জ্বলদর্চি

হৃদয়ে লেখা ডায়েরী/অরুণ দাস


হৃদয়ে লেখা ডায়েরী

অরুণ দাস 


আজ রাত পরীরা জেগে ওঠে... বৃষ্টিভেজা নিখোঁজ মনের কোণে। জ্যোৎস্না হাসে নিঝুম রাতে।

সাজাই গোপন বর্ণ

মাছগন্ধী মেয়েদের

ঘুমহীন রাতের অন্ধকারে

পলক পড়বে না জেনেও

             নিঃস্পলকে

                       ছুঁয়ে ফেলি স্পর্শসুখ

মনের খবর রাখা

সেই দুষ্টু মেয়ে

মরা পাথরে

এঁকে রাখে

ময়ূরী স্পর্শ

...তোমাকে লিখি

শুধু স্পর্শে নয়,

অনুভবেও ভালোবাসা হয়



2
তোর লাজুক ঠোঁটের আলতো বাতাসে... 

লিখে রাখি, ফেরারী রোদের গন্ধ...

ঝুলন্ত চাঁদে ঝরা পাতার ছ¨

দুরন্ত প্রাণ

ক্লান্ত জ্যোৎস্নায় গভীর

গোপন স্নান।


3
স্নিগ্ধ কাশের মেঘ মেখে থাকি বর্ষাভীরু চোখে।

আধো ঘুম অন্ধকারে। আহ্লাদী আকাশ ঝরে পড়ে, তোর শীতল শরীরে। পাহাড়ী গন্ধবুঁদ ত্রিশূল বুকে, ঝরে পড়ে রাত।

মায়াময় রাত।


4
রাত পাখিদের কথা


চূর্ণী, কোনো কিছুই থেমে থাকে না কারো জন্য। এই যে শূন্যতা, মায়া ছেড়ে যাওয়া যত্নকোল। কাঁচা মাটির অহংকারের মতো তাও একদিন হারিয়ে যায়। অজানা দেশ, অজানা সমুo। গোধূলি রঙ মেখে আবার নতুন করে ভেসে ওঠা। অতীত অহংকার ভেঙে শিখে যাওয়া রাতের বৃষ্টি।

বৃষ্টিভরা রাত...

সহজ চোখে ছুঁয়ে থাকা

স্বজনহীন অন্ধকার...


5
এই যে ভাষাহীন ভেসে থাকা?

বিস্ময় আগুন লিখে রাখা তৃতীয় চোখে?

এই যে দূর থেকে অনায়াসে ছুঁয়ে ফেলা আকাশ?

এর কোন গূঢ় অর্থ নেই। 

রাতচরা নৌকোরা, ফিরে আসে, শরীরী ব¨রে।

স্বপ্ন শিখি শীত পাখিদের ছুঁয়ে। 

চূর্ণী, আজ অনায়াসে ভাঙি শব্দহীন শরীর

পলাশরঙা রূপকথা লিখি মৌন মাটির গভীরে।


6
পথ একদিন শেষ হবে বলেই শান্ত সমুo, অনায়াসে ভিজিয়ে দেয় সৈকত। অবৈধ পাখির ডাকে, উন্মাদ বৃষ্টি নামে। আজ দুচোখ ভেসে যায় জোয়ারের জলে। জ্যোৎস্না নামে শরীরী ব¨রে।


চূর্ণী, ... এই যে সমুদ্র চিনে নেয় গোধূলি। গোধূলি আকাশ। মুগ্ধ পাখিরা মাখে দিন শেষের আলো। আর তোকে ছুঁয়ে হারিয়ে যাওয়া নিভৃতে... নিবিড় অন্ধকারে...

🍂

Post a Comment

0 Comments