Posts

Showing posts from August, 2020

দিনের শেষে, একটু হাসুন ৩১ আগস্ট ২০২০

Image
৩১/৮/২০২০ ১) ৮৪ বছর বয়সে চলে গেলেন দেশের ১৩-তম রাষ্ট্রপতি(২৫/৭/২০১২ থেকে ২৫/৭/২০১৭), প্রাক্তন অর্থ ও বাণিজ্য এবং বিদেশ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়!  ২) প্রথম অনলাইন বিশ্বদাবা অলিম্পিয়াডে যুগ্ম জয়ী হল ভারত ও রাশিয়া!  ৩) পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত হচ্ছে অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীগণের আবিষ্কৃত করোনা প্রতিষেধক COVISHIELD.  ৪) সূত্রের খবর,১ থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে অনলাইনেই  স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, ফলপ্রকাশ অক্টোবরের মধ্যে।  ৫) ১০৩ বছর বয়সে করোনায় মারা গেলেন ভারতের প্রথম মহিলা কার্ডিওলোজিস্ট এস আই পদ্মাবতী!  ৬) শুধু মাত্র স্মার্ট কার্ডে রাজ্যে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে মেট্রো রেল চালু হতে চলেছে।  ৭) মুম্বই বিমানবন্দরের ৭৪ শতাংশ শেয়ার কিনে নিতে চলেছে আদানি গোষ্ঠী!  ৮) প্রয়াত নিখিল ভারত বঙ্গসাহিত্য সম্মেলনের সর্বভারতীয় সাধারণ সচিব জয়ন্ত ঘোষ!  (বিঃদ্রঃ দিকে দিকে আওয়াজ উঠুক " কবি ভারভারা রাও-এর মুক্তি চাই"!) ________________________________ একটু হাসুন পচা দা: হ্যাঁ রে, তোর বাবার মিষ্টির দোকানে তো কত রসগোল্লা থাকে, তোর খেতে ইচ্ছা করে না?   

করোনা আবহে বর্তমান শিক্ষা পরিস্থিতি / শান্তনু প্রধান

Image
করোনা আবহে বর্তমান শিক্ষা  পরিস্থিতি     শা ন্ত নু  প্র ধা ন  সাম্প্রতিককালে কোভিড১৯ পরিস্থিতিতে জীবন-যাপনে শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব কতটা সেকথা আমাদের সকলেরই জানা । সমস্ত রকম সুযোগ-সুবিধা  ও ব্যবস্থাপনা থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ উদ্ভূত  সংকটে সম্পূর্ণ শিক্ষা  ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। জোড়াতালি দিয়ে পুনর্গঠনের নানারকম  প্রকল্প শুরু হয়েছে ঠিকই। কিন্তু  সেগুলি সুচিন্তিত  না হওয়ায় হিতে বিপরীত হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় করোনা আবহে পড়ুয়ারা দীর্ঘ ছ'মাস যাবৎ তাদের সুনির্দিষ্ট পড়াশোনার পথ অবলম্বন করতে পারছে না। ছোটোরা দীর্ঘদিন তাদের পড়ার সাথীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করায় প্রাত্যহিক জীবনে যেমন এসেছে এক ধরনের মানসিক উন্মাদনা তেমনি বড়োদের মানসিক যন্ত্রণা থাকলেও অপ্রকাশের ভারে তারা আর এক ধরনের নিঃসঙ্গতাকে সঙ্গী করেছে। প্রযুক্তির সহায়তায় কিছু পাঠ্যক্রম এগানোর চেষ্টা হয়তো করা হচ্ছে সেক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে নানাবিধ  সমস্যা । বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রযুক্তি নির্ভর  ক্লাস হওয়ার জন্য  অভিভাবকরা বেতন সমস্যায় নিত্য ভুক্তভোগী। অভিভাবকরা চায় তাদের  ছেলেমেয়েদের  শিক্ষার জন্য মাসিক খরচ কিছুটা  কম হোক। কিন

পথ যখন সঙ্গী -৬

Image
পথ যখন সঙ্গী  (মুরুগুমা ড্যাম) পর্ব - ৬  ন রে ন  হা ল দা র   পুরুলিয়া জেলার ঝালদা ব্লকের অন্তর্গত বেগুনকোদর নামক এক আদিবাসি গ্রামের পাশে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থিত একটি জলাশয় এই মুরুগুমা ড্যাম। এটি কংসাবতীর একটি উপনদীর উপর স্থিত। চারিদিকে সবুজ বনরাজি, তার একদিকে একটি ছোট্ট টিলা। প্রকৃতি যেন সমস্ত সৌন্দর্য দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে এ জলাশয়কে। বর্ষার সময় এ জলাশয় কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকে তার ভয়ংকর মূর্তি নিয়ে। বাঁধ যদি কোনো কারণে ভেঙে যায় তো আর রক্ষা থাকবে না। মেদিনীপুর থেকে সকাল ৫টা ১০এর খড়্গপুর-রাঁচী মেমু ধরে ঝালদা গিয়ে নামলাম দুপুর ১২টার দিকে। সেখান থেকে শেয়ার অটো ভাড়া করে মুরুগুমা, প্রায় দেড় ঘণ্টার পথ। তবে সবাই মুরুগুমা যাবে না। তারা সবাই প্রায় নিত্য যাত্রি। ঘন্টা খানেক চলার পরে অটো ফাঁকা হয়ে গেল। এখন কেবল আমরা আড়াই জন। এবারে সঙ্গে স্ত্রী ও তিন বছরের মেয়েও ছিল। অতএব পুরো ফ্যামিলি। দুপুরের খাবার কথা অটো ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলে সে রাস্তার ধারে একটা বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড়করিয়ে দিল। হোটেল নয়, একটা বাড়ি, সেখানেই বেঞ্চ বিছিয়ে ঘরোয়া খাবার ব্যবস্থা করা আছে। খেয়ে নিলা

বিজ্ঞানে ঈশ্বরের চিহ্ন- ১০

Image
বিজ্ঞানে ঈশ্বরের চিহ্ন পর্ব ― ১০  পূ র্ণ চ ন্দ্র  ভূ ঞ্যা মহাকালের ফসিলস এই অপূর্ব সুন্দর ব্রম্ভাণ্ডের শুভ জন্মক্ষণটি কবে ? পণ্ডিতদের মতে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে একটি বিস্ফোরণ থেকে এই মহাজাগতিক বিশ্বের জন্ম। কেন ? কোন তথ্য বা তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে তারা এমন স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন ? কোন টাইম মেশিনে চড়ে আলোকের বেগে  অতীত ভ্রমণ করলেও তো কোটি কোটি বছর লেগে যাবে সে-ক্ষণে পৌঁছতে ? তাহলে কীভাবে সম্ভব নির্ভুল গণনা ? পৃথিবীর বয়স নির্ণয়ের সময় আমরা ইউরেনিয়াম-লেড ডেটিং গণনার সাহায্য নিই। কারণ অস্থির ইউরেনিয়াম মৌলের অর্ধজীবনকাল অনেক বেশি। প্রায় ৪৫০ কোটি বছর। তাই ৫০০ কোটি বছর বয়সের পৃথিবীর জন্মকাল নির্ণয়ে কোন সমস্যা হয়নি। ভূ-ত্বকের একখণ্ড শিলায় যত ইউরেনিয়াম অবশিষ্ট আছে তার সঙ্গে ইউরেনিয়াম-ক্ষয়ে-সৃষ্ট সিসার ওজন অনুপাত থেকে পৃথিবীর বয়েস নির্ণয় করা বেশ সহজ কাজ। কিন্তু ব্রম্ভাণ্ডের বয়স ? নৈব নৈব চ। অত সহজ না ব্যাপারখানা। আবার নিরবচ্ছিন্ন সময় একটানা লেগে থাকার পর পেলেও পেতে পারি সে অমূল্য রতন।  এমন কোন জিনিস আছে যা বিগ-ব্যাঙ সময় থেকে আজ পর্যন্ত শূন্যস্থানের অন্ধকারে লুকিয়ে আছে ? তারই সন্ধানে প

খিদে/ কু মা রে শ তে ও য়া রী

Image
   ফটোগ্রাফি- সৈয়দ স্নেহাংশু    খিদে  কু মা রে শ  তে ও য়া রী এই যে আমার বাড়ি, একান্ত আপন স্তরে স্তরে স্তরীভূত ইমনকল্যান   ছালচামড়া উঠে গিয়ে হয়তো বা কিছুটা কিম্ভুত তা হোক তা হোক তবু দীপাবলি এলে  আলোর রোশনাই মেখে যখন মাধবী সাজে  বড়ো ভালো লাগে, মনে হয় ছ্যাতলা পড়া শরীরে তার  এঁকে দিই সহস্র চুম্বন এখানেই একদিন মা, হাঁসঘরের থেকে  ধবধবে ডিম বের করে নিতে নিতে  বলেছিল, এই তো ব্রহ্মাণ্ড, এখানেই সৃষ্টির প্রতুল বাবা, ধানখেত থেকে মুঠের সম্ভ্রম ধরে আনত মাথায়  বলেছিল, খিদে আসলে আগুন থেকে আসে  তারপর কতকাল আগুন চিনেছি বারবার খিদে নিয়ে থাকি আর ভুলে যাই মন্দিরের চূড়া খিদে তো আসলে এক আশ্চর্য বিলাপ  জন্মকুণ্ডলীতে তার অনন্ত বসত খিদের তাড়না পেলে মানুষেরা  যে কোনো শেকল ছিঁড়ে দিতে চায় অমিল রূদ্ররাগের মতো খিদে  জলস্তম্ভ ভেঙে ফেলে, ঘোড়াদের খুরে তুমুল তাড়না হয়ে  টপকে টপকে যায় ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ  বাড়িতে বাড়িতে কত খিদে ওড়ে  আগুন জ্বালিয়ে তার কত দাপাদাপি ক্যালেণ্ডারে তারিখের সে কী উজ্জ্বলতা  অনন্তের পরমায়ু নিয়ে যেন বসেছে অক্ষরে বেবাক শরীর থেকে ক্রমাগত ক্ষয়ে যেতে থাকে ক্যালরির সীমিত সম্ভার  দেয়ালের টিকটিক

লৌকিক ধাঁধা

Image
   সংগ্রহ  কমলদিঘির রাজহাঁস(নাটক)   মোহন রাকেশ অনুবাদ- শ্রাবস্তী রায় প্রকাশক - জ্বলদর্চি  প্রচ্ছদ - সোমনাথ তামলী প্রথম প্রকাশ - ২০১৯ মূল্য -১৫০/- _______________________________________ লৌকিক  ধাঁধা  পূর্ব মেদিনীপুর লৌকিক  ধাঁধা- ১. আঁধার  পুকুর  গড়ান মাঠ বত্রিশ  কলাগাছ  একখানা  পাট।  উত্তর - দাঁত ও জিহ্বা ২. দাঁত না থাকলে  খেতে পারে না কে? উত্তর - চিরুনি  ৩. কোন ফলের বীজ নেই  বলো তো দাদা না বলতে পারলে  তুমি একটা  হাঁদা।  উত্তর - নারকেল  ৪. দুই অক্ষরে  নাম  তার  বহু লোকে খায় শেষের  অক্ষর  বাদ দিলে হেঁটে  চলে যায়।  বলো তো  কি? উত্তর - পান ৫. এই যে হেডমাস্টার  তোমার গাঁ ছুঁয়ে গেল কে? বুঝতে  পারলে  বলো কে সে?  উত্তর -বাতাস ৬. গরুর পেছনে  রাখলে পন জানতে পারেনা জগৎজন।  সেটি কি? উত্তর - গোপন  ৭. বলুন তো এমন কোনো  বস্তু  পৃথিবীতে নেই তোমার আমার মুখের  কথায় তবু আছে সেই।  চটপট  বলো  দেখি কি  এটি? উত্তর - ঘোড়ার ডিম ৮. কোন দেশ ঝোলে গাছে কোন দেশ বাজে?  কোন দেশ বলো দেখি তেল ঘিতে ভাজে?  উত্তর - মরিচ,কাশী, পুরী ৯. বিনা  দুধে হচ্ছে দই এমন কুমার  পাবো কই?  বলো দেখি  কি  এটি?  উত্তর -

সব্যসাচী ও সুভাষচন্দ্র / মুক্তি দাশ

Image
সব্যসাচী ও সুভাষচন্দ্র মু ক্তি  দা শ ‘বঙ্গবাণী’ মাসিক পত্রিকায় অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী’ যখন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল, তখন সুভাষচন্দ্রের সংগে শরৎচন্দ্রের পরিচয় মাত্র দু’বছরের পুরোনো। সুভাষ তখনো ‘নেতাজি’ শিরোপায় ভূষিত হন নি। তাঁর রাজনৈতিক কর্মপ্রবাহ তখনো পূর্ণমাত্রায় বিকাশলাভ করেনি। ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন সংখ্যা থেকে বঙ্গবাণীতে ‘পথের দাবী’র ধারাবাহিক প্রকাশ শুরু হয়। শেষ হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায়। সেইসময়ই তখনকার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অনেক বিদগ্ধ ব্যক্তি অনুমান করে নিয়েছিলেন যে, পুস্তকাকারে বইখানি বেরুনো মাত্রই ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে দেবে। হয়েছিলও তাই। ডাবল-ক্রাউন ষোলো পেজী ফর্মায় মোট ৪২৬ পৃষ্ঠার বই হয়ে ‘পথের দাবী’র প্রথম সংস্করণ উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রকাশনায় কটন প্রেস, ৫৭, হ্যারিসন রোড, কলিকাতা থেকে মুদ্রিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করলো বাংলা ১৩৩৩ সালের মধ্য-ভাদ্রে, ইংরেজি ১৯২৬ সালের ৩১শে আগস্ট। এবং এর কয়েকমাস বাদেই বইটি যথারীতি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হলো। ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে ‘আত্মশক্তি’ পত্রিকার ১৪ই জানুয়ারি সংখ্যায় লে

লোককথা - বোকা তাঁতি

Image
লোককথা- বোকা তাঁতি গল্প -১৩ সু ব্র ত কু মা র  মা ন্না      লোকটা মরে-টরে গেল নাকি ? বৌ অনেকদিন বাপের বাড়িতে আছে, মা বােকাকে বলেন, "বৌকে বাড়ি নিয়ে আয়। আমি একা হাতে আর পারছিনে।” বােকা একহাঁড়ি সন্দেশ নিয়ে দুপুরবেলা ভাত খেয়ে শ্বশুর বাড়ি বেরােলাে। বােশেখের রােদ বেশ চড়া। মা বড় ছাতাটা বের করে দিলেন। মাঠ পার হয়ে খালবাঁধ ধরে হাঁটছে বােকা। বোকা ছাতা মাথায় দিয়ে যাচ্ছে আপন খেয়ালে। চড়া রােদে জনপ্রাণী নেই। বােকার যেন মনে হল কেউ তার পিছু নিয়েছে। পায়ের শব্দও যেন শুনতে পেল। বােকা পিছন ফিরে তাকাল, সত্যিকার  আরাে একজন তারই মতাে কালাে লােককে তার পিছনে দেখতে পেল। লােকটা একটু বেঁটে আর মােটা। বােকা কিছু বলল না, তবে হনহন করে হাঁটতে লাগল। অনেকটা পথ যেতে হবে, কিন্তু লােকটা তাে বড় অদ্ভুত, বােকা যদি বাঁয়ে মােড় নেয় তাে ও-ও বাঁয়ে মােড় নেয়, বােকা সােজা গেলেও লােকটা যায়। বােকা বসে পড়ে, লােকটাও বসে পড়ে। বােকা ভীষণ রেগে গিয়ে বলে, আমি শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছি , তুমি আমার সঙ্গ নিচ্ছ কেন ? লােকটি কিছু বলল না, বসেই থাকে। বােকা ছাতাটা তার হাতে দিয়ে  বলে, “যাও বাপু পালাও ছাতা মাথায় দ

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ সঙ্গীতামৃত -৬

Image
পর্ব-৬   শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ সঙ্গীতামৃত   সু দ র্শ ন  ন ন্দী পরের গান কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের। ২৭শে অক্টোবর ১৮৮২। এদিন ঠাকুর অনেকগুলি গান গেয়েছেন। সেদিন ঠাকুর নৌকোতে গঙ্গায় ভ্রমণ করছেন কেশবদের সাথে। কথা হচ্ছে আদ্যাশক্তি লীলাময়ী প্রসঙ্গে। তিনিই কালী। কথাপ্রসঙ্গে ঠাকুর বললেন, কালী কি কালো? দূরে তাই কালো, জানতে পারলে কালো নয়। আকাশ দূর থেকে নীলবর্ণ। কাছে দেখ, কোন রঙ নাই। সমুদ্রের জল দূর থেকে নীল, কাছে গিয়ে হাতে তুলে দেখ, কোন রঙ নাই। এই কথা বলে প্রেমোন্মত্ত হয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ গান ধরলেন:        মা কি আমার কালো রে ৷ কালোরূপ দিগম্বরী, হৃদ্‌পদ্ম করে আলো রে...।।  কমলাকান্ত ভট্টাচার্যেরগানটি কথামৃতে চারবার গাইতে দেখি ঠাকুরকে। পরের গান ঐ গঙ্গাবক্ষেই, ১৮৮২, ২৭শে অক্টোবরে। সংসার নিয়ে কথা হচ্ছে।  শ্রীরামকৃষ্ণ কেশবদের বলছেন- বন্ধন আর মুক্তি -- দুয়ের কর্তাই তিনি। তাঁর মায়াতে সংসারী জীব কামিনী-কাঞ্চনে বদ্ধ, আবার তাঁর দয়া হলেই মুক্ত। তিনি “ভববন্ধনের বন্ধনহারিণী তারিণী”। এই বলে রামপ্রসাদের একটি গান ধরলেন ঠাকুর: শ্যামা মা উড়াচ্ছ ঘুড়ি (ভবসংসার বাজার মাঝে) ৷ (ওই যে) আশা-বায়ু ভরে উড়ে, বাঁধা তাহে মায়া দড়

গুচ্ছ কবিতা / দুর্গাপদ ঘাঁটি

Image
      ফোটোগ্রাফি - সৈয়দ স্নেহাংশু   দুর্গাপদ ঘাঁটির  পাঁচটি  কবিতা                   ১       সরে গেল চাঁদ  পানশির দাঁড় ঠেলে চলি তুমি আমি  তবুও দূরত্বে রয়েছো বুঝি অন্য দাঁড়ির  সাথে  কৃষানির হাত ধরে মনে হয় সৃষ্টি ছুঁয়ে আছি            পাতে সংকীর্ণ জীবন।     সরে গেল চাঁদ মঙ্গলের সাথে সাথে। তবুও পানশি  ঠিলে চলি বটবৃক্ষের ছায়ায়           যদি ফিরে আসে সে।                               ২  ধনীরা জৌলুস ছাড়িয়ে স্ট্যাচু হতে চায়       সঙ্গে গুটিকয় পৃষ্ঠা। এভাবে উভয়ে মুখোমুখি জঙ্গল উষ্ণতায়। অথচ বেআব্রু পথে  সভ্যতা এল বিবর্তন ছুঁয়ে তবুও ঝাঁঝাঁ দুপুরে  কেন এত অন্ধকার মনে হয়?            ৩  ভাষা শরীরের মতো তোমার ঠোঁট  ছুঁয়ে আছে ওখানে- হরমোন তখন অন্য কথা বলে টলি বলি জুড়েই তোমার সাঁতার  ওভেনের পাশে পাশে। এভাবে এমনই আচ্ছন্ন চোখ পৌঁছে যায় শোষকের দ্বারে  ৪ অনেক ভাবনা আসে,   পড়ে থাকে কত অনুর্বর পড়শি দেশে কতক  অঙ্কুরিত হয় আনাচে কানাচে     সেই ঝিঙে পটল উচ্ছের মতন    বড্ড বেমানান। শুভ দৃষ্টির পিছনে এক বিস্মৃতির ইতিহাস     তারপর রাজলক্ষ্মীর বৈঁচির রক্তঝরা পথ। এভাবেই  ভিস্তিওয়ালার দৃষ্

শার্ল বোদলেয়ার || প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা ও স্মরণ

Image
প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা ও স্মরণ    স ন্দী প  কা ঞ্জি লা ল   "কবিতার শেষ কথা তা কবিতা, তা ভালোও নয়, মন্দও নয়। এলে তুমি আকাশ হতে না নরক হতে, হে আমার সুন্দর, তাতে আমার কী এসে যায়?"                             শার্ল বোদলেয়ার                  (০৯/০৮/১৮২১ - ৩১/০৮/১৮৬৭) কথায় বলে যে সময় যায়, সে আর ফেরে না। আমার মনে হয় কথাটি আংশিক সত্য। পুরোপুরি সত্য নয়। ফেরে, কিছু সময় অবশ্যই ফেরে। যা চকচক করে হীরক খণ্ডের দ্যুতির মতো। যার আলোকে মুখ উজ্জ্বল লাগে, চোখ ঝলসে যায়। মৃত অতীতের ভস্ম ঝেড়ে উঠে এল এমনি একটি দিন। নিস্তব্ধ আদালত কক্ষ, বিচারক বসে আছেন ন্যায়ের আসনে, হাতে একটি কবিতার বই, কর্মচারীরা যে যার জায়গায়। সরকার পক্ষের ও আসামি পক্ষের উকিল হাজির। জামা ইন করে স্যুট প্যান্ট পরিহিত গলায় টাই বাঁধা এক যুবক। যার চোখ চকচক করছে, অন্ধকার রাত্রের হায়নার মত, মুখমণ্ডল শান্ত। বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে আসামি বলছে, এ বই আমার লেখা, বিচারক - "আপনি কি এই কবিতা গুলিকে ন্যায়নিষ্ঠ মনে করেন?" আসামি,- "আমি ভালোবাসি সুন্দর, ভালোকে নয়। একমাত্র প্রেমই সংরক্ষণ করে সুন্দরকে, আর প্রেমকে যদি প্রকৃত হ

৩১ আগস্ট ২০২০

Image
আ জ কে র  দি ন  31 August 2020 বাংলায় ----- ১৪ ভাদ্র ১৪২৭ সোমবার  আজ, মারিয়া মন্তেসরির জন্মদিন। এই ইতালীয়  শিক্ষাবিদ নিজের নামে প্রতিষ্ঠা করা বৈজ্ঞানিক শিক্ষাদান পদ্ধতির জন্য  সর্বাধিক পরিচিত। তাঁর  "মন্টেসরি শিক্ষাপদ্ধতি" বর্তমানে পৃথিবীর অনেক সরকারি ও বাণিজ্যিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম হিসেবে প্রচলিত রয়েছে। আজ, স্বনামধন্য বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্মদিন । বিজ্ঞাপন সংস্থায় ক্রিয়েটিভ আর্টিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে দ্বিতীয় ছবি 'উনিশে এপ্রিল 'এ জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত  হন। তিনি মোট দশবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। আজ,  বিপ্লবী কানাইলাল দত্তের জন্মদিন । ইনি বিপ্লবী  চারুচন্দ্র রায়ের অনুপ্রেরণায় বিপ্লববাদে দীক্ষা নেন। কিংসফোর্ড হত্যা চেষ্টায় অভিযুক্ত রাজসাক্ষী নরেন্দ্রনাথ গোঁসাইকে হত্যার অপরাধে ফাঁসি হয়। প্রসঙ্গত ১৯০৮ সালে আজকের দিনে তিনি বিপ্লবী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর সহযোগিতায় নরেন গোঁসাইকে  হত্যা করেছিলেন।   আজ, ভারতীয় লেখিকা অমৃতা প্রীতমের জন্মদিন । তাঁর  সুবিখ্যাত উপন্যাস  'পিঞ্জর'।ইনি সাহিত্য আকাদেমি, জ্ঞানপীঠ, পদ্মশ্রী ইত

দিনের শেষে, একটু হাসুন ৩০ আগস্ট ২০২০

Image
৩০/৮/২০২০ ১) লিভারপুল-কে হারিয়ে কমিউনিটি ফুটবল শিল্ড জিতে নিল আর্সেনাল ক্লাব!  ২) IPL-2020'তে অফিসিয়াল পার্টনার হল বেঙ্গালুরুর এডুকেশন টেক্ সংস্থা Unacademy!  ৩) ২৪ হাজার ৭১৩ কোটি টাকায় বিগবাজার-সহ Future group কিনে নিতে চলেছে Reliance group!  ৪) ভারতীয় দাবাড়ু কোনেরু হাম্পি Fide online Olympiad-এর ফাইনালে উঠলেন।  ৫) স্বশাসিত সংগঠন আফ্রিকা  রিজিওনাল সার্টিফিকেশন কমিশন পুরো আফ্রিকা মহাদেশকে পোলিওমুক্ত বলে ঘোষণা করল। ৬) ইন্ডিয়ান গ্রীণ বিল্ডিং কাউন্সিলের রেটিং-এ ১০০-র মধ্যে ৮২ নম্বর পেয়ে প্লাটিনাম স্থানাভূক্ত হল বাংলার নিউটাউন !  ৭) বার্নস্টেইনের এক রিপোর্টে  বলা হয়েছে যে ভারতের বাজারে অনুমোদিত করোনা-ভ্যাকসিন ২০২১ সালের প্রথম দিকে আসতে পারে।  ৮) দক্ষিণ চিন সাগরে রণতরী মোতায়েন করল ভারত!  ৯) আগামীকাল রাজ্য জুড়ে চলতি মাসের শেষ পূর্ণ লকডাউন!  (বিঃদ্রঃ - দিকে দিকে আওয়াজ উঠুক " কবি ভারভারা রাও-এর মুক্তি চাই"!) ______________________________________ দিনের শেষে একটু হাসুন   ঘেঁচুদা রোজ দুপুরে স্কুলের পাশেই একটা  রেস্টুরেন্টে টিফিন করে। তা  আজ সে পানুকে ডেকে দশ টাকা বক

হাজার বছরের বাংলা গান - ১৫

Image
হাজার বছরের বাংলা গান।। পর্ব-১৫ তু ল সী দা স   মা ই তি রামমোহন রায় ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান: ব্রহ্মসংগীতের সূচনা  "প্রাচীন গীতিকারেরা তিরোহিত হযেছিলেন এবং তাদের স্থলে যে সব অনুকরণকারী দেখা দিয়েছিল তারা সংগীতকে এমন স্তরে নামিয়ে এনেছিল যা কেবল বাবু ও ধনী সম্প্রদায়ের  মনোরঞ্জনের জন্যই নিয়োজিত হত।….এই  পরিস্থিতিকে অনেক পরিমাণে সুস্থ ও স্বাভাবিক করবার চেষ্টা দেখা দিল ব্রহ্মসংগীতের মাধ্যমে।… রামমোহন যে সংগীত রচনা করেছিলেন সাহিত্যের দিক থেকে তার সার্থকতা বেশি নয়,কিন্তু সমাজে তিনি একটি বিশেষ সংগীত চিন্তা আনতে পেরেছিলেন এটি তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব।"- একালের অন্যতম সংগীত গবেষক রাজ্যেশ্বর মিত্র রামমোহনের সংগীত প্রসঙ্গে এই কথাগুলি বলেছেন। এই কথার সূত্র ধরেই রামমোহনের সংগীত ভাবনা ও তাঁর রচিত ব্রহ্মসংগীতের আলোচনায় প্রবেশ করতে পারি। প্রকৃতপ্রস্তাবে রামমোহন রায়ের সংগীতদর্শন বাংলা গানের ইতিহাসে একটা নতুন বাঁক। এক নতুন পরিশীলিত স্রোত। যে স্রোতে বাংলা গানের এক অপূর্ব যুগের প্রকাশ। শত শত সংগীত স্রষ্টার পূর্বসূরী তিনি। এই প্রত্যয়ের তিনিই সূচনা, রবীন্দ্রনাথে তার পূর্ণতা। রামমোহনের যুগে বা

পড়শি/ প্রতিমা রায়

Image
ফোটোগ্রাফি- সৈয়দ স্নেহাংশু    পড়শি  প্র তি মা  রা য়  তিন কাঠা  জমির উপর পুরানো  দোতলা  বাড়িটা জলের দামে পেয়ে আমরা উঠে এলাম শ্যামনগরে । মেন রাস্তা থেকে একটু ভেতরের দিকে বলে এখানে শহরের কোলাহল তেমন নেই, রাস্তা ঘাটে মানুষের ভীড় ও কম । বেশ শান্ত পরিবেশ। বাড়িগুলোও গা ঘেঁষাঘেঁষি করে নেই ।  বাড়ির পূর্বদিকে ফাঁকা মাঠ আর একতলার গেটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা গোটা ছয় সুপুরি গাছ সেই নির্জনতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে । দোতলার বিশাল লনের মত ব্যালকনি পূর্বদিকে হয়ায় রোদ আর হাওয়ার দাপাদাপি উপভোগ করার মতো । কিন্তু আমার আবার নির্জনতা ভালো লাগে না। নির্জনতায় নিজেকে বড় একলা মনে হয় । তখন  নিজের ভেতর কুঁয়ো খুঁড়তে ইচ্ছে করে । রৌণক অবশ্য মাঝে মাঝে অফিস থেকে ফোন করে বলে— দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে তো পারো । আমার ঘুম আসে না । তখন আমার ভেতরের কুঁয়ো জলে পা ডুবিয়ে বসি, ডুবন্ত জলে কত কিছু ভেসে ওঠে,কত কিছু ভাসিয়ে দিই, নয়তো ব্যালকনিতে এসে মাঠের দিকে মুখ করে দাঁড়ায় । মাঠের পাশে পুকুরে দু একজন স্নান করে কখনও কখনও । তারপর খাঁ খাঁ মাঠ,শূন্য পুকুর আর নিঃসঙ্গ রোদ্দুর কেবল লুটোপুটি খায়, আমি হাঁ করে গিলি সেসব কখনও একতলায় নেমে এসে ব

জ্বলদর্চি ক্যুইজ - ৫

Image
Loading… গত সপ্তাহের (২৩ই আগস্ট) ২০তে ২০ পেয়েছেন যাঁরা- অনিমেষ দত্ত Ruma Mishra SOUMILI CHANDRA শান্তনু ভূঞ্যা তাপস মজুমদার Animesh Panda অন্বেষা পান্ডা  SK SUHANA Annesha Panda  Lima jana Dwaipayan Goswami লিমা জানা লিমা জানা Dwaipayan Goswami Soumen Chandra সৌরেন্দু চ্যাটার্জী  Joy das দ্বীপ নারায়ন শাসমল Rabindranath Dey. Disha Mukherjee (Durgapur) Sonakshi Mula Ratan Chandra Mula Ipsita Das Aiswariya Pal SNEHA NANDI Sneha Nandi Susmita paria Ivy karmakar আইভি কর্মকার Tapas pradhan Parnab Paul দীপিকা দাস

লোককথা - বোকা তাঁতি

Image
লোককথা - বোকা তাঁতি   গল্প- ১২ সু ব্র ত কু মা র  মা ন্না     বউয়ের পিঠে বােকা দুম দুম করে কিল দিল শ্বশুরবাড়িতে কিন্তু বােকার খুব খাতির। শাশুড়ীমা বােকাকে নিজের ছেলের মতােই দেখেন। পিঠে, পুলি ভালােমন্দ কিছু হলেই মেয়ে জামাইয়ের ডাক পড়ে। শ্বশুরবাড়ি তাে আর বিদেশ বিভুঁইয়ে নয়। মাঝখানে শুধু একখানি মাঠ । মাঠের মাঝখানে খাল। খালধার ধরে হেঁটে গিয়ে খালটা পার হলেই মাঠের ওপারের গায়ে বােকার শ্বশুরবাড়ি। ময়নামাসী গঞ্জের হাটে চাল বেচতে গিয়েছিল, ফিরে আসার সময় চালের বস্তা মাথায় হাঁক দিল, 'ও দিদি ও বােকা.... হাটে বােকার শাশুড়ীর সঙ্গে দেখা  হল, তােকে আজ বিকেলে ডেকেছে যে'। বােকা লাফিয়ে উঠে বলে, যাব। মা বললেন, তা যাস। বউ দরজার আড়ালে লজ্জিত মুখে দাঁড়িয়ে রইল। বােকা জিজ্ঞাসা করে, 'তুমি যাবে নাকি?' মা বলেন না ও যাবে না। তুমি ব্যাটাছেলে মানুষ হেঁটে চলে যাবে। সােমত্ত বউ দুদিন পরে ছেলের মা হবে - গায়ে হাওয়া লেগে যাবে। পরে গােরুর গাড়ি করে বৌমাকে আমি বাপের ঘরে রেখে আসবাে। বােকা জামা জুতাে পরতে লাগল। মা  অবাক হয়ে বলেন, 'বাবা এখন কেন জামা পরিস ? ভাতটাত খেয়ে ওবেলা যাস