নাব্যতা সংকট
জীবনের অনেকটা পথ জুড়ে
বয়ে এনেছি ;
নুড়ি-কাঁকর,
বালি-পাথর।
জমিয়েছি বুকের তলায়।
আজ,
নাব্যতা সংকটে ভুগছে হৃৎপিণ্ড।
ধসে যাচ্ছে জীবনের বাস্তুতন্ত্র।
মজে যাওয়া ধমনীতে
গতি নেই আর।
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের স্থিরতায়
মাথা পেতে নিতে হয় গতিহীনতার শাস্তি।
তবুও,
অনেক দূরে উত্তাল সমুদ্র,
শুধু আমারই অপেক্ষায়।
জোজোর অনেক প্রশ্ন মনে
ছোট্ট জোজোর অনেক প্রশ্ন মনে।
বাড়ির মানুষ অতিষ্ঠ,
তার হাজার প্রশ্নবাণে।
ওই যে সব কিম্ভূতাকার
হাট্টিমাটিম টিম।
যাদের খাড়া দুটো শিং ,
সত্যি সত্যি মাঠের মাঝে
পাড়ে তারা ডিম?
কার সঙ্গে হয়েছিল কলাবাদুড়ের বিয়ে? কেমন করে বাজনা বাজায় খ্যাংরা-কাঠি দিয়ে?
কেমন করে বাটি ধরে দুধ খায় চাঁদমামা? সত্যি সত্যি সূর্যঠাকুর গায়ে দেয় রাঙা জামা?
প্রশ্ন শুনে, মা বলেন_
আর যে পারি নাকো,
কেমন করে সারাটা দিন
এত তুমি বকো?
একটু তো চুপ থাকো।
ছোট্ট জোজোর হাজার প্রশ্ন মনে,
শৈশব তার হারায়নি যে নতুন যুগের ফোনে।
সমর্পণ
কোনো একদিন...
আপনি আরও নত হতে চেয়েছিলেন।
সাক্ষী ছিল নিঃসঙ্গ এক রাধাচূড়া গাছ।
চোখের জল,
ভিজিয়ে দিয়েছিল ঘাসের শরীর।
বাকিটুকু শুষে নিয়েছিল মাটি।
চমকে ওঠা লাল ফড়িং
অবাক হয়ে দেখেছিল ;
দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া দুটি মানব-মানবীকে।
আপনার নিঃশর্ত সমর্পণে,
আমার কারক-বিভক্তিরা সব দিশেহারা।
আজও,
লজ্জাবতী পানকৌড়ি বধূটির মতো
ভেসে আছি জলের তলায়।
0 Comments