বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস
দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে
আজ ১৫ই মে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস। পরিযায়ী পাখি কাকে বলে, এদের স্বভাব কি রকম, এরা পৃথিবীর কোথায়,কোথায় ঘুরে বেড়ায়, আসুন এই সব কিছুই বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।
যেসব পাখি বংশবৃদ্ধি,খাদ্য বা অনুকূল পরিবেশের খোঁজে প্রতি বছর ঋতু পরিবর্তনের সাথে,সাথে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, সাধারণত তীব্র শীত বা প্রতিকূল এলাকা থেকে উষ্ণ ও নিরাপদ এলাকায় ভ্রমণ করে, তাদের পরিযায়ী পাখি (Migratory Birds) বলা হয়। এরা হাজার,হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে নতুন স্থানে পৌঁছায় এবং ঋতু বদলালে আবার নিজের পুরোনো ঠিকানায় ফিরে যায়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়,শীতের পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে নীলশির, লালশির, ক্ষুদে গাংচিল, খঞ্জনা, চটক, শামুকখোল, পানকৌড়ি, এবং সুদূর আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা টার্ন পাখি উল্লেখযোগ্য।
বিশ্বজুড়ে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের কাছে পরিযায়ী পাখি এক বিস্ময়ের নাম। হাজার, হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে,সঙ্গে এক দেশ থেকে অন্য দেশে উড়ে যাওয়া এই পাখিরা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পরিযায়ী পাখিদের সংরক্ষণ এবং তাদের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর পালিত হয় World Migratory Bird Day বা বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস।
এই দিবসটি সাধারণত বছরে দুইবার মে ও অক্টোবর মাসে পালিত হয়, কারণ,পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পাখিদের পরিযানের সময় আলাদা। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো, মানুষকে পরিযায়ী পাখির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের সুরক্ষায় উদ্যোগী করে তোলা।
🍂
পরিযায়ী পাখি হলো, সেই সব পাখি যারা নির্দিষ্ট ঋতুতে খাদ্য, আবহাওয়া ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশের সন্ধানে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ভ্রমণ করে। শীতপ্রধান দেশের অনেক পাখি শীতকালে উষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। আবার গ্রীষ্ম এলে তারা নিজ দেশে ফিরে যায়। এই দীর্ঘ যাত্রা অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঝড়, জলবায়ু পরিবর্তন, শিকারি, দূষণ এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে অনেক পাখি পথেই মারা যায়।
ভারতের বিভিন্ন জলাভূমি, নদী ও হাওর এলাকায় শীতকালে বহু পরিযায়ী পাখি দেখা যায়। যেমন,বালিহাঁস, পানকৌড়ি, সরালি, চখাচখি ইত্যাদি। এরা শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও সাহায্য করে। অনেক পাখি পোকামাকড় খেয়ে কৃষিক্ষেত্রকে রক্ষা করে এবং বীজ ছড়িয়ে বনজ পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
বর্তমানে পরিযায়ী পাখিরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বনভূমি উজাড়, জলাভূমি ভরাট, প্লাস্টিক দূষণ, কীটনাশকের ব্যবহার এবং অবৈধ শিকারের কারণে তাদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঋতুচক্রে পরিবর্তন ঘটায় পাখিদের স্বাভাবিক পরিযান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় তারা খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পায় না।
বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ যদি সচেতন হয়, তাহলে পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব। জলাভূমি সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, শিকার বন্ধ করা এবং পরিবেশ দূষণ কমানো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিদ্যালয়, কলেজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই দিবসে র্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ শেখে।
0 Comments