সৌমেন রায়
ব্যস্তবাগীশ
দীপঙ্করের সবেই ব্যস্ততা। হাতে কাজ থাকলে শেষ না করা অবধি শান্তি নেই। কাজ না থাকলেও শান্তি নেই, যতক্ষণ না নতুন কাজ খুঁজে বের করে। প্রথম ইউনিট পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে সে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রশ্ন রেডি করে ফেলে। সহকর্মীরা ঠাট্টা করে বলে দীপঙ্করবাবু নাকি প্রাতকৃত্যের আগে হাত শৌচ করে নেয়! অথচ এমনটা সবদিন ছিল না। হোস্টেলে দিন রাত এক করে দীপঙ্কর ঘুমাতে পারত। বয়স যত বাড়ছে অস্থিরতা বাড়ছে। প্রদীপের তেল শেষ হয়ে আসছে বলে কি ? প্রৌঢ় দীপঙ্করের এখন ঘুমের নিত্যতা। রাতে জানালার ধারে বসে ভাবে সারা জীবন এত তাড়াহুড়ো করে কটা বাড়তি কাজ করা গেছে। এমনই এক বিনিদ্র রাত চেয়ারে কাটিয়ে সকালেও চেয়ার ছাড়ল না দীপঙ্কর। স্ত্রী হাউমাউ করে ছুটে এসে দেখে দীপঙ্কর অন্তিম কাজটাও তাড়াতাড়ি সেরে ফেলেছে!
সই
শাশুড়ি জ্বালিয়ে মারছে রেখাকে। যতদিন সমর্থ ছিল রান্না ঘরের কর্তৃত্ব ছাড়েনি নলিনী। এখন অকেজো হয়ে ছেড়েছে বটে, কিন্তু কোন রান্নাই আর পছন্দ হয় না। নুন কম -নুন বেশি ঝাল কম - ঝাল বেশি এই করে জ্বালিয়ে মারছে।অথচ নাতবৌ মনীষা দু -একটা পদ যা রান্না করে চেটেপুটে খায়। বিয়ের পর রেখার চুড়িদার পরাতে বুড়ির সমস্যা ছিল। কিন্তু জিন্স পরা চাকুরে নাতবৌ খুব পছন্দ। মনীষাও তেমন। অফিস থেকে ফিরে ব্যাগটা রেখে আগে বুড়ির ঘরে ঢোকা চাই। দুজনে কি ফিসফিস করে কে জানে ! রেখা একদিন মনীষাকে জিজ্ঞেসই করে ফেলল, ‘রান্নার কিছুই তো জানো না। ঠাকুমার কাছে রান্না শেখো নাকি?’
‘ কি যে বল! ঠাকুমা কখন কি বলে নিজেরই ঠিক নেই’।
অদম্য কৌতূহলে একদিন বদ্ধ দরজায় কান রাখে রেখা। দুটি কন্ঠ যেন কলকল করছে --
‘কে খেল রে পুসি? আজ পুসিকে ধরত ----'
0 Comments