জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা /তুলসী দাস মাইতি

দুটি কবিতা 
তুলসী দাস মাইতি


বৃদ্ধ ও একা পথ


যে বৃদ্ধটি একা হেঁটে চলেছে নিশ্চিন্দপুরের মাঠ ছুঁয়ে, তার মাথার ভেতর এক জন্ম কোলাহল জমে আছে। 
হাতে পায়ে আঁকা বিগত-সাহসের অযুত বক্ররেখা।

এখন সন্ধে নামার শব্দে তাঁর ভয় হয়।
ক্রমে ছায়া ঘনিয়ে আসছে চরাচরের দিকে।
দিনাবসানের অন্ধকারে নক্ষত্রদের ঘর দেখা যায়।

নেমে আসছে শৈশব- কৈশোরের নিকটজন,
স্কুলবাড়ি-বৃক্ষ- নদী। স্মরণকালের  নীলখামে মনে পড়ে যায় বয়ঃসন্ধির ঘুড়ি। উড়ে যেত এপার থেকে ওপার। 
এসব প্রাচীন গল্প এখন জীর্ণ পুথি মনে হয়। 

তারপর অজস্র কথকতার যে ইমারত তারও দেওয়াল খসে পড়েছে। 
ক্রমশ বৃত্ত ক্ষুদ্রতর হয়ে হয়ে এসেছে। চওড়া পথের খোঁজে  এই হাঁটাহাঁটি। দিনশেষের আলোয় একাকী পথিক।

রাত্রির এই পথ চলে গেছে নিশ্চিন্দপুর পেরিয়ে অচিনপুরের দিকে। দিনশেষের আলোয় একা।

🍂


বৃষ্টি বিষয়ক


অবশেষে বৃষ্টি এলো, টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া মেঘেরা এখন দলছুট, মিলনের গানে গানে। 
দেবদারু পাতায় চঞ্চলতা, কেউ কি ডাক দিয়ে যায়! 
না গাওয়া কোনো ধৈবতের পিছুটানে?

বর্ষা বিহারের সঙ্গী বৃক্ষ, আবেশে জড়িয়ে লতা 
দিঘির চোখে জল দেখে আসে পাতিহাঁস।
‘বিজুরি চমকে’ ছায়ানট, উৎসাহে মেলে ডানা 
 কেটে কেটে যায় তাল, মোহ-নৃত্যের পরিহাস।

মৃত নদী পেরিয়ে মাছরাঙা জেনে যায় জলের গভীরতা।
তরঙ্গের চুড়ো ভেসে ওঠে চোখের পাতায়। 
রুপোলি মাছেদের উল্লাস দেখে পানকৌড়িও
আধডোবা ডুমুরের ডালে সুতৃষ্ণ অপেক্ষায়। 

নিঃশব্দে গোধূলি শেষ, নামছে অকাল সন্ধেবেলা
নূপুরের ক্লান্ত আয়োজনে নর্তকীর সাজ,
দূরে বাঁশির সুর, মল্লারের আলাপে কোমল নিষাদ
উদাসী প্রহরে গোপন ইশারা, পড়ে থাকে কাজ।

Post a Comment

1 Comments

  1. খুব ভালো লাগলো দুটি কবিতাই।

    ReplyDelete