জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /অমিত কুমার রায়

গুচ্ছ কবিতা 
অমিত কুমার রায়

জনার্দন

জনার্দনদা বাড়িতে আছেন?
কে?
আমি কীর্তন 
ঠিক চিনলাম না।
চিনবেন চিনবেন জনার্দনদা চিনবেন। তা ভেতরে আসতে পারি?
আসুন 
জনার্দনদা, আপনি শুধু ভোট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে হবে?
না দিব্য জেগে আছি।
তাহলে যা বলছি এই গুলো করতে হবে।
কি কি কি ব্যাপার?
রাস্তায় আগেই সাবধান হন নিজেই 
থুতু গুটখা পচপচ করে ফেলবেননা।
ফেলবো না।
কোনো প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে পিচকিরি মুখে আলপনা আঁকবেন না।
ঠিক আছে ঠিক আছে।
না কিছু ঠিক নেই জনার্দনদা, ছেলে টাকেও সাবধান করুন 
কি সাবধান?
হেলমেট মাথায় দিয়ে তবেই বাইক চালাবে।
জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিলে 
নিলে কী?
প্রশাসন চকলেট দেবে আর নিয়ম অমান্য করলে
পাঁচ হাজার চকলেটের দাম বাইক আরোহী দেবে 
কেমন তবে?
🍂
পার্থেনিয়াম

চারিদিকে এখন কবি গিজগিজ করছে।
কবিতার শিরোনাম পার্থেনিয়াম!
সবাই সচেতনতার বার্তা দেয়
বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে?
পার্থেনিয়াম ফুল দেখতে অপূর্ব 
প্রতিশোধ পরায়ণা নারীর মতো 
ঠোঁটে বাঁকা হাসি!
দেখছি সবাই 
অপরাধীকে সনাক্ত করে সাজা না দেওয়া সরকারের মতো।
আমরা প্রজাতি গণ গোত্র মুখস্থ বলতে পারি 
ইতিহাস বলতে পটু
সেই কবে আমেরিকা থেকে গমের বস্তায় এসেছিল 
আজ বংশ বিস্তার করে চলেছে দশকের পর দশক !
ফুসফুসে নীরবে বাসা বাঁধছে
তোমাকেই সচেতন হতে হবে।
ভ্রূণাবস্থায় দেখতে পেলে কাজ করি
দ্যাখ মার দ্যাখ মার!


কাঁটাতার

গালে হাত রেখে কি ভাবছো?
ভাবতে ভাবতে অনেক বয়স তো হলো?
অনেক রাত হলো দিন হলো 
অনেক কিছুই তো হলো 
মসনদে জল না থাক ছারপোকা ছিল 
নইলে কেন পলাতক জীবন?
সত্যবাবু সোজা পথে হাঁটেন।
যে কাজ দীর্ঘ দশক পেরিয়ে অজ্ঞাতবাসে ছিল 
হলো তো সে কাজ পূর্ণ 
বিপ্লবী রক্তে জড়ানো মেদিনীপুরের মুখ পেরেছে 
কাঁটাতার পরিয়ে দিতে 
তুমি তুমি তা পারনি
কেন কেন কেন।

শান্তি 

আমরা খাই না খাই
একটু শান্তি চাই।
থাকতে চাই শান্তিতে।
অন্যায়কারীর শাস্তি হলে 
চিহ্নিত চিতা শান্তি পাবে।
আন্দোলনের একটি নিজস্ব ভাষা আছে 
রাজাকে দীন দরিদ্র করে দেয় সমন্বয় শক্তি।

নির্জনতা 

নির্জনতা চটিপায়ে হেঁটে চলে।
নৈতিক অবক্ষয়ের মুখ ছবিতে দেখে 
আয়না দেখতে ভয় পায়।
নিজের কুৎসিত অবয়ব বিজ্ঞাপনে ঢাকা পড়ে না।
নির্জন পরিবেশে নতুন কবিতার জন্ম হয় 
ছন্দ পা জানা কবি টিটকারি হজম করে 
পাকাপোক্ত কবি কলকাতার বাসিন্দা
প্রান্তিক কবিদের আগণ্ডা ভুল ধরে 
যাতে তারা ছিটকে পড়ে বিদ্রুপ ঝড়ে।
দুএকটি দুর্মূল্য বাক্য বসিয়ে রুটি সেকে 
নন্দনকাননে।
নির্জনতা গভীর করে রাত্রি 
তার রাত পাখি কেঁদে ওঠে নিস্তব্ধতা ভেঙে।

Post a Comment

0 Comments