ওঠে শিশু রক্ষার সফল বাস্তবায়ন। বিভিন্ন সমিতির সঙ্গে যুক্ত থেকে মহিষাদল, বেলবনী, ঠাকুরপুকুর, খাগদা শিশুসদন ইত্যাদি অনাথ আশ্রমে সেবক ও শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। একসময় মানিকাবসান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৫৮ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত সহশিক্ষকও ছিলেন। 

গান্ধী জন্মশতবার্ষিকীতে তিনি লিখেছেন 'গান্ধিমঙ্গল' পুস্তিকা। এই গান্ধীমঙ্গলের গান গাওয়ার জন্য পাঁচ ছয় জনের দল নিয়ে সুর এবং ছন্দের মৌতাতে মজিয়েছেন বিভিন্ন এলাকা। ১৯৫০ নাগাদ বিনোবা ভাবের ভুদান আন্দোলনেও যুক্ত করেন নিজেকে। এই মহান পণ্ডিতের মৃত্যু হয় ১৯৮০ এর ১৬ ই ফেব্রুয়ারি।
🍂

Post a Comment

0 Comments