বিনোদ মন্ডল
প্লুতস্বর
চেম্বারে গিয়েও ফিরে এলো শোভন। একরোখা এই লোকটাকে নিয়ে বিরক্ত সোনাই। অফিসে না গিয়ে বললে, ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। ক্লাবে ক্যারাম পিটিয়ে সারাটা দিন নষ্ট করলে!
তিন বছরেই দাম্পত্য তেতো শসার স্যালাড। রাতে বিছানায় শুয়ে শোভন ফোনে রিলস দেখছিল। বিলম্বিত লয়ের প্রসাধন দ্রুত সেরে নিজের বালিশটা বুকে জড়িয়ে নিঃশব্দে পাশের ঘরে চলে গেল সোনাই।
সারাটা রাত ঘুমোতে পারেনা সে। বাসরঘরে সেই যে ভোররাতে শোভনের নাক থেকে ব্যাঙের প্লুতস্বর শুনেছিল, তা আজ তার জীবনে আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।
শোভনের বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজন সবাই ওকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলে। সোনাইও।
তবু ফিরে এলো।
বন্ধ দরজার সামনে চিৎকার করে উঠল শোভন। আমি তো গেছলাম! ঢুকেও ছিলাম, চেম্বারে। দেখি, ঘাড় কাত হওয়া ডাক্তারের নিজের নাক সাতঘোড়া মেশিনের আওয়াজে রেওয়াজ করছে। ঐ মালটা কী ট্রিটমেন্ট করবে আমার !
অন্ত্যেষ্টি
আমার টোটোতে চেপে হেডস্যার স্কুলে যাতায়াত করেন। স্বভাবতই যেতে আসতে নানা গল্পগাছা চলে দুজনের । দায় দায়িত্ব। অধিকার কর্তব্য। পরিবেশ রাজনীতি।
শনিবার বিকেলে রওনা দেওয়ার সময় দেখলেন একটা কুকুরছানা গেটের সামনে পড়ে রয়েছে।
স্যার আঁতকে ওঠেন, মরে গেল নাকি!
আমি বললাম না না, ঘুমোচ্ছে।
আজ সোমবার। বিকেলে স্যারকে নিতে এসে দেখি, ফুলে ঢোল। এবার দুর্গন্ধ ছড়াবে। সারাটা দিন ধকল কাটিয়ে স্যার গাড়িতে উঠলেন। আমি বললাম, নাইটগার্ড রজনীকে ফোন করে বলে দেবেন। ও সরিয়ে দেবে।
না, নাইটগার্ড সরায় নি।
প্রেসিডেন্ট ফোনে স্যারকে পরামর্শ দিলেন, আপনার ক্যাম্পাসের বাইরের ম্যাটার। মাথা ঘামাবেন না। অঞ্চল প্রধান বললেন, শিয়রে ইলেকশন। নাক গলাবেন না।
নোডাল টিচার বললেন, সুপ্রিম কোর্টের লেটেস্ট ভার্ডিক্ট ফলো করুন। না হলে ফেঁসে যাবেন।
আজ বুধবার । এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র আমি। স্যারকে অফিসের সামনে নামিয়ে দিয়ে এলাম। সবে সকাল সাড়ে ন'টা। শুনশান ফাঁকা পথ। মাথায় চাঁদওলা কালো কুকুর বাচ্চার লাশটা বস্তায় ভরে টোটোয় তুলে নদীর চরে রওনা দিলাম। অন্ত্যেষ্টির জন্য।
0 Comments