Posts

Showing posts from June, 2022

মারণবীজের আজব ধাঁধা পর্ব ৭ /বাসুদেব গুপ্ত

Image
মারণবীজের আজব ধাঁধা পর্ব ৭ বাসুদেব গুপ্ত ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে আলপনা দেখে বোঝা গেল এটা পূর্ণিমারই ফ্ল্যাট। অর্চি নভীনকে দেখালো, একবার দেখ কি সুন্দর রংগোলী করেছে।  -রংগোলী নয়, ওরা বলে কোলম। রংগোলী বা আলপনা হল মুক্ত হাতে আঁকা ফুল লতাপাতা। কোলম আঁকা শুরু হয় নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রথমে ছোট ছোট বিন্দু এঁকে। তারপর সেই বিন্দুগুলো জোড়া হতে হতে ফুটে ফুটে ওঠে এক জ্যামিতিক ডিজাইন। একেবারেই আলাদা আলপনার থেকে। যেমন হিন্দুস্থানী গান কর্ণাটকির থেকে মত আলাদা।  নভীন তফাতটা বুঝিয়ে দেয়। -দেখা যাক আমাদের পূর্ণিমা কি কি পয়েন্ট খুঁজে পায়। তারপর আমাদের কাজ হবে সেগুলো জুড়ে বার করা এইসব কোলমের পেছনে কোন ভয়ংকর ডিজাইন লুকিয়ে আছে।  বেল টিপতেই পূর্ণিমা দরজা খুলে অভ্যর্থনা করে। স্নান সেরে একটা রূপালী রঙের কাসাভু শাড়ী পরেছে, তার উজ্জ্বল সোনালী রঙের পাড়ের আভায় তাকে মন্দির থেকে বেরিয়ে আসা পূজারিণী মনে হয়। চোখ স্নিগ্ধ হয়। তার সংগে হাল্কা চন্দন ধূপের সুবাস। অর্চি ও নভীন চোখ চাওয়া চাওয়ি করে সোফায় বসতে বসতে। নীচু কাঠের সোফা ডান দিকে একটা কাঠের তৈরী লম্বা নৌকো, মনে হয় বোট রেসের। বাঁ দিকে দুটো ল্যাপটপ। একটা আইম

গওহরজান - এক বিস্মৃত অধ্যায় পর্ব - ১৫ /দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী

Image
গওহরজান - এক বিস্মৃত অধ্যায়  পর্ব - ১৫                                 দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী     সারা জীবন যে মানুষটি বিভিন্ন মামলা ও ঝামেলাতে অহেতুক ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন মৃত্যুর পরেও তিনি সেখান থেকে রেহাই পাননি। যে গওহরজান জীবিতকালে কারও ভালবাসার স্পর্শ পাননি, তাঁর জন্য সামান্য এক ফোটা চোখের জল কেউ ফেলেন নি, বিপদের সময়ে সামান্যতম সমবেদনাও কেউ জানায়নি। তাঁর মৃত্যুর পরে তার অগণিত আত্মীয় এসে মামুলী শোক প্রকাশ করে কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন দিয়ে তাঁর সম্পত্তির বা গচ্ছিত টাকার দাবীদার বলে নিজেদের প্রতিপন্ন করতে শুরু করলেন। প্রথম যে আত্মীয় তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে মহীশূরের মহারাজের কাছে দাবী জানান তিনি হলেন ব্যক্তিগত জীবনে গওহরজানের জন্মদাতা আর্মেনীয় রবার্ট উইলিয়াম ইয়েওয়ার্ড, যিনি গওহরের পাঁচ বৎসর বয়সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার জন্ম বৃত্তান্ত অস্বীকার করে তার মাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে গওহরের জন্মপরিচয় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য গওহরের কাছে ন' হাজার টাকা দাবী করেছিলেন। ১৯৩০ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ গওহরের মৃত্যুর ১৭ দিন পরে

পরিব্রাজক পঞ্চানন রায় কাব্যতীর্থ /ভাস্করব্রত পতি

Image
মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ৯ পরিব্রাজক পঞ্চানন রায় কাব্যতীর্থ ভাস্করব্রত পতি মাটির উপর চাটাই পাতা। তার উপর মাদুর আর বিছানার চাদর। দুখানা মাথার বালিশ। নিজে নিজেই খেলতেন লুডো, বাঘবন্দী কিংবা গোলোকধাম গুটি। অসম্ভব দানশীল মানসিকতার এই মানুষটি কিন্তু 'মেদিনীপুরের মানুষ রতন' হিসেবেই সম্মানিত! তিনি পরিব্রাজক পঞ্চানন রায় কাব্যতীর্থ। "স্বদেশের সমুন্নতি সাধনে সূচির প্রতি পরহিতে সদাব্রতী সতীশ ধরায়। ভবানী ছোটপো তারনন্দকন্যা গাথাকার জৈষ্ঠ্য পঞ্চু পুত্র যার শ্রী প্রনব রায়" -- এভাবেই তিনি তাঁর নিজের বংশ পরিচয় দিয়েছেন কাব্যাকারে। ১৯০২ এর ১৩ ই সেপ্টেম্বর ঘাটালের বাসুদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সতীশচন্দ্র রায় এবং যাজ্ঞসেনী দেবীর পুত্র পঞ্চানন রায়। তাঁরা ছিলেন সামবেদীয় ভরদ্বাজ গোত্রের বিখ্যাত ফুলিয়া মুখুটি বংশের প্রতিনিধি। যে বংশের একজন মহাকবি কৃত্তিবাস (সেইখানে বংশে তাঁর হৈলা বঙ্গ অলঙ্কার / কবি কৃত্তিবাস যার গ্রন্থ রামায়ণ) ছিলেন রামায়ণকার। আর একজন রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র রায় (সেই বংশে কালক্রমে বিধাতার সুনিয়মে / পূত করি স্বজনমে রায় গুণাকর / অন্নদামঙ্গল গীতি

মেয়েজন্ম /শ্রীজিৎ জানা

Image
শিল্পী -মেঘা দাস মেয়েজন্ম শ্রীজিৎ জানা দ্বিতীয় সন্তান যখন আবার মেয়েই হল একেবারে ভেঙে পড়ে অসীম। ভীষণ আশা করেছিল এবারে ছেলেই হবে।তাছাড়া আশা করাটা বোধহয় অসীমের পক্ষে অমূলক নয়।বাবার একমাত্র ছেলে অসীম।তার ঠাকুমা বোলতো শিবরাত্রির সলতে। বংশ রক্ষাকারী বলে বাড়িতে অসীম দুধেভাতে আহ্লাদে বড় হয়েছে। গ্রামে অকুড় সম্পত্তি। ধানিজমি, পুকুর,সব্জীআনাজ, আম, জাম কাঁঠালের বাগান, সবেমিলে মিনি ভূস্বামী বলা যায়। লেখাপড়াতে বরাবরই চৌকস সে। স্কুলের চাকরী পেতে খুব একটা ঝক্কি পোয়াতে হয়নি তাকে। বাবা অবিনাশ ঘোষাল তো যারপরনাই খুশী ছেলের চাকরীর সুবাদে। দু'পুরুষ বাদে তাদের বংশে কেউ একজন সরকারী চেয়ারে বোসলো। অম্নি অবিনাশ চন্দ্র গোঁ ধরল বৌমা করবে চাকরীয়ালা। যেমন ভাবনা তেমন তার দৌড়ঝাঁপ। গিন্নী প্রভা খানিকটা বেঁকে বসে। --- চাকরীয়ালা বৌমা এলে কে সংসার সামলাবে! কলম ঠেলে এসে খুন্তি নাড়তে যাবে কেন! মাস ফুরোলে মোটা টাকা মাইনে তার , শুনবে কারুর কথা! ---আরে আপ ভালো তো জগৎ ভালো। তুমি খামখা বাড়াবিস্তর ভাবছ। খোকা আমাদের একমাত্র ছ্যানা। ভালো হলেও সই আর খারাব হলেও সই। প্রভার কথা ফুৎকারে উড়িয়ে পাঁচ-সাতখানা ঘটক লাগিয়ে দেয়

উই ছাতু /সূর্যকান্ত মাহাতো

Image
জঙ্গলমহলের জীবন ও প্রকৃতি পর্ব - ২৬ উই ছাতু সূর্যকান্ত মাহাতো এ যেন হিমালয়ের ঠিক ক্ষুদ্র রূপ। আছে হিমালয়ের মতোই উঁচু উঁচু শৃঙ্গ। তবে হিমালয়ের মতো শক্ত ও ভরাট নয়। একেবারে নরম। আদুরে। অনেকটা আবার ঝুরঝুরেও। আছে অজস্র চোরা কুঠুরি। বায়ু চলাচলের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম অসংখ্য রন্ধ্র পথ। কারণ ওখানে একজন রাজা থাকেন। একজন রাণীও থাকেন। আর থাকেন তাদের হাজারো সৈন্য সামন্ত। কাঠ, মাটি, শুকনো পাতাকে মুখের লালা রসে ভিজিয়ে ভিজিয়ে হিমালয় সদৃশ এই রাজ্য ও রাজপ্রাসাদ ওরা গড়ে তোলে। কিংবা এক টুকরো দুবাইয়ের বাড়িগুলোর সঙ্গেও তুলনা করা যেতে পারে। সেখানকার সুউচ্চ ইমারতগুলো যেমন আকাশে মুখ তুলে থাকে, জঙ্গলমহলে শাল গাছের পাদদেশেও তেমনি সেগুলো মুখ তুলে আছে। গগনচুম্বী ইমারতগুলোর মতোই আকাশ পানে তাকিয়ে আছে। দুবাইয়ের বাড়িগুলোকে মানুষ আধুনিক যন্ত্র ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে গড়ে তুলেছে। কিন্তু জঙ্গলমহলের গম্বুজাকার এই বাড়িগুলো কেবলমাত্র মুখের লালা রস মিশিয়ে মাটিকে কাদামাটি বানিয়ে নির্মিত হয়েছে। তফাত কেবল এটুকুই। ঠিক ধরেছেন। উইপোকা ও উই ঢিবির কথাই এতক্ষণ বলছিলাম। উইপোকা। ওরা অন্ধ। ওরা চোখে দেখতে পায় না। সূ

খর্জুর বীথির ধারে- ২/মলয় সরকার

Image
খর্জুর বীথির ধারে মলয় সরকার (২য় পর্ব )দ্বিতীয় পর্ব রিয়াধ বেশ ফর্সা, লম্বা, চুল ছোট ছোট করে ছাঁটা, শক্ত পোক্ত অথচ ভদ্র গোছের চেহারার মানুষ।ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরাজী বলে, তবে বেশ বোঝা যায়। নিজেই কথা বলে। অর্থাৎ, কথা বলতে যে খুব অসুবিধা হবে না, তা বুঝলাম। গাড়িতে উঠেই সে কথা বলতে বলতে চলল, আজ প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, আপনারাও ক্লান্ত। আজ হোটেলে বিশ্রাম করুন। কাল সকাল থেকে আমাদের যাত্রা আরম্ভ। প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে এমন সময় গাড়ী গিয়ে থামল আম্মান ম্যারিওট হোটেলের সামনে। এই সব পাঁচতারা হোটেলের উপর আমি খুব বিরক্ত। এদের কেতা কানুন, রঙ ঢং , টিপস এসব বেশি। কিন্তু ভিতরে ভিতরে অনেক অসুবিধা হয়, যা আমি এর আগে অনেক বড় বড় জায়গায় অনেকবার পেয়েছি। সে জন্য আমার নিজের মনে হয়, এর থেকে কম মানের তিন তারা হোটেল ভাল।  যাই হোক, রিয়াধ নামার সময় হাতে একটা মোবাইল ফোন ধরিয়ে বলল, আপনারা যতদিন এখানে থাকবেন, এই ফোনে আমাকে যোগাযোগ করে নেবেন। কাল সকাল ঠিক ন’টার সময় আসব।নীচে থাকব। আপনারা রেডি হয়ে নেবেন। অন্যান্য জায়গায় আমাকে নতুন জায়গার নতুন সিম নিতে হয়, এখানে সে ঝামেলাটা আর রইল না। ও চলে গেল।  আমরা ঢুকত

'বল মেথড' : (এক ক্ষণজন্মা বিজ্ঞান-সাধিকা মিস অ্যালিস অগাস্টা বল-এর জীবনের অজানা কাহিনী)/পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

Image
বিজ্ঞানের অন্তরালে বিজ্ঞানী ।। পর্ব ― ৬৫ পর্ব ― ৬৫ 'বল মেথড' :  (এক ক্ষণজন্মা বিজ্ঞান-সাধিকা মিস অ্যালিস অগাস্টা বল-এর জীবনের অজানা কাহিনী) পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ অধিবাসীদের একটি নামকরা দৈনিক নিউজ পেপার 'দ্য কালার্ড সিটিজেন' (The Colored Citizen)। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রো-আমেরিকানদের সুখ-দুঃখ প্রকাশের প্রথম দলিল ছিল পত্রিকাটি। এ হেন জনপ্রিয় নিউজ পেপারের ততোধিক জনপ্রিয় এডিটর ছিলেন জেমস প্রেসলি বল। তিনি একাধারে নিউজপেপার এডিটর, ফটোগ্রাফার আর আইনজীবী। তাঁর সুযোগ্য অর্ধাঙ্গিনী মিসেস লরা লুইস বলও পেশায় একজন চিত্র-সংগ্রাহক। বাপ-ঠাকুর্দার আমল থেকে বংশ পরম্পরায় ফটোগ্রাফি বল-পরিবারের পেশা ও নেশা। সিনিয়র জেমস বল একজন নামজাদা ফটোগ্রাফার ছিলেন। ধাতব পাতের উপর ছবি প্রিন্টিং-এ সুনামের সঙ্গে দারুণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন তিনি। এ কাজে রীতিমতো এক্সপার্ট। সিলভার প্লেটের উপর পারদবাষ্প আর আয়োডিন মৌল পদার্থের সক্রিয়তা কাজে লাগিয়ে সুন্দর ছবি প্রকাশ করতে সিদ্ধহস্ত। শুধু ফটোগ্রাফি নয়, জুনিয়র জেমস বল আর তাঁর স্ত্রী শ্রীমতি লরা বল 'আফ্রিকান-আমের

দূর দেশের লোককথা—ব্রাজিল-- ৯২/হনুমান, কলা খাবি?/চিন্ময় দাশ

Image
দূরদেশের লোককথা—ব্রাজিল-- ৯২ হনুমান, কলা খাবি? চিন্ময় দাশ বহু বহু কাল আগের গল্প এটি। সবে তখন পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে। তৈরি হয়েছে কলাগাছ। তবে কিনা, মাত্র একটা জাতেরই কলা। এবং সংখ্যায়ও বেশি নয়। একটাই মাত্র কলার খেত। বানিয়েছিল এক বুড়িমানুষ। কিন্তু হনুমান সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে সংখ্যায় অনেক।  কলার বাগানটা বেশ বড়সড় মাপের। যত্ন করেই করেছে বুড়ি। বাগানখানারও বেশ বাড়বাড়ন্ত। দেখতে দেখতে একদিন মোচা এলো গাছগুলোতে। কলাও ধরল গাছে। বুড়ির তো আনন্দ ধরে না মনে। নিজের মেহনতের বাগানে ফলন হতে দেখলে, কার না আনন্দ হয়।  কিন্তু সে আনন্দ বেশি দিন টিকল না বুড়ির। কলায় যেই হলুদ রঙ ধরল, সব আনন্দ উধাও হয়ে গেল তার। কলায় পাক ধরলেই তুলে নিতে হয়। দেরি হলেই ক্ষতি। তখন বাজারে বিকোবে না । কিন্তু সমস্যা হোল, বুড়ি একা মানুষ। এতবড় বাগান। একার হাতে এতো কলা তুলবে কী করে? মহা ভাবনায় পড়ে গেল বেচারি।  অনেক ভেবে,  হনুমানদের কথা মনে এল বুড়ির। চারদিকে পালে পালে হনুমান। তার মধ্যে কাকে লাগানো যায়?  তখন মনে হোল, একটা করে সর্দার থাকে সব দলেই। তাগড়া চেহারার একটা সর্দারকে ডেকে আনল বুড়ি।  বুড়ির বাগানে কলা পাকতে শুরু করেছে, হনুমানের সর্দা

মাটিমাখা মহাপ্রাণ। ছাব্বিশ /শুভঙ্কর দাস

Image
    মাটিমাখা মহাপ্রাণ। ছাব্বিশ  শুভঙ্কর দাস  "প্রবাহের পটে মহাকাল দুই রূপ ধরে পরে পরে কালো আর সাদা । কেবলি দক্ষিণে বামে প্রকাশ ও প্রকাশের বাধা অধরার প্রতিবিম্ব গতিভঙ্গে যায় এঁকে এঁকে, গতিভঙ্গে যায় ঢেকে ঢেকে.." গৃহ থেকে কুমারচন্দ্র সুতাহাটায় হরতাল করার জন্য বেরিয়ে গেছিলেন ভোররাতে,তারপর পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে গেছিলেন আমেদাবাদ। ফিরলেন গৃহে মাঝরাতে। দরজাটা ঠেলতেই একটা আলোর বিন্দু বারান্দায় দেখতে পেলেন।এই আলোর বিন্দু তিনি সুতাহাটা যাওয়ার সময় দেখে গিয়েছিলেন। একটা দেশি মিলের শাড়ি পরে বসে আছেন চারুশীলা।সামনে অল্প আলোর হ্যারিকেন। কী সর্বনাশ,তুমি জানলে কী করে আমি আজ এইসময় ফিরব? চারুশীলা দেবী মৃদু হেসে বললেন,যে অপেক্ষা করতে জানে,সে যার জন্য অপেক্ষা করছে,তার পদধ্বনি শুনতে পায়। কিন্তু, এটা কি জানো,ট্রেনটা অনেক ভাগ্যে পেয়েছি, ওটা না পেলে হয়তো আরও দুটো দিন পরে আসতে পারতাম! আচ্ছা, সব শুনছি,আগে ভাত খেয়ে নাও,তারপর সব শুনছি বলেই চারুশীলা উঠে গিয়ে রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকলেন।  হ্যাঁ,বড্ড খিদে পেয়েছে, এমন ভাব হচ্ছে, গোটা গোলাঘর খেয়ে ফেলতে পারি,গতকাল থেকে ভালো করে খাওয়া হয়নি! বারান