অন্তরা ঘোষ
তীর্থে যেমন আনন্দ,তেমন তীর্থপথেও।বিভাগীয় অধ্যাপক শ্রদ্ধেয় বাণীরঞ্জন দে মহাশয়ের উদ্যোগ ও সক্রিয় সহযোগিতায় দীর্ঘ দেড়মাসের পরিকল্পনা,বহু ভাবনার বাস্তব রূপায়ণ ঘটলো গতকাল 31 মার্চ।এক বর্ণাঢ্য পুনর্মিলন উৎসবের সাক্ষী হয়ে রইলেন 1990 থেকে 2026 এর বাংলা বিভাগের প্রাক্তনী, বর্তমান অধ্যাপক, অধ্যাপিকা সহ শিক্ষার্থীরা।বহুজনের উপস্থিতিতে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে আবেগ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার মেলবন্ধনে।
প্রথম পর্বে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় একেবারেই আলাদা এক আবহে,বিভাগের 'তারাদের দেশে তারাদের প্রতি' শ্রদ্ধা নিবেদনে।
দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রায় দুষ্প্রাপ্য গোলাপী অমলতাস গাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে।এই পর্বে অতিথিদের বরণ ও সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান।বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই পর্বে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাননীয় ড.দীপক কুমার কর মহাশয়কে 'রাজনারায়ণ বসু স্মারক সম্মান' প্রদান করা হয় বাংলা বিভাগের প্রাক্তনীদের তরফ থেকে।উপাচার্য মহাশয়ের মূল্যবান বক্তব্যের মধ্যে পিছুটান অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ওনার আবেগাপ্লুত সদর্থক আলোচনা সকলের মন জয় করে নেয়।
তৃতীয় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলো,'সময়ের সিঁড়ি :ফিরে দেখা,ফিরে পাওয়া'।প্রথম ছ'টি ব্যাচকে মঞ্চে আলাদা সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়।
একইসাথে নৃত্য,সঙ্গীত, শ্রুতিনাটক,আবৃত্তির অসাধারণ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তোলে।সবকিছুর মাঝে প্রাক্তন স্যার শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আশিস কুমার দে,অধ্যাপক ড.লায়েক আলি খান, অধ্যাপক শ্রুতিনাথ চক্রবর্তী মহাশয় ও বর্তমান অধ্যাপক ড.বাণীরঞ্জন দে মহাশয়ের মনোমুগ্ধকর বক্তৃতা প্রাণিত করেছে সকলকেই।
পুনর্মিলন উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ।বিগত পঁয়ত্রিশ বছরের স্মৃতির ফুলে গাঁথা মালা দিয়ে তাঁরা তাঁদের শিক্ষার্থী জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলেন।অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিজেদের বই দিয়ে 'বইয়ের আড্ডা'য় অংশ নেন।হাতে তৈরি শিল্প সামগ্রী দিয়ে 'শিল্পমেলাও' হয়।এছাড়াও ছিলো 'স্মৃতিবৃক্ষ',প্রাক্তনীদের মনের কথা লিখে রাখার জন্য।ছিলো,'মনের জানালা',যেখানে উপস্থিত সকলেই ইচ্ছেমতো নিজের ভাবনার বিন্যাস করতে পারেন অল্প কথায়,অন্যভাবে।
শুরুতে পলাশফুলের পাপড়ি দিয়ে বরণ থেকে, ইচ্ছেমতো প্লেটে খাবার নিয়ে খাওয়া পর্যন্ত উৎসবের আমেজ ছিলো ভীষণভাবে মন ছুঁয়ে থাকার মতো।
অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়, যা নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে নয়,মঞ্চে ঘোষণা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নানারকম সামাজিক কার্যকলাপের।যার মধ্যে বৃক্ষরোপণ, রক্তদান শিবির,গ্রামের কোনো লাইব্রেরিতে বইদান,দুঃস্থ গ্রাম দত্তক নেওয়ার ভাবনাও রাখা হয়।
সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে পিছুটান অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজক প্রাক্তনী সংসদের মতে, এই পুনর্মিলন উৎসব প্রাক্তন ও বর্তমান অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনেক স্মৃতি আর আনন্দের পসরা আর ফের পিছুটান অনুষ্ঠান করার অঙ্গীকারবদ্ধতায় শেষ হয় অনুষ্ঠান।
🍂
2 Comments
"তারাদের দেশে তারাদের প্রতি" শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
ReplyDeleteNice street art deaigns .....well written also ....
ReplyDeleteIn our Chennai, South India we can see daily new deaigns or rangoli art front of the doors of every houses ....they welcome money and Lakshmi God by these rangoli designs ...