দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে
আজ ১লা জুন বিশ্ব অভিভাবক দিবস। আমাদের পারিবারিক জীবনে "অভিভাবক" শব্দটি অত্যন্ত মূল্যবান। আসুন এই নিয়ে একটু বিস্তারিত আলোচনা করি।
অভিভাবক (ইংরেজি: Guardian বা Parent) হলেন, এমন একজন তত্ত্বাবধায়ক, রক্ষক বা আশ্রয়দাতা, যিনি কোনো ব্যক্তি (যেমন: অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান) বা সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করেন। সহজ কথায়, যিনি অভিভাবকত্ব প্রদান করেন তিনিই অভিভাবক।
মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ের নাম হলো, অভিভাবক। জন্মের পর থেকে একজন শিশুর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানসিক বিকাশে অভিভাবকের ভূমিকা অপরিসীম। এই অবদানের স্বীকৃতি দিতেই প্রতি বছর ১লা জুন বিশ্ব অভিভাবক দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ ২০১২ সালে এই দিবস পালনের ঘোষণা দেয়, যাতে বিশ্বজুড়ে অভিভাবকদের ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরা যায়।
অভিভাবক বলতে সাধারণত বাবা-মাকেই বোঝানো হয়, তবে সন্তানের দেখভাল ও লালন-পালনের দায়িত্ব যাঁরা পালন করেন, তাঁরাও অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত হন। একটি শিশুর জীবনের প্রথম শিক্ষক হলেন, তার অভিভাবক। শিশুর ভাষা শেখা, আচরণ গঠন, ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা,সবকিছুর সূচনা হয় পরিবার থেকে।
আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে অভিভাবকদের দায়িত্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। প্রযুক্তির যুগে সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ধরনের অনলাইন প্রভাব শিশু-কিশোরদের মানসিকতায় দ্রুত পরিবর্তন আনছে। তাই শুধু শাসন নয়, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এখন অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🍂
একজন ভালো অভিভাবক শুধু সন্তানের ভৌত চাহিদা পূরণ করেন না, তিনি সন্তানের আবেগ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেন। সন্তান কোনো সমস্যায় পড়লে তাকে বুঝতে চেষ্টা করা, তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সঠিক পরামর্শ দেওয়া একজন সচেতন অভিভাবকের বৈশিষ্ট্য। ভালোবাসা ও মূল্যবোধের শিক্ষা সন্তানকে একজন মানবিক ও দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
বর্তমান সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, কর্মব্যস্ততার কারণে অভিভাবকেরা সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। ফলে শিশুদের মধ্যে একাকীত্ব, মানসিক চাপ বা ভুল পথে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সময় দেওয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। একটি সুস্থ পরিবারই একটি সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি।
বিশ্ব অভিভাবক দিবস শুধু উদ্যাপনের দিন নয়,এটি অভিভাবকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। এই দিনে আমাদের উচিত তাঁদের ত্যাগ ও ভালোবাসাকে স্মরণ করা এবং নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন হওয়া। সন্তানদেরও উচিত অভিভাবকদের সম্মান করা, তাঁদের অনুভূতির মূল্য দেওয়া এবং তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।
অভিভাবকের স্নেহ, ত্যাগ ও দিকনির্দেশনা ছাড়া একজন মানুষের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়। পরিবার সমাজের মূল ভিত্তি, আর সেই ভিত্তিকে শক্তিশালী রাখেন অভিভাবকেরা। তাই বিশ্ব অভিভাবক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়,অভিভাবকের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধই একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম চাবিকাঠি।
1 Comments
খুব সুন্দর
ReplyDelete