Posts

Showing posts from May, 2022

ভয় /অর্ণব মিত্র

Image
ভয়   অর্ণব মিত্র আবার সেই স্বপ্নটা দেখে ঘুম ভেঙ্গে গেলো।  এখন কত রাত হবে!।  অন্ধকারে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। বাংলোর ভিতর বাদামি রঙের সোফাসেট জানলার সামনে বসানো।      তার সামনে কাঁচের টেবিল। টেবিলের ওপর মোবাইলটা রাখা। সোফাসেট এর ওপর পরদা দেওয়া বড় চার পাল্লার জানলা। হাল্কা হাওয়াতে পরদার ফাঁক দিয়ে চোখে পড়ল গাছের মাথাগুলো সরে সরে যাচ্ছে।   অনিন্দ্য বিছনা থেকে উঠে এলো। একবার মৌমিতার দিকে তাকিয়ে দেখল ।পাসফিরে ঘুমাচ্ছে। মৌমিতাকে পাসফেরা আবস্থায় বেশ সুন্দর লাগে। গালের ওপর চুলগুলো এসে পড়েছে। কিন্তু এখন মৌমিতার দিকে এগিয়ে যেতে ইচ্ছা করছেনা।  মাথার ভিতর ঘুরছে সেই স্বপ্নটা। কেন আবার সেই স্বপ্নটা দেখল সে!। আগেও দু-একবার দেখেছে। মৌমিতা-কে বলেনি কখনো। স্বপ্নের শুরুটা মনে করতে পারে না। শুধু দেখে এক ঢালু জায়গা দিয়ে ছুটে আসছে সে। ছুটতে ছুটতে পিছনফিরে দেখছে ভয়ে বারবার। তার পিছনে    হাতিটা আসছে। কিছুটা ছোটার পর মা হাতি টা তাকে ধরেফেলে। শিশু হাতিটাও তার পিছনে ছুটে আসছিল। শুঁড়ে জড়িয়ে ফেলে মা হাতিটা তাকে। তারপর অনিন্দ্যর শরীর–টাকে শুঁড় দিএ জড়িয়ে আছাড় দিতে যায়। একটু পরে শিশু হাতিটাও এসে পড়ে। শিশু হাত

গ্রামের শহুরে রূপকথা /দ্বাবিংশ পর্ব: পথের সাথী/ সুরশ্রী ঘোষ সাহা

Image
গ্রামের শহুরে রূপকথা দ্বাবিংশ পর্ব: পথের সাথী সুরশ্রী ঘোষ সাহা একটা সময় ছিল যখন গ্ৰামজীবনে শুধু পায়ে হাঁটা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। কিচ্ছু ছিল না তখন পথে এখান থেকে ওখানে যাতায়াতের জন্য। গরুর গাড়ি এল বহু পরে। বেতের লাঠি দিয়ে ছটাৎ ছটাৎ করে বড় বড় শিংওয়ালা গরুকে পেটাতো ধুতি পরা গাড়োয়ান। আর একচালা ছাউনিতে বসে দুলতে দুলতে পথিক পৌঁছে যেত নিজের গন্তব্যে। কল্পনায় গ্ৰামের পথ ভাবতেই একসময় এমন দৃশ্যই চোখের সামনে ভেসে উঠত।  খুব প্রয়োজনে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়  যাতায়াতের জন্য পাল্কির ব্যবহার শুরু হল। গ্ৰামের কিছু বড়লোকের বাড়িতে পাল্কি রাখা থাকত। তারা সেই পাল্কিতে শুধু নিজেরাই চাপত না, ভাড়াও খাটাতো। সারা বছরের জন্য তাই কাহার সম্প্রদায়কে পুষে রাখা থাকত বাড়িতে। যাদের বংশ পরম্পরায় পাল্কি বহন করাই পেশা ছিল। একসময় সেই হুনহুনা হুনহুনা দৃশ্যও গ্ৰামজীবন থেকে হারিয়ে গেল।    যখন দু'চাকার সাইকেল এল, তখন সেই সাইকেল ব্যবহারের জন্য লাইসেন্সের ব্যবস্থা করল সরকার। প্রথমদিকে খুব কম মানুষই লাইসেন্সের সাইকেল চড়ত। পাড়ার সকলের বাড়িতেই যে থাকত তা নয়। টাকা জমিয়ে একটা সাইকেল ক

মাটিমাখা মহাপ্রাণ। বাইশ/শুভঙ্কর দাস

Image
মাটিমাখা মহাপ্রাণ। বাইশ শুভঙ্কর দাস  "বাণীশূন্য ছিল একদিন জলস্থল,শূন্যতল,ঋতুর উৎসবমন্ত্রহীন শাখায় রচিলে তব সংগীতের আদিম আশ্রয়  যে গানে চঞ্চল বায়ু নিজের লভিল পরিচয় সুরের বিচিত্র বর্ণে আপনার দৃশ্যহীন তনু রঞ্জিত করিয়া নিল,অঙ্কিল গানের ইন্দ্রধনু" কথাটি শুনে দেবেন যেন আকাশ থেকে পড়লেন! তিনি ভাবতে পারছেন না,এমন সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারে! পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য যে মানুষ দিনরাত অল্প আহার করে,স্বল্প পয়সা খরচ করে,নানারকম অভাবে-আঘাতে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে,নিজের সাধ্যাতীত পরিশ্রম করে কলকাতার মতো জায়গায় এগিয়ে গেল সম্মান নিয়ে,সেই আবার তাকেই পায়ে ঠেলে দিচ্ছে!  আর মাত্র একটা পরীক্ষা, এমন কি  বি. এস. সি. অনার্সের টেস্ট পরীক্ষায় সফল হয়েছে দারুণভাবে,তারপর ফাইনাল দিলেই গ্রাজুয়েট হয়ে যাবে।এমনি তে দেবেন জানেন তাঁর ভাইটি পড়াশোনায় ভালো,রেজাল্ট ভালো হবেই,তাহলে যেকোনো একটা সরকারী চাকরি একেবারে পাকা হয়ে যাবে।সংসারের হাল ফিরে যাবে। তারপর দেবেন গাঁয়ের কত জনকে কতবার তাঁর ভাইয়ের গ্রাজুয়েট হওয়ার ভবিষ্যৎ আনন্দ আগাম বলে বেড়িয়েছে,সেসব অপমানের  ধূলায় মিশে যাবে! মাদুরের ওপর বসে থাকা কুমারচন

দূরদেশের লোক গল্প—চীন দেশ/চিন্ময় দাশ

Image
দূরদেশের লোক গল্প—চীন দেশ চিন্ময় দাশ একটা ছেলেই চালাকি করেনি রাজামশাইর মনে সুখ নাই। থাকবে কী করে? এত বড় একখানা রাজ্য আছে তার। রানি আছে ঘরে। আদরের দুলালি মেয়েও আছে একটি। কিন্তু ছেলে নাই রাজার। তাই সুখ নাই রাজার মনে। একটাই দুশ্চিন্তা রাজামশাইর। মরার সময় এলে, কার হাতে দিয়ে যাবে রাজ্যের ভার। কে দেখবে প্রজাদের। রাজার মন্ত্রী ভারি বুদ্ধিমান। সে বলল—কেন রাজামশাই, জামাইকেই তো রাজা করা যাবে। রাজা বলল—সে তো হতেই পারে। কিন্তু মানুষ হিসাবে কেমন হবে সে, বুঝব কী করে? প্রজাদের সুখে রাখবে তো?  মন্ত্রী গম্ভীর গলায় কেবল বলল- হুঁ-উ-উ। রাজা বলল—রাখো তোমার লম্বা হুঁ। আমি চাই দেশের রাজা হবে সৎ। রাজা হবে নির্লোভ। চাতুরি থাকবে না মনে। এমন কেউ কি আর নাই দেশে? আছে নিশ্চয়। কিন্তু খুঁজে পাবো কী করে তাকে। কিছু একটা উপায় বের কর দেখি। তোমার তো বুদ্ধির শেকড়-বাকড় গজিয়ে গেছে খুলির ভেতর। তখুনি কোন জবাব দিল না মন্ত্রী। একটু হাসল কেবল কথাটা শুনে। আসলে হয়েছে কী, এই দুজনের বাবাও ছিল এই দেশের রাজা আর মন্ত্রী। ছোটবেলা থেকেই তাই দুজনের ভারি ভাবসাব। মনেই থাকে না যে তারা রাজা আর মন্ত্রী। --ঠিক আছে তাহলে। শেকড়-বাকড়গুল

শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী সন্তানেরা--২৭/প্রীতম সেনগুপ্ত

Image
পর্ব ২৭ শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী সন্তানেরা প্রীতম সেনগুপ্ত  তুরীয়ানন্দজী সম্পর্কে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের দশম সঙ্ঘগুরু স্বামী বীরেশ্বরানন্দজী বলেছেন নানা কথা। সেগুলি এইরকম--“হরি মহারাজ -- স্বামী তুরীয়ানন্দজী সম্পর্কে যেটুকু আমার মনে আছে তাই এখানে বলছি। ওঁর সঙ্গে ছিলাম ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি থেকে ১৯২১-এর ৩রা মার্চ।...ঠাকুর হরি মহারাজ সম্বন্ধে বলতেন ‘গীতোক্ত সন্ন্যাসী’।  বাস্তবিক আমরা যখন তাঁকে দেখেছি, তাঁর চালচলন কথাবার্তা -- এসব দেখেশুনে মনে পড়ত গীতায় শ্রীকৃষ্ণ-কথিত স্থিতপ্রজ্ঞের লক্ষণগুলি। তিনিও নিঃসন্দেহে একজন স্থিতপ্রজ্ঞ পুরুষ। তাঁর সম্বন্ধে কয়েকটি কথা বলছি। তিনি কত বড় ত্যাগী পুরুষ ছিলেন--তাতে তা বোঝা যাবে। একদিন তিনি গঙ্গাতীরে বসেছিলেন। রাত গভীর হয়েছে লক্ষ্য করে একবার ভাবলেন, আশ্রমে ফিরে যাই। সঙ্গে সঙ্গে মনে হলো এ কি কথা? আমি সন্ন্যাসী, আমার থাকার কথা গাছতলায়, আমি আবার আশ্রমে যাব -- এ আবার কিরকম কথা? ঠিক করলেন, তিনি আর আশ্রমে ফিরে যাবেন না। এই ভাব নিয়ে অনেকদিন বাইরে ছিলেন, কোন আশ্রয়ে না থেকে গাছতলায় পড়ে থাকতেন। এরকম একদিন গাছতলায় শুয়েছিলেন, হঠাৎ কে যেন তাঁকে একটা ধাক্

জোয়ান অব আর্ক /মিলি ঘোষ

Image
জোয়ান অব আর্ক মিলি ঘোষ পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিক। ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফ্রান্স তখন নাজেহাল। ফ্রান্সের ষষ্ঠ চার্লসের পুত্র যুবরাজ ডফিনের, দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে। দক্ষিণ চিনন শহরে আশ্রয় নিয়েছেন অর্থবল, শক্তিবল হারিয়ে। ইংরেজের আক্রমণের ভয়ে কাঁটা হয়ে  আছেন। এই কঠিন সময়ে ঝড়ের মতো সতেরো বছরের এক কিশোরী এসে দাঁড়ালেন যুবরাজ ডফিনের সামনে। দৃপ্ত ভঙ্গিতে বললেন, ইংরেজদের তাড়িয়ে ফ্রান্সকে তিনি মুক্ত করবেন। হ্যাঁ, এই কিশোরীই জোয়ান অব আর্ক।  কথিত আছে, জোয়ান ঈশ্বরের দূত। কিছু দৈববাণী শুনে সে যুবরাজের কাছে গিয়েছিল। যেহেতু বিষয়টি বিতর্কিত, তাই সেদিকে না গিয়ে মূল ঘটনায় ফিরি। এতটুকু মেয়ে যুদ্ধে যাবে শুনে প্রচুর বাধা এসেছে, হেসে উড়িয়ে দিয়েছে অনেকে। শুধু পাশে ছিলেন জোয়ানের কাকা। কাকা আর এক ভাইয়ের সাথে তিনি সেনাপতি রবার্টের দুর্গে যান। প্রথমে রবার্ট গুরুত্ব না দিলেও জোয়ানের কথার দৃঢ়তায় এবং তাঁর অপূর্ব চেহারা দেখে জোয়ানকে বিশ্বাস করলেন। ছয়জন সৈন্য নিয়ে পুরুষের বেশে জোয়ান যাত্রা করলেন চিননের দিকে।    ডফিনের তখন বয়স কম। তাঁর পিতা ষষ্ঠ চার্লস মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। স্বভাবতই সব দায়িত্ব তখন ডফিন

ক্যুইজ-১/সাগর মাহাত

Image
ক্যুইজ-১ সাগর মাহাত ১. ৫ জুন হল— বিশ্ব বনোমহোৎসব দিবস বিশ্ব সবুজ অহরণ দিবস বিশ্ব পরিবেশ দিবস বিশ্ব বসুন্ধরা দিবস ২. নোকরেক ন্যাশনাল পার্ক অবস্থিত যে রাজ্যে— সিকিম পশ্চিমবঙ্গ মণিপুর মেঘালয় ৩. 'মৃচ্ছকটিকম' এর রচয়িতা— জয়দেব শূদ্রক বিশাখদত্ত কালিদাস ৪. 'কমলে কামিনী' নাটকটির রচয়িতা— মধুসূদন দত্ত দীনবন্ধু মিত্র গিরিশচন্দ্র ঘোষ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ৫. শশাঙ্কের রাজধানীর নাম ছিল— গৌড় পাটলিপুত্র বিষ্ণুপুর কর্ণসুবর্ণ ৬. ঝাড়গ্রাম জেলা হিসেবে স্বীকতি পায়— ৪ এপ্রিল ২০১৭ ৪ মে ২০১৭ ৫ মে ২০১৮ ৬ জুন ২০১৬ ৭. পশ্চিমবঙ্গের যে জেলায় কম বৃষ্টিপাত হয়— বাঁকুড়া পুরুলিয়া ঝাড়গ্রাম বীরভূম ৮. ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক(WB) প্রতিষ্ঠা হয়— ১৯৪৩ ১৯৪৪ ১৯৪৫ ১৯৪৬ ৯. স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সদর দপ্তর হল— নতুন দিল্লি মুম্বাই ব্যাঙ্গালুরু চেন্নাই ১০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চন্ডালিকা' যে শ্রেণির নাটক— ঋতুনাট্য কৌতুক নাট্য নৃত্যনাট্য কাব্যনাট্য ১১. 'Indian Citizenship Act' পাস হয়— ১৯৫০ ১৯৫২ ১৯৫৫ ১৯৬০ ১২. ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রটির স্রষ্টা— সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সত্যজিৎ রায় ষষ্ঠীপদ চট্রোপাধ্যায় শরদিন্

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা - ৮৫

Image
ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা - ৮৫ সম্পাদকীয়, ঘুরতে কে না ভালোবাসে বলো? আমি ঘুরতে ভীষণ ভালোবাসি, তোমরাও ঘুরতে ভালোবাসো আর প্রচ্ছদের ছোট্ট বন্ধুটাও ঘুরতে খুব খুব ভালোবাসে। ও গ্রাম ঘুরতে বেড়িয়ে পড়েছে। সেই ছবি ঋপণ আঙ্কেল তুলে আমাদের জন্য পাঠিয়েছেন। ওদিকে মলয় জেঠু আমেরিকার আলাস্কায় ঘোরার গল্প বলেছেন। জয়াবতীর জয়যাত্রায় সেন মশাই যাবেন গঙ্গায়। কেন জানতে হলে পড়ে নাও তৃষ্ণা আন্টির উপন্যাসের এবারের অংশটি। এবারের পর্বে যার কথা পীযূষ আঙ্কেল বলেছেন, তিনি রামকিঙ্কর বেইজ। এনার শিল্পকর্ম দেখতে হলে বেড়িয়ে এসো শান্তিনিকেতন। সমুদ্রে বেড়াতে যেতে কার না ভাল লাগে? মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় আন্টি একটি মেয়ের সমুদ্র জয়ের গল্প বলেছে। দিব্যেন্দু বেড়াতে গেছে দেশের বাড়ি মেদিন্যিপুর। দিব্যেন্দু কে? জানতে হলে পড়তে হবে জয়ন্তী আন্টির গল্প। কেমন লাগল জানাবে কিন্তু। কি লিখব ভাবছো? কি লিখব ভাবছে তোমাদের বন্ধু অনামিতা। বেড়াতে গেলে মন ভালো হয়ে যায়। তাইনা? আর বেড়ানোর গল্পে মন কেমন হল জানিও কিন্তু।  - মৌসুমী ঘোষ। ধারাবাহিক উপন্যাস জয়াবতীর  জয়যাত্রা সপ্তদশ পর্ব তৃষ্ণা বসাক তর্পণের উজ্জুগ ২১ কদিন ধরে ওরা শুনছিল, সেনম

পদ্মপাতায় শিমুল-২৪/সীমা ব্যানার্জ্জী-রায়

Image
পদ্মপাতায় শিমুল-২৪ সীমা ব্যানার্জ্জী-রায় মুলন্দ, মহারাষ্ট্র দুখী মন মেরে শুন মেরা কহনা হিমান্তর যে সন্দেহবাতিক রোগ আছে সেটা কলকাতায় থাকতেই টের পেয়েছিলাম। চুপচাপ সয়ে গেছি। ভেবেছিলাম মুম্বাইয়ে তো হিমান্তর মেজ ভাই অনন্ত থাকবে না তখন নিশ্চয় আর কোনও ঝামেলা হবে না। ছোট ভাই সুমন্ত ছিল সবার উলটো। চুপচাপ, ঠাকুর বিশ্বাসী। মাঝে মাঝে বলত সুমন্ত আর ওর মা যে, “এ বাড়িতে বিয়ে দিয়ে ঠিক করে নি তোদের বাড়ি থেকে।” কিন্তু মুলুন্দে গিয়েও নিস্তার পেলাম না। কে যেন বিশ্বাস ভেঙ্গে দিয়েছে। মাস খানেক যেতে না যেতেই যে আমার জীবনে ঝড় বইতে শুরু করেছে, তা কিন্তু বুঝতে পারি নি। মাটির নিচে অন্ধকার রাজ্যের অধিবাসী উইপোকার রাজত্ব শুরু হয়ে গেল আমার নতুন জীবনে। মধ্যে মধ্যে আলোর কামনায় তাদের পক্ষোদগম হলে আর রক্ষা নেই। তার পিচকারির মুখে জলের মত গহ্বর পরিত্যাগ করার জন্য বার হয় যখন তখন। পাখার শক্তি থেকে অহঙ্কারই হয় বেশি। হি্মান্তদের বাড়ির অনেকটা সেই অবস্থা। রক্ষণশীল জমিদার বাড়ির সকলে অকস্মাৎ সব অবরোধ সরিয়ে আলোর নেশায় ঐ পতঙ্গগুলোর মতোই ফরফর করে উড়তে শুরু করল। বুঝতাম কম। হি্মান্তদের বাড়ির অনেকটা সেই অবস্থা। একদিন অফিস