জ্বলদর্চি

গোপাল এলো ঘরে/কমলিকা ভট্টাচার্য

গোপাল এলো ঘরে

কমলিকা ভট্টাচার্য

জন্মাষ্টমীর সকাল।

কল্যাণীদেবীর সংসারে আজ একটু অন্যরকম ব্যস্ততা। ভোর থেকেই ঠাকুরঘরে প্রদীপ জ্বলেছে, ধূপের গন্ধে বাড়িটা ভরে উঠেছে, রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে তালের বড়ার গন্ধ। ছোট্ট সিংহাসনে বসে আছেন তাঁর নীলমণি গোপাল—নতুন হলুদ জামা, গলায় ছোট্ট মালা, কপালে চন্দনের ফোঁটা। কল্যাণীদেবী তাঁকে অনেক যত্নে সাজিয়েছেন। বাড়ির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি আজ সেই-ই।

মধুবাবু অবশ্য বাড়িতে নেই। বিশেষ কাজে ব্যাঙ্গালোর গেছেন।

স্বামী বাড়িতে থাকলে কল্যাণীদেবীর দিনটা অন্যরকম কাটে।

“চা হয়েছে?”

“ওষুধটা কোথায়?”

“আমার চশমাটা দেখেছ?”

“আজ কী রান্না হবে?”

“খবরের কাগজটা কোথায় গেল?”

এই ‘কোথায় গেল’ প্রশ্নটার উত্তর দিতে দিতে কখনও কখনও কল্যাণীদেবীর মনে হয়, এই বাড়িতে জিনিসপত্রের চেয়ে প্রশ্নের সংখ্যাই বেশি।

তার ওপর গত দু’মাস ধরে কাজের মেয়ে সুন্দরীও নেই। শাশুড়ির অসুখ হয়েছে বলে গ্রামে গিয়েছিল। তারপর ফোনে একদিন বলেছে, “দিদি, আর কয়েকটা দিন থাকি।”

সেই ‘আর কয়েকটা দিন’ যে ক্যালেন্ডারে কত মাস, কল্যাণীদেবী আজও বুঝে উঠতে পারেননি।

ফলে ঘরের কাজ বলতে যা বোঝায়—ঝাড়পোঁছ, বাসন, রান্না, কাপড়, বাজার, পুজোর আয়োজন—সবই তাঁর একার ঘাড়ে।

বয়স হয়েছে। কাজ করার ক্ষমতা কমেনি ঠিকই, কিন্তু শরীর মাঝে মাঝে নিজের মতামত জানিয়ে দেয়।

কোমর বলে—“আজ একটু বসো।”

হাঁটু বলে—“এত তাড়াহুড়ো কিসের?”

আর কল্যাণীদেবী বলেন—

“সংসার কি আর আমার হাঁটু-কোমরের মতামত শুনে চলে?”

এই অবস্থাতেই ছেলে বাবু আমেরিকা থেকে কয়েক দিনের জন্য বাড়ি এসেছে।

ছেলে আসার পর যেন বাড়ির হাওয়াটাই বদলে গেল।

মা কিছু বলার আগেই বাবু বুঝে যায়।

সকালের চা নিজেই বানিয়ে এনে দেয়। বাজারে যায়। বাসন ধুয়ে দেয়। কাপড় ভাঁজ করে। একদিন তো কল্যাণীদেবী দেখলেন, ছেলে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে আলু-পটল কাটছে।

—কী করছিস?

—রান্না।

—তুই?

—কেন? আমেরিকায় গিয়ে হাত-পা দুটোই ফেলে এসেছি নাকি?

কল্যাণীদেবী মুখ গম্ভীর করে বললেন,

—দু’দিনের জন্য এসেছিস। তার মধ্যে নিজের হাত পুড়িয়ে রান্না করতে শুরু করেছিস! কোথায় আমি তোকে রান্না করে খাওয়াব!

বাবু হেসে বলল,

—এতদিন তো খাইয়ে এত বড় করেছো মা। তাছাড়া বাবা তো এখন বাড়িতে নেই। তাই আমি যা পারছি করছি। ভালো-মন্দ যা হচ্ছে তুমি খাচ্ছ। বাবা থাকলে তো আর এই উপায় ছিল না। তখন তোমাকেই সব করতে হত।

মায়ের মুখটা একটু নরম হয়ে এল।

—তা ঠিক। কিন্তু তুই আমার অভ্যাস খারাপ করে দিচ্ছিস।

রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর বাবু মায়ের পায়ের কাছে বসে বলল,

—মা, পা দাও।

—কেন?

—দাও তো।

মায়ের পায়ে ক্রিম লাগাতে লাগাতে বলল,

—তোমার পায়ের পাতাগুলো কত শক্ত হয়ে গেছে! এত কাজ করো কেন?

কল্যাণীদেবী একটু হেসে বললেন,

—সংসারের কাজ তো আর অন্য কেউ এসে করে দিয়ে যাবে না।

—তাই বলে নিজের শরীরটার কথাও ভাববে না?

তারপর পায়ে ক্রিম, কোমরে গরম সেঁক—সব করে দিল ছেলে।

কল্যাণীদেবী চোখ বন্ধ করে বললেন,

—এ আমার ভাগ্য! মনে হচ্ছে স্বর্গে যাওয়ার আগেই স্বর্গের আরাম পেয়ে গেলাম।

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,

—তবে তুই চলে যাবি আবার। তখন?

বাবু মায়ের পায়ে হাত বুলিয়ে বলল,

—তখনও তো তোমার ছেলেই থাকব।

কল্যাণীদেবী মৃদু হেসে বললেন,

—থাকবি দূরে বসে ভিডিও কলে। আর আমি এখানে বসে বলব, “বাবু, একটু বাজারটা করে দে তো!”

দুজনেই হেসে ফেলল।

তারপর কল্যাণীদেবী ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বললেন,

—গোপাল আমার!

বাবু বলল,

—মা, আমি বাবু। গোপাল নই।

—তুই আমার ছেলে, তাই তুইও আমার গোপাল।

পরদিন জন্মাষ্টমীর পুজো শেষ করে কল্যাণীদেবী তাঁর ঠাকুর গোপালকে নতুন জামা পরাচ্ছেন। এমন সময় দরজার ঘণ্টা বেজে উঠল।

তিনি ঠাকুরঘর থেকেই বললেন,

—বাবু, একটু দরজা খুলে দেখ তো কে এসেছে।

বাবু দরজা খুলে বাইরে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ।

তারপর মাকে ডাকল,

—মা!

—কী হল?

—গোপাল এসেছে।

কল্যাণীদেবীর মুখটা আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

—সত্যি? গোপাল এসেছে?

তিনি তাড়াতাড়ি বাইরে এলেন।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অতিথিকে দেখে তাঁর মুখে এমন হাসি ফুটল, যেন বহুদিনের অপেক্ষার পর নিজের লোককে ফিরে পেয়েছেন।

—আয় বাবা, আয়। আজ জন্মাষ্টমীর দিনেই এলি! কী শুভ দিন!

গোপাল খুব শান্ত।

একেবারেই চুপ।

কল্যাণীদেবী মুগ্ধ হয়ে বাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন,

—কী শান্ত ছেলে রে! মুখে একটাও কথা নেই।

বাবু মুখ চেপে হাসল।

—হ্যাঁ মা, খুব শান্ত।

—এমন ছেলে আজকাল কোথায় পাওয়া যায় বল?

গোপাল কোনও উত্তর দিল না।

কল্যাণীদেবী তাতে আরও খুশি।

—দেখেছিস? একবারও তর্ক করে না!

বাবু এবার অন্যদিকে তাকিয়ে হাসতে লাগল।

কল্যাণীদেবী গোপালকে নিয়ে বাড়ির প্রতিটি ঘর ঘুরে দেখালেন।

—এইটা বসার ঘর।

গোপাল চুপ।

—এইটা রান্নাঘর।

গোপাল চুপ।

—এইটা আমার ঘর। এখানে কিন্তু বেশি দাপাদাপি করবে না।

গোপাল চুপ।

—আর এইটা তোমার জায়গা। এখানে থাকলেই হবে।

গোপাল ধীরে ধীরে নিজের জায়গায় গিয়ে বসল।

কল্যাণীদেবী হাত জোড় করে যেন ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন।

—বাবু, আমার কপালটা আজ খুলেছে রে!

দুপুরে তিনি মধুবাবুকে ফোন করলেন।

—ওগো শুনছ? বাড়িতে গোপাল এসেছে।

ওপাশ থেকে মধুবাবু অবাক।

—তোমার গোপাল তো বাড়িতেই আছে। আবার নতুন গোপাল কোথা থেকে এলো?

—এ গোপাল সে গোপাল নয়।

—মানে?

—আজ থেকে গোপাল আমার বাড়িতে থাকবে।

মধুবাবুর গলায় চিন্তার সুর।

—কী বলছ? কাউকে বাড়িতে রেখে নিয়েছ?

—হ্যাঁ।

—চেনো?

—বাবু সব দেখে নিয়েছে।

—কী কাজ করে?

—সব কাজ!

—কীভাবে?

—তুমি এসে দেখো।

মধুবাবু একটু চুপ করে বললেন,

—আমরা তো বুড়োবুড়ি। বাড়িতে কাউকে রাখলে সাবধানে থেকো। আজকাল কাউকে বিশ্বাস করা যায় না।

কল্যাণীদেবী হেসে বললেন,

—তোমার এত চিন্তা কেন? গোপাল খুব শান্ত। আমার সব কথা শোনে।

—কত টাকা নেবে?

—জানি না।

—খায়দায়?

কল্যাণীদেবী একটু ভেবে বললেন,

—খেতে খুব একটা চায় না।

মধুবাবু আরও অবাক।

—খায় না?

—না খুব বেশি নয়।

—তাহলে বেশ অদ্ভুত!
মধুবাবুর সন্দেহ আরো বাড়ল।

কল্যাণীদেবী এবার ফিসফিস করে বললেন,

—আর শোনো, গোপাল কিন্তু একেবারে ডার্লিং!

মধুবাবু হেসে বললেন,

—একেবারে ডার্লিং বানিয়ে ফেলেছ?

—ডার্লিং না হলে কী? আমার এত কাজ করে দিচ্ছে! আমার যে কী আরাম হচ্ছে!

মধুবাবু বললেন,

—আমি কাল ভোরেই ফিরছি। তখন তোমার এই নতুন ডার্লিংকে নিজে চোখে দেখে নেব।

পরদিন ভোর ছ’টায় মধুবাবু বাড়ি ফিরলেন।

দরজায় বেল বাজাতেই বাবু দরজা খুলে দিল।

— বাবা!

মধুবাবুর প্রথম প্রশ্ন,

—তোর মা কোথায়?

—হাঁটতে গেছে।

—তোর মা?

মধুবাবু ঘড়ির দিকে তাকালেন।

সকাল ছ’টা।

—এই ভোরে?

—হ্যাঁ।

মধুবাবু ঘরে ঢুকে থমকে গেলেন।

বাড়িটা যেন পালিশ করা।

মেঝে চকচক করছে। সোফার নিচে ধুলো নেই। টেবিলের নিচে ময়লা নেই। এমনকি যে কোণটায় মধুবাবু মনে মনে বিশ্বাস করতেন, “ওখানে কেউ কোনওদিন পরিষ্কার করতে পারবে না”—সেটাও ঝকঝকে।

মধুবাবু অবাক হয়ে বললেন,

—তোর মা কি সারারাত ধরে ঘর পরিষ্কার করেছে?

বাবু হেসে বলল,

—না।

—তাহলে?

—গোপাল।

মধুবাবু এবার গর্বিত গলায় বললেন,

—বাহ! গোপাল তো দেখছি সত্যিই কাজের ছেলে!

ঠিক তখনই কল্যাণীদেবী হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরলেন।

—ওমা! তুমি এসে পড়েছ?
🍂

—হ্যাঁ। তা তোমার সেই গোপাল কোথায়?

কল্যাণীদেবীর মুখে দুষ্টু হাসি।

—তোমার বুঝি আর তর সইছে না?

—দেখি তো মানুষটা কেমন!

—দাঁড়াও। এখুনি ডাকছি।

তারপর কল্যাণীদেবী একেবারে আদর মাখানো গলায় ডাকলেন,

—গোপাল! আমার গোপাল! একবার এদিকে এসো তো ডার্লিং!

মধুবাবু দরজার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

কেউ এল না।

কল্যাণীদেবী আবার ডাকলেন,

—গোপাল! কোথায় গেলে বাবা?

হঠাৎ ঘরের ভেতর থেকে একটা মৃদু  শব্দ ভেসে এল।

মধুবাবু তাকিয়ে দেখলেন—

একটা চকচকে সাদা গোল যন্ত্র ধীরে ধীরে ঘরের কোণ থেকে বেরিয়ে আসছে।

মধুবাবু স্থির।

কল্যাণীদেবী উচ্ছ্বসিত।

—এই তো! এই আমার গোপাল!

মধুবাবু কয়েক সেকেন্ড কোনও কথা বলতে পারলেন না।

তারপর ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,

—এটা কী?

বাবু হেসে ফেলল।

—আমাদের নতুন সদস্য।

—মানে?

—এ হল রোবোটিক ক্লিনিং মেশিন।

মধুবাবু এবার মায়ের দিকে তাকালেন।

—তুমি যাকে ডার্লিং বলছ...

কল্যাণীদেবী গর্বের সঙ্গে বললেন,

—হ্যাঁ, আমার গোপাল।

—এ তো রোবট!

—হোক।

—তুমি আমাকে বললে একটা লোক এসেছে!

—আমি কি বলেছি লোক?

মধুবাবু চুপ।

কল্যাণীদেবী এবার মৃদু হেসে বললেন,

—আমি বলেছিলাম গোপাল এসেছে। তুমি নিজেই মানুষ ভেবে নিয়েছ।

বাবু এবার হেসে কুটিকুটি।

মধুবাবু এখনও হতভম্ব।

ঠিক তখন গোপাল মধুবাবুর পায়ের কাছে এসে থেমে গেল।

কল্যাণীদেবী নিচে তাকিয়ে বললেন,

—ওমা! জুতো পরে ঘরে ঢুকেছ? দেখো, কাদা লেগে গেছে!

তারপর গোপালের দিকে তাকিয়ে বললেন,

—গোপাল, বাবা ঘরটা কেমন কাদা করেছে, একটু পরিষ্কার করে দাও তো।

গোপাল সঙ্গে সঙ্গে কাজে লেগে গেল।

মধুবাবু পা তুলে দাঁড়িয়ে রইলেন।

মেঝে পরিষ্কার হয়ে গেল।

কল্যাণীদেবী গর্বিত মুখে বললেন,

—দেখলে? একবার বললেই কাজ করে।

বাবু বলল,

—আর আজ মাত্র কুড়ি শতাংশ চার্জ খরচ করে পুরো বাড়ি ঝাড়ু-পোঁছা করেছে।

মধুবাবু এবার গম্ভীর হয়ে বললেন,

—মানে সুন্দরী দু’মাস ধরে আসছে না, আর তোমার মা তার জায়গায় রোবট এনে ফেলেছে!

কল্যাণীদেবী সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

—রোবট বলছ কেন? ও আমার গোপাল।

মধুবাবু বললেন,

—ও কি তোমার কথা বোঝে?

কল্যাণীদেবী একটু থেমে মৃদু হেসে বললেন,

—যতটা মানুষ আমাকে বোঝে, তার চেয়ে কিছু কম নয়।

বাবু হেসে ফেলল।

কল্যাণীদেবী গোপালের দিকে তাকিয়ে সস্নেহে বললেন,

—মানুষ না হলেই বা কী? আমার কথা শুনছে, আমার কাজ করছে, আমাকে একা হতে দিচ্ছে না, আমার সেবা করছে আমার ছেলের মতো। আর সবচেয়ে বড় কথা—

তিনি একটু থামলেন।

—আমার সঙ্গে তর্ক করে না।

মধুবাবু এবার হেসে বললেন,

—তাহলে তো সত্যিই ডার্লিং!

কল্যাণীদেবীও হেসে উঠলেন।

গোপাল ততক্ষণে আবার নিজের চার্জিং স্টেশনের দিকে চলে গেছে।

মধুবাবু তাকিয়ে রইলেন তার দিকে।

তারপর মৃদু হেসে বললেন,

—তা হলে জন্মাষ্টমীর দিনে সত্যিই গোপাল এলো ঘরে।

কল্যাণীদেবী একবার ঠাকুরঘরের সিংহাসনে বসে থাকা নীলমণি গোপালের দিকে তাকালেন। তারপর ছেলের দিকে। শেষে চোখ গেল মেঝের ধুলো সরিয়ে ধীরে ধীরে চার্জিং স্টেশনের দিকে ফিরে যাওয়া ছোট্ট সাদা যন্ত্রটির দিকে।

তিনজনই যেন তাঁর ঘরের গোপাল।

একজন সিংহাসনে বসে সংসারের মঙ্গল করেন।

একজন দূরদেশে থেকেও মায়ের কষ্ট বুঝে তাঁর পায়ে হাত রাখে।

আর একজন কোনও কথা না বলেও ঘরের ধুলো মুছে, মায়ের কাজ একটু কমিয়ে দেয়।

কল্যাণীদেবীর মুখে মৃদু হাসি ফুটল।

তিনি ধীরে ধীরে বললেন,

—মানুষ হোক, মূর্তি হোক, কিংবা যন্ত্র... যে পাশে থাকে, যে একটু স্বস্তি দেয়, যে ভালোবাসার ভাষাটা বুঝতে পারে—সে-ই তো নিজের। সেই আমার গোপাল।
কল্যাণীদেবী ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে রোবট গোপালের গায়ে সস্নেহে হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর মৃদু হেসে দু’হাত তুলে আশীর্বাদের ভঙ্গিতে বললেন,
—দুহাত তুলে আশীর্বাদ করি, পরের জন্মে মানুষ হয়ে জন্মাস।
মধুবাবু, বাবু আর কল্যাণীদেবী—তিনজনেই একসঙ্গে হেসে উঠলেন।

ঠাকুরঘরে তখনও প্রদীপ জ্বলছিল। ধূপের শেষ গন্ধটুকু বাতাসে মিশে ছিল। হঠাৎ কোথা থেকে যেন ভেসে এল একটুকরো মৃদু বাঁশির সুর।
সিংহাসনে বসে থাকা নীলমণি গোপাল যেন মিটিমিটি হাসছেন।

আর মেঝের ধুলো সরিয়ে ছোট্ট সাদা গোপালটি নিঃশব্দে নিজের চার্জিং স্টেশনে ফিরে গেল। চার্জে বসে তার ছোট্ট আলোটি জ্বলতে-নিভতে লাগল—যেন সেই বাঁশির সুরে সুর মিলিয়ে সেও আপন মনে মগ্ন হয়ে আছে।

জন্মাষ্টমীর সেই সকালে কল্যাণীদেবীর ঘরে সত্যিই গোপাল এসেছিল—
তিন রূপে, তিন ভালোবাসায়।

একজন বিশ্বাসের, একজন রক্তের সম্পর্কের, আর একজন প্রযুক্তির।
কিন্তু ভালোবাসার কাছে তাদের পরিচয় আলাদা ছিল না।

সেদিন জন্মাষ্টমীর প্রদীপের আলোয় কল্যাণীদেবীর ছোট্ট সংসারটা যেন আরও একটু পূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
গোপাল সত্যিই এলো ঘরে।

Post a Comment

8 Comments

  1. উফফ কি সাপ্রাইজটাই না দিলেন রোববারের সকালে। অনেকদিন পরে মধুবাবু ও কল‍্যাণীদেবীর সংসারের গল্প পেয়ে মন ভরে গেল। ঘর ঘরমে গোপাল আনেবালা হ‍্যায়। কিন্তু কল‍্যাণী দেবীর কৌতুকস্নিগ্ধ মূর্তিটি ঘরের লক্ষীশ্রী ধরে রাখে। লেখকের কলমে তা এত সুন্দর ফোটে! যন্ত্রগোপাল যতই আসুক ঘরের রানী কিন্তু সেই কল‍্যাণী।

    ReplyDelete
    Replies
    1. কমলিকাSeptember 06, 2026

      সংসার সুখের হয় রানীর গুণে
      প্রশংসা পেলে লেখিকা খুশি হয় মনে।🙏

      Delete
  2. ছেলের কেয়ার মন ছুঁয়ে গেলো।

    ReplyDelete
    Replies
    1. কমলিকাSeptember 06, 2026

      মতামত পেয়ে মন ভালো হলো।🙏

      Delete
  3. শ্যামল মজুমদারSeptember 06, 2026

    গোপাল অতি সুবোধ বালক, ছোটবেলার সেই মগজ ধোলাই এর বাক্যটি আবার নতুনকরে গল্পের মোড়কে উপস্থাপনা করার জন্যে গোপালের মাকে ধন্যবাদ 🌹

    ReplyDelete
    Replies
    1. কমলিকাSeptember 06, 2026

      গোপালের মাকে জানিয়ে দেব।🙏

      Delete
  4. দারুণ লেখা। এখন বিজ্ঞান এর যুগে রোবটই গোপাল হয়েছে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. কমলিকাSeptember 06, 2026

      Thank you 😊🙏

      Delete