Posts

Showing posts with the label গদ্য

আষাঢ়ে গল্পের আল ধরে/ পর্ব ১২/তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য

Image
আষাঢ়ে  গল্পের আল ধরে    পর্ব ১২ তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য   "হৃদয়ে লেখ নাম" "তোমারই নাম বলব নানা ছলে"   রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  এই গানটি   আমরা সবাই  কোনো না কোনো  সময় গেয়েছি।  ঈশ্বর  প্রেমে গাই গান, মানুষ  মানুষে হৃদয়ের  প্রেমে এই গান গাই । একই গানের কতরকম আবেদন থাকে।। বারবার  নামের অন্তরে নিজেকে মেলে ধরি। দিকে দিকে যেন সবার মুখে মুখে প্রচারিত হয় আমার  নাম। আমরা আজীবন  কত কষ্ট  করি এই নামটুকু কেনার জন‍্য।  কখনো বা নামের আড়ালে চাপা   পড়ে যায় আস্ত মানুষটি।  "সখী সে হরি কেমন বল নাম শুনে যার এতো প্রেম জাগে চোখে আনে এত জল"  নজরুলের  বিখ‍্যাত গানটি   সেই  কৃষ্ণনামের গুণগানের  কথাই  তো বলা হয়েছে এখানে । কৃষ্ণ নামেই হৃদয়ের  দুকূল ভেসে যায়।  ভক্ত আর ভগবানের  প্রেম।কৃষ্ণ প্রেমের ঠাকুর। কৃষ্ণের  আরাধিকা  রাধিকা।জয় রাধে বললেই কৃষ্ণ খুশি  হন, রাধানামে কৃষ্ণকে পাবার আকুতি আছে। কোনো  কোনো নাম নিজেই  একটা প্রতিষ্ঠান। যেমন রবীন্দ্রনাথ বললে একটা জাতির পরিচয় বহন করে। অনেক   লেখক ছদ্মনাম  ব‍্যবহার করতেন  বা করেন এখনো। যখন নিজের নাম বহুল প্রচলিত  হয় তখন ফ্রেশ করে কোনো কিছ

যেতে যেতে পথে /রোশেনারা খান/পর্ব ৩৮

Image
যেতে যেতে পথে রোশেনারা খান পর্ব ৩৮ কিংক্রস স্টেশন থেকে বেরিয়া প্রথমে রাতের খাবার কিনে নিয়েই হোটেলে ঢোকার কথা ভাবা হলেও, পরে দীপ বলল, বাবলি সারাদিন হোটেলে বন্দি হয়ে আছে, ওকে নিয়ে বেরিয়ে খাবার কিনে ফিরব। সেইমত জারাকে আমার কাছে রেখে ওরা বেরিয়ে  গেল। তবে বেশিক্ষণের জন্য নয়। কারণ জারার বয়স আজ ১ মাস ২৪ দিন। বুকের দুধ ছাড়া কিছু খায় না। আমাদের রুমদুটি প্রায় মুখোমুখি। রুমের মধ্যে চা ও কফির সমস্ত ব্যবস্থা রয়েছে। কিছুক্ষণ পরে ওরা ফিরে এসে জানাল, খাবার অর্ডার দিয়ে আসেছে, আধঘণ্টা দেরি হবে। দীপকেই খাবার নিতে যেতে হবে। আসলে চা কফি ছাড়া রুমের মধ্যে অন্য খাবার খাওয়া নিষেধ। তাই খাবার লুকিয়ে নিয়ে আসতে হবে। আধঘণ্টা পরে দীপ রুকস্যাকে খাবার ভরে নিয়ে এল। রান্না ভীষণই ভাল। সারাদিনের ক্লান্তিতে খাবার পরেই দুচোখে ঘুম নেমে এল।            পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দুজনের জন্য চা বানিয়ে খেলাম। তার আগে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করেছি। বাসিমুখে চা খেয়ে সাহেবিয়ানা দেখানোর ইচ্ছে একদমই নেই। ওরা মনে হয় এখনো ঘুমচ্ছে। কিছুক্ষণ বাদে আমরা স্নানও সেরে নিলাম। আজ সবাই মিলে সারাদিন লন্ডন শহরে ঘুরব। ন’টার দিকে বাব

দিলীপ কুমার পাত্র (বৃক্ষপ্রেমী, শিক্ষক, সমাজসেবী, ময়না)/ভাস্করব্রত পতি

Image
মেদিনীপুরের মানুষ রতন পর্ব -- ২১ দিলীপ কুমার পাত্র (বৃক্ষপ্রেমী, শিক্ষক, সমাজসেবী, ময়না) ভাস্করব্রত পতি বেতনের টাকা দিয়ে তিনি কাপড় জামা কিনতে পছন্দ করেননা। যেটুকু প্রয়োজন, তার বাইরে বিলাসিতা পছন্দ নয় তাঁর। বরং সেই টাকায় গাছ কিনে বিলি করেন পাড়ায় পাড়ায়, স্কুলে স্কুলে, ক্লাবে ক্লাবে। কুড়ি হাজারের বেশি চারা গাছ বিতরণ করেছেন বিভিন্ন স্থানে। প্রতি বছর হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের লুপ্তপ্রায় গাছের বীজ সংগ্রহ করে দান করেন লাগানোর জন্য। এহেন মানুষটিকে মেদিনীপুরের মানুষ চেনে "বৃক্ষপ্রেমী" হিসেবেই। ছাত্র ছাত্রীদের কাছে তিনি "সবুজ দাদা"! তাঁর মতে 'গাছ' হলো মানুষের একমাত্র সখা, যারা কিনা সহজ সরলভাবে বেঁচে থাকতে সর্বদা পাশে থাকে। তিনি দিলীপ কুমার পাত্র। দিলীপ স্যার। ময়নার বাসিন্দা। পেশায় শিক্ষক। শুধু এইটুকু পরিচয় দিলে অন্যায় করা হবে। তাঁর কাজের নিরিখে তিনি অনন্য। অজস্র কাজে তিনি নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন স্রেফ পরিবেশকে ভালোবেসে। পরিবেশের সুস্থতা কামনায়। নিজে ভূগোল পড়ান। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে পৃথিবীর ভৌগলিক অবস্থান তিনি বুঝতে পেরেছেন। বিশ্ব উষ্ণা

তানসেন - এক অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী/দশম পর্ব /দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী

Image
তানসেন - এক অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী                দশম পর্ব          দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী রূপোয়াতী জুম্মাবারে দরবারে তানসেন যে অসাধারণ সংগীত পরিবেশন করেছিলেন তা'তে স্বয়ং সম্রাট থেকে দরবারের সকলেই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন এবং সম্রাট আকবর খুশী হয়ে তাঁর হাতে হীরক অঙ্গুরীয় পরিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর প্রায় সাত-আট দিন কেটে গেছে। দিনগুলি আগের নিয়মেই অতিবাহিত হচ্ছে। আকাশে শুকতারা ফুটে উঠলেই যেমন তানসেন প্রাতঃস্নান করে ফিরে এসে সংগীত কক্ষে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ রেওয়াজ করার পরে কন্যা সরস্বতীকে তালিম দেন। তারপরে যথারীতি জলযোগ করে দরবারে চলে যান। এদিনও তেমনি  দরবারে যেয়ে ফিরে এসে মধ্যাহ্নভোজ সমাধা করে তিনি নিজের কক্ষে না যেয়ে সঙ্গীত সাধনার কক্ষে প্রবেশ করলেন। কিন্তু সেখানে প্রবেশ করে তাঁর একটু অন্য রকম লাগলো। আজ সকালেও দেখেছেন কক্ষের গালিচার উপরে ধুলো জমেছে, বাদ্যযন্ত্র গুলোর উপরও ধুলোর আস্তরণ অল্প অল্প পড়েছে। সেই সময় নিজের মনেই তিনি বলেছিলেন 'বাদ্যযন্ত্র গুলি পরিষ্কার করে কক্ষটি পরিষ্কার করতে হবে'। কিন্তু বীণাযন্ত্রগুলি মুছে মেঝের গালিচা পরিপাটি করে কক্ষটি সাজিয়ে রাখ

খর্জুর বীথির ধারে--১৪/মলয় সরকার

Image
খর্জুর বীথির ধারে মলয় সরকার (১৪শ পর্ব ) চতুর্দশ পর্ব হঠাৎ দেখি, দূর থেকে, একটা পরিবার ঘুরে বেড়াচ্ছে। বেশি লোকজন তো নেই। আমরা ছাড়া আর খুব বেশি মানুষ নেই। কাছে গিয়ে মনে হল, বাঙালী বাঙালী মনে হচ্ছে। আর একটু এগোতেই, দেখি, ওনারাও আমাদের দিকে এগিয়ে আসছেন। এসেই আমাদের দেখে উল্লসিত হয়ে, অপেক্ষাকৃত কম বয়সী মেয়েটি , আমাদের দেখে বলল, আপনারা কি বাঙ্গালী? আমরা তো খুব খুশি হয়ে উঠলাম। বললাম, হ্যাঁ, আপনারা কোথা থেকে এসেছেন? ওনারা বললেন, আগরপাড়া, ডানলপের কাছে। আমরা বললাম, আমরা তো পাশেই সোদপুর থেকে। দুপক্ষই কত উল্লসিত হয়ে উঠলাম, বিদেশে এসে দেশীয় একজন মানুষকে পেয়ে। মনে হল, আমার কত নিকটের মানুষ, কত আত্মীয়। অথচ, আমাদের সোদপুরের বাড়ীর কাছেই কত মানুষের সাথে কথাই বলা হয় না। অনেকদিন আগে পড়া একটা কথা মনে হল, ‘স্বদেশকে কি ভাল করিয়াই না চিনিলাম বিদেশে গিয়া’। তাই হয় বটে।  বাঃ খুব ভাল হল। এত দূরে এসে নিজের জায়গার একজন মানুষকে পেলাম। কতদিন পর নিজের ভাষায় কথা বলতে পারলাম, বাইরে এসে।আসলে  যতই বলি, নিজের ভাষায় কথা বলতে না পারলে বহুদিন পর যেন কেমন বদ হজম হয়। ঠিক বলেছেন আন্টি। আমি দূর থেকে আপনাদের দেখেই মাকে

প্রসাধনী, সাজসজ্জা ও অলংকার /সূর্যকান্ত মাহাতো

Image
জঙ্গলমহলের জীবন ও প্রকৃতি পর্ব - ৩৭ প্রসাধনী, সাজসজ্জা ও অলংকার সূর্যকান্ত মাহাতো "তুমি কি জানো, অনেক আগে বাঙালি মেয়েরা নয়, বরং ছেলেরাই হাতের আঙুলে লম্বা লম্বা নখ রাখত। নখের যত্ন নিত।" বেশ যত্ন করে ফুঁ দিয়ে দিয়ে নখে নেলপালিশ লাগাচ্ছিল সুচিত্রা। স্বামীর মুখে এমন উদ্ভট কথা শুনে অবাক চোখে একবার তাকাল স্বামীর দিকে। বলল, "হতেই পারে না। মেয়েরাই সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আঙুলে বড় বড় নখ রাখে। মেয়েরা জাত শিল্পী। একটা আবেগ আর ধৈর্য নিয়ে যেভাবে রূপচর্চা করে তাতেই তার পরিচয় মেলে।" স্বামী অলকেশ হাসিমুখেই বলল, "মেয়েরা যে লম্বা লম্বা নখ রাখত, এমন প্রমান কিন্তু কোথাও নেই। বরং ছেলেরা কেবল বড় বড় নখই রাখত না, সেগুলোর সৌন্দর্য ও শোভা বৃদ্ধির জন্য রঙও লাগাত। ঠিক তোমার মতো।"  ছেলেরা যে নখ রাখে এমন দু এক জনকে সুচিত্রা দেখেছে। তবুও ভাবল, স্বামী নিশ্চয়ই তাকে কটাক্ষ করতেই হয়তো ছেলেদের পক্ষ নিয়ে বানিয়ে বানিয়ে এমন মিথ্যা কথা বলছে। তাই সে জোর দিয়ে বলল, "মিথ্যা কথা বলার জায়গা পাওনি। মেয়েরা নয়, অথচ ছেলেরা যে নখ রাখত, এমন কথা তোমাকে কে বলেছে?" অলকেশ তেম

দূরদেশের লোকগল্প—দক্ষিণ আমেরিকা(অবাধ্য ছেলে) /চিন্ময় দাশ

Image
দূরদেশের লোকগল্প—দক্ষিণ আমেরিকা অবাধ্য ছেলে চিন্ময় দাশ এক মা বাস করে তার ছেলেকে নিয়ে। একটিই ছেলে তার। কিন্তু হলে কী হবে, ভারি অবাধ্য সেই ছেলে! শুধু কি অবাধ্য? যেমন গোঁয়ার, তেমনি একরোখা। মায়ের একটা কথাও যদি কানে তোলে সে। যতই বোঝানো হোক না কেন, ছেলেটা চলে তার নিজের মর্জিতেই। মায়ের মনেও সুখ নাই সেজন্য। অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে, বাবা-বাছা করেও কিছুই হয় না। ধরো, সকালে উঠে বেরোতে যাচ্ছে ছেলে, মা বলল—কোথায় যাচ্ছিস? কিছু খেয়ে যা। খালি পেটে বেরুতে নাই।  কিন্তু কে শোনে কার কথা? মায়ের কথা যেন কানেই গেল না তার। গটগট করে বেরিয়ে গেল নিজের মেজাজে। ছেলে না খেয়ে বেরিয়ে গেলে, মায়ের মুখে কি আর খাবার ওঠে? মা বসে রইল না খেয়ে। দূপুর গিয়ে, বিকেল হোল। বিকেল গিয়ে, সন্ধ্যা। তারপর রাত্রি। ছেলে ফিরল হয়ত মাঝ রাত্রিতে। সারাটা দিন খালি পেটেই কেটে গেল মায়ের। --এসব তুই কী করছিস, বাবা? সারাটা দিন টো-টো করে কোথায় ঘুরে বেড়াস? এদিকে রাস্তার দিকে চেয়ে চেয়ে বসে থাকি আমি। একটা কথায় যদি কান দিস আমার? ছেলের মুখে রা নাই। জবাবই দিল না কথার। মা বলল—এভাবে কী আর চলে, বাবা? আমি আর ক’দিনই বা বাঁচবো? তখন কী করবি তুই?  ছেলের কোন

শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী সন্তানেরা-৪৩/প্রীতম সেনগুপ্ত

Image
পর্ব ৪৩ শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী সন্তানেরা প্রীতম সেনগুপ্ত  শ্রীরামকৃষ্ণের মতোই রঙ্গপ্রিয়তায় কোনও অংশেই কম ছিলেন না তাঁর সন্ন্যাসী সন্তানেরা। বিশেষত নরেন্দ্রনাথ (স্বামী বিবেকানন্দ ) চূড়ান্ত রঙ্গপ্রিয় ছিলেন। শশী মহারাজ ঠাকুরসেবায় যে কোনওরূপ ত্রুটি সহ্য করতে পারতেন না, তিনি তা  বিলক্ষণ জানতেন। একদিন এক ভক্ত শ্রীরামকৃষ্ণপূজাকে শীতলা পূজার সঙ্গে তুলনা করলে শশী মহারাজ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন। তিনি এই ভক্তের কাছ থেকে কোনওরূপ অর্থসাহায্য চান না বলে ঘোষণা করলেন। এই ঘোষণা শুনে স্বামীজী কৃত্রিম রাগ সহকারে বললেন, তবে যেন তিনি ভিক্ষা করে অর্থ নিয়ে আসেন। শশী মহারাজ রাজি হয়ে গেলেন। এই ঘটনার চিত্তাকর্ষক বর্ণনা লাটু মহারাজ তথা স্বামী অদ্ভুতানন্দ দিয়েছেন এইরকম --“বরানগর মঠে একদিন গুরুভাইদের মধ্যে ঠাকুরঘর নিয়ে বড় কথা কাটাকাটি হয়েছিলো। সেদিন (গৃহী) ভক্তদের মধ্যে কে নাকি ঠাট্টা করে বলেছিলো -‘শালারা আর করবি কি?  যেমন শীতলা ঠাকুর বসায়, তেমনি ঠাকুরের ছবি বসিয়ে ঘণ্টা বাজাবি আর পূজুরিগিরি করবি।’ (গৃহী) ভক্তটির কথা শুনে শশীভাই বড্ড চটে উঠে বলেছিলো --‘এমন যে শালা বলে, তার পয়সায় আমি মুতে দিই।’ শশীভাইকে চটত

অরন্ধন /ভাস্করব্রত পতি

Image
পশ্চিমবঙ্গের লৌকিক উৎসব পর্ব -- ৩৮ অরন্ধন ভাস্করব্রত পতি সাপের কামড় থেকে বাঁচতে লৌকিক দেবী মনসার পূজার প্রচলন। আর মনসার পূজার একটি অন্যতম লৌকিক আচার হল 'অরন্ধন'। সাপের আস্তানা মাটির ঢিবি বা ঢেলাতে ফনীমনসা গাছের উদ্দেশ্যে মনসা জ্ঞানে পূজা করা হয়। জৈষ্ঠ্যের দশহরা থেকে শুরু হয় এই উপলক্ষে অরন্ধন উৎসব। চলে ভাদ্র সংক্রান্তি পর্যন্ত। এই সময়েই গ্রামবাংলার বুকে বর্ষাকাল। আর সাপের উৎপাত বাড়ে। তাই বেড়ে যায় সর্পদেবীর পূজার ধুম। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে পালিত হয় এই উৎসবটি। শ্রাবণ সংক্রান্তিতে পালিত হয় "ঢেলাফেলা"। যা বর্ধমানে পরিচিত 'খইদই' এবং বাঁকুড়াতে পরিচিত 'খইধারা' নামে। শ্রাবণ, ভাদ্র মাসের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার পালিত হয় মনসা পূজা। আবার কোনো কোনো এলাকায় দশহরা থেকেই শ্রাবণের সংক্রান্তি পর্যন্ত প্রতি পঞ্চমীতে অরন্ধন উৎসব পালিত হয়। একে বলে 'ইচ্ছে অরন্ধন' বা 'আরন্ধ'। আর ভাদ্র সংক্রান্তিতে দক্ষিণ বঙ্গের জেলাগুলিতে পালিত হয় 'অরন্ধন'। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, "অরন্ধন কন্যাসংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হইলে '

ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় /বিশ্বজিৎ পাণ্ডা

Image
(বাংলা ছোটোগল্পের ইতিহাসের দিকে তাকালে দ্যাখা যাবে, মাঝে মাঝেই বাঁক বদল হয়েছে তার। বিষয়— আঙ্গিক সমস্ত দিক থেকেই বিস্তর পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই বদলের সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ রয়েছে সময়ের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে বিশ শতকের পঞ্চাশের বছরগুলিতে লিখতে আসা গল্পকারদের নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পঞ্চাশ-পরবর্তী ছোটোগল্প ও গল্পকারদের নিয়ে তেমন আলোচনা আমাদের নজরে আসেনি। কিন্তু এই সময়ে বাংলা ছোটোগল্প বৈভব ও ঐশ্বর্যে ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। এই সময়-পর্বে লিখতে আসা নির্বাচিত লেখকদের চারটি করে গল্প নিয়ে বিন্যস্ত হবে এই আলোচনা। কিন্তু ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় আলোচনা সম্ভব হবে না। বিভিন্ন সংখ্যায় বিভিন্ন সময়ের গল্পকার উঠে আসবেন। এভাবেই বাংলা গল্পের অভিমুখকে চিহ্নিত করবার চেষ্টা করা হবে।) বাংলা গল্পের পালাবদল— ১২  ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় বিশ্বজিৎ পাণ্ডা সুন্দরবন— দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বাদা অঞ্চলের রূপকার কথাশিল্পী ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় (জন্ম-১৯৪৮)। এই অঞ্চলের প্রকৃতি-পরিবেশ, সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতি সবই আলাদা। এখানে বসবাসকারী মানুষদের প্রতিনিয়ত যেমন প্রকৃতি-পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করতে হয়, তেমনি লড়াই করতে