তপনজ্যোতি মাজি
কবিতার সঙ্গে অভ্যাসের নিবিড় অনুষঙ্গ। প্রাত্যহিক ভুবনের সমান্তরাল একটি ভুবনে নিরন্তর নিভৃত বিচরণ।
চর্চা ও অনুশীল গড়ে তুলে চিন্তন ও সৃষ্টি-পরিসর। দেখার গভীরে দেখা। দৃষ্টি পথের সমান্তরাল । হারিয়ে যায় অদূরে কিংবা সুদূরে।
বহুমাত্রিক বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রতিদিনের যাপন চলে। সেই অভিজ্ঞতার মধ্যে
কবিতা থাকে কিংবা থাকেনা। থাকে অনুভব।
থাকে পর্যবেক্ষণ। থাকে বোধ । সেই সব
অতিব্যক্তিগত অনুভব ও পর্যবেক্ষণকে
কবিতায় প্রকাশ করার । থেকেই
লিখি। এভাবে বললেও কি স্পষ্ট হয় কেন লিখি?
নিশ্চিত ভাবে হয়না।
🍂
স্পষ্ট শব্দটি লেখার পর মনে হলো, স্পষ্ট কি হয়
সব কিছু? কবিতা তো নিজেই নিজেকে প্রকাশ
করে ব্যঞ্জনাময় অবগুণ্ঠনে। আলোছায়ার মিহিন
আবরণে এবং ইঙ্গিতে। ভাষ্যের গভীরেও নিহিত
থাকে গভীরতর ভাষ্য । উপমা ও রূপকের বিচিত্র অনুষঙ্গে রচিত হয় কবিতার শরীর। লেখার তাগিদ কি অতলস্পর্শী মনের গভীর থেকে উঠে আসা কম্পন যা নাড়িয়ে দেয় অনুভূতির পারস্পরিক স্তরগুলি। লেখক মাত্রেই সংবেদী। ঘটনা কিংবা পর্যবেক্ষণকে শব্দের আবরণ পরানো সহজ কাজ নয়। শব্দ সংযম এবং শব্দ সম্মান বোধ লেখকের নিজস্ব। স্বকীয়ও।
অথচ বৈপরীত্য এই , যে নিজের অনুভূতিগুলিকে
প্রকাশ ভঙ্গির মাধ্যমে সর্বজনীন করে তোলা। এই
সৃজন-বোধকেই দর্শন বলে গণ্য করা যায়। একজন লেখক কিংবা কবি যেমন একজন ব্যক্তি তেমনই তিনি অসংখ্য দেখা কিংবা অদেখা, পরিচিত কিংবা অপরিচিত মানুষের মনন-প্রতিভূ।
একটু সহজ করেও বলা যেতে পারে। কবি রবীন্দ্রনাথ ও ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ যেমন এক আবার তিনি বহুর মধ্যে বিরাজিত একজন সর্বজনীন মানুষ । বুহুত্বের মধ্যে নিজেকে দেখার তাগিদ থেকেই আসে লেখার ।। সব লেখাই আসলে দর্পণ।
দর্পণের কাজ প্রতিবিম্বিত করা। মনে হয়, কেবল
আমি নয়, আমরা যারা লিখি, লেখার মাধ্যমে
প্রতিবিম্বিত করি নিজেকে এবং দৃষ্টি ও চিন্তনের
আলো ছায়ায় যাকিছু আসে ব্যক্তি ও বস্তু নির্বিশেষে
সব কিছুকেই।
কতটুকুই বা পারা যায়! না পারার অংশই বেশি।
তাই তো আবহমানকাল জুড়ে লেখার অন্তহীন
প্রবাহ।
হয়তো আমিও সেই প্রবাহে প্রাণিত একজন।
আমার নিভৃতে যে আমি তাকেই সামনে আনি
কবিতায়। কবিতাই আমার ভালোবাসার সাহিত্য মাধ্যম। অকপট বলি, নিভৃত আমিকে দেখার
জন্যেই লিখি।
0 Comments