Posts

Showing posts from February, 2022

ইউক্রেন - এক অচেনা দেশের কথা/ সজল কুমার মাইতি

Image
ইউক্রেন - এক অচেনা দেশের কথা  সজল কুমার মাইতি ইউক্রেন পূর্ব ইউরোপের একটি দেশ। রাশিয়ার পরে আয়তনে এটি ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। এই দেশের পূর্বে ও উত্তর পূর্বে আছে রাশিয়া। উত্তরে বেলারুশ, পশ্চিমে বিস্তৃত পোলান্ড, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি। আর দক্ষিণে আছে রোমানিয়া ও মলডোভা দেশ। এই দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে বিস্তৃত রয়েছে আজভ সাগর ও কৃষ্ণ সাগর। এই দেশের আয়তন ৬০৩৬২৮ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৪ কোটি ৩৬ লক্ষ। ইউক্রেন ইউরোপের অষ্টম জনবহুল দেশ। দেশের সর্ববৃহৎ শহর কিভ এই দেশের রাজধানী। ইউক্রেনের জনসংখ্যা জাতিগতভাবে ৭৮ শতাংশ ইউক্রেনিয়, ১৭ শতাংশ রুশ বাকি অন্যান্য ধর্মের মানুষ। ধর্মীয়ভাবে ইউক্রেনে ৮৭ শতাংশ খৃস্টীয় ধর্মাবলম্বী। এই দেশের প্রধান ও সরকারি ভাষা ইউক্রেনিয়। এছাড়াও বেলারুশ, বুলগেরিয়ান, ক্রিমিয়ার তাতার, রুশ ভাষা, গ্রিক,  হিব্রু ও অন্যান্য ভাষা ও প্রচলিত আছে। এই দেশের কারেন্সি হল হার্বনিয়া। জনপ্রতি আয় এই দেশে ৪৯৫৮ ডলার। এটি একটি একদেশীয় রাষ্ট্রপতি শাসিত দেশ। দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেন একটি উন্নয়নশীল দেশ। মানব উন্নয়ন সূচক অনুসারে এই দেশের স্থান ৭৪ তম। ইউক্রেন

অজানাকে জানুন-৯/ অরিজিৎ ভট্টাচার্য্য

Image
অজানাকে জানুন  অরিজিৎ ভট্টাচার্য্য  পর্ব- ৯ ১] পুরুলিয়া জেলার প্রধান উৎসব কি কি? ২] " বাণীকুমার " কোন লেখকের ছদ্মনাম? ৩ ] ভারতের  প্রথম নির্বাচন কমিশনার কোন বাঙালি ছিলেন? ৪] " নল হ্রদ " কোথায় অবস্থিত? ৫] কোন উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ বেশি হয়? ৬] রাশিয়া শুত্রু গ্রহে কোন ত্রক্সপ্রেস পাঠায়? ৮] পৃথিবীর সর্বপ্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীর নাম কি এবং কোন দেশের? ৯] বিখ‍্যাত গ্রন্থ " নীলদর্পণ " এর ইংরেজি অনুবাদ কে করেছিলেন? ১০] "প্রবোধচন্দ্রিকায় " রচয়িতার নাম কি? ১১] বিখ্যাত 'নোবেল পরস্কার'     কোন দিনটিতে দেওয়া হয়? ১২] কার্বোলিক অ‍্যাসিড এর সঙ্গে অ‍্যালকোহলের বিক্রিয়াকে কি বলা হয়? ১৩] " সাম্রাজ্য বাদ কা নাশ হো" বিখ‍্যাত উক্তিটি কোন বিপ্লবীর? ১৪] নবম ফুটবল বিশ্বকাপ কত সালে কোথায় অনুষ্ঠিত হয়? ১৫] দেশের প্রাচীনতম হাইকোর্ট কোনটি? অজানাকে জানুন ৮ম পর্ব'র উওর অরিজিৎ ভট্টাচার্য্য  ১] প্রথম লন্ডনের D.S.C কোন বাঙালি? উ: জগদীশ চন্দ্র বসু ২] কারাকোরাম বা K2 'র উচ্চতা কত? উ: 8611* ৩] ভারতের বিখ্যাত ঘড়ি কোম্পানি H M T কারখানাটি কোথায় অবস্

শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী সন্তানেরা/পর্ব ১৪/প্রীতম সেনগুপ্ত

Image
শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী সন্তানেরা পর্ব ১৪ প্রীতম সেনগুপ্ত      অধ্যাত্ম জগতের বেতাজ বাদশা ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ মানসপুত্র। কত সহজভাবে তিনি গূঢ় অধ্যাত্ম ভাবনাসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন! প্রশ্নোত্তরের আকারে তার কিছু নমুনা পেশ করা যেতে পারে। ১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জিজ্ঞাসুজনের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন।     প্রশ্ন-- শুনেছি, মন্ত্রার্থ চিন্তা করতে হয়। মন্ত্রটি কি প্রত্যেক অক্ষর ধরে চিন্তা করতে হয়, না সমগ্র মন্ত্রটি একসঙ্গে চিন্তা করতে হয়?     উত্তর-- মন্ত্রার্থ কি রকম জানিস? যেমন নাম ধরে ডাকা। তোর নাম অমুক। তোর নাম ধরে তোর রূপটিও আমার মনে জাগবে। সেইরকম মন্ত্র এবং সঙ্গে সঙ্গে উহার রূপ অর্থাৎ ইষ্টমূর্তি ধ্যান করতে হবে।     প্রশ্ন--জপ কি শব্দ করে করতে হবে, না মনে মনে?     উত্তর--যখন একলা নির্জনে জপ করবি তখন তুই নিজের কানে যেন শুনতে পাস এইরকমভাবে করবি। আর লোকজন কাছে থাকলে মনে মনে জপ করবি।     প্রশ্ন--মন কি করে স্থির করব?     উত্তর--প্রত্যহ ধ্যান-অভ্যাস করা দরকার। ভোরবেলা ধ্যানের খুব প্রশস্ত সময়। ধ্যানের পূর্বে একটু শাস্ত্রাদি পাঠ করে নিলে মন সহজেই একাগ্র হয়। ধ্যানের পর অন্তত আধ ঘন্টা

কবিতা অ্যাভিনিউ /পর্ব – ৯ /বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

Image
কবিতা  অ্যাভিনিউ  পর্ব – ৯ বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতায় প্রেম বহুমাত্রিক। ভালোবাসাকে তিনি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন।কখনও শরীরের আশ্লেষে জড়িয়ে নিয়েছেন আকণ্ঠ- “ শরীর ছেলেমানুষ কত তার টুকিটাকি লোভ’। আবার কখনও শরীরের  উর্ধ্বে গভীর মননশীললতায় ধরতে চেয়েছেন প্রেমের প্রাচুর্য- ‘ ভালোবাসা ঘুম শরীর-বিস্মৃত পাশাপাশি/ ঘুমোবার মতো ভালোবাসা’  কামনাবাসনা রঞ্জিত জীবনে প্রেমকে বাস্তবের আধারের স্নায়ুকোষে তিনি যেমন ব্যক্ত করেছেন পাশাপাশি দেহকোষেও সঞ্চারিত হয়েছে তার উষ্ণ শিহরণ। এসব নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। আগামীতেও হবে। আমি সুনীলের কবিতায় অন্বেষণ করব দেশকাল মনুষ্যত্বের প্রতি ভালোবাসা। দেশভাগ তাঁর কবিতায় ও মনে  মিশে গিয়ে তাঁর অস্তিত্বের সাথে এক এবং অবিচ্ছেদ্য হয়ে গেছে। কীভাবে চেতনার আশ্রয়ে তা রূপায়িত হয়েছে বর্ণমালায়। তাঁর কবিতা পড়তে পড়তে এসব প্রশ্ন অনিবার্য ভাবে ছুঁয়ে যায় আমাদের স্নায়ুপথ। সুনীলের কবিতায় দেশবিভাগের বিভিন্ন পরিসর অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি। দেখবার চেষ্টা করেছি দেশভাগ তাঁর কবিতায় কীভাবে এসেছে এবং কতখানি জায়গা জুড়ে আছে।দেশবিভাগ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের য

বিজয়াদি, বিজয়া মুখোপাধ্যায় // ঈশিতা ভাদুড়ী

Image
স্মৃতি ডট কম ৯ বিজয়াদি, বিজয়া মুখোপাধ্যায় // ঈশিতা ভাদুড়ী ‘বিশ্বের সমস্যাপূরণের ভার / তোকে দেওয়া হয়নি, পুঁটি। / ভারতবর্ষ বোমা বানবে কিনা / আমেরিকা ভিয়েতনাম ছাড়বে কবে / অটোমেশনের বিরুদ্ধে গনস্বাক্ষর জরুরি – / এ সব ভাবনা তোর নয়। / বিকেলে গা ধুয়ে তুই খোঁপা বাঁধ / লক্ষ্মীবিলাস তেল দিয়ে, / মাসির দেওয়া পার্ল পাউডার / মুখে আলতো করে মাখ / কাগজ পোড়ানো ঝুরো টিপ পর কপালে / সন্ধ্যামালতির থোকা গুঁজে দে খোপায় / বর্ষায় ঘন সবুজ শাড়ি / তোকে মানায় ভালো।…’ - কবি বিজয়া মুখোপাধ্যায়ের  এই ‘পুঁটিকে সাজে না’ কবিতাটি পড়ে নারীবাদী কবিতা মনে হলেও, তাঁর কবিতার মূল চরিত্র বুঝতে গেলে তাঁকে পড়তে হবে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে। আসলে একজন নারীর কবিতা বলতে পাঠক যা বোঝে, সেই জায়গা উত্তীর্ণ করে তাঁর লেখা বিস্তৃতি পেয়েছে। ১৯৭৭ অথবা ৭৮-এ আমি প্রথম পড়ি বিজয়া মুখোপাধ্যায়ের কবিতা। আমার জীবনের বেশ কিছু সময় হিন্দুস্তান পার্কে ইলাবাসে কেটেছে, বেড়ে ওঠার সময়ে। এই বেড়ে ওঠায় যে দুটির প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল আমার সঙ্গে, সেই দুটি হলো বালিগঞ্জ ইন্সটিট্যুট লাইব্রেরী আর আইডিয়াল বুক স্টোর, দুটোই গড়িয়াহাটে। আইডিয়াল বুক স্টোরে দাঁড়িয়ে কত

পদ্মপাতায় শিমুল-১১ /সীমা ব্যানার্জ্জী-রায়

Image
পদ্মপাতায় শিমুল-১১ সীমা ব্যানার্জ্জী-রায় হিমছোঁয়া রোদ্দুর এইবার সাহেব কোয়ার্টার থেকে আমরা এলাম পাকাপাকিভাবে জামালপুরের-ই মুঙ্গের রোডের ভাড়া বাড়িতে। কারণ একটাই- বাবা আবার লক্ষ্ণৌ-এ ট্রান্সফার হয়ে গেলেন। আমার তখন বয়স চার। বিহারী লক্ষণ সিং ছিলেন বাড়িওয়ালা। ওনার কাঠের গুদাম ছিল। ঠিক একটা ছোট পাড়ার মতন...বেশ কিছু ভাড়াটে থাকত সেখানে। বড় রাস্তা দিয়ে ঢুকে সরু রাস্তা পড়ত। একদিকে ছিল বিহারীদের মেয়েদের স্কুল। তারপর ছিল ওনাদের বাড়ি। লক্ষণ সিং এর ছিল তিন মেয়ে আর দুই ছেলে। মেজ মেয়ে মঞ্জরী ছিল আমার বয়সী। আর ছোট মেয়ে মিনা আমার চেয়ে দুই বছরের ছোট আমার ছোট ভাই-এর বয়সী ছিল। বড় মেয়ে মিলতি ছিল আমার এক দাদার বয়সী। --জানো নিশ্চয়-ই! আগে ডাকাতেরা ডাকাতি করতে আসলে চিঠি পাঠাত। আর সেই চিঠি পড়ে সবাইকে সাবধান থাকতে বলতেন বাড়ীওয়ালা। উনি বলে দিয়েছিলেন- “বাড়িতে রাখা গয়না, টাকা যেন ঘুলঘুলিতে রাখা হয়।” মঞ্জরীদের গুদামে একবার ডাকাতেরা ডাকাতি করতে আসবে বলে চিঠি দিয়েছিল। আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। কারণ, সেই গুদাম তো আমাদের ভাড়া বাড়ির বাগানের পাশেই থাকত। মঞ্জরীর বাবা তাই খুব কঠোর পাহারা বসিয়েছিলেন। তবে শেষমেশ নাকি আ

শিবচতুর্দশী /ভাস্করব্রত পতি

Image
পশ্চিমবঙ্গের লৌকিক উৎসব, পর্ব ৯ শিবচতুর্দশী ভাস্করব্রত পতি সে বহুদিন আগের কথা। সেসময় বারাণসীতে এক ব্যাধ থাকতো। একদিন শিকার করতে বেরিয়ে চারিদিকে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন রকম পশুপাখি মেরে সেগুলো কাঁধে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল। শিকারের পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পথের ধারে একটা গাছের তলায় বিশ্রাম নিতে লাগলো সে। সারা দিন তাঁর খুব খাটাখাটনি হয়েছে। ফলে সে ঐ গাছতলায় একটু শুয়ে বিশ্রাম নিতে চাইলো এবং সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়লো। ঠিক সন্ধ্যের সময় তাঁর ঘুম ভাঙলো। তখন তো আর বাড়ি যেতে পারবেনা বুঝে ঐ গাছের উপর উঠেই বাকি রাতটা কাটাবে বলে ঠিক করল। ঐ গাছের ডালে মরা জন্তুগুলো বেঁধে নিজে রাত জেগে বসে থাকলো। আসলে ঘুমোলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। আর সেই গাছটা ছিল একটা বেলগাছ।  কাকতালীয় ভাবে ঐ বেলগাছের তলাতেই একটা শিবলিঙ্গ ছিল। বামনপুরাণের ষষ্ঠ অধ্যায় অনুসারে এই শিবলিঙ্গ আসলে শিবের লিঙ্গমূর্ত্তি। বিনিদ্র ব্যাধের গা লেগে একটা বেলপাতা রাতের শিশিরে ভেজা অবস্থায় ঐ শিবলিঙ্গের ওপর পড়ে। অর্থাৎ শিবের গায়েই পড়ে। পুরাণ মতে লক্ষ্মীদেবীর অঙ্গ থেকেই নাকি বেলগাছের জন্ম। বৈশাখের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে ফলপত্র সহ বে

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -৭২

Image
ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -৭২ সম্পাদকীয়, ঋতু পরিবর্তন শুধু কি আমরাই বুঝি নাকি? পাখিরাও তো বোঝে। না হলে শীতের দেশের পাখিগুলো শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের দেশে আসে কি করে? আবার শীত শেষ হলেই ফিরে যায় কিন্তু। এদের বলে পরিয়াযী পাখি। এবারের সংখ্যায় পরিযায়ী পাখিদের ছবি উপহার দিয়েছে সোহম দাদা। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল। শীতের দেশের এই যাযাবর পাখিগুলো গরমের দেশে আসে কোথায়? আরে এত ভাববার কি আছে। বাসবদত্তা আন্টি এবার সেইসব পাখিরালয়ে আমাদের বেড়াতে নিয়ে যাবে। কি দারুণ ব্যাপার না? শুধু কি পাখিরা, তোমরাও তো একটু বড়ো হলেই পড়া লেখা বা চাকরির নাম করে মা বাবাদের ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেবে, সে কি আর আমি জানিনা ভেবেছো। এ মা মিথ্যে হবে কেন? দীপাঞ্জনের বিদেশে পড়তে যাবার গল্পটা পড়েই  তো এতসব জানলাম। যে গল্পটা তপশ্রী আন্টি আগের সপ্তাহে শুরু করেছে। দীপাঞ্জন কে? যে খেতে খুব ভালবাসে। সবাই কি আর একরকম হয়? এই যেমন জয়াবতী নতুন নতুন কিছু জানতে ভালোবাসে। জানার তো শেষ নেই। যত জানবে তত বিদ্বান হবে। কালীপ্রসন্ন সিংহের মতো বিদ্বান। তাঁর কথা পীযূষ আঙ্কেল বলেছেন। আরে না প্রথম থেকে শেষ অব্ধি ছোটবেলায় খালি জ্ঞানের কথা থাকে এমন বদ

দুটি কবিতা /পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
দুটি কবিতা  পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়   যুদ্ধ ও প্রেমের কবিতা (১) বৃষ্টির ছাট যদি হয় মেঘেদের হেরে যাওয়া। তবে ভালবাসা বৃথা, মিথ্যে প্রেমের গান গাওয়া। (২) বিনিময় প্রথা মেনে ভালবাসা দাবি করো বলে। এ'মন ও',মন থেকে বিপরীতে দূরে দূরে চলে। (৩) বুদ্ধিজীবীরা যদি স্বার্থের প্ৰতি দায় হীন। যে কথা বিবেক বলে, শুধু সে কথাতে রায় দিন। (৪) আমার 'তুমি'কথা তোমার 'আমি'খোঁজা। এ একমুখিতাতে চলা কি অত সোজা? (৫) দাঁড়াও নিজের পায়ে, হাত যদি পা'কে ডেকে বলে। তাহলে হিসেব মতে রীতিনীতি গেছে রসাতলে। (৬) দুঃখ যদি সুখে থাকে, সুখ যদি দুঃখবিলাসি। সংক্ষেপে সে দুবিধা দুটো মিলে ভালবাসবাসি। (৭) আমার যে শীতলতা তোমার তাপকে করে মানী। তা যেন 'শীতল হাওয়া' হয়ে দূর করে যত গ্লানি। (৮) যে মাটিতে বাস করি, তার বুকের উপর যুদ্ধ। আর আশা নেই, সভ্যতা, তোর বাঁচাই অবরুদ্ধ। (৯) সাদা আলো থেকে আমি রামধনু  রং চেয়ে কাঁদি। আমি এই পৃথিবীতে সেরা বিচ্ছিন্নতাবাদী। (১০) তিনি বলেছেন যা যা, মূলকথা আসলে সেটাই। যত কেন আমি তুমি চিৎকারে তেষ্টা মেটাই। (১১) ফুল ফোটানোর স্বপ্ন ভুলে আমরা এখন যুদ্ধে মাতি। ভিন্ন সময় দীর্ণ সময়

ভাষাবিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক আলোকপাত /গৌতম বাড়ই

Image
ভাষাবিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক আলোকপাত গৌতম বাড়ই ভাষা এবং বিজ্ঞান এই দুটোকে একসাথেই মিশিয়ে দিলেই তো ভাষাবিজ্ঞান। আর বিজ্ঞান শব্দটির মধ্যে  লুকিয়ে আছে যা তা হল, বিশেষ ভাবে যে জ্ঞান লাভ করা হয়, যার পেছনে যুক্তি প্রমাণ গভীর অধ্যয়ন এবং সম্যক্ জ্ঞানের ও সবদেশের পণ্ডিতবর্গের মেনে নেওয়ার বিজ্ঞান। যা আবার একইসঙ্গে যুক্তিপ্রমাণ চাইবার উপযুক্ত মতামত থাকবার স্বাধীনতাও বহন করে। সম্প্রতি জ্বলদর্চির সম্পাদক মহাশয়  ভাষাবিজ্ঞান নিয়ে এমনতরো এক আলোচনার দিক খুলে দিয়েছেন। সে প্রসঙ্গে যতটা সহজ সরল ভাবে এবং ভাষায় এই বিষয়বস্তুকে তুলে ধরা যায় তার সামান্যতম চেষ্টা করছি মাত্র।  ভাষাই যখন মূলবিষয়বস্তু তখন আমাদের মতন বহু ভাষাভাষীদের দেশে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ অবলীলাক্রমে চলে আসে। কোন ভাষা ছোট কোন অঞ্চলে,  আবার কোন ভাষা বিরাট অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত। শহুরে ভাষা আর গ্রামীন ভাষার মধ্যেও বিস্তর ফারাক চোখে পড়ে। আঞ্চলিক কথ্যভাষায় নানান অমিল খুঁজে পাওয়া যায়। তাদের উৎস, তাদের যুগে- যুগে রূপভেদ সবই এই ভাষার অনর্গল স্রোতের জন্য,  বিজ্ঞানের অন্বেষণে তাতে গবেষণালব্ধ যে সত্যি উঠে এসেছে, তাই লিপিবদ্ধ হ

গুচ্ছ কবিতা/ সোমা চক্রবর্তী

Image
গুচ্ছ কবিতা  সোমা চক্রবর্তী  একুশে ফেব্রুয়ারী কলমের নিব তাই বন্দুক হতে চাইছে। খাতায় বারুদের গন্ধ; আর- কালিতে বুলেট-পোড়া ধোঁয়া! সেদিন, তখনও, বাংলা ভাষার মৃত্যু হয়নি। বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছিল অগ্নি অক্ষরে কবিতা। সেদিন, কিন্তু, মাতৃভাষায় আর্তনাদ করতে গিয়ে গলা বুজে যায়নি আমাদের কারোরই! সোনার বাংলায় সেদিন সোনার সূর্য উঠেছিল। আমাদের গলায় সেদিন বেজেছিল ভাষা-মুক্তির গান! আজ সন্ধ্যা নিমীলিত বার্ধক্যের খোলসে মুখ ঢেকেছে আত্মগ্লানি! আজ আমরা ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে রেখেছি পরের দরজায়। তাই, কলমের নিব আজ বন্দুক হতে চাইছে! তাই, খাতার প্রতিটি পাতায় বারুদের গন্ধ; আর,  কালিতে আবার বুলেট-পোড়া ধোঁয়া! হে ইতিহাস, মনে করাও আর একবার অমর একুশে ফেব্রুয়ারী; মনে পড়াও আরো একবার- রক্তক্ষয়ী সেই ভাষার সংগ্রাম! আমার দুখিনী বাংলা  এখনো তোমার ধূলোর গন্ধ, টুকরো শ্যাওলা আর রাঙামাটি; এখনো তোমার নিকোনো উঠোনে ভাতের গন্ধ; নিশ্চুপে নামা বাঁশের পাতায় সন্ধ্যার ছায়া- এখনো আকাশে অস্তরাগের আলোর বিহার; নদীর দুপারে ডুবজল ঘিরে তরল আঁধার। এখনো বাংলা হেমন্তে আর শরতের রোদে- একরাশ কাশ, ধূপছায়া রং, পল্লীর বধু-