জ্বলদর্চি

ব্রহ্মসূত্র—শঙ্কর মতানুসারী প্রস্থানত্রয়ের একটি /পর্ব ১৫/প্রীতম সেনগুপ্ত

ব্রহ্মসূত্র—শঙ্কর মতানুসারী প্রস্থানত্রয়ের একটি 

পর্ব ১৫

প্রীতম সেনগুপ্ত 

মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ইন অ্যাডভান্সড স্টাডি ইন ফিলজফির তৎকালীন অধিকর্তা টি এম পি মহাদেবন ১৯৭২ সালে জানুয়ারি মাসে স্বামী গম্ভীরানন্দজী অনূদিত গ্রন্থ ‘Brahmasutra Bhasya of Shankaracharya ’-র মুখবন্ধে লিখছেন-- 

‘Sankara's bhasya is the earliest extant commentary on Badarayana's text . It is celebrated for its lucidity and depth ( prasanna- gambhira ). There must have been commentaries before Sankara; but none of them has come down to us. Several commentators came after Sankara. Among them are Bhaskara, Yadavaprakasa, Ramanuja, Kesava, Nilkantha, Madhva, Baladeva, Vallabha, and Vijnana Bhikshu. They differ from Sankara on certain moot points. But all of them have been influenced, knowingly or unknowingly, by Sankara's commentary which has served as the model. In the Sankara tradition itself there have several commentarial works. On Sankara's bhasya, Vacaspati wrote the Bhamati, which was followed by the Kalpataru, and the Parimala. Similarly, Padmapada wrote the Pancapadika on Sankara's bhasya; and this was followed by the Vivarana, and the Tattvadipana. These are but a few of the annotations and glosses on Sankara's great Bhasya.’

আচার্য শঙ্করের মতে ব্রহ্ম নির্গুণ, শাশ্বত, শুদ্ধ-চৈতন্য স্বরূপ। তাঁর মতে ঈশ্বর হলেন মায়া সৃষ্ট নির্গুণ ব্রহ্মের জীবাত্মার বুদ্ধিগ্রাহ্য সর্বশ্রেষ্ঠ রূপ। জগৎ হল নির্গুণ ব্রহ্মেরই মায়াসৃষ্ট বিবর্ত --- এর কোনও বাস্তব সত্তা নেই। প্রকৃতপক্ষে জীব হল সর্বব্যাপী এবং ব্রহ্ম থেকে অভিন্ন। যদিও অন্তরেন্দ্রিয়দ্বারা উপাধি বিশিষ্ট দেহধারী হয়ে সে নিজেকে অণু, কর্তা এবং ঈশ্বরের অংশ বলে মনে করে। নির্গুণ ব্রহ্মকে যাঁরা জানেন তাঁরা প্রত্যক্ষভাবেই তাঁকে লাভ করেন, তাঁদের ‘দেবযানের’ মাধ্যমে যেতে হয় না। যাঁরা সগুণ ব্রহ্মকে জানেন তাঁদেরই দেবযানের মাধ্যমে ব্রহ্মলোকে যেতে হয়। ব্রহ্মলোক থেকে তাঁদের আর প্রত্যাবর্তন করতে হয় না --- কল্পান্তে তাঁরা ব্রহ্মেই লীন হন।

🍂

রামানুজ এবং অন্যান্য ভাষ্যকারদের মতানুসারে ব্রহ্ম নির্গুণ নন, তিনি অনন্ত কল্যাণগুণসম্পন্ন সাকার ঈশ্বর। তাঁরা মনে করেন যে, যদিও মানুষের ব্যক্তিত্ব সসীমরূপেই অনুভূত হয়, তথাপি শঙ্করের মতানুযায়ী একে যদি অবিকলভাবে ঈশ্বরের ব্যক্তিত্বে আরোপ না করা হয়, তবে আর তাঁর অসীমত্বে আপত্তি আসে না। তাঁরা শঙ্করের মায়াবাদকে স্বীকার করেন না। কারণ তাঁদের কাছে জগৎ সত্য এইজন্য যে, ব্রহ্ম থেকেই এর উৎপত্তি। মধ্বাচার্য কিন্তু ব্রহ্মকে নিমিত্ত - কারণ মাত্র বলেই গ্রহণ করেন, উপাদান -কারণ হিসাবে নয়। তাঁদের মতে জীব বাস্তবিকই অণু, কর্তা এবং ঈশ্বরেরই অংশবিশেষ। ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ দেবযানের পথে ব্রহ্মলোক প্রাপ্ত হয়ে ব্রহ্মে লীন হন এবং আর মর্ত্যলোকে প্রত্যাবর্তন করেন না। তাঁরা শঙ্করের মতো জ্ঞানকে উঁচু বা নীচু বলে পার্থক্য নিরূপণ করেন না। তাঁদের মতে ভক্তি মুক্তিলাভের প্রধান উপায়, জ্ঞান নয়।

এইভাবে তাঁদের সকলের কাছেই ব্রহ্ম, জগৎ এবং জীব সবকিছুই সত্য। রামানুজ এই তিনটিকে একই অঙ্গবিশিষ্ট বলে মনে করেন, তাঁর মতে জগৎ এবং জীব ব্রহ্মেরই দেহ। ভেদাভেদবাদের মতানুসারে নিম্বাকাচার্য ভেদ এবং অভেদ এই উভয় কল্পনা করে এই তিনটিকেই ( ব্রহ্ম, জগৎ এবং জীব ) ব্রহ্মের সঙ্গে একীভূত করে বলেছিলেন যে, চেতন এবং অচেতন জগৎ ব্রহ্ম থেকে ভিন্নও বটে অভিন্নও বটে। কট্টর ( ঘোর ) দ্বৈতবাদী মধ্বাচার্য এই তিনটি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং নিত্য বলে মনে করেন, তবে তাঁর মতে ব্রহ্মই হলেন অপর দুইটির নিয়ন্তা। বল্লভাচার্যের মতে জীব এবং ব্রহ্মেরই অভিন্ন স্বরূপ। তাঁরা সকলেই সত্য --- ব্রহ্ম থেকে তারা অভিন্ন, তবে ব্রহ্ম হলেন পূর্ণ, আর অপর দুটি হল তাঁর অংশ। (তথ্যসূত্র -- ব্রহ্মসূত্র মূল, অন্বয়, বঙ্গানুবাদ, শঙ্কর মতানুযায়ী ব্যাখ্যা ও নির্দেশিকা)

Post a Comment

1 Comments

  1. AnonymousJune 17, 2026

    ভালো ্লাগলো।

    ReplyDelete