দুলাল কুমার দে
প্রাচীন কাল থেকেই মুনি ঋষিরা মন্ত্র উচ্চারণ করে আসছেন। আরাধ্য দেব- দেবীর কাছে মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে পুজো, সাধনা করে আসছেন।
হিন্দু ধর্মে পূজার্চনা করেন ব্রাহ্মণ গণ। তাঁরাই মন্ত্র বলেন বিভিন্ন উপাচারে পুজো করেন। অব্রাহ্মণরা তাঁদের দিয়েই পুজো করান।
কিন্তু , যাঁদের বাড়িতে বা যাঁদের নামে পুজো দেওয়া হয় বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন হয় , ব্রাহ্মণ গণ তাঁদের দ্বারা,তাঁদেরকে মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে ধর্ম কর্ম সম্পন্ন করান। তাঁরাই বিভিন্ন দ্রব্যাদি ঠাকুর মশাইকে সম্প্রদান করেন।
পুষ্পাঞ্জলি, বিবাহ, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান , গৃহ প্রবেশ ইত্যাদি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অব্রাহ্মণদের মন্ত্র উচ্চারণ করতে হয়।
প্রথম প্রশ্ন হল - মন্ত্র উচ্চারণের বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতা -
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে মন্ত্র উচ্চারণে সৃষ্ট শব্দ তরঙ্গ ও কম্পন, মস্তিষ্ক ও শরীরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে যা স্ট্রেস কমায়, একাগ্রতা বাড়ায় এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এর ফলে আলফা ও থিটা মস্তিষ্কের তরঙ্গ বৃদ্ধি পায়, যা শিথিলতা ও ভালো অনুভূতির সৃষ্টি করে।
তাছাড়াও এর মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদস্পন্দন ধীর হয়, মন্ত্রের নির্দিষ্ট শব্দ ও তার উচ্চারণ শরীরের ভেতর এক বিশেষ ধরনের কম্পন তৈরি করে, যা অভ্যন্তরীণ শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে মন্ত্র উচ্চারণের নিম্নলিখিত উপকারিতা গুলি প্রকাশ পেয়েছে যা সর্বতোভাবে সুস্বাস্থ্যের সহায়ক: ( সূত্র: গুগল.কম)
১)এটি সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণে সাহায্য করে, যা মানসিক সুস্থতা বাড়ায় এবং উদ্বেগ কমায়।
২) মন্ত্রের জপ হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ কমায় এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ খুবই কার্যকরী।
৩) ভ্যাগাস নার্ভকে উদ্দীপিত করে, যা প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং শিথিলতা নিয়ে আসতে খুবই উপকারী।
৪) বহু প্রাচীন কাল থেকেই 'ওঁ' (AUM) ধ্বনিকে মহাবিশ্বের মৌলিক স্পন্দন মনে করা হয়;যা শরীরের কোষে ইতিবাচক কম্পন সৃষ্টি করে যা সামগ্রিকভাবে সুস্বাস্থ্যের সহায়ক।
🍂
যদিও এ সম্পর্কে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন , যা চলছে এবং চলবে।
কিন্তু দ্বিতীয় প্রশ্ন হল :
ক) আমরা যারা অব্রাহ্মণ, তারা যখন ব্রাহ্মণদের থেকে শুনে শুনে মন্ত্র উচ্চারণ করি , কতটা শুদ্ধ ও সঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে পারি?
খ) ব্রাহ্মণ গণ মন্ত্রের অর্থ বোঝেন, কিন্তু আমরা অব্রাহ্মণরা কতটুকু অর্থ বুঝি? হয়ত বিকৃত উচ্চারণের ফলে অর্থের ও বিকৃতি ঘটে! এক প্রার্থনা করতে গিয়ে উল্টো হয়ে যেতে পারে!
তাই আমার নিম্নলিখিত নিবেদন গুলি ভেবে দেখার আবেদন রইল:
১) মন্ত্র উচ্চারণের আগে একটি লিখিত কপি যদি দেওয়া হয়, যারা শিক্ষিত তারা দেখে এবং শুনে উচ্চারণ করতে পারবেন।
২) যে সব মন্ত্র উচ্চারণ করানো হচ্ছে, তার সহজ সরল ব্যাখ্যা যদি বলে দেওয়া হয়, মন্ত্র উচ্চারণের যথার্থতা বৃদ্ধি পাবে।
৩) যাঁরা লেখা - পড়া জানেন না, তাঁদেরকে দিয়ে মন্ত্র উচ্চারণ না করিয়ে, কেবল অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া , মনে মনে তা ভেবে সাধনা করবেন।
0 Comments