চিত্রগ্রাহক - ঋপণ আর্য
সম্পাদকীয়,
মেঘেদের হিরো কে জানো? সেটা জানতে পড়তে হবে তোমাদের বন্ধু অস্মিতার গল্প। তোমাদের আর এক বন্ধু মোমের পুতুল কে নিয়ে ছড়া লিখেছেন রাজর্ষি আঙ্কেল। ছোট বন্ধু সুকন্যা এঁকে পাঠিয়েছে একটা গাছের ছবি। এবারের ছোটবেলায় ক্রিকেটের কাকতালীয় ঘটনাগুলো নিয়ে রতনতনু জ্যেঠু লিখেছেন। কাকতালীয় আবার কী? সেটা জানতে পড়তে হবে গগনজ্যোতি স্কুলের গল্প। ফাল্গুনী দিদিও পাঠ প্রতিক্রিয়ায় লিখেছে আরো কত কত অথ্য জানা হচ্ছে রতনতনু জ্যেঠুর লেখায় সে কথা। তোমরা এছাড়া আর কী কী জানতে পেরেছো চটপট লিখে জানিও। লিখে জানিও ঋপণ আঙ্কেলের দেওয়া কমলালেবুগুলো কেমন লাগলো। ছবির বন্ধুদের কিন্তু কমলালেবু দারুণ লেগেছে। -- মৌসুমী ঘোষ।
ধারাবাহিক উপন্যাস
গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ
পর্ব ৭
রতনতনু ঘাটী
ক’ দিন আগে ক্রিকেটের কাকতালীয় ব্যাপার নিয়ে রোরো তার ছুটকাইমামার কথা বলেছিল খেলার মাঠে। আজও ছুটকাই মামার কথা ফের বলল রোরো, ‘স্যার, আগে একবার আমার ছুটকাইমামার কথা আপনাকে বলেছিলাম, মনে আছে?’
দেবোপমস্যার মনে করার চেষ্টা করলেন। চট করে মনে পড়ল না। রোরোকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী কথা বলো তো?’
ততক্ষণে ব্যাট হাতে ডি-সেকশানের অতিমান সেন তৈরি।
রোরো চোখ দুটো উপরের দিকে তুলে বলল, ‘ওই যে, ক্রিকেটে নাকি নানারকম কাকতালীয় ঘটনা ঘটে না? তারই একটা কাকতালীয় ঘটনার কথা মামা বলেছিলেন। আমি বলছি শুনুন--তখন সচিন তেন্ডুলকরের মোটে ষোলো বছর বয়স। করাচিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম যেদিন ব্যাট হাতে মাঠে নামল সচিন, সে দিনটা ছিল উনিশশো ঊননব্বই সালের পনেরোই নভেম্বর। আর জানেন তো স্যার, তার ঠিক চব্বিশ বছর পর সচিনের কেরিয়ারের শেষ দিনটিও ছিল দু’ হাজার তেরো সালের সেই পনেরোই নভেম্বর। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দু’শোতম ম্যাচটিই ছিল সচিনের বাইশ গজের শেষ দিন। তারিখটা কেমন কাকতালীয় ভাবে এক, তাই না স্যার?’
রোরো একটু থেমে বলল, ‘আমার ছুটকাইমামা আর একটা এরকম কাকতালীয় ঘটনার কথা বলতে গিয়ে সেদিন বললেন, ‘জানিস রোরো, সচিন তেন্ডুলকর, বীরেন্দ্র সেওবাগ এবং রোহিত শর্মা—এই তিনজন ভারতীয় খেলোয়াড়ই ওয়ানডে ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা একটা অসাধারণ কাকতালীয় ঘটনা।’
স্যার অবাক গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী রকম কাকতালীয় ঘটনা, বলো তো রোরো? আমি তো এর মধ্যে কাকতালীয় ঘটনার কিছু দেখছি না!’
রোরো ঘাড় নাড়িয়ে বলল, ‘না স্যার, এর ভিতর কাকতালীয় ব্যাপার লুকিয়ে আছে। আমি বলছি--সচিন ডবল সেঞ্চুরি করেছিলেন সেবার। তাঁর রান ছিল দু’শো। তিনি নটআউট ছিলেন। আর বীরেন্দ্র সহবাগ ডবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। তাঁর রান ছিল দু’শো উনিশ। এবং রোহিত শর্মা ডবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। তাঁর রান ছিল দু’শো ন’ রান।’
পাশে দাঁড়িয়ে সকলে রোরোর কথা শুনছিল মন দিয়ে। শ্যামলা ছিপছিপে বাঁ-হাতি বোলার নাতাশা মুখ বাঁকিয়ে বলল, ‘এর মধ্যে আবার কাকতালীয় ব্যাপার কোথায়? ব্যাপারটা কোথায় বল তো শুনি?’
রোরো সবজন্তার মতো মুখের ভঙ্গি করে বলল, ‘আরে, এই সব ক’টা ইনিংসে ভারত তিনটি ম্যাচেই জিতেছিল। আর শুনে অবাক হয়ে যাবি, প্রতিবারেই জয়ের রান ছিল একশো তিপান্ন রান। এটাই কাকতালীয় ব্যাপার!’
দেবোপমস্যার বললেন, ‘বাঃ! বেশ মজার তো! আর একটা ঘটনার কথা শোনাও তো রোরো?’
‘আমার ছুটকাইমামা এমন কত রেকর্ডের কথা যে মাথায় ধরে রাখেন কেমন করে, কে জানে!’
ক্লাস এইট সি-সেকশানের ধুরন্ধর উইকেট কিপার, যার হাত থেকে কখনও বল ফসকে যায় না বলে দেবোপমস্যার দাবি করেন, সেই দেবক সাহা রোরোর কথার পিঠে বলল, ‘তুই বল না আর-একটা কাকতালীয় ঘটনার কথা, শুনি?’
রোরো বলল, ‘এবার যে কাকতালীয় ঘটনার কথা বলব, তোরা সকলেই শুনে মস্ত বড় হাঁ করে অবাক হয়ে যাবি, আমি আগেভাগে বলে দিলাম।’
দেবক বলল, ‘রোরো, তুই বড্ড বেশি ভণিতা করিস। বল না আসল কথাটা!’
‘এবারের কাকতালীয় ঘটনাটা হল একশো তিরাশি রান নিয়ে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এবং বিরাট কোহলি। তিনজনই ওয়ানডে ক্রিকেটে একশো তিরাশি রান করার পর কী হয়েছিল বল তো? তিনজনেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন!’
দেবোপমস্যার বললেন, ‘বাঃ! এই কাকতালীয় ঘটনার কোনও জবাব খুঁজে পাওয়া যাবে না সত্যিই!’
সকলে খুব তারিফ করল রোরোকে। অতিমান সেন বলল, ‘তোর ছুটকাইমামাকে একদিন স্কুলে ডেকে আন না রোরো! আমরা মন ভরে এরকম নানা মজার-মজার ঘটনার কথা শুনব?’
রোরো বলল, ‘আরে, দাঁড়া দাঁড়া! কথাটা যদি দিন তিনেক আগে বলতিস, তা হলেও না হয় চেষ্টা করতাম! কিন্তু আমার ছুটকাই মামার আমাদের বাড়িতে থাকার দিন এবার ফুরিয়ে এসেছে। ছুটকাইমামা শুধু আজকের দিনটা থাকবে আমাদের বাড়িতে। কাল সকালের আটটা দশের পাথরকুসমা-হাওড়া গ্যালোপিন ট্রেন ধরে চলে যাবে। মামার হাতে নাকি অনেক কাজ জমে আছে। তারপর তো মাসখানেক পরেই শুরু হবে মামার ফার্স্ট ইয়ারের এগজাম! পরেরবার যখন ছুটকাইমামা আমাদের বাড়িতে আসবে, আমি আজই বাড়ি ফিরে গিয়ে বলে রাখব মামাকে, সেবার একটা দিন অন্তত আমাদের স্কুলমাঠে আসে যেন ক্রিকেটের আজব সব ঘটনা শোনাতে!’
স্যার বললেন, ‘তোমার ছুটকাইমামাকে বোলো, আমিও ওঁর কাছ থেকে ক্রিকেটের গল্প শুনব! উনি নিশ্চয়ই না করবেন না!’
রোরো বিজ্ঞের মতো গলায় বলল, ‘স্যার, আমার ছুটকাইমামা আপনার চেয়ে বেশ অনেকটা ছোটই হবে। ওকে ‘আপনি’ করে বলতে হবে না!’
দেবোপমস্যার বললেন, ‘না না। ওঁর সঙ্গে তো আমার এখনও পরিচয়ই হয়নি! অপরিচিত মানুষকে ‘আপনি’ করেই তো বলা সঙ্গত।’
বলে স্যার বলটা ছুঁড়ে দিলেন সি-সেকসানের বাঁ-হাতি বোলার তাহিরা দত্তর দিকে। বললেন, ‘তুমি এবার এক ওভার বল করো তাহিরা । এই এক ওভারে একটা উইকেট আমার চাইই চাই!’
ঘাড় নেড়ে হাসল তাহিরা। তাহিরা সি-সেকশানের বোলার কাম ব্যাটার, দুইই। মাঠের বাইরে থেকে মায়ামি দেব চেঁচিয়ে বলল, ‘ফার্স্ট বলেই উইকেট চাই তাহিরা।’
তাহিরা প্রথম বলটা করল ডি-সেকশানের ব্যাটসম্যান অতিমান সেনকে। গড়ানে ধরনের বল। সজোরে মারতে গিয়ে অতিমানের ব্যাটটা ফসকে গেল। কোনও রান হল না। স্যার বললেন, ‘বলটা কেমন করে খেললে অতিমান? এমন গড়ানে বল কেউ ওভাবে খেলে?’ এ কথা বলে স্যার এগিয়ে গেলেন তাহিরার উলটো দিকে। বললেন, ‘তাহিরা, প্রথম বলটার মতো এবারও ওরকম একটা গড়ানে বল আমাকে ডেলিভারি দাও তো!’
অতিমানের হাত থেকে ব্যাটটা নিয়ে স্যার রেডি হয়ে দাঁড়ালেন। চোখের ইশারায় তাহিরাকে দ্বিতীয় বল করতে বললেন।
তাহিরা হুবহু প্রথম বলের মতোই একই ভাবে গড়ানে বল করল। অমন মাটি কামড়ে এগিয়ে আসা বলটাকে স্যার দারুণভাবে সুইপ করলেন। বলা ভাল, বলটায় কিছুটা ঝাড়ু-মার মারলেন। বাঁ দিকের ফিল্ডারের হাতের নাগালের বাইরে দিয়ে গড়িয়ে চলে গেল বলটা।
বাউন্ডারি লাইন থেকে দৌড়ে উঠে এসে নাতাশা চক্রবর্তী বলটা ধরে পাঠিয়ে দিল বোলার তাহিরা দত্তর কাছে। ততক্ষণে অতিমান দৌড়ে এক রান নিতে গিয়েও নিল না। কারণ, বলটা তো মেরেছেন দেবোপমস্যার!
স্যার তাহিরাকে বললেন, ‘না, আমার মারটা এবার তেমন জুতসই হয়নি গো। ওরকম মারলে হবে না অতিমান।’ বলে তাহিরাকে বললেন, ‘তুমি এবার তৃতীয় বলটা ওরকম আর-একটা গড়ানে বল করো তো অতিমানকে তাহিরা।’ বলে তাঁর হাতের ব্যাটটা তুলে দিলেন অতিমানের হাতে।
তাহিরা তৃতীয় বলটা একই রকম গড়ানে বল করল। অতিমান এবার দারুণ দক্ষতার সঙ্গে তৃতীয় বলটাকে এমন ভাবে মারল, দর্শকদের চোখ জুড়িয়ে গেল! বলটা ফিল্ডারদের কাঁধ বরাবর উঠে সাঁই-সাঁই করে ছুটে চলে গেল বাউন্ডারি সীমানার দিকে। ওখানে ফিল্ডিং করছিল সি-সেকশানের জিতিন। বলটা ধরতে তার কোনও ভুল হল না বটে! কিন্তু ততক্ষণে দৌড়ে দুটো রান তুলে নিল অতিমান।
এবার চতুর্থ বল করল তাহিরা। অতিমান ঝড় তুলে বলটাকে পাঠিয়ে দিল সোজা বাউন্ডারি সীমানার বাইরে। অতিমানের সংগ্রহে চলে এল চার রান। যেন দারুণ ফর্মে জ্বলে উঠেছে অতিমান। ক্রিজে দাঁড়িয়ে টগবগ করে ফুটছে।
এবার পঞ্চম বল। স্পিন বল করল তাহিরা। তাহিরা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলগুলো করছিল। স্যার ওর প্রসংশা করে বললেন, ‘তুমি চমৎকার বল করছ তাহিরা!’
এ বলটা খেলতে পারল না অতিমান। ব্যাটে জড়িয়ে উইকেটের সামনে বলটা পড়ে স্থির হয়ে রইল। এ বলে অতিমান রান নিতে পারল না।
স্যার যেন নিজেই বল করছেন এমন ভঙ্গিতে হাত ঘোরালেন। তাহিরা অনেকটা ছুটে এসে এবার ষষ্ঠ বল করল ঝড়ের বেগে। অতিমানও ব্যাট ঘোরাল সজোরে। ঠিকমতো ব্যাটে-বলে হয়নি। বাটের কানায় লেগে ক্যাচ উঠে গিয়েছিল। সি-সেকশানের সারিন দাসের হাত থেকে বলটা পড়ে গেল। ক্যাচ মিস করল সারিন। দর্শকদের মধ্যে থেকে তুমুল চিৎকার উঠেছিল—‘ক্যাচ! ক্যাচ!’
অতিমান মরিয়া হয়ে এই বলে দৌড়ে রান নিল একটা। এক ওভারে তাহিরা মোট পাঁচ রান দিয়েছে। অতিমান এক ওভারে সাত রান তুলে বেশ গর্বের ভঙ্গিতে দেবোপমস্যারের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
‘তুমি বিরাট কোহলির ভঙ্গিতে এসে দাঁড়ালে কী হবে, এই ওভারে এখনও একটা বল বাকি। মানে আমি তো একটা বল খেলেছি!’
সম্মতির ঢঙে অতিমান ফিরে গেল উইকেটের সামনে। তাহিরা শেষ বলটা করল খুব সাহস নিয়ে। যেন এই বলে অতিমানকে আউট করতেই হবে।
ঘটলও তাই। ওভারের শেষ বলটা দিল পুরোপুরি ফুলটস বল। না, চান্স মিস করতে চাইল না অতিমান। দু’ পা এগিয়ে গিয়ে কব্জির সবটুকু জোর দিয়ে বলটাকে উড়িয়ে দিল সোজা বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। অতিমানের সংগ্রহে চার রান চলে এল। মোট এগারো রান হয়ে গেল।
এমন সময় পশ্চিম আকাশ কালো করে একটা গরম বাতাস বইতে শুরু করল বাঁ পাশে পদ্মঝিলের দিকে। দেবোপমস্যার বলে উঠলেন, ‘চলো, স্কুলের চাতালের দিকে ছুটে চলো সকলে। বৃষ্টি আসবে মনে হচ্ছে।’
তাহিরা চটপট উইকেট আর বেলগুলো গুটিয়ে নিয়ে দৌড় দিল স্কুলের চাতালের দিকে। দর্শকরাও স্কুলের চাতালের দিকে দৌড়ল। রোরো ছুটে এসে দেবোপমস্যারের হাত থেকে ক্রিকেট বলের ব্যাগটা নিয়ে দৌড়ল স্কুলের দিকে। ততক্ষণে ঝেঁপে বৃষ্টি নেমে পড়েছে। স্কুলের দরজা-জানালাগুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ করছিলেন ঘন্টিদাদু। তাঁকে সাহায্য করতে ছুটে গেল ক্লাস এইট সি-সেকশান এবং ডি-সেকশান।
দেবোপমস্যার বললেন, ‘তোমরা সকলে বাড়ি ফেরার জন্যে তড়িঘড়ি কোরো না কেউ। অসময়ের বৃষ্টি! তাড়াতাড়ি থেমে যাবে!’
সত্যি-সত্যি অমন ঝেঁপে আসা বৃষ্টি পাততাড়ি গুটিয়ে মেঘের দেশে মুখ লুকোল যেন!
সুকন্যা মাইতি
অষ্টম শ্রেণি, কলাগেছিয়া জগদীশ বিদ্যাপীঠ, খেজুরী পূর্ব মেদিনীপুর।
ছড়া
মোমের পুতুল
রাজর্ষি মন্ডল
মোমের পুতুল মোমেই গড়া
কথাও কি আর বলো
নেচে নেচে এদিক সেদিক
নিজের মতোই চলো?
মোমের পুতুল মোমের পুতুল
ভাত কি তুমি খাবে
খেয়ে দেয়ে আমার সাথে
খেলার মাঠে যাবে?
খেলার মাঠে খেলবে সাথে
লুকোচুরির খেলা
খেলার শেষে ফিরবে ঘরে
পড়ে এলে বেলা।
মোমের পুতুল আমার কাছে
থাকবে বন্ধু হয়ে
ছাদ বাগানে গাইবো যে গান
শুনবে রয়ে সয়ে।
মোমের পুতুল ভারি মজা
করছ না তো পড়া
তা হলে তো আমার মত
শিখবে না আর ছড়া।
🍂
কালো মেঘের গল্প
অস্মিতা ঘোষ
ষষ্ঠ শ্রেণি
সেন্ট জেভিয়ার্স ইনস্টিটিউশন , পানীহাটি
আকাশে ছিল একটি কালো মেঘ। তার নাম কালো। অন্য মেঘেরা সাদা, তুলতুলে। কিন্তু সে কালো, ভারী।
"তুমি কুৎসিত!" সাদা মেঘেরা বলত। "তুমি আমাদের সাথে খেলতে পারবে না।"
কালো একা একা ভেসে বেড়াত। সে দুঃখিত ছিল। "কেন আমি এত আলাদা?"
একদিন নিচে এক গ্রামে ভয়াবহ খরা। ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। মানুষ জলের জন্য কাঁদছে। ছোট্ট একটা মেয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, "কেউ নেই যে আমাদের বাঁচাবে?"
কালো মেঘ সব শুনল। তার মন কেঁদে উঠল। সে জানত সাদা মেঘেরা হালকা বৃষ্টি দেয়। কিন্তু সে ভারী - সে দিতে পারে মুষলধারে বৃষ্টি।
"আমি যাব!" কালো সিদ্ধান্ত নিল।
সে গ্রামের উপর ভাসল। তারপর নিজেকে উজাড় করে দিল। ঝড়ো বৃষ্টি নামল। নদী ভরে গেল। পুকুর টইটম্বুর। ফসলের জমি সিক্ত হলো।
মানুষ খুশিতে নাচল। "বৃষ্টি এসেছে! আমরা বেঁচে গেছি!"
ছোট্ট মেয়েটি আকাশের দিকে তাকাল। কালো মেঘ এখন ছোট হয়ে গেছে, প্রায় অদৃশ্য। মেয়েটি হাত নেড়ে বলল, "ধন্যবাদ!"
কালো মেঘ দুর্বল কণ্ঠে হাসল। "আমি কুৎসিত না। আমি অন্যরকম। আর এই অন্যরকম হওয়াটাই আমার শক্তি।"
ধীরে ধীরে বৃষ্টির জল বাষ্প হয়ে আবার আকাশে উঠল। কালো মেঘ আবার তৈরি হলো - এবার আরও বড়, আরও শক্তিশালী।
সাদা মেঘেরা এসে বলল, "আমরা ভুল করেছিলাম। তুমি আমাদের হিরো।"
কালো মেঘ হাসল। "আমরা সবাই আলাদা। কেউ সুন্দর বৃষ্টি দেয়, কেউ জীবন বাঁচানো বৃষ্টি। দুটোই দরকার।"
সেদিন থেকে সব মেঘ একসাথে খেলে। কারণ তারা বুঝেছে - ভিন্নতাই আসল সৌন্দর্য।
পাঠ প্রতিক্রিয়া
ছোটোবেলা ১৯০ পড়ে ফাল্গুনী পান্ডা যা লিখলেন
ছোটবেলা ১৯০ জ্বলদর্চি
সরষে ক্ষেতে মুখোশ পরা বহুরূপীর ছবিটি যেন জ্বলদর্চি পত্রিকাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। তার জন্য চিত্রগ্রাহক সুশোভন বাবুকে ধন্যবাদ জানাই।
'গগন জ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ ' ধারাবাহিক উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে জানতে পারলাম ক্রিকেট ব্যাট ও ক্রিকেট সম্পর্কিত অনেক তথ্য। যেমন শ্রীনগরের দোকানে উইলো কাঠের ক্রিকেট ব্যাট পাওয়া যায়। যা এককথায় সেরা। উপন্যাসের প্রত্যেকটি চরিত্র বেশ প্রাঞ্জল ভাষায় লেখক উপস্থাপন করেছেন। লেখককে সাধুবাদ জানাই।
শ্রীজা মাইতির হাতে আঁকা ছবিটি জীবন্ত। খুব ভালো।
অনুগল্প - 'অত্রিকার খেয়াল খুশি 'গৌরাঙ্গ দাসের লেখা। পড়তে পড়তে আমিও অবাক হয়ে পরিচিত হলাম এই দুঃসময়ে - এ আই এর থাবার নিচে বেড়ে উঠতে থাকা শিশুর চেতনাকে!
ফেসবুক, ইনস্টা, রীল, ভিডিও র যুগে একটি শিশু সন্দেশ পত্রিকার পৃষ্ঠা উল্টে দেখছে!এ তো স্বপ্নের মতো সুন্দর!মন -কাড়া গল্প।
'মলিন বিষাদের পাড় ' শৌনক রায়ের লেখা, এই গল্পে প্রত্যন্ত গ্রামের এক হার -না -মানা মেয়ে রিনুলিকার জীবনযুদ্ধের কথা উঠে এসেছে। এই গল্প আমাদের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুপ্রেরণা দেয়। শতবাধা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সত্যিই শিক্ষণীয়।
2 Comments
অস্মিতা তোমার গল্পটা খুব খুব ভালো লেগেছে।যেমন সুন্দর তোমার ভাবনা তেমন সুন্দর তোমার লেখা। সবই তোমার মত মিষ্টি তোমার মত সুন্দর।অনেক লেখো ,অনেক বড় হও অনেক আশীর্বাদ করি সোনা মেয়ে আমার।অনেক ভালোবাসা নিও।
ReplyDeleteঅস্মিতার গল্পটি বড় চমৎকার। রাজর্ষির পদ্য বেশ। সুকন্যার ছবিও নজর কেড়ে নেয়।
ReplyDelete