Posts

Showing posts from November, 2022

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

Image
জঙ্গলমহলের জীবন ও প্রকৃতি পর্ব - ৪৭ খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা সূর্যকান্ত মাহাতো সব সময় আমরা ছুটে চলেছি। এই ছুটে চলা আর ব্যস্তময় জীবনের আড়ালে আমরা কিছুটা হলেও কোথাও যেন একটু নির্জনতা প্রিয়। নির্জনতা প্রিয় না বলে 'নির্জনতা লোভী' বলাই বোধ হয় ভালো। এটা আমাদের আদিম সত্তারই একটা স্বরূপ মনে হয়। এই যে নির্জনতার লোভ, তার মাঝেই তো আমরা বারবার নিজেকে খুঁজে পাই। নিজের সঙ্গে কয়েকটা কথা বলা যায়। মুহূর্তগুলোর সঙ্গে একাত্ম হতে পারি। নিজেকে এইভাবে আবিষ্কার করার আনন্দটাও তো বড় কম কিছু নয়।  এই নির্জনতার মাঝে এলে একটা প্রগাঢ় প্রশান্তি যেন ঘিরে থাকে আমাদের মনে সর্বক্ষণ। জঙ্গলমহলে এরকমই যে কয়েকটা নির্জন জায়গা আছে, তার মধ্যে অন্যতম হল বেলপাহাড়ীর "খাঁদারাণী" জলাধার, ঝিলিমিলির "তালবেড়িয়া ড্যাম", এবং খাতড়ার "মুকুটমণিপুর ড্যাম"। পাহাড়, জল ও জঙ্গলের ত্রিবেণী সঙ্গমে অদ্ভুত এক সৌন্দর্য ছড়ানো আছে সেখানে। এই নির্জন প্রকৃতি বারবার ডাক দেয় কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে গল্প করার জন্য। ব

কয়েকটি রম্য কবিতা-৫/শুভশ্রী রায়

Image
কয়েকটি রম্য কবিতা-৫ শুভশ্রী রায় মা-মিয়াও-কাব্যি যেমন পুষির মা, তেমনি তার মিয়াও মিয়াও পুষি! মোটা ভাতকাপড় আর অনেক কাব্য নিয়ে খুশি। মায়ের চুলে চিরুনি পড়ে না, ভেতর ভেতর জট ওই ভাবেই এ দিক সে দিক যায় চটিতে ফটফট, ছড়াকাব্যি লেখা-শোনা-পড়া চাই, চাই অতিরিক্ত মানুষ-মা আর বেড়াল-মেয়ে ছড়া-পংক্তির ভক্ত। ভালোমন্দ কিচ্ছু না জুটুক, অমৃত লাগে কাব্যি ছন্দ ভালোবাসতে কে যে এদের দিয়েছিল দিব্যি! পুষি অন্ত প্রাণ হয়নি কালকে পুষি নিয়ে কিছু লেখা তাই সোনা বেড়াল করেছে অভিমান, মুখখানা তার বড় দুখী, চঞ্চলতা নেই হতভাগিনী মায়ের ফেটে যাচ্ছে প্রাণ। আয় রে পুষি, মায়ের কাছে এসে বোস তোকে অনেক অনেক আদর করবে মা, জীবনভর ছড়াও লিখবে তোকে নিয়ে একটা দিন বাদ যাওয়ায় রাগ করিস না। পুষি, পড়া, শীত পুষি তুমি পড়া করে নাও শিগগিরি তারপরে অনেক গল্প করব আমরা, কমলালেবুর মতো রোদে পিঠ দিয়ে কথাবার্তায় ভরাব শীতের কামরা। না পোষা কষ্ট ওরে পুষি, কী দেখছিস চারতলার বারান্দা থেকে? মাগো, দেখছি রাস্তার ওই বেড়ালটার কত না কষ্ট! ঠিক বলেছিস, আসলে ওতো কারুর পোষা নয় খাওয়া-শোওয়া ঠিক থাকে না, আস্তানা নেই স্পষ্ট। পেজে লাইক দিন 👇

দূর দেশের লোকগল্প—মাদাগাস্কার /ছিল পণ্ডিত হয়েছে পশুপালক/ চিন্ময় দাশ

Image
দূর দেশের লোকগল্প—মাদাগাস্কার ছিল পণ্ডিত হয়েছে পশুপালক   চিন্ময় দাশ   কথায় বলে না, দশ চক্রে ভগবান ভূত! বেচারা বকের কপালেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল। সেদিন থেকে কী দুর্দশাই না ঘটেছে বকের জীবনে! সেই ঘটনাটাই শোনা যাক আজ।  মাদাগাসকার হোল নীল সমুদ্রে ঘেরা একটা দেশ। দেশটার গড়ন লম্বাটে। সে দেশের একেবারে ভিতরের অংশ জুড়ে আছে গভীর অরণ্য। সেটাও দেশের এ মাথা ওমাথা জোড়া লম্বা গড়নের। দু’দিকে ছাড় রেখে, একেবারে মাঝখান জুড়ে লম্বাটে অরণ্য।  আর অরণ্য মানেই নানা রকম জীবজন্তুর বাস সেখানে। তবে, মাদাগাসকারে বিচিত্র সব জীবজন্তু দেখা যায়। যাকগে, আসল গল্পের কথায় আসা যাক।  অনেক অনেক কাল আগের কথা। বনের ভিতরে এক জায়গায় একটা স্কুল বসে। বনের ভিতরে হরেক জীবজন্তুর বাস। ফসা, লেমুর, প্যান্থার ক্যামেলিন, টমেটো ব্যাঙ (এসব ব্যাঙের আবার পুরুষদের রঙ হলুদ-কমলা, আর মেয়েদের লাল-কমলা), কচ্ছপ, বাদুড় (ফ্লাইং ফক্স— একেবারে শেয়ালের মত মুখ এই বাদুড়দের, তাই এমন নাম), নীলরঙের কোকিল—এমনই সব নানা জীবজন্তু।     তাদের বাচ্চারাই হোল স্কুলটার পড়ুয়া। স্কুলে না গেলে, একটু আধটু লেখাপড়া না করলে, চলে না কি? মানুষ না হোক, খানিকটা সহবত তো শেখা

ক্যুইজ-২৭/ সাগর মাহাত

Image
ক্যুইজ-২৭/ সাগর মাহাত ১. বীরভূম জেলার সদর দপ্তর— সিউড়ি আসানসোল লাভপুর রামপুরহাট ২. কল্যাণেশ্বর মন্দির অবস্থিত— মাইথনে তারকেশ্বরে লাভপুরে নবদ্বীপে ৩. মিশরের প্রধান রপ্তানি দ্রব্য— তুলা চিনি কফি লৌহ ৪. নিম্মলিখিত যেটি রপ্তানিতে প্রথম— তুলা অভ্র চা লৌহ ৫. পৃথিবীর যে শহরের জনসংখ্যা সর্বাধিক— টৌকিও লন্ডন মস্কো প্যারিস ৬. ব্রাজিলের অর্থনীতি প্রধানত নির্ভরশীল— পাট ভুট্টা গম কফি ৭. স্কটল্যান্ডের রাজধানীর নাম— এডিনবরা লন্ডন রোম মস্কো ৮. বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলখনির নাম— কুয়েত দুবাই ঘারওয়ার দুবাই ৯. পৃথিবীর বৃহত্তম নগর— বেজিং মুম্বাই টোকিও প্যারিস ১০. যে দেশটিকে 'প্রাচ্যের বিটেন' বলা হয়— জাপান ভারত পোল্যাণ্ড ব্রিটেন ১১. মৎসশিকার ও রেশম উৎপাদনে বিশ্বের প্রথম স্থান যে দেশের— অস্ট্রেলিয়া জাপান রাশিয়া পাকিস্তান ১২. ইরানের রাজধানীর নাম— তেহেরান বাগদাদ রোম আবাদান ১৩. বিশ্বের বৃহত্তম তৈলশোধনাগারটি অবস্থিত— আবাদান ইরাক আরব কুয়েত ১৪. বৃষ্টির সময় বায়ুমন্ডলের আপেক্ষিক আদ্রতা থাকে— ০% ৮৫% ৫৫% ১০০% ১৫. যার চারিদিকে ধূমকেতু পরিক্রমন করে— সূর্য চন্দ্র পৃথিবী বুধ ক্যুইজ ২৬-এর উত্তর ১. ১৯০৪ খ্রি

আভড়াপুনেই /ভাস্করব্রত পতি

Image
পশ্চিমবঙ্গের লৌকিক উৎসব, পর্ব -- ৪৮ আভড়াপুনেই ভাস্করব্রত পতি  'আভড়াপুনেই' অর্থাৎ অবিবাহিতদের পূর্ণিমা। আশ্বিন মাসে কোজাগরী পূর্ণিমাতে লক্ষ্মীপূজার দিন দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তবাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সুবর্ণরেখার পাড় বরাবর পালন করা হয় এই 'আভড়াপুণেই' বা 'অব্যূঢ়া পূর্ণিমা' বা 'অব্যুঢ়া ব্রত'। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়ার প্রান্তিক এলাকায় শিশু বয়স থেকে ষোলো বছর বয়স পর্যন্ত ছেলে মেয়েদের জন্য নির্ধারিত এই উৎসব। অব্যূঢ় (অপসারিত) > আবড়া > আভড়া > আইবুড়ো ( সংস্কৃত শব্দ 'ব্যূঢ়' অর্থে বিবাহিত) অব্যূঢ় অর্থে অবিবাহিত বা আইবুড়ো। ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের 'পারিবারিক প্রবন্ধ'তে আছে, "মনুষ্যে অব্যূঢ় জড় পদার্থের ধর্ম্ম, উদ্ভিদের ধর্ম্ম, পশুর ধর্ম্ম এবং মনুষ্যের ধর্ম্ম, এই চারিটি ধর্ম্মই একত্র মিলিত"। 'পুনেই' অর্থে পূর্ণিমা। আভড়াদের মঙ্গলার্থে যে পূর্ণিমা, সেটাই 'আভড়াপুনেই'। 'কোজাগর' অর্থে দ্যূতপূর্ণিমা বা লক্ষ্মীপূর্ণিমা। 'তিথ্যাদিতত্ত্ব'তে লক্ষ্মী বলেন, এই প

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

Image
  ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা  ১১০ সম্পাদকীয়,   ১৯৭৫-এ ৩৫ বছর বয়সে বিশ্বের প্রথম মহিলা হিসাবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন জাপানের জুঙ্কো তাবেই। সম্প্রতি অদম্য জেদ ও অনবদ্য সাহসিক মানসিকতার পরিচয় দিয়ে অক্সিজেন ছাড়াই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছালেন হুগলির চন্দননগরের মেয়ে পিয়ালী বসাক। সুতরাং মেয়েদের এই জয়যাত্রা অব্যাহত জয়াবতীর সময় থেকে আজও। জয়াবতীর সমুদ্দুর দেখার শখ পিয়ালীর এভারেস্ট জয়ের শখ যুগে যুগে নারীদের সাহসী করেছে। হ্যারি পটার  হচ্ছে  লেখিকা জেকে রাউলিং রচিত সাত খন্ডের কাল্পনিক উপন্যাসের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সিরিজ। নারীদের এই ট্র‍্যাডিশান থামবার নয়। আমাদের ছোটোবেলাতেও আজ তৃষ্ণা আন্টি, মৌসুমী মাসি, রঞ্জনা পিসি গল্প কবিতা লিখে একই ভাবে নারীদের জয় জয়কার অব্যাহত রেখেছে। এত এত কথা বলবার কারণ কি জানো? বলে কিনা পথে নারী বিবর্জিতা, মেয়েদের বেশী পড়ালেখা শিখতে নেই...... কে বলেছে?  বলব না। তোমরাই পড়ে দেখো। তোমরাও আমার মতো রেগে যাবে। আর তারসঙ্গে অঙ্কিতের দুই বন্ধুর গল্পটাও পড়ে জানিও কিন্তু। ছোটো বন্ধুরা বছর শেষ হতে চলল, কিন্তু শেষের বেলায় একটা নতুন খবর দিই। তোমাদের দিদি দাদারা তোমাদের

আমি আমার মতো /পর্ব ২ / সুকন্যা সাহা

Image
আমি আমার মতো  পর্ব ২  সুকন্যা সাহা    ঝর্না  কলম  কলম  বলতেই ছোটোবেলার কালির ফাউণ্টেন পেনের  কথা  মনে  পড়ে ... আমরা   বলতাম ঝর্না   কলম... আর ছিল চাইনিজ পেন ... ড্রপারে  করে  কালি  ভরতে   হত ...নীল কালি... অন্য   কোনো কালিতে লেখা  অ্যালাউড ছিল না ... তখন সবে  ক্লাস ফাইভে  পেন হাতে   পেয়েছি... মহা মূল্যবান  জিনিস ... সেরা গিফট কালির পেন ... পেলেই  একরাশ আনন্দ ... তখন   কত   অল্পে খুশি  ছিলাম ... অবাক লাগে ... স্কুলের  খাতায় ডট পেনে  লেখা   চলবে  না ... হাতের  লেখা   খারাপ হয়ে যাবে যে !                                         একবার   এক বন্ধুকে  জিজ্ঞেস   করেছিলাম ঝর্ণা কলম  নাম কেন রে ? সে   বিজ্ঞের মতো উত্তর   দিয়েছিল ঝর ঝর  করে লেখা বেরোয় তো এক্কেবারে  ঝর্নার   মত ; তাই  ঝর্না ।প্রথম প্রথম  লাইন টানা বাংলা খাতায় লেখা ...তার পর সাদা খাতা ... প্রথম  দিকের আঁকা বাঁকা লাইন পরে সোজা  হতে শুরু করে ... কালির পেনের  আরেকটা অসুবিধে   ছিল... খানিকক্ষণ খোলা   রেখে   দিলেই ব্যস  নিবের   কালি শুকিয়ে যেত  তখন আবার পেনটাকে  ঝাড়তে   হত... ঘরে  বিন্দু বিন্দু কালি পড়ত ... ঘর নোংরা ... বরাদ্

যেতে যেতে পথে -৪৭/রোশেনারা খান

Image
যেতে যেতে পথে রোশেনারা খান পর্ব ৪৭ আজকের বেড়ানোতে মিসেস দত্তর সঙ্গে আলাপ হওয়াটা, একটা বাড়তি পাওনা। ভদ্রমহিলাকে বেশ ভালই লাগল। পোশাক আসাকে, আদব কায়দায় বাঙ্গালিয়ানাকে ধরে রেখেছেন। ১৯৮৫ সাল থেকে এদেশে আছেন। মাঝে একবার দেশে ফিরেছিলেন, কিন্তু থাকতে পারেননি। আবার এখানেই ফিরে এসেছেন। আর দেশে ফেরার ইচ্ছে নেই।  মাসিমার কথা ভেবে খুব খারাপ লাগছে। সেইসঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আতঙ্কিত হচ্ছি। সে ঠিক আছে, কিন্তু আমাদের তো ফিরতে হবে। নাড়ির টানে, ভালবাসার টানে। আমাদের দেশ খুব গরিব, এখানকার মত এত সুযোগ সুবিধা নেই। তবুও মা তো মা-ই।       আজ দীপ প্রথম নিজের গাড়ি চালিয়ে কুইন্স হাসপাতাল গেছে। এদিকে দেখতে দেখতে জারা সোনার তিনমাস বয়স হয়ে গেল। জুলাইয়ের মাঝামাঝি আমাদের ফেরার ডেট হয়েছে। আজ দীপ গাড়ি নিয়ে লেসটার গেছে কোর্স করতে। পথ চিনে যেতে হবে। প্রথম দিকে একটু অসুবিধা হবে। তারপর ঠিক হয়ে যাবে। সবই তো অভ্যাসের ব্যপার। ওখান থেকে ফিরে আমাদের নিয়ে সায়েন্সবেরি নিয়ে গেল। মস্তবড় সপিংমল, ঘুরে ঘুরে দেখতে ভালই লাগল। আমার কেনার কিছু ছিলনা। দীপ কারসিটসহ জারাকে ট্রলিতে বসিয়ে ঘুরল, ও কান্নাকাটি করেনি, চুপচাপ

বিষ্ণু দে'র কাব‍্যভাবনা।। সন্দীপ দত্ত

Image
  বিষ্ণু দে'র কাব‍্যভাবনা।। সন্দীপ দত্ত কবিতার ক্ষেত্রে আধুনিকতার সূত্রপাত ঘটেছিল বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে। যখন ক্ষয়ে যাচ্ছে মন,জমছে বিতৃষ্ণা,হারিয়ে যাচ্ছে বিবেক,তলিয়ে যাচ্ছে বিশ্বাসবোধ। একটা যুগ যখন আসে,সে এক বার্তা নিয়ে আসে। সেই যুগেরই বার্তা বহন করে সাহিত‍্য। কাব‍্যজগতে তাই সৃষ্টি হল নতুন গোষ্ঠী। যে গোষ্ঠী হৃদয়ের আঘাত সহ‍্য করে করে অনুভব করল সেই আঘাতের যন্ত্রণা। বোধহয় যন্ত্রণাই মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলে। প্রতিবাদ করবার ভাষা জোগায়। মাথা তুলে দাঁড়িয়ে সম্মানের জন‍্য পথান্তরের পথ চায়। রবীন্দ্রনাথ যাকে নদীর বাঁধ বলেছেন। ".........সেই বাঁধটাকেই বলতে হবে মডার্ন। বাংলায় বলা যাক আধুনিক। এই আধুনিকটা সময় নিয়ে নয়,মর্জি নিয়ে।" সেক্ষেত্রে জীবনানন্দের কবিতাতেও আধুনিকতা এসেছে। সুধীন্দ্রনাথ,অমিয় সকলের কবিতাতেই ফুটে উঠেছে সেই নতুন দিগন্তের ছবি। কিন্তু এখানের আলোচ‍্য বিষয় যেহেতু কবি বিষ্ণু দে,তাই মানুষটার কাব‍্য মানসিকতা ও কলম নিয়েই বলা যাক।              অনেকেই বলে থাকেন বিষ্ণু দে'র কবিতা বড্ড বেশি র্দুবোধ‍্য। র্দুবোধ‍্যতা আসলে কী,এটা আগে জানতে হবে। আমরা যে বোধটাকে সহজে জাগা

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

Image
সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় প্রসূন কাঞ্জিলাল অতিথি অধ্যাপক হয়ে এসে বেশ কিছুদিন শান্তিনিকেতনে ছিলেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন পূর্বপল্লী গেস্ট হাউসের দোতলায় তেইশ নম্বর ঘরে। সারাদিন আড্ডা আর অধ্যাপনায় কেটে যেত কবির। একদিন কবি, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও শরৎ মুখোপাধ্যায় একত্রিত হয়েছিলেন এক কবিতা পাঠের আসরে। আসর বসেছিল বিকেলে। তারিখটা ছিল উনিশে মার্চ, উনিশশো পঁচানব্বই। শতরঞ্জি পাতা বড়ো ঘরে সবাই বসেছে। চায়ের পালা শেষ করে কবিতা পড়তে শুরু করলেন শক্তিই। একটার পর একটা। কী অসম্ভব ভেতর থেকে একটা তাগিদ আর আবেগ অনুভব করছিলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়। কেউ আবার পড়তে বলছে কি বলছে না – সেদিকে তাঁর দৃষ্টি নেই। তিনি একটির পর একটি কবিতা পড়ে চলেছেন পাতা উল্টে উল্টে। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন তাঁর মধ্যে নেই। হারিয়ে গেছেন। বই হাতে তুলে বাবু হয়ে বসে পড়ছেন, কিন্তু মনে হচ্ছে তিনি যেন অনেক দূরের কোনও কবি, যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। কী দীপ্তি বলিষ্ঠ সুউচ্চ উদাত্ত আত্মহারা কণ্ঠ! ধ্বনিত হোলো কবিতার লাইনগুলো – ‘সেগুনমঞ্জরী হতে ধাক্কা দাও, জাগাও আমাকে আমি আছি বিষঘুমে, জাগাও আমাকে আমি আছি সর

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

Image
মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ৩০ সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) ভাস্করব্রত পতি সেটা ১৯৭০ সাল। রাজ্য জুড়ে খাদ্য সঙ্কটে জেরবার রাজ্যবাসী। চারিদিকে হাহাকার। একমুঠো ভাতের জন্য মানুষের সে কি আর্তি। তমলুক শহরের পাশ দিয়েই রূপনারায়ণ। সেই নদীর পাড়ে তখন আদুল গায়ের দুটো বেওয়ারিশ শিশু। খিদেয় পেট জ্বলছে। চোখের জল শুকিয়ে গেছে। মুখময় যন্ত্রনার প্রতিচ্ছবি। আর সেই দুই কচিপানা মুখগুলো দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি সনাতন দাস। সংস্কৃতিবান চিত্রশিল্পী। কোলে করে নিয়ে এলেন বাড়িতে। আদরে যতনে ভরিয়ে দিলেন না খেতে পাওয়া ছেলেদুটোকে। পরে অবশ্য এক রিক্সাওয়ালা তাঁদের দত্তক নিয়ে নেয়। কিন্তু সেদিন তিনি তাঁর শিল্পীসত্বা থেকে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মানবতার চূড়ান্ত নিদর্শন রেখে।  মানুষের পাশে দাঁড়ান বলেই তাঁর ছবি কথা বলে। মানুষের কথা। জীবনের কথা। বেঁচে থাকার কথা। একটা শহরের জীবনের চলমান রেখাচিত্র মূর্ত হয়ে ওঠে তাঁর তুলির ক্যানভাসে।  একসময় ছিলেন তাম্রলিপ্ত পৌরসভার কর্মী। পেটের জন্য চাকুরি তাঁকে করতে হত। আর অন্য সময়ে তিনি জীবনের জন্য ছবি আঁকেন। মানুষের ছবি, মনের ছবি, চ