চিত্রা ভট্টাচার্য্য
এই বিশ্বের বিরলতম প্রতিভা অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎরায় শুধুমাত্র একজন ভারতীয় আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন না, রবীন্দ্রত্তোর যুগে তিনি এলেন আর এক অন্যতম যুগস্রষ্টা হয়ে। যিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্য রচনায়, সঙ্গীতের সুর লহরীতে,মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহারে আবহ সঙ্গীত তৈরিতে,অঙ্কনশিল্প ও সংস্কৃতির এক বহুমুখী প্রতিভা ও সিনেমা জগতের সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বলতম নক্ষত্র বঙ্গমাতার এক কৃতী সন্তান হয়ে এলেন এই ধরা ধামে। বাংলা সিনেমা কে প্রথম যিনি বিশ্বের দরবারে পৌঁছেদিয়েছিলেন সেই কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়।জন্মদিনে তাঁকে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।
🍂
বিশ্ব সিনেমা ও কোনো দ্বিমত ছাড়াই যাঁকে শীর্ষ আসনগুলোর একটিতে বসিয়েছে। শুধু দেশের নয়, বহু আন্তর্জাতিক শ্রেষ্ঠ পুরস্কারগুলাে অর্জন করেছিলেন একাধিকবার। মার্টিন স্কোরসেস থেকে শুরু করে খ্যাতনামা বহু পরিচালক তার সিনেমা দেখে চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহ পেয়েছেন।এক হিসাবে জানা যায়, ১৯৮৪ সন পর্যন্ত তিনি মােট ২৮ টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন, যা বিশ্বের চলচ্চিত্র ইতিহাসে আর কারাে পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তিনি মোট ৩২টি কাহিনীচিত্র এবং চারটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। এগুলোর মাধ্যমে কান, বার্লিনসহ বিশ্ব চলচ্চিত্রের বড়বড় উৎসবে পেয়েছেন নিমন্ত্রণ। ভূষিত হয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অসংখ্য পুরস্কারে। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে ৩০শে মার্চ ৬৪ তম একাডেমি আওয়ার্ডসে সত্যজিৎ রায় কে চলচিত্র শিল্পের দুর্লভ দক্ষতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও দর্শকদের ওপর গভীর প্রভাবের জন্য আজীবন সাম্মানিক অস্কার সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতির পীঠস্থান রূপে বিশেষ অবদানের জন্য চিরস্মরণীয় ময়মনসিংহের মসুয়ার, রায়চৌধুরী পরিবারে ২ মে ১৯২১ সালে পিতা সুকুমার রায় ও মাতা সুপ্রভা দেবীর কোল আলো করে সত্যজিৎ জন্মগ্রহণ করেছিলেন । সত্যজিতের ঠাকুরদাদা বিখ্যাত বাঙালি শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী যিনি সংগীত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিত্রশিল্পসহ আরও নানাবিধ শিল্প সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে স্বনাম ধন্য ছিলেন। এবং তিনি বাংলা শিশু সাহিত্যের ও প্রথম সম্পাদক হয়ে ১৯১৩ সালে শিশু কিশোরদের জন্য ‘সন্দেশ’ পত্রিকা প্রকাশ করলেন। কিন্তু ১৯১৫ সালে তাঁর প্রয়াণ ঘটলে সন্দেশের সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন ‘আবোল-তাবোল, হ-য-ব-র-ল’ এর মত কালজয়ী সাহিত্য স্রষ্টা বাংলা শিশুসাহিত্যের আরেক অন্যতম উজ্জ্বল জোতিস্ক তাঁরই স্বনামধন্য পুত্র সুকুমার রায়। কিন্তু বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন জাগে মনে , ধন্ধে পড়ি যখন ভাবি বিখ্যাত রায় পরিবারের সন্তান সাহিত্যকে ছাপিয়ে সত্যজিৎ কীভাবে জয় করলেন সেলুলয়েডের রহস্যময় জগত ?
মাত্র ৩ বছর বয়সে সত্যজিৎ ও পিতৃহীন হওয়ার পর মাতা সুপ্রভা দেবীর কঠিন সংগ্রামের সাক্ষী হয়ে ক্রমশ বড়ো হতে লাগলেন । ১৯৩৬ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে দুই বছর বিজ্ঞান পড়ার পর তৃতীয় বর্ষে অর্থনীতি পড়া শুরু করলেও তরুণ সত্যজিতের শুধু আগ্রহ ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে সিনেমা দেখা আর ক্লাসিকাল মিউজিক শোনা । তাঁর প্রবল উৎসাহ অভিনেতা নেত্রী নয় সিনেমার নেপথ্যের পরিচালকদের নিয়ে। আর্নস্ট লুবিচ, জন ফোর্ড, ফ্রাংক ক্যাপরা, এবং উইলিয়াম ওয়েলারের মতো কিছু জগদ্বিখ্যাত পরিচালক তাঁর মনে রীতিমত জাঁকিয়ে বসেছে। ১৯৩৯ সাল, সত্যজিৎ রায় প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর পুঁথিগত পড়াশোনা নয় চাকরির দিকে মন দিলে সে সময়ে তার তৈরী অসামান্য ভিজুয়াল আর্টের কিছু নমুনা সুপ্রভা দেবী নজরে আসায় তিনি সত্যজিৎকে চাকরি নয় বরং আর্ট শিখতে পাঠালেন রবীন্দ্রনাথের আশ্রম শান্তিনিকেতনে যেখানে তিনি মনের মত শিল্পের গভীরে প্রবেশ করার সুযোগ পেলেন।
নিখুঁত শিল্পের আবাসভূমি শান্তিনিকেতনের পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে আর্টের শিক্ষক রূপে পেলেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী বিনোদ বিহারি মুখার্জিকে যাঁর অসামান্য প্রতিভার প্রভাব সত্যজিতের জীবন প্লাবিত করেছিল। তার প্রমাণ ১৯৭২ সালে প্রকাশিত The Inner Eye ডকুমেন্টারিটি যা সত্যজিৎ বিনোদ বিহারিকে নিয়ে বানিয়েছিলেন। শান্তিনিকেতনে আরও যে দুইটি কাজ তার পরিচালক জীবনের ভিত হিসেবে সহায়ক ছিল তার প্রথমটি, তিনি সেখানকার এক ইংরেজি অধ্যাপকের সংগ্রহে থাকা পাশ্চাত্য সংগীত শুনতেন। দ্বিতীয়ত, শান্তিনিকেতনের লাইব্রেরিতে বসে সিনেমার তত্ত্বীয় বই পড়তেন এবং ১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে সত্যজিৎ পুনরায় কলকাতায় ফিরলেন।
১৯৪৩ সালের এপ্রিলে সত্যজিৎ রায় ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন সংস্থা ডি জে কিমারে মাত্র ৮০ টাকা বেতনের বিনিময়ে জুনিয়র ভিজুয়ালাইজার হিসেবে যোগদিলেন। তার অসাধারণ কাজের জন্য প্রশংসিত হলেন। সে সময় সত্যজিৎ অসাধারণ কিছু টাইপোগ্রাফির কাজ করেছিলেন এবং তার সিনিয়র কলিগ ডি. কে. গুপ্ত সিগনেট প্রেস নামে পাবলিশিং হাউস খুলে ফেলছেন। সত্যজিৎ জড়িয়ে গেলেন সিগনেট প্রেসের সঙ্গে। সেখানে তাঁর শৈল্পিক দক্ষতা দিয়ে স্বাধীনভাবে একের পর এক নিজের মনের মত বইয়ের প্রচ্ছদ ডিজাইন করে চলেছেন।
যে পথের পাঁচালী ছবি বানিয়ে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র পরিচালনার জগতে নিজের স্থান অধিকার করেন, সেই পথের পাঁচালীর কাহিনিটি নাটকীয়ভাবেই এসেছিল তাঁর জীবনে। সত্যজিৎ যে প্রকাশনা সংস্থায় চাকরি করতেন, সেখান থেকে বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় বইগুলো একেবারে সাধারণ পাঠক বা কিশোরদের উপযোগী করে নতুন সংস্করণে ছাপা হতো। আর সেইসব বইগুলির প্রচ্ছদসহ আরও অন্য ছবি আঁকার দায়িত্ব পড়তো সত্যজিৎ রায়ের ওপর। এখানেই '' ডি. কে. গুপ্ত তাকে পথের পাঁচালীর একটি শিশুতোষ সংস্করণ ‘আম আঁটির ভেপু’,র নামে বই টির প্রচ্ছদ নির্মাণের কাজ দিলেন ।এবং বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ সত্যজিৎ এর মন স্পর্শ করলে তিনি তখনও জানতেন না, তার বানানো প্রথম ছবি হবে এই বইয়ের গল্পকে ঘিরেই, এবং সেই ছবি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবে।
সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা উঠলেই অবধারিত ভাবে উঠে আসে ,কথা সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৫৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পথের পাঁচালী' সিনেমাটির প্রসঙ্গ। যে সিনেমা টির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং প্রথম ছবিতেই সমালোচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হন।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে পথের পাঁচালি ছবিটি যে একটি মাইল ফলক একথা আজ সর্বজন স্বীকৃত। কিন্তু চিত্র কলা থেকে চলচ্চিত্র রুপান্তরের প্রেক্ষিতে ও এই ছবির গুরুত্ব অপরিসীম। শান্তিনিকেতনে শিল্পকলা সম্পর্কে যে গভীর বোধ তৈরী হয়েছিল সত্যজিতের মনে ,তার অসামান্য ব্যবহার ছড়িয়ে রয়েছে এই ছবির বিভিন্ন ফ্রেমের মধ্যে। পথের পাঁচালী ছবিটি করবার আগে একটি স্কেচ খাতার আটান্ন পাতা জুড়ে সত্যজিৎ এঁকে ফেলেছিলেন পথের পাঁচালী ছবির স্টোরি বোর্ড অথবা ভিস্যুয়াল স্ক্রিপ্ট। প্রাথমিক ভাবে এটি ছবির প্রযোজক কে প্রভাবিত করার লক্ষ্যনিয়ে আঁকা হলেও চিত্রকলার দিক থেকে এর অসীম তাৎপর্য রয়েছে।
এই চলচ্চিত্রে বাংলার এক অজ পাড়াগাঁয়ে কঠোর দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা একটি পরিবার ও তাদের সুখ-দুঃখের বাস্তব কাহিনি কে রূপালী পর্দায় দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। বাংলার তৎকালীন গ্রামীণ জীবনের ছবি এমন ‘নিখুঁত ও শৈল্পিক উপায়ে’ বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছিলেন, যা তাকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের দরবারে অন্যতম প্রভাবশালী নির্মাতার খ্যাতি এনে দিয়েছিল।
ইতালিয়ান পরিচালক ভিত্তোরি দ্য সিকার বানানো নিও রিয়েলস্টিক ‘লাদ্রি দি বিচিক্লেত্তে’ (ইংরেজিতে ‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’) ছবিটি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমা বানানোর স্বপ্নে বিভোর হয়েছিলেন তরুণ পরিচালক সত্যজিৎ সিনেমার মধ্যে খুঁজেছিলেন জীবনের অস্তিত্বকে। একসময় রবীন্দ্র সাহিত্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পরবর্তীতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাণে। একটি প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, লন্ডনে ঐ ছবিটি দেখে সিনেমা হল থেকে বের হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি চলচ্চিত্রকার হবেন এবং প্রথম চলচ্চিত্রটি তৈরি করবেন কালজয়ী উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’ নিয়েই । তারপর সমস্ত আবেগ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সিনেমা তৈরিতে ও বিশ্ববাসীর সভায় করেছিলেন এক কালজয়ী ইতিহাস রচনা।
এই চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সমস্যা থাকায় নির্মাণকার্য ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ তিন বছর পরে তা সম্পূর্ণ হয়। স্বল্প নির্মাণব্যয়ে অপেশাদার অভিনেতা ও অনভিজ্ঞ শিল্পীদের নিয়ে এই চলচ্চিত্র নির্মিত হযয়েছিল। সেতার বাদক রবিশঙ্কর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রাগ ব্যবহার করে চলচ্চিত্রের সঙ্গীতাবহ সৃষ্টি করেছিলেন এবং সুব্রত মিত্র চিত্রগ্রহণ ও দুলাল দত্ত সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৫৫ সালের ৩রা মে নিউ ইয়র্ক শহরের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টের একটি প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ও পরে সেই বছরই কলকাতা শহরে মুক্তি লাভ করলে দর্শকবৃন্দ অভিভূত,তাদের আন্তরিক প্রশংসা লাভ করে ছবিটি । সমালোচকরা চলচ্চিত্রটিতে প্রদর্শিত বাস্তবতাবাদ, মানবতা ও গুণমানকে প্রশংসা করলেও অনেকে যদিও এর মন্থর লয়কে চলচ্চিত্রটির খামতি বলে মনে করেন।
কিন্তু সত্যজিৎ নিজে একে বলেছেন '' ramble, বলছেন ছবি করার সময় তিনি জানতেন উপন্যাসের এই ইতস্তত মন্দ চলন তাঁকে অনেকটা ধরে রাখতে হবে; ‘life in a poor Bengali village does ramble’(‘a long time on the Little Road’ ) পাঠককে মনে করিয়ে দিচ্ছেন সাময়িক পত্রে উপন্যাসটির প্রকাশনা-সংক্রান্ত একটি তথ্য।
" সম্পাদক প্রথমে উপন্যাসটি ছাপতে চাননি,কারন ওতে যথেষ্ট গল্প নেই। শর্ত ছিল,পাঠকের পছন্দ না হলে কয়েক কিস্তির পর প্রকাশ বন্ধ হয়ে যাবে। সে সব আশঙ্কা অমূলক প্রমান করেছিলেন পাঠকরা।যথেষ্ট গল্পের অভাব বলতে এক্ষেত্রে এটাই বোঝায় যে, ড্রামাটিক কাঠামোর সঙ্গে বিশুদ্ধ বিবরণ জিনিসটার সম্পর্ক এই উপন্যাসে একটু জটিল।গল্পের প্রত্যক্ষ শাসনের বাইরে ছড়িয়ে যাচ্ছে এক রকমের কথন—সত্যজিৎ সেই কৌশল উপন্যাস থেকে শিখে নিচ্ছেন।ভারতীয় ছবিতে রিয়ালিজম-এর চূরান্ত মুহূর্তে তাকে ভিতর থেকে অগোছালো করে দিচ্ছে এক ধরনের ন্যাচারালিজম।''
‘পথের পাঁচালী’ মুক্তির পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছেন সামনে-- দেশে-বিদেশে সিনেমাবোদ্ধাদের আলোড়িত করেছিল। বহু নামীদামি পরিচালক এক নবীন নির্মাতার চলচ্চিত্র দেখে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন। অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে মনোনীত হয়েছিল ‘পথের পাঁচালী’। ‘পাত্তা না পাওয়া’ এক সিনেমা পাগল তরুণের দিকে দৃষ্টি পড়েছিল সবার। যে তরুণ নির্মাতা একটি স্বপ্ন পূরণের জন্য বিত্তবানদের কাছে ঘুরেছেন, ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তির পর দেখা গেলো তাঁর পিছনে ছুটেছে ভারতের সবচেয়ে নামীদামি প্রযোজক সংস্থাও। সিনেমা নির্মাণের জন্য পরবর্তীতে আর অর্থ কষ্টে পড়তে হয়নি এই স্রষ্টা কে । জগদ্বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎকে জানতে হলে তাঁর ভিতরের চিত্রকরটিকেও চিনতে হবে, আর সে জন্যই প্রাণের উৎসর্গ খুঁজতে হবে তাঁর চলচ্চিত্রে।
' পথের পাঁচালীর সাফল্যের পর তৈরি করলেন অপরাজিতা। অপরাজিতা ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পেলো গোল্ডেন লায়ন পুরস্কার। এটি ছিল অপু ট্রিলজির দ্বিতীয় ছবি। প্রথমটি পথের পাঁচালী। ট্রিলজির শেষ ছবি অপুর সংসার যা লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে জিতে নেয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। সত্যজিতের চলচ্চিত্র নির্মাণ চলতেই থাকলো। একে একে তৈরি করলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা (১৯৬২), অভিযান ( ১৯৬২), মহানগর (১৯৬৩), চারুলতা (১৯৬৪), নায়ক (১৯৬৬), গুপী গাইন বাঘা বাইন (১৯৬৯) ইত্যাদি অপূর্ব সব সৃষ্টি। নায়ক সিনেমায় দেখালেন পর্দার আড়ালে নায়কের ট্র্যাজেডি। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইনে’ রূপকথা আর বাস্তবতার মিশেলে তৈরি করলেন এক অপূর্ব শিশু কিশোর চলচ্চিত্র। প্রতিটি ছবিতেই অপূর্ব সব সংগীতের ব্যবহার করলেন যে, সংগীতগুলোর নেপথ্যে ছিলেন তিনি নিজেই। ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকলো ফেলুদা আর প্রফেসর শঙ্কুর কালজয়ী কমিকস। অসাধারণ কিছু গল্পও লিখেছেন সত্যজিৎ। পারফেকশন ছিল তার প্রতিটি কাজে। তার কাজ দেখে স্যার রিচার্ড এটেনবরো বলেছিলেন, “সত্যজিতের যে জিনিসটি আমাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে তা হলো প্রতিটি বিষয়ের প্রতি তার সূক্ষ্ম দৃষ্টি। একমাত্র চ্যাপলিন ছাড়া আর কারও সত্যজিতের মতো সিনেমার বহুমুখী প্রতিভা আছে কিনা সন্দেহ।”
তথ্য সূত্র : ১) Satyajit Ray: The Inner Eye (অ্যান্ড্রু রবিনসন।
২)Portrait of a Director: Satyajit Ray (মারি সেটন): সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র জীবন নিয়ে বিস্তারিত তথ্যসমৃদ্ধ বই।
৩)Satyajit Ray: Beyond the Frame (সুরভি বন্দ্যোপাধ্যায়):
৪) ডেইলি নিউজ।
2 Comments
অভিনন্দন🎉🎊
ReplyDeleteসুন্দর লেখা।
ReplyDelete