কমলিকা ভট্টাচার্য
ফিরে পাওয়া শরীর
অমানুষিক কষ্ট সহ্য করে অনির্বাণ সিটের ফাঁক গলে বাইরে বেরিয়ে আসে। প্রতিটা নড়াচড়ায় মনে হয়, শরীরটা বুঝি আবার ভেঙে পড়বে। বাসের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পচে যাওয়া দেহ। কারও হাত সিটের নিচে, কারও মাথা জানালার বাইরে ঝুলে আছে। ড্রাইভারের শরীর স্টিয়ারিংয়ে এমনভাবে আটকে আছে, যেন স্টিয়ারিংটাই তাকে গ্রাস করেছে। এই দৃশ্য দেখে অনির্বাণ বুঝতে পারে—এখানে কেউ বাঁচেনি, শুধু সে ছাড়া।
নামার কোনো সহজ উপায় নেই। নিচে খাদ। বাসের দরজাটাও ঝুলে আছে বিপজ্জনকভাবে। শেষ চেষ্টা হিসেবে সে গাছের একটা মোটা ডাল ধরে ঝুলে পড়ে। একবার হাত ফসকে যায়—সেই এক সেকেন্ডে সে মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে। অদ্ভুতভাবে, ভয় পেলেও তার মাথার ভেতর একটা হিসাব চলতে থাকে—কোথায় ধরলে শরীরের ওজন পড়বে, কোন পেশি এখনো কাজ করছে।
🍂
শেষ পর্যন্ত সে একটা সরু পাথুরে চাতালে এসে পড়ে। শরীরটা গড়িয়ে যায় পাথরের মতো। চারপাশে শুধু পাহাড় আর জঙ্গল। বাতাসে তুষারের গন্ধ। এমন নিস্তব্ধতা, যা কানে শব্দের মতো বাজে।
সে বসে পড়ে। নিজের পরিচয় মনে করার চেষ্টা করে। নামটা আসে—অনির্বাণ চৌধুরী। তারপর পেশা—প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। তার হাতের ঘড়িতে তারিখ—৮ই জুলাই ২০২৪। সময় যেন এখানে থেমে আছে।
তারপর শুরু হয় এক অসম্ভব যাত্রা। দিনের পর দিন সে পাথর বেয়ে এগোয়—কখনো হামাগুড়ি দিয়ে, কখনো আঙুলের নখ দিয়ে পাথর আঁকড়ে ধরে। খাবার নেই। জল নেই। মাঝে মাঝে তুষার গলিয়ে জল বানায়। রাতে শরীর জমে আসে, সকালে আবার নড়তে হয়—কারণ থেমে থাকলেই মৃত্যু।
রাতে সে স্বপ্ন দেখে—একটা ল্যাব। সাদা আলো। কাচের ভেতর নিজের মতো দেখতে আরেকজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। সেই মানুষটার চোখে কোনো বিস্ময় নেই, কোনো সহানুভূতি নেই। শুধু হিসাব।
একসময় সে টের পায়—তার শরীর বদলাচ্ছে। কঙ্কালের উপর ধীরে ধীরে চামড়া উঠছে। ক্ষতগুলো অস্বাভাবিক দ্রুত সেরে যাচ্ছে। যেন কেউ দূর থেকে তার শরীরকে রক্ষণাবেক্ষণ করছে। সে বুঝতে পারে—এটা প্রাকৃতিক নয়।
3 Comments
খুব অল্প, মনের পেট ভরছে না। আর একটু বাড়ানো যায় কি?
ReplyDeleteখিদে থাকা ভালো😃
Delete😳😳😳
ReplyDelete